মঙ্গলবার 7 শাওয়াল 1445 - 16 এপ্রিল 2024
বাংলা

যে ব্যক্তি দুই কব্জির জয়েন্ট থেকে দুই কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করে কিন্তু কব্জি ধৌত করে না তার ওযুর হুকুম

প্রশ্ন

কিছু মুসলিম ওযুতে হাত ধোয়ার সময় কব্জি থেকে কনুই পর্যন্ত ধৌত করে। দুই হাতের কব্জিকে ধোয়ার অন্তর্ভুক্ত করে না। এটার হুকুম কী?

উত্তর

আলহামদু লিল্লাহ।.

এক:

ওযুর সময় যে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধোয়া আবশ্যক, সেটার বিবরণ কুরআনে এসেছে, “হে মু’মিনগণ! তোমরা যখন নামাযের জন্য উঠবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল এবং কনুই পর্যন্ত দুই হাত ধৌত করবে। আর তোমাদের মাথা মাসেহ করবে এবং গোড়ালির ওপরের গিঁট পর্যন্ত পা ধৌত করবে।”[সূরা মায়েদা: ৬] আল্লাহ তায়ালা মুখ ধোয়ার পর কনুই পর্যন্ত দুই হাত ধোয়া আবশ্যক করেছেন। এটি বাস্তবায়ন হবে না যদি না হাতদ্বয়ের কব্জিতে বিদ্যমান আঙুলগুলোর ডগা থেকে শুরু করে কনুই পর্যন্ত ধৌত করা না হয়। যে ব্যক্তি দুই হাতের কব্জির জয়েন্ট থেকে কনুই পর্যন্ত ধোয়ার মধ্যে সীমিত থাকল সে এই ফরযটি আদায় করল না।

ওযুর শুরুতে হাতের কব্জি ধৌত করা এটি সুন্নত হিসেবে ধৌতকরণ। অধিকাংশ মাযহাবের আলেমদের মতানুযায়ী এই ধৌতকরণ ফরযের পরিবর্তে যথেষ্ট হবে না। তবে হানাফী মাযহাবের আলেমদের মতে যথেষ্ট হবে।

অধিকাংশ মাযহাবের আলেমগণ মনে করেন ওযুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধোয়ার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আবশ্যক। আয়াতে বর্ণিত ধারাবাহিকতা অনুযায়ী অঙ্গসমূহ ধৌত করতে হবে: প্রথমে মুখমন্ডল ধোয়া, তারপর দুই হাত ধোয়া, তারপর মাথা মাসেহ করা এবং শেষে পা ধোয়া।

সুতরাং ওযুর শুরুতে দুই হাতের কব্জিদ্বয় ধৌত করলে সেটা পরবর্তীতে হাতের সাথে কব্জিদ্বয় ধোয়ার পরিবর্তে যথেষ্ট হবে না। কারণ এতে করে বিন্যাস নষ্ট হয়ে যাবে। দুই হাত ধোয়ার মাঝখানে মুখ ধোয়াকে প্রবেশ করানোর কারণে। ওয়াজিব হল মুখ ধোয়ার পরে পুরো দুই হাত ধৌত করা।

সারকথা হল: কেউ যদি ওযুতে প্রথমে হাতের কব্জিদ্বয় ধৌত করে, তারপর কুলি করে ও নাকে পানি দেয় এবং মুখমণ্ডল ধৌত করে, এরপর কব্জির জয়েন্ট থেকে কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করে; তাহলে অধিকাংশ মাযহাবের আলেমদের মতে তার ওযু সঠিক হয়নি।

শাইখ ইবনে জিবরীন হাফিযাহুল্লাহকে জিজ্ঞেস করা হয়: ‘ওযুর শুরুতে হাতের কব্জিদ্বয় ধোয়াকে যথেষ্ট মনে করে যে ব্যক্তি হাতের কব্জি না ধুয়ে কব্জি থেকে কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করে তার হুকুম কী? তাকে কি পুনরায় ওযু করতে হবে?’

তিনি উত্তর দেন: ‘ওযুতে হাতের কব্জি না ধুয়ে শুধু বাহু ধোয়ার মাঝে সীমিত থাকা নাজায়েয। বরং মুখ ধোয়া শেষ হলে দুই হাত ধোয়া শুরু করবে। আঙুলগুলোর ডগা থেকে কনুই পর্যন্ত গোটা হাত ধৌত করবে। যদিও মুখ ধোয়ার আগে হাতের কব্জিদ্বয় ধুয়ে থাকুক না কেন। যেহেতু কব্জিদ্বয় ওযুর প্রথমে ধোয়া সুন্নত; আর মুখ ধোয়ার পরে ধোয়া ফরয। তাই কেউ যদি হাত ধোয়ার ক্ষেত্রে কব্জি থেকে কনুই পর্যন্ত ধোয়ার মধ্যে সীমিত থাকে সে আদিষ্ট ফরয পূর্ণ করল না। তাকে ওযু শেষ করার পর পুনরায় ওযু করতে হবে। আর যদি খুব কাছাকাছি সময়ে হয় তাহলে যে অংশটুকু বাদ পড়েছে সেটা ধৌত করতে হবে। অর্থাৎ তখন সে দুই হাতের কব্জিদ্বয় ধৌত করবে এবং তৎপরবর্তী অঙ্গগুলো ধৌত করবে।’[‘আল-লুলুউল মাকীন মিন ফাতাওয়াশ শাইখ ইবন জিবরীন’ (পৃ-৭৭)]

শাইখ ইবন উছাইমীন রাহিমাহুল্লাহ বলেন: ‘এখানে আমরা একটু সময় নিব যাতে করে এমন একটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারি যেটার ব্যাপারে অনেক মানুষ গাফেল। তারা হাতের কব্জি থেকে কনুই পর্যন্ত ধৌত করে; এ ধারণা থেকে যে, মুখ ধোয়ার আগে হাতের কব্জি ধোয়া হয়েছে। এটি অসঠিক। অবশ্যই দুই হাত আঙুলের ডগা থেকে কনুই পর্যন্ত ধৌত করতে হবে।’[‘আল-লিকাউশ শাহরী’ (৩/৩৩০)]

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব