আলহামদু লিল্লাহ।.
নামকরণের ক্ষেত্রে শরয়ি বিধান হলো সুন্দর শব্দ ও অর্থ বিবেচনা করে সুন্দর নাম বাছাই করা। তাই অর্থ সুন্দর হলেও কর্কশ শব্দ ব্যবহার না করা। আবার শব্দটি সুন্দর হলেও অর্থ সুন্দর না হলে সেটি ব্যবহার না করা। কোন কিছুর স্বরূপ-প্রকৃতিকে বিবেচনা না করে, শুধু বাহ্যিক অবস্থার ভিত্তিতে সেটাকে সুন্দর গণ্য করা থেকে হাদীসে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। সহিহ মুসলিমে (২৫৬৪) বর্ণিত হয়েছে: আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তোমাদের দেহ এবং তোমাদের আকৃতি দেখেন না, বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমল দেখেন।”
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহ্যিকভাবে সুন্দর এমন কিছু নাম ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। কারণ এ নামগুলো কিছু বাক্যে ব্যবহার করলে খারাপ অর্থ হতে পারে। মুসলিম (২১৩৭) বর্ণনা করেন: সামুরা ইবনে জুন্দুব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন: ‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুর নাম رَبَاح ‘রাবাহ’, يَسَار ‘ই্য়াসার’, نجيح ‘নাজীহ’ ও أَفْلَحَ ‘আফলাহ’ রাখতে নিষেধ করেছেন।’ কেন?
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ নিষেধাজ্ঞার কারণ সম্পর্কে বলেন: “তুমি যদি বলো: সে কি এখানে আছে? সে হয়তো সেখানে থাকবে না। তখন কেউ একজন বলবে: না।” অর্থাৎ আপনি জিজ্ঞাসা করবেন: আপনাদের এখানে কি রাবাহ (অর্থ- লাভ হওয়া) অথবা আফলাহ (অর্থ- সে সফলকাম হল) আছে? সে না থাকলে উত্তরদাতা বলবে: না। এই নেতিবাচকতার মাধ্যমে ব্যক্তি যেন তার কাছে লাভ (রিবহ) অথবা সফলতা (ফালাহ) থাকার বিষয়টিকে নাকচ করা হল। এমন বাজে অর্থ মানুষের অন্তর শুনতে অপছন্দ করে; যদিও প্রশ্নকারী এই বাজে অর্থ উদ্দেশ্য করে না।
হাদীসটি প্রমাণ করে যে কুরআন কারীমে উদ্ধৃত যে কোন শব্দ দিয়ে নাম রাখা সঠিক নয়। কারণ ‘আফলাহ’ শব্দটি সরাসরি কুরআনে উদ্ধৃত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন: قَدۡ أَفۡلَحَ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ “অবশ্যই মুমিনরা সফলকাম হয়েছে।”[সূরা মুমিনূন: ১] তবু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই্ নাম রাখতে নিষেধ করেছেন।
আমরা যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ, তাঁর সাহাবীবর্গের আদর্শের দিকে ফিরে আসি, আলেমদের কিতাবগুলোর দিকে ফিরে আসি এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম মুসলিমদের কর্ম প্রত্যক্ষ করি, তাহলে আমরা এমন কাউকে পাব না যিনি এ ধরনের কাজ করেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সুন্দর নাম বাছাই্য়ে উৎসাহ প্রদান করেছেন। যেমন: আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রহমান। তিনি আমাদেরকে কেবল কুরআনে বর্ণিত হওয়ার কারণে কোনো নাম গ্রহণ করতে উৎসাহ প্রদান করেননি। কুরআন কারীমে এমন কত নাম বর্ণিত হয়েছে যেগুলো দিয়ে কোনো মুসলিম নিজের সন্তানের নাম রাখে না। যেমন: ফেরাউন, হামান, কারুন।
সাহাবীদের মাঝে কাউকে আমরা এমনটি করতে দেখিনি। যদিও তারা কুরআনকে আমাদের চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন ও বেশি সম্মান করতেন।
অনুরূপভাবে আলেমদের মাঝে কাউকে এ ধরনের নামকরণকে মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় বলতে দেখিনি। এবং মুসলিমরাও এমন করেনি। বরং মুসলিমদের অধিকাংশ নাম (যেমনটি ইতিহাস ও জীবনীগ্রন্থ থেকে জানা যায়) ছিল আব্দুল্লাহ, আব্দুর রহমান, আব্দুর রহীম, মুহাম্মাদ, আহমদ ... প্রভৃতি।
সুতরাং মানুষদেরকে এ ধরনের কাজ থেকে নিষেধ করা বাঞ্চনীয় এবং তাদের কাছে তুলে ধরা উচিত যে, এটি সুন্দর ও ভালো কাজ নয়।
সন্তানের নাম রাখার ক্ষেত্রে বাবার উচিত হলো, আলেমরা তাদের বিভিন্ন বইয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুসারে এ সংক্রান্ত যে শিষ্টাচারসমূহ বর্ণনা করেছেন সেগুলো মেনে চলা।
সন্তানের নামকরণের শিষ্টাচারগুলো জানতে দেখুন (7180) নং প্রশ্নের উত্তর।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।