মঙ্গলবার 5 রবীউল আউওয়াল 1440 - 13 নভেম্বর 2018
বাংলা

বিশেষ বিশেষ উপলক্ষে মোবাইলে মেসেজ পাঠানোর বিধান

প্রশ্ন

প্রশ্ন: বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে মোবাইলে যে মেসেজগুলো পাঠানো হয় তাতে কি কোন বিদআত বা গুনাহ রয়েছে? অর্থাৎ আমি যদি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মেসেজ পাঠাতে চাই এতে কি কোন বাধা আছে?

আলহামদুলিল্লাহ।

বিভিন্ন উপলক্ষকেন্দ্রিক মানুষ সাধারণত যে মেসেজগুলো পাঠিয়ে থাকে সেগুলো দুই ধরণের হতে পারে:

এক: এমন ইসলামী উপলক্ষগুলোতে মেসেজ পাঠানো যেগুলোতে অভিনন্দন জানানো শরিয়তসম্মত কিংবা মেসেজ পাঠানোর সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষ কোন ইবাদত স্মরণ করিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে মেসেজ পাঠানো; যেমন­– রমযানের কিয়ামুল লাইল কিংবা রমযানে কুরআন তেলাওয়াত কিংবা ফযিলতপূর্ণ দিনগুলোতে রোযা রাখা ইত্যাদি এর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মেসেজ পাঠানো। এ ধরণের মেসেজ প্রেরণে কোন অসুবিধা নেই। তবে মেসেজের ভেতরের লেখা যেন সঠিক হয়, শরিয়তের মুখালিফ কিছু যেন তাতে না থাকে সে ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে হবে।

দুই: বিভিন্ন বিদাতী উৎসব কিংবা গয়রে-শরয়ি উপলক্ষগুলোতে মেসেজ পাঠানো। যেমন– মিলাদুন্নবী উপলক্ষে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠানো কিংবা রাসূলের ইসরা ও মেরাজ দিবস উপলক্ষে কিংবা ভালবাসা দিবস উপলক্ষে কিংবা ঐতিহ্যগত বাসন্তি উৎসব, কিংবা খ্রিস্ট নববর্ষের উৎসব উপলক্ষে মেসেজ পাঠানো ইত্যাদি। এ ধরণের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করতে বারণ করা হবে। কেননা এ প্রকারের শুভেচ্ছা হয়তো ধর্মীয় বিদাতী উৎসব কিংবা বিধর্মীদের উৎসব; যেগুলোর ক্ষেত্রে মুসলমানেরা তাদেরকে অন্ধ অনুকরণ করে চলছে– এর উভয়টি নিষিদ্ধ। এ ধরণের শুভেচ্ছা জানানো নাজায়েয। এর প্রচার ও প্রসারে সহযোগিতা করাও নাজায়েয।

ইমাম মুসলিম (৪৮৩১) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “যে ব্যক্তি হেদায়েতের দিকে আহ্বান করে সে ব্যক্তি যে যে তাকে অনুসরণ করবে তাদের সওয়াবও পাবে। এতে করে তাদের সওয়াব সামান্যটুকুও কম করা হবে না। আর যে ব্যক্তি কোন ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করে সে ব্যক্তি যে যে তার অনুসরণ করবে তাদের সকলের গুনাহ বহন করবে। এতে করে তাদের গুনাহতে কমতি করা হবে না।

ইমাম নববী বলেন:

যে ব্যক্তি হেদায়েতের দিকে আহ্বান করে সে ব্যক্তি তার অনুসারীদের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে। আর ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করলে সে ব্যক্তি তার অনুসারীদের সমপরিমাণ গুনাহ বহন করবে। হেদায়েত কিংবা ভ্রষ্টতা সে নিজেই এটাকে প্রথমবার শুরু করুক কিংবা আগে থেকেই চালু থাকুক– বিধান এক। অনুরূপভাবে এটা কোন জ্ঞান শিক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে হোক কিংবা কোন ইবাদতের ক্ষেত্রে হোক কিংবা কোন শিষ্টাচারের ক্ষেত্রে হোক কিংবা অন্য কিছু হোক– বিধান এক।[সমাপ্ত]

[নববী কৃত সহিহ মুসলিমের শরাহ (১৬/২২৭)]

ইতিপূর্বে বিদাতী উৎসবগুলো পালন করার বিধান 10070 নং প্রশ্নোত্তরে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও জানতে 70317 নং ও 125690 নং প্রশ্নোত্তরও দেখা যেতে পারে।

আল্লাহ্‌ই অধিক জ্ঞাত।

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

মতামত প্রেরণ