সোমবার 11 রবীউল আউওয়াল 1440 - 19 নভেম্বর 2018
বাংলা

যে ব্যক্তি জেদ্দাতে থাকে হজ্জের জন্য মক্কা থেকে ইহরাম বেঁধেছে

127499

প্রকাশকাল : 03-10-2015

পঠিত : 1244

প্রশ্ন

প্রশ্ন: আমি জেদ্দাতে থাকি। গতবছর আমি ও আমার স্ত্রী ফরজ হজ্জ আদায় করেছি। হজ্জ করার আটদিন আগে আমরা উমরা আদায় করেছি। আমরা নিজেদের ঘর থেকে ইহরাম না বেঁধে আয়েশা মসজিদ থেকে ইহরাম বেঁধেছি। এটি কি ঠিক হল? আমাদেরকে কি ফিদিয়া দিতে হবে? ফিদিয়া দেয়ার পদ্ধতি কি? ফিদিয়া কার মধ্যে বণ্টন করতে হবে?

উত্তর

আলহামদুলিল্লাহ।

জেদ্দাবাসী যদি জেদ্দা থেকে হজ্জ বা উমরার নিয়ত করেন তাহলে তাদেরকে সেখান থেকেই ইহরাম বাঁধতে হবে। কারণ জেদ্দা মীকাতের ভেতরের স্থান। জেদ্দাবাসীর হুকুম হচ্ছে মীকাতের ভেতরে মক্কার আশপাশে অবস্থানকারীদের হুকুম। তারা যেখান থেকে নিয়ত করবে সেখান থেকে তাদেরকে ইহরাম বাঁধতে হবে।

এর দলিল হচ্ছে বুখারি (১৫২৬) ও মুসলিম (১১৮১) কর্তৃক ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিস- “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মীকাতগুলো নির্ধারণ করে দিয়েছেন। মদিনার অধিবাসীদের জন্য- যুল হুলাইফা; সিরিয়ার অধিবাসীদের জন্য- জুহফা; নজদ এর অধিবাসীদের জন্য- ক্বারনুল মানাযিল; ইয়েমেনের অধিবাসীদের জন্য- ইয়ালামলাম। এ মীকাতগুলো তাদের জন্য যারা এ স্থানগুলোতে বসবাস করে কিংবা এ স্থানগুলো যাদের পথে পড়ে; সে সব ব্যক্তিদের জন্য যারা হজ্জ ও উমরা আদায়ের নিয়তে বেরিয়েছে। আর যে ব্যক্তি এ মীকাতগুলোর ভেতরে অবস্থান করে সে তার পরিবার থেকে ইহরাম বাঁধবে। অনুরূপভাবে মক্কাবাসী মক্কা থেকে ইহরাম বাঁধবে।

শাইখ বিন বায বলেন:

উমরা আদায়কারী মক্কায় আসার পথে যে মীকাত দিয়ে পথ অতিক্রম করবে সে মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধবে; যদি সে মীকাতের বাহিরে বসবাসকারী হয়।

আর যদি মীকাতের ভেতরে বসবাসকারী হয়; যেমন জেদ্দা, উম্মুস সালম, বাহরা, লাযিমা, শারায়েহ ইত্যাদি এলাকার অধিবাসী তারা যেখান থেকে হজ্জ কিংবা উমরার নিয়ত করেছে সেখান ইহরাম বাঁধবে। সমাপ্ত[ ইসলামী ফতোয়া (২/৬৯০)]

শাইখ উছাইমীন (রহঃ) বলেন:

যে জেদ্দাবাসী উমরা করার নিয়ত করেছে তার উপর জেদ্দা থেকে ইহরাম বাঁধা ওয়াজিব; জেদ্দা যেন অতিক্রম না হয়। সমাপ্ত [লিকাউল বাব আল-মাফতুহ (২৪/১২১)]

পূর্বোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলব:

আপনি আয়েশা মসজিদ থেকে যে ইহরাম করেছেন সেটা যদি হজ্জের আগে যে উমরা করেছেন সে উমরার ইহরাম হয়ে থাকে তাহলে আপনারা ইহরাম করার নির্ধারিত স্থান তথা মীকাত অতিক্রম করে ইহরাম করেছেন। যেহেতু আপনাদের অবস্থানস্থল হচ্ছে- জেদ্দা; সেটাই আপনাদের মীকাত।

সতকর্তামূলক আপনাদের করণীয় হবে: প্রত্যেকের পক্ষ থেকে একটি ছাগল জবাই করা। মক্কাতে জবাই করে এর গোশত মক্কার গরীবদের মধ্যে বিতরণ করে দিতে হবে; এ গোশত নিজেরা খাওয়া যাবে না।

ইবনে উছাইমীন বলেন:

কেউ যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক নির্ধারিত মীকাত থেকে ইহরাম না বাঁধে তদুপরি তার ইহরাম সহিহ হবে; তার হজ্জ-উমরাও সহিহ হবে। তবে আলেমগণ বলেন: মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধা হজ্জ কিংবা উমরার একটি ওয়াজিব আমল। আর কেউ যদি হজ্জ কিংবা উমরার কোন একটি ওয়াজিব বর্জন করে তাকে ফিদিয়া দিতে হবে। এই আমলের ঘাটতি পূরণ করার জন্য তাকে ফিদিয়া দিতে হবে। এই ফিদিয়া (পশু) মক্কাতে জবাই করে এর গোশত মক্কার গরীবদের মধ্যে বণ্টন করে দিতে; এর গোশত খাওয়া যাবে না। এরপর আলেমগণ আরও বলেন: যদি কেউ সক্ষম না হয় তাহলে সে দশদিন রোজা রাখবে। আর কোন কোন আলেম বলেন: তাকে কোন কিছু করতে হবে না। সঠিক মতানুযায়ী যদি ফিদিয়া দিতে না পারে তাহলে তাকে কিছু করতে হবে না। কারণ এমন কোন সহিহ দলিল নেই যে, কেউ যদি কোন ওয়াজিব বর্জন করে ফিদিয়া দিতে অক্ষম হয় তাকে দশদিন রোজা রাখতে হবে।[লিকাউল বাব আল-মাফতুহ (১৪/১৭৫)]

আর আপনারা আয়েশা মসজিদ থেকে যে ইহরাম বেঁধেছেন সেটা যদি উমরা আদায় করার পর আপনাদের হজ্জের ইহরাম হয়ে থাকে এবং আপনাদের উমরার ইহরাম জেদ্দা থেকে বাঁধা হয়ে থাকে তাহলে আপনাদেরকে কোন কিছু করতে হবে না। যদিও আপনাদের উপর ওয়াজিব হচ্ছে মক্কাতে যেখানে অথবা অন্য যে স্থানে আপনারা উঠেছেন সেখান থেকে ইহরাম বাঁধা; আয়েশা মসজিদ কিংবা হারামের বাইরের অন্য কোন স্থানে যাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

মতামত প্রেরণ