শনিবার 9 রবীউল আউওয়াল 1440 - 17 নভেম্বর 2018
বাংলা

ওজুতে মুখমণ্ডলের সীমানা

129353

প্রকাশকাল : 22-04-2015

পঠিত : 1613

প্রশ্ন

প্রশ্ন: আমি পড়েছি ওজুতে মুখমণ্ডলের সীমানা হচ্ছে-চুল গজাবার স্থান থেকে থুতনি পর্যন্ত এবং এক কান থেকে অপর কান পর্যন্ত। এর সপক্ষে কি কোন দলিল আছে; নাকি এটি আলেমগণের ইজতিহাদ?

উত্তর

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

আলেমগণের সর্বসম্মতিক্রমে এটি মুখমণ্ডলের সীমানা। আরবী ভাষাতেও এতটুকুকে মুখমণ্ডল বলা হয় যে ভাষায় কুরআনে কারীম নাযিল হয়েছে। অতএব, মুখমণ্ডলের এই সীমানা দুইটি শরয়ি দলিলের মাধ্যমে সাব্যস্ত।

-আলেমগণের ঐকমত্য ও ইজমার ভিত্তিতে; ইজমা হচ্ছে দলিল।

-আরবী ভাষার দলিল; যে ভাষাতে কুরআন নাযিল হয়েছে। আরবী ভাষার মাধ্যমে আমাদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে। শরিয়তে এ দলিলের কোন বিপরীত দলিল নেই।

আল্লাহ তাআলা বলেন: হে ঈমানদারগণ, তোমরা যখন সালাতের জন্য উঠবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল এবং কনুই পর্যন্ত হস্তদ্বয় ধৌত করবে। আর তোমাদের মাথা মাসেহ করবে এবং পা গোড়ালি পর্যন্ত ধৌত করবে।”[সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ০৬]

কোন কিছুর সম্মুখ অংশকে সে জিনিসের মুখ বলে।

[আল-মুহিত ফিল লুগাহ (১/৩১৪), কিতাবুল আইন (৪/৬৬)]

কুরতুবী বলেন:

الوجه শব্দটি المواجهة থেকে উদ্ভুত। এ অঙ্গটির মধ্যে আরো কয়েকটি অঙ্গ শামিল। এ অঙ্গের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ রয়েছে। দৈর্ঘের দিক থেকে এর সীমা হচ্ছে- কপালের উপরিভাগ থেকে চোয়ালের হাড্ডিদ্বয়ের প্রান্তভাগ পর্যন্ত। আর প্রস্থের দিক থেকে এক কান থেকে অপর কান পর্যন্ত। সমাপ্ত।[আল-জামে লি আহকামিল কুরআন, ৬/৮৩]

তিনি আরও বলেন:

যে জিনিসের মাধ্যমে মুখোমুখি হওয়া সম্পন্ন হয় সে জিনিসকে আরবগণ মুখ বলে থাকেন। সমাপ্ত। [আল-জামে লি আহকামিল কুরআন ৬/৮৪]

ইবনে কাছির বলেন:

ফিকাহবিদগণের নিকট মুখমণ্ডল হচ্ছে- দৈর্ঘে মাথার চুল গজাবার স্থান থেকে চোয়ালের হাড্ডিদ্বয়ের প্রান্তভাগ ও থুতনি পর্যন্ত- টাকমাথাওয়ালা ও প্রশস্ত কপালওয়ালা ধর্তব্য নয়। আর প্রস্থে এক কান থেকে অপর কান পর্যন্ত। সমাপ্ত।

সিরাজি (রহঃ) বলেন:

এরপর মুখমণ্ডল ধৌত করবে। এটি ফরজ। দলিল হচ্ছে- আল্লাহর বাণী: “তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত কর।” মুখমণ্ডল হচ্ছে- দৈর্ঘে মাথার চুল গজাবার স্থান থেকে থুতনি ও চোয়ালের হাড্ডির প্রান্তভাগ পর্যন্ত এবং প্রস্থে এক কান থেকে অপর কান পর্যন্ত। সমাপ্ত।

নববী বলেন:

গ্রন্থকার মুখমণ্ডলের যে সীমানা উল্লেখ করেছেন সেটা সঠিক। শাফেয়ি মাযহাবের আলেমগণ এ মতে রয়েছেন এবং ইমাম শাফেয়ি ‘আল-উম্ম’ গ্রন্থে স্পষ্টভাবে তা উল্লেখ করেছেন। আল-মাজমু গ্রন্থ ১/৪০৫ সংকলিত]

ইমাম নববী “আল-মাজমু” গ্রন্থে আরও বলেন:

যে জিনিসের মাধ্যমে মুখোমুখি সম্পন্ন হয় সেটা আরবদের নিকট الوجه বা মুখমণ্ডল। সমাপ্ত।

কাসানি ‘বাদায়িউস সানাই’ গ্রন্থে বলেন (১/৩):

সরাসরি রেওয়ায়েতে তিনি মুখমণ্ডলের পরিধি উল্লেখ করেননি। তবে শাখা রেওয়ায়েতে এসেছে- মুখমণ্ডল হচ্ছে চুল গজাবার স্থান থেকে থুতনির নীচ পর্যন্ত এবং দুই কানের লতি পর্যন্ত। মুখমণ্ডলের এ সীমানা নির্ধারণ সঠিক। কারণ এ নির্ধারণটি এসেছে শব্দের আভিধানিক অর্থের বিবেচনা থেকে। যেহেতু الوجه বা মুখ বলা হয় যে জিনিসের মাধ্যমে মানুষ মুখোমুখি হয়। অথবা স্বভাবতঃ যে জিনিসের মাধ্যমে মুখোমুখি হওয়া হয়। এতটুকু অঙ্গের মাধ্যমে মানুষ মুখোমুখি হয়ে থাকে। সমাপ্ত।

দেখুন: দাকায়েকু উলিন নুহা (১/৫৬), কাশশাফুল কিনা (১/৯৫), আল-মুগনি (১/৮৩), তাবয়িনুল হাকায়েক (১/২), ফাতহুল কাদির (১/১৫), মাতালিবু উলিন নুহা (১/১১৩), রাদ্দুল মুহতার (১/৯৬), আল-মাওসুআ আল-ফিকহিয়্যা (৪/১২৬), তাফসিরু ইবনে কাছির (৩/৪৮), আল-কুল্লিয়াত (১৬২৮), আল-লুবাব (৭/২১৯), তাফসিরুল বাগায়ি (৩/২১), নাযমুদ দুরার (২/৪০৩)।

তাফসিরকার, ফিকাহবিদ ও ভাষাবিদগণ ঐকমত্য হয়েছেন যে, যে জিনিসের মাধ্যমে মুখোমুখি সম্পন্ন হয় সেটাকে মুখ বলা হয় এবং এটাই মুখের সীমানা। দলিল হওয়ার জন্য এতটুকু যথেষ্ট।

আল্লাহই ভাল জানেন।

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

মতামত প্রেরণ