বুধবার 12 সফর 1442 - 30 সেপ্টেম্বর 2020
বাংলা

টেলিভিশনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবর ও তাঁর সাহাবীদ্বয়ের কবর দেখে সালাম দেয়ার হুকুম

প্রশ্ন

টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচারে যখন ক্যামেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবর ও আবু বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ) এর উপর আসে তখন তাদেরকে সালাম দেয়া কি সঠিক?

জবাবের সারাংশ:

যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবরের ছবি দেখে মনে পড়ায় তাঁকে সালাম দিল এতে কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু এটি কবরের কাছে প্রদেয় যিয়ারতের সালাম নয়। পক্ষান্তরে, সাহাবীদ্বয়ের ক্ষেত্রে তাদের কথা মনে পড়লে রাদিআল্লাহু আনহু পড়া ও রাহিমাহুল্লাহ বলার বিধান রয়েছে; সালাম দেয়ার বিধান নয়।

উত্তরের সংক্ষিপ্তসার

যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবরের ছবি দেখে মনে পড়ায় তাঁকে সালাম দিল এতে কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু এটি কবরের কাছে প্রদেয় যিয়ারতের সালাম নয়। পক্ষান্তরে, সাহাবীদ্বয়ের ক্ষেত্রে তাদের কথা মনে পড়লে রাদিআল্লাহু আনহু পড়া ও রাহিমাহুল্লাহ বলার বিধান রয়েছে; সালাম দেয়ার বিধান নয়।

উত্তর

আলহামদু লিল্লাহ।.

এক:

রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর যে কোন সময় সালাত (দরুদ) ও সালাম পেশ করার শরয়ি বিধান রয়েছে। যেহেতু আল্লাহ্‌ তাআলা বলেছেন: “নিশ্চয় আল্লাহ্‌, তাঁর ফেরেশতাকুল নবীর প্রতি সালাত পেশ করেন। সুতরাং হে যারা ঈমান এনেছ তোমরাও তাঁর প্রতি সালাত ও সালাম পেশ কর।”[সূরা আহযাব, আয়াত: ৫৬]

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখনি কেউ আমাকে সালাম দেয় তখন আল্লাহ্‌ আমার রূহ ফিরিয়ে দেন যাতে করে আমি তার সালামের জবাব দিতে পারি।”[সুনানে আবু দাউদ (২০৪১), আলবানী হাদিসটিকে হাসান বলেছেন]

এগুলো ছাড়াও অন্যান্য আরও অনেক দলিল আছে যেগুলোতে তাঁর প্রতি সালাত ও সালাম পেশ করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে; বিশেষতঃ তাঁর নাম স্মরণ হলে।

তাই কোন মানুষ যদি তাঁর মসজিদ দেখে, কিংবা তাঁর কবর দেখে তাঁকে স্মরণ করে তাঁর প্রতি সালাত পেশ করে এতে কোন অসুবিধা নেই। বরং এটি একটি নেকীর কাজ ও ইবাদত; যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এটি কবর যিয়ারতের সালাম নয়; বরং এটি দোয়া ও প্রশংসা।

শাইখ উছাইমীন (রহঃ) বলেন: السلام عليك  أيها النبي “হে নবী! আপনার প্রতি সালাম” এটা কি একটা সংবাদ; নাকি দোয়া? অর্থাৎ আপনি কি সংবাদ দিচ্ছেন যে, রাসূল সালামপ্রাপ্ত; নাকি আপনি দোয়া করছেন আল্লাহ্‌ যেন তাঁর প্রতি সালাম (শান্তি) বর্ষণ করেন? জবাব: এটি দোয়া। আপনি দোয়া করছেন যেন আল্লাহ্‌ তাঁর প্রতি শান্তি বর্ষণ করেন।[আল-শারহুল মুমতি’ (৩/১৫০)]

দুই:

আর মর্যাদাবান দুই সাহাবী তথা আবু বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ) এর ক্ষেত্রে যে কোন সময় রাদিয়াল্লাহু আনহু বলা ও রাহিমাহুল্লাহ্‌ বলা শরয়ি বিধান। আর তাদের কবর যিয়ারতের সময় তাদেরকে সালাম দেয়া হবে; টেলিভিশনে বা অন্য কিছুতে তাদের কবরের ছবি দেখে নয়। কেননা এটি শরিয়ত অনুমোদিত নয়। এক্ষেত্রে কবরের কাছে গিয়ে সালাম দেয়ার উপর এভাবে সালাম দেয়াকে কিয়াস করা কারো জন্য সঙ্গত হবে না। যেহেতু এটি হবে বৈপরীত্য থাকা সত্ত্বেও কিয়াস করা। আর শরয়ি দলিল ছাড়া কোন ইবাদতকে মুস্তাহাব বলা যায় না।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন: কোন কিছুকে মুস্তাহাব (উত্তম) বলা একটি শরয়ি হুকুম; যা শরয়ি দলিল ব্যতীত সাব্যস্ত হয় না। যে ব্যক্তি কোন শরয়ি দলিল ব্যতিত আল্লাহ্‌র সম্পর্কে অবহিত করে যে, তিনি উমুক কর্মকে পছন্দ করেন সেতো আল্লাহ্‌র অনুমতি ব্যতীত তাঁর শরিয়তে বিধান জারী করে। যেমনিভাবে কেউ যদি কোন একটি ওয়াজিব সাব্যস্ত করে কিংবা হারাম সাব্যস্ত করে তার ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। এ কারণে আলেমগণ মুস্তাহাবের ক্ষেত্রেও মতভেদ করেন যেভাবে তারা অন্য বিষয়েও মতভেদ করেছেন। বরং শরয়ি বিধানের মূল হুকুম হচ্ছে মুস্তাহাব হওয়া।[মাজমুউল ফাতাওয়া (১৮/৬৫)]

সারকথা:

যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবরের ছবি দেখে মনে পড়ায় তাঁকে সালাম দিল এতে কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু এটি কবরের কাছে প্রদেয় যিয়ারতের সালাম নয়। পক্ষান্তরে, সাহাবীদ্বয়ের ক্ষেত্রে তাদের কথা মনে পড়লে রাদিআল্লাহু আনহু পড়া ও রাহিমাহুল্লাহ বলার বিধান রয়েছে; সালাম দেয়ার বিধান নয়।

আল্লাহ্‌ই সর্বজ্ঞ।

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব