Fri 25 Jm2 1435 - 25 April 2014
9036

তারাবীর নামাযের রাকাত সংখ্যা

প্রশ্ন : আমি প্রশ্নটি আগেও করেছিলাম। আশা করি এর উত্তর দিয়ে আমাকে উপকৃত করবেন। কারণ এর আগে আমি সন্তোষজনক জবাব পাইনি। প্রশ্নটি তারাবীর নামায সম্পর্কে। তারাবীর নামায কি ১১  রাকাত,  নাকি ২০ রাকাত? সুন্নাহ অনুযায়ী তো তারাবীর নামায ১১ রাকাত । শাইখ আলবানী রহিমাহুল্লাহ “আলক্বিয়াম ওয়াত তারাউয়ীহ” বইতে বলেছেন তারাবী নামায ১১ রাকাত। এখন কিছু মানুষ সেসব মসজিদে নামায পড়েন যেখানে ১১ রাকাত তারাবী পড়া হয়। আবার কিছু মানুষ সেসব মসজিদে নামায পড়েন যেখানে ২০ রাকাত তারাবী পড়া হয়। এখানে যুক্তরাষ্ট্রে এটি একটি সংবেদনশীল মাসয়ালা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যিনি ১১ রাকাত তারাবী পড়েন তিনি ২০ রাকাত সালাত আদায়কারীকে ভৎর্সনা করেন। আবার যিনি ২০ রাকাত তারাবী পড়েন তিনি ১১ রাকাত সালাত আদায়কারীকে ভৎর্সনা করেন। এটা নিয়ে একটা ফিতনা (গোলযোগ) সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি মসজিদে হারামেও ২০ রাকাত তারাবী পড়া হয়। তাহলে মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববীতে সুন্নাহর বিপরীত আমল হচ্ছে কেন? কেন তাঁরা মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববীতে ২০ রাকাত তারাবী নামায আদায় করেন?

উত্তর:  
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।  

আলেমদের ইজতিহাদনির্ভর মাসয়ালাগুলো নিয়ে কোন মুসলিমের সংবেদনশীল আচরণ করাকে আমরা সমীচীন মনে করি না। যে আচরণের কারণে মুসলমানদের মাঝে বিভেদ ও ফিতনা সৃষ্টি হয়।

শাইখ ইবনে উছাইমীন রহিমাহুল্লাহকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয় যিনি ইমামের সাথে ১০ রাকাত তারাবী নামায পড়ে বিতিরের নামাযের অপেক্ষায় বসে থাকেন, ইমামের সাথে অবশিষ্ট তারাবী নামায পড়েন না, তখন তিনি বলেন:

এটিখুবইদুঃখজনকযে, আমরামুসলিম উম্মাহরমধ্যেএমনএকটিদলদেখিযারাভিন্নমতের সুযোগ আছেএমনবিষয় নিয়েবিভেদসৃষ্টিকরে এই ভিন্নমতকেতারা অন্তরগুলোর বিচ্ছেদের কারণবানিয়েফেলেনসাহাবীদেরসময়েও এইউম্মতেরমাঝেমতভেদ ছিল, কিন্তুতাসত্ত্বেওতাঁদেরঅন্তরগুলো ছিল ঐক্যবদ্ধ তাইদ্বীনদারদের কর্তব্য, বিশেষভাবে যুব-সমাজের কর্তব্য হচ্ছে- ঐক্যবদ্ধথাকা। কা শত্রুরাতাদেরকে নানারকম ফাঁদে ফেলানোর জন্য ওঁতপেতেবসে আছে[আশ-শারহুল মুমতি‘ (৪২২৫)]

এই মাসয়ালার ব্যাপারে দুই পক্ষই অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে। প্রথম পক্ষের লোকেরা যারা ১১  রাকাতের বেশি তারাবী পড়েন তাদের আমলকে একেবারে অস্বীকার করে এ আমলকে বিদআত আখ্যায়িত করেন। আর দ্বিতীয় পক্ষের লোকেরা যারা শুধু ১১ রাকাতে সীমাবদ্ধ থাকেন তাদের আমলকে অস্বীকার করে বলেন: তারা ইজমা‘ এর খেলাফ করছে। 

চলুন আমরা এ ব্যাপারে শাইখ ইবনে উছাইমীন রহিমাহুল্লাহ এর উপদেশ শুনি, বলেন:

এক্ষেত্রে আমরা বলব: বাড়াবাড়ি বা শিথিলতা কোনটাই উচিত নয়।কেউ কেউ আছেন সুন্নাহ্ তে বর্ণিতসংখ্যামানারব্যাপারেকড়াকড়ি আরোপ করে এবংবলে: সুন্নাহ্তেযেসংখ্যারবর্ণনাএসেছেতাথেকেবাড়ানো নাজায়েয যে ব্যক্তি সে সংখ্যার বেশী তারাবী পড়ে তারকঠোরবিরোধিতাকরে এবংবলেন যে, সে গুনাহগার ওসীমালঙ্ঘণকারী। 

এই দৃষ্টিভঙ্গি যে ভুল এতে কোনসন্দেহনেই কিভাবেসেব্যক্তি গুনাহগার বাসীমালঙ্ঘণকারীহবেযেখানেনবী সাল্লাল্লাহুআলাইহি  ওয়াসাল্লামকেরাতেরসালাত(কিয়ামুল লাইল) সম্পর্কেপ্রশ্নকরাহলে তিনি বলেছিলেন: (مثنى مثنى) “দুইরাকাত দুই রাকাত।” তিনিতো কোনসংখ্যানির্দিষ্টকরে দেননি এ কথা সবারই জানাআছে যে,যেই সাহাবী রাতেরসালাতসম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে প্রশ্নকরেছিলেন, তিনিরাতের নামাযের সংখ্যাজানতেননা কারণযিনিসালাতের পদ্ধতি জানেননা, রাকাত সংখ্যা সম্পর্কেতারনা-জানবা কথা আর তিনিরাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহিওয়াসাল্লাম এর সেবকওছিলেননাযেআমরাকথাবলব- তিনিরাসূলেরবাসারভিতরে আমল কি সেটা জানতেন যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই সাহাবীকে কোন সংখ্যানির্দিষ্টকরেদেননি, শুধু সালাতেরপদ্ধতিবর্ণনাকরেছেন,এতে জানাগেলযে,বিষয়টি উন্মুক্ত সুতরাংযে কেউ ইচ্ছা করলে ১০০রাকাত তারাবীর নামায ও ১ রাকাত  বিতিনামায আদায় করতেপারে। 

আর রাসূল  সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম-বাণী:

(صلوا كما رأيتموني أصلي)

তোমরাআমাকে যেভাবেসালাত আদায়করতে দেখলেসেভাবেসালাত আদায়কর।”

ই হাদিসটির বিধান সাধারণনয়; এমনকি এ মতাবলম্বীদের নিকট নয় তাই তো তারাকোন ব্যক্তির উপর একবার৫ রাকাত,একবার রাকাত,অন্যবার৯ রাকাত বিতি আদায়করাওয়াজিববলেন না আমরাযদি হাদিসকেসাধারণভাবে গ্রহণ করি তাহলেআমাদেরকে বলতে হবেযে বিতিরের নামায কোনবার৫ রাকাত,কোনবার রাকাত এবং কোনবার রাকাত আদায়করাওয়াজিব বরংতোমরাআমাকে যেভাবেসালাত  আদায় করতেদেখলে সেভাবেসালাত আদায়কর”-হাদিস দ্বারাসালাতআদায়েরপদ্ধতি বুঝানো উদ্দেশ্য; সালাতের রাকাতসংখ্যানয় তবে রাকাত সংখ্যানির্দিষ্ট করে এমন অন্য কোন দলীল পাওয়া গেলে সেটা ভিন্ন কথা। 

যাইহোক,যে বিষয়ে শরিয়তে প্রশস্ততাআছেসে বিষয়ে কারো উপর চাপপ্রয়োগকরাউচিতনয় ব্যাপারটিপর্যন্তগড়িয়েছেযে,আমরাদেখেছি কিছু ভাই বিষয়টিনিয়ে এত বেশিবাড়াবাড়ি করেন যে,যেসব ইমাম ১১ রাকাতেরবেশি তারাবী নামায পড়েন এরা তাদের উপর বিদআতেরঅপবাদদে এবং(১১ রাকাতের পর) মসজিদত্যাগ করেন তে করে তারা রাসূলসাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বর্ণিত সওয়াব থেকে বঞ্চিত হন। তিনি বলেছেন :

" من قام مع الإمام حتى ينصرف كُتب له قيام ليلة "
رواه الترمذي ( 806 ) وصححه الألباني في صحيح الترمذي ( 646 )

“ইমাম নামায শেষ করা পর্যন্ত যে ব্যক্তি ইমামের সাথে কিয়ামুল লাইল (রাতের নামায) পড়বে তার জন্য সম্পূর্ণ রাতে নামায পড়ার সওয়াব লেখা হবে।” [হাদিসটি বর্ণনা করেছেন তিরমিযি (৮০৬)এবং ‘সহীহুত তিরমিযি গ্রন্থে (৬৪৬)আলবানী হাদিসটিকে সহীহ্ আখ্যায়িত করেছেন]এ শ্রেণীর লোকদের মধ্যে অনেক ১০ রাকাত বিতির আদায়করেবসেথাকে; ফলেকাতারভঙ্গহয় আবারকখনওতারাকথাবার্তা বলে; যার ফলে মুসল্লিদেরসালাতেবিঘ্ন হয়। 

আমরাব্যাপারেকোনসন্দেহপোষণকরছি নাযেতাঁরাভালচাচ্ছেন এবংএক্ষেত্রে তাঁরামুজতাহিদ;কিন্তু সব মুজতাহিদসঠিকসিদ্ধান্তে পৌঁছেননা

আরদ্বিতীয়পক্ষটিপ্রথম পক্ষের সম্পূর্ণ বিপরীত যারা১১ রাকাতের  মধ্যে তারাবীকে সীমাবদ্ধরাখতে চান এরা তাদেরকঠোরবিরোধিতাকরে এবংবলেন যে,তুমি ইজমা থেকেবেরহয়েগেছ। অথচ আল্লাহতাআলা বলেছেন :

وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا (115) [ 4 النساء: 115]

আর যেতার কাছে সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর রাসূলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের পথের বিপরীত পথঅনুসরণ করে আমি তাকে সেদিকে পরিচালিত করব যেদিকে সেঅভিমুখী হয়এবং আমি তাকে প্রবেশ করাব জাহান্নামে আর তাকতই নাখারাপ প্রত্যাবর্তন” [আন-নিসা, ৪:১১৫ ]

তারা বলেন যে, আপনার আগে যারা অতিবাহি হয়েছে তাঁরা শুধু ২৩রাকাততারাবীই জানতেন এরপর তারা বিপক্ষবাদীদের তীব্র বিরোধিতা শুরু করেন। এটাও ভুল [আশশারহুল মুমতি(৩/৭৩-৭৫)]

যারা ৮ রাকাতের বেশি তারাবীর নামায পড়া নাজায়েয মনে করেন তারা যে দলীল দেন সেটা হলো আবু সালামাহ্ ইবনে আব্দুর রহমান এর হাদিস যাতে তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) কে প্রশ্ন করেছিলেন :

" كيف كانت صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم في رمضان ؟ فقالت : ما كان يزيد في رمضان ولا في غيره على إحدى عشرة ركعة يصلي أربعا فلا تسل عن حسنهن وطولهن ثم يصلي أربعا فلا تسل عن حسنهن وطولهن ثم يصلي ثلاثا فقلت يا رسول الله أتنام قبل أن توتر قال يا عائشة إن عينيَّ تنامان ولا ينام قلبي " . رواه البخاري ( 1909 ) ومسلم ( 738 ) .

রমজানে রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর সালাত কেমন ছিল? তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানে বা রমজানের বাইরে ১১ রাকাতের বেশি আদায় করতেন না তিনি  রাকাত   সালাত আদায় করতেন- এর ৌন্দর্য ও দৈর্ঘ্য সম্পর্কে প্রশ্ন করবেন না (অর্থাৎ তা এতই সুন্দর দীর্ঘ হত) এরপর তিনি আর  রাকাত  সালাত আদায় করতেন-এর সৌন্দর্য ও দৈর্ঘ্য সম্পর্কে প্রশ্ন করবেন না (অর্থাৎ তা এতই সুন্দর দীর্ঘ হত) এরপর তিনি  রাকাত  সালাত আদায় করতেনআমি বলতা:ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি কি বিতি পড়ার আগে  ঘুমিয়ে যাবেন? তিনি বলতে:

(يا عائشة إن عينيَّ تنامان ولا ينام قلبي)  
হে আয়েশা! আমার চোখ দুটি ঘুমালেও অন্তর ঘুমায় না।”

 [হাদিসটি বর্ণনা করেছেন ইমাম বুখারী (১৯০৯) ও ইমাম মুসলিম (৭৩৮)]

তারা বলেন: এই হাদিসটি নির্দেশ করছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানে ও রমজানের বাইরে রাতের বেলা নিয়মিত এভাবেই সালাত আদায় করতেন। আলেমগণ এ হাদিস দিয়ে দলীলের বিপক্ষে বলেন যে, এই হাদিসটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমল সাব্যস্ত করছে। কিন্তু কোন আমল দ্বারা তো ওয়াজিব সাব্যস্ত করা যায় না। 

আর রাতের সালাত (এর মধ্যে তারাবীর নামাযও শামিল) যে কোন সংখ্যার মধ্যে সুনির্দিষ্ট নয় এ ব্যাপারে বর্ণিত স্পষ্ট দলীলগুলোর মধ্যে একটি হলো ইবনে উমর (রাঃ) এর হাদিস- “এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়া সাল্লামকে রাতের সালাত সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি  ওয়া সাল্লাম বললেন:

" صلاة الليل مثنى مثنى فإذا خشي أحدكم الصبح صلى ركعة واحدة توتر له ما قد صلَّى " .

رواه البخاري ( 946 ) ومسلم ( 749 )

“রাতের সালাত দুই রাকাত, দুই রাকাত। আপনাদের মধ্যে কেউ যদি ফজরের ওয়াক্ত হয়ে যাওয়ার আশংকা করেন তবে তিনি যেন আরো এক রাকাত নামায পড়ে নেন। যাতে করে এ রাকাতটি পূর্বে আদায়কৃত সংখ্যাকে বিতির (বেজোড়) করে দেয়।”[হাদিসটি বর্ণনা করেছেন,ইমাম বুখারী (৯৪৬)ও ইমাম মুসলিম (৭৪৯)] 

বিভিন্ন গ্রহণযোগ্য ফিক্বহী মাজহাবের আলেমগণের মতামতের দিকে দৃষ্টি দিলে পরিষ্কার হয় যে, এ বিষয়ে প্রশস্ততা আছে। ১১ রাকাতের অধিক রাকাত তারাবী পড়তে দোষের কিছু নেই। 

হানাফী মাজহাবের আলেম ইমাম আস্‌সারখাসী বলেন:

আমাদের মতে বিতি ছাড়া তারাবী ২০ রাকাত [আল্‌মাবসুত (২/১৪৫)]

ইবনে ক্বুদামাহ বলেন:

আবু-আবদল্লাহঅর্থাৎইমামআহমাদ(াহিমাহুল্লাহ) এর কাছেপছন্দনীয়মতহলোতারাবী ২০ রাকাতএই মতে আরো রয়েছেন ইমামছাওরী, ইমামআবু-হানীফাইমামশাফেয়ী। আর ইমাম মাল বলেছেন: তারবীহ ৩৬ রাকা

[আলমুগনী (১/৪৫৭)] 

ইমাম নববী বলেছেন:

আলমগণের ইজমা অনুযায়ী তারাবীর সালাতপড়া সুন্ন আর আমাদের মাজহাবহচ্ছে- তারাবীর নামায ১০সালামে ২০রাকা একাকীপড়াও জায়েয, জামাতের সাথে পড়াও জায়েয[আলমাজমূ (৪/৩১)] 

এই হচ্ছে তারাবী নামাযের রাকাতের  সংখ্যার ব্যাপারে চার মাজহাবের অভিমত। তাঁদের সবাই ১১ রাকাতের বেশী পড়ার ব্যাপারে বলেছেন। সম্ভবত যে কারণে তাঁরা ১১ রাকাতের বেশি পড়ার কথা বলেছেন সেটা হলো: 

১.তাঁরা দেখেছেন যে,আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)এর হাদিস নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা নির্ধারণ করে না। 

২.পূর্ববর্তী সাহাবী ও তাবেয়ীগণের অনেকের কাছ থেকে ১১ রাকাতের বেশি তারাবী পড়ার বর্ণনা পাওয়া যায়। [আল-মুগনী (২/৬০৪)ও আল-মাজমূ (৪/৩২)] 

৩.নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে ১১ রাকাত সালাত আদায় করতেন তা এত দীর্ঘ করতেন যে এতে পুরো রাতই লেগে যেত। এমনও ঘটেছে এক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি  ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে নিয়ে তারাবীর সালাত আদায় করতে করতে ফজর হওয়ার অল্প কিছুক্ষণ আগে শেষ করেছিলেন। এমনকি সাহাবীগণ সেহেরী খেতে না-পারার আশঙ্কা করেছিলেন। সাহাবীগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে সালাত আদায় করতে পছন্দ করতেন এবং এটা তাঁদের কাছে দীর্ঘ মনে হত না। কিন্তু আলেমগণ খেয়াল করলেন ইমাম যদি এভাবে দীর্ঘক্ষণ ধরে সালাত আদায় করেন তবে মুসল্লিদের জন্য তা কষ্টকর হবে। যা তাদেরকে তারাবীর নামায থেকে বিমুখ করতে পারে। তাই তাঁরা তেলাওয়াত সংক্ষিপ্ত করে রাকাত সংখ্যা বাড়ানোর পক্ষে মত দিলেন। 

সার কথা হলো- যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত পদ্ধতিতে ১১ রাকাত  সালাত পড়েন সেটা ভাল এবং এতে সুন্নাহ পালন হয়। আর যিনি তেলাওয়াত সংক্ষিপ্ত করে রাকাতের সংখ্যা বাড়িয়ে পড়েন সেটাও ভাল। যিনি এই দুইটির কোন একটি করেন তাঁকে নিন্দা করার কিছু নেই। 

 শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন:

িনি ইমাম আব হানীফা,শাফেয়ী আহমাদর মাজহাব অনুসারে২০রাকাত তারাবী সালাতআদায়করলঅথবাইমাম মাল মাজহাবঅনুসারে৩৬ রাকাত তারাবী আদায়করলঅথবা১৩বা১১রাকাত তারাবী আদায়করলপ্রত্যেকেই ভালআমল করল ব্যাপারেসুস্পষ্টনির্দেশনানাথাকারকারণে ইমাম আহমাদ মত পোষণকরতে তাই তেলাওয়াত দীর্ঘবাসংক্ষিপ্তকরার অনুপাত অনুযায়ী রাকাত  সংখ্যাবেশিবাকমহবে[আল-ইখতিয়ারাত, পৃষ্ঠা- ৬৪]  

আস-সুয়ুতী বলেছেন :

রমজানে ক্বিয়ামতথা রাতের নামায আদায় করার আদেশ  দিয়ে ব্যাপারে উৎসাহিত করে অনেক সহীহ হাসান হাদিস বর্ণিত হয়েছে এক্ষেত্রে কোন সংখ্যাকে সুনির্দিষ্ট করা হয়নি নবী সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম২০ রাকাত তারাবী পড়েছেন বলে সাব্যস্ত হয়নি। বরং তিনি রাতে সালাত আদায় করেছেন কিন্তু কত রাকাত আদায় করেছেন এই সংখ্যা উল্লেখিত হয়নি এরপর ৪র্থ রাতে দেরি করলেন এইআশঙ্কায় যেতারাবী সালাত তাঁদের উপর ফরয করে দেয়া তে পারে, পরে তাঁরউম্মত তাপালন করতে অসমর্থ হবেন” 

ইবনে হাজার হাইসামী বলেছেন:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাছ থেকে তারাবী সালাত ২০ রাকাত  হওয়ার ব্যাপারে কোন সহীহ বর্ণনা পাওয়া যায়নি আর এইব্যাপারে যাবর্ণিত হয়েছে- তিনি ২০ রাকাত  সালাত আদায় করতেন,-তাঅত্যন্ত জয়ীফ (দুর্বল) [আল্‌মাওসূ‘আহ আল-ফিক্বহিয়্যাহ (২৭/১৪২-১৪৫)]     

অতএব প্রশ্নকারী ভাই, আপনি তারাবীর সালাত ২০ রাকাত হওয়ার ব্যাপারে অবাক হবেন না। কারণ এর আগে ইমামগণ প্রজন্মের পর প্রজন্ম তা পালন করেছেন। আর তাঁদের সবার মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে। 

আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব
Create Comments