বুধবার 13 রবীউল আউওয়াল 1440 - 21 নভেম্বর 2018
বাংলা

আশুরা উপলক্ষে প্রস্তুতকৃত খাবার খাওয়ার হুকুম

প্রশ্ন

প্রশ্ন: আশুরা উপলক্ষে শিয়ারা যে খাবার রান্না করে সেটা খাওয়া কি জায়েয হবে? উল্লেখ্য, তারা বলে যে, এই খাবার আল্লাহ্‌র জন্য; কিন্তু এর সওয়াব হুসাইন (রাঃ) এর জন্য। তাছাড়া আমি যদি এ খাবার গ্রহণ না করি এর ফলে আমাকে সমস্যা ও বিপজ্জনক অবস্থার মধ্যে পড়তে হবে। কেননা আমি ইরাকে থাকি। আপনারা তো জানেন যে, তারা আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের সাথে কি আচরণ করে?

আলহামদুলিল্লাহ।

আশুরা এলে শিয়ারা নিজের গালে চপেটাঘাত করা, নিজেকে প্রহার করা, মাথায় জখম করা, রক্তপাত করা ও খাবার প্রস্তুত করা ইত্যাদি যা করে থাকে সবগুলো নব-প্রচলিত গর্হিত বিদাত। ইতিপূর্বে 4033নং ও 9438 নং প্রশ্নোত্তরে তা আলোচনা করা হয়েছে। এগুলোতে অংশ গ্রহণ করা কিংবা এগুলো পালনে তাদেরকে সহযোগিতা করা নাজায়েয। কেননা সেটা হবে পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করা।

তারা তাদের বিদাত ও ভ্রষ্টতা বাস্তবায়নের জন্য যে খাবার প্রস্তুত করে থাকে সে খাবার খাওয়া নাজায়েয।

শাইখ বিন বায (রহঃ) বলেন: “এটি জঘন্য গর্হিত কাজ ও গর্হিত বিদাত। এটি বর্জন করা ওয়াজিব। এতে অংশ গ্রহণ করা নাজায়েয। এ উপলক্ষে যে খাবার পেশ করা হয় তা খাওয়া নাজায়েয।”

তিনি আরও বলেন: “এতে অংশগ্রহণ করা, যে সব পশু জবাই করা হয় সেগুলোর গোশত খাওয়া, যে সব পানীয় সরবরাহ করা হয় তা পান করা– নাজায়েয। আর যদি জবাইকারী প্রাণীটিকে আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য কারো জন্য জবাই করে থাকে যেমন- আহলে বাইত (নবীর পরিবার) এর জন্য কিংবা অন্য কারো জন্য তাহলে সেটা ‘বড় শিরক’। যেহেতু আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন:  “বলুন, আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ্‌রই জন্য। তাঁর কোন শরীক নেই। আর আমাকে এরই নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এবং আমি মুসলিমদের মধ্যে প্রথম।”[সূরা আনআম, আয়াত: ১৬২-১৬৩] আল্লাহ্‌ তাআলা আরও বলেন: “নিশ্চয় আমরা আপনাকে কাউছার দান করেছি। অতএব, আপনি আপনার রবের জন্য নামায আদায় করুন এবং কুরবানি করুন।”[সূরা আল-কাউছার, আয়াত: ১-২]

[ফাতাওয়াস শাইখ আব্দুল আযিয বিন বায, (৮/৩২০)]

তবে, তাদের খাবার গ্রহণ না করলে যদি আপনি বিপদের মুখোমুখি হন সে ক্ষেত্রে এই ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য সে খাবার গ্রহণে কোন গুনাহ্‌ নেই।

আল্লাহ্‌ই ভাল জানেন।

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

মতামত প্রেরণ