মঙ্গলবার 13 সফর 1440 - 23 অক্টোবর 2018
বাংলা

রোজার সওয়াব কি কষ্টের পরিমাণের উপর নির্ভর করে?

78247

প্রকাশকাল : 08-07-2014

পঠিত : 1753

প্রশ্ন

প্রশ্ন: আল্লাহর নিকট রোজার সওয়াব কি সমান? নাকি রোজাদারের কষ্টের সাথে রোজার সওয়াব সম্পৃক্ত? কেউ আছে শীতের দেশে রোজা পালন করে; তারা পিপাসার কষ্ট তেমন অনুভব করে না। পক্ষান্তরে কেউ আছে গরমের দেশে রোজা পালন করে। রোজার সাথে আরো যে সব ভাল আমল থাকতে পারে সেগুলো বাদ দিয়ে আমি শুধু রোজার সওয়াবটার ব্যাপারে জানতে চাচ্ছি?

উত্তর

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

কষ্ট যে কোন ইবাদতেরঅবিচ্ছেদ্যঅংশ।কষ্ট সহ্য করাছাড়া কোন ইবাদতপালনকরাসম্ভবনয়। কষ্টেরতীব্রতাযতবেশিহবে পুরস্কারওসওয়াব ততবেশিপাওয়া যাবে। তাইতোনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লামআয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকেবলেছেন :

( إن لك من الأجر على قدر نصبك ونفقتك ) رواه الحاكم وصححه الألباني في صحيح الترغيب والترهيب (1116) وأصل الحديث في الصحيحين

“নিশ্চয়তোমারশ্রমওব্যয়েরপরিমাণঅনুযায়ীতুমিসওয়াবপাবে।”[হাদিসটিবর্ণনাকরেছেনআল-হাকেম, আলবানী ‘সহীহ আত-তারগীবওয়াততারহীব’(১১১৬) গ্রন্থেহাদিসটিকেসহীহ আখ্যায়িতকরেছেন।এহাদিসেরভিত্তি দুইসহীহগ্রন্থে (সহীহ বুখারীও সহীহমুসলিমে) রয়েছে]

ইমামনববী রাহিমাহুল্লাহ ‘সহীহমুসলিমের ব্যাখ্যা’গ্রন্থেবলেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম এরবাণী:

(عَلَى قَدْر نَصَبك أَوْ قَالَ : نَفَقَتك )

তাঁর কথা: “তোমারশ্রমঅনুযায়ীঅথবা(বর্ণনাকারীর সন্দেহ) বলেছেন:তোমারব্যয় অনুযায়ী”এর থেকে স্পষ্টবুঝাযায়যে,শ্রমওব্যয়েরবৃদ্ধিরসাথেইবাদতেরসওয়াবওমর্যাদাবেড়েযায়। শ্রম দ্বারা উদ্দেশ্যহলো-এমন শ্রমশরিয়তে যে শ্রম নিন্দনীয় নয়। অনুরূপভাবে ব্যয় দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন ব্যয় শরিয়তে যে ব্যয় নিন্দনীয় নয়।” সমাপ্ত

“কষ্টেরপরিমাণ অনুযায়ীসওয়াবপাওয়া যায়”এইনিয়মটিস্বতসিদ্ধ নয়। বরংএমনকিছুআমল রয়েছেযাতুলনামূলকভাবেসহজ,কিন্তুএতে সওয়াব বেশি।

যারকাশী‘আল-মানছুর ফিলকাওয়ায়েদ’ (২/৪১৫-৪১৯)-গ্রন্থেবলেন:

“আমলযতবেশিওকঠিনহবেতা অন্য আমলের চেয়েতত বেশিউত্তম।আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এরহাদীসেএসেছে:

وفيحديثعائشةرضياللهعنه : ( أجركعلىقدرنصبك )

তোমার সওয়াব তোমার শ্রমের পরিমাণ অনুযায়ী।

তবেঅল্পআমলকোনো কোনো ক্ষেত্রেবেশিআমলেরচেয়েউত্তম। যেমন:

# মুসাফিরেরজন্যনামাযকসর (৪ রাকাতের স্থলে ২ রাকাত) করেপড়াপরিপূর্ণপড়ার চেয়েউত্তম।

#জামায়াতের সাথে ১ বার নামায আদায় করা একাকী২৫বার নামায আদায় করা থেকে উত্তম।

# ফজরের দুই রাকাত সুন্নত সংক্ষিপ্ত করে আদায় করা তা দীর্ঘ করে পড়ারচেয়ে উত্তম।

# কুরবাণীকৃত পশুরকিছু গোশত খেয়ে বাকীটা সদকা করে দেয়া সম্পূর্ণ গোশত সদকা করে দেয়ার চেয়ে উত্তম।

# নামাযেকোন একটিছোটসূরার পুরাটুকু পড়া অন্যসূরার অংশ বিশেষ পড়ার চেয়ে উত্তম; এমনকি সে অংশ বিশেষ দীর্ঘ হলেও। কারণরাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম সাধারণত এটাই করতেন।”[উদ্ধৃতিটি পরিমার্জিতওসংক্ষেপিত]

আল্লাহইসবচেয়েভালজানেন।

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

মতামত প্রেরণ