বৃহস্পতিবার 7 রবীউল আউওয়াল 1440 - 15 নভেম্বর 2018
বাংলা

উমরার নিয়তে ইহরাম ছাড়া মক্কায় প্রবেশ করেছে

প্রশ্ন

প্রশ্ন: কয়েক বছর আগে আমি ও আমার স্ত্রী উমরা আদায় করেছি। আমরা অন্য এক ফ্যামিলির গাড়ীতে চড়ে রিয়াদ থেকে সফর করেছি। সে বন্ধু আমাদেরকে বলেছেন যে, আমরা ইহরাম ছাড়া মক্কায় প্রবেশ করতে পারি এবং মক্কায় রাত্রি যাপন করতে পারি। এরপর সেখান থেকে আমরা ইহরাম বেঁধে নিব। এটা যে, সঙ্গত নয় সেটা জানা না থাকার কারণে আমরা সেটাই করেছি। সে উমরাটি ফরজ উমরা ছিল না। এরপর আমরা বহুবার মীকাত থেকে ইহরাম বেঁধে উমরা করেছি। ঐ উমরার ক্ষেত্রে আমাদের উপর কোন দায়িত্ব আছে কি? যদি আমাদের উপর পশু যবেহ করা ফরজ হয়; তাহলে এমন কোন প্রতিষ্ঠান আছে কি যারা আমাদের পক্ষ থেকে পশুটি যবেহ করবে; যেহেতু আমি রিয়াদে চাকুরী করি।

উত্তর

আলহামদুলিল্লাহ।

নিঃসন্দেহে আপনাদের সে বন্ধু ভুল করেছেন; যিনি আপনাদেরকে বলেছেন যে, ইহরাম ছাড়া মীকাত অতিক্রম করা জায়েয। আরেক ভুল করেছেন: তিনি আপনাদেরকে মক্কা থেকে ইহরাম বাঁধতে বলেছেন। কারণ মক্কাবাসী ও মক্কাতে অবস্থানকারীকে উমরা পালন করতে হলে হারাম এলাকার বাইরে গিয়ে ইহরাম বেঁধে আসতে হবে।

যারা মক্কার বাইরে থেকে হজ্জ কিংবা উমরা আদায় করতে আসবেন শরিয়ত তাদের জন্য মীকাত তথা ইহরাম বাঁধার স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যদি ব্যক্তি ঠিক সেই স্থান দিয়েই অতিক্রম করে তাহলে তিনি সে স্থান থেকেই ইহরাম বাঁধবেন। আর যদি ঠিক সে স্থান দিয়ে সফর না করেন তাহলে সে স্থানের সমান্তরাল স্থান থেকে ইহরাম বাঁধবেন।

আর যারা এ মীকাতগুলোর ভেতরে মক্কার দিকে অবস্থান করেন তারা তাদের অবস্থানস্থল থেকে ইহরাম বাঁধবেন। অনুরূপভাবে কেউ যদি জেদ্দাতে আসে কিংবা মীকাতের ভেতরের অন্য কোন জায়গায় আসে; পরবর্তীতে তার উমরা করার ইচ্ছা জাগে তখন সে তার অবস্থানস্থল থেকে ইহরাম বাঁধবে।

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মীকাতগুলো নির্ধারণ করে দিয়েছেন। মদিনার অধিবাসীদের জন্য- যুল হুলাইফা; সিরিয়ার অধিবাসীদের জন্য- জুহফা; নজদ এর অধিবাসীদের জন্য- ক্বারনুল মানাযিল; ইয়েমেনের অধিবাসীদের জন্য- ইয়ালামলাম। এ মীকাতগুলো তাদের জন্য যারা এ স্থানগুলোতে বসবাস করে; কিংবা এ স্থানগুলো যাদের পথে পড়ে; সে সব ব্যক্তিদের জন্য যারা হজ্জ ও উমরা আদায়ের নিয়তে বেরিয়েছে। আর যে ব্যক্তি এ মীকাতগুলোর ভেতরে অবস্থান করে সে তার পরিবার থেকে ইহরাম বাঁধবে।[সহিহ বুখারি (১৪৫৪) ও সহিহ মুসলিম (১১৮১)]

আপনার বন্ধুর উপর তওবা করা ও ইস্তিগফার করা অপরিহার্য; যেহেতু তিনি নিজের মতকে শরিয়তের বিধান বলে চালিয়ে দিয়েছেন। আর জমহুর আলেমের মতামত অনুযায়ী আপনাদের কর্তব্য হচ্ছে- মক্কার হারাম এলাকার মধ্যে একটি ছাগল জবাই করে এর গোশত মক্কার গরীব লোকদের মধ্যে বিতরণ করে দেয়া। কারো যদি এটি করার সামর্থ্য না থাকে তাহলে তার শুধু তওবা করলে চলবে।

স্থায়ী কমিটির আলেমগণ বলেন:

যে ব্যক্তি উমরা করার নিয়ত করেছে; তার কর্তব্য হচ্ছে- মীকাত অতিক্রমকালে মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধা। ইহরাম ছাড়া মীকাত অতিক্রম করা জায়েয নয়। যেহেতু আপনারা মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধেননি তাই আপনাদের প্রত্যেকের উপর দম (পশু জাবাই করা) ওয়াজিব। যে ছাগল দিয়ে কোরবানি করা জায়েয এমন একটি ছাগল মক্কাতে জবাই করে এর গোশত মক্কার গরীব লোকদের মধ্যে বণ্টন করে দিতে হবে; আপনারা এ গোশত খেতে পারবেন না। পক্ষান্তরে ইহরামের কাপড় পরার পর দুই রাকাত নামায না পড়ায় কোন কিছু আবশ্যক হবে না।

শাইখ আব্দুল আযিয বিন বায, শাইখ আব্দুর রাজ্জাক আফিফি, শাইখ আব্দুল্লাহ গাদইয়ান।[স্থায়ী কমিটির ফতোয়াসমগ্র (১১/১৭৬,১৭৭)]

যে ব্যক্তি হজ্জ কিংবা উমরা কোন একটি ওয়াজিব আমল ছেড়ে দিয়েছে এ মাসয়ালার ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনার পর শাইখ উছাইমীন (রহঃ) বলেন:

যে ব্যক্তি কোন ওয়াজিব আমল ছেড়ে দিয়েছে আমরা তাকে বলব: আপনি একটি ফিদিয়া (পশু) জবাই করে এর গোশত নিজেই মক্কার দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করুন। কিংবা নির্ভরযোগ্য কাউকে দায়িত্ব প্রদান করুন। আর যদি আপনি অসামর্থ্য হন তাহলে তওবা করলে চলবে। এ মাসয়ালায় এটাই আমাদের অভিমত।[আল-শারহুল মুমতি (৭/৪৪১) থেকে সমাপ্ত]

মক্কাতে আপনাদের পক্ষ থেকে পশু জবাই করার জন্য আপনারা নির্ভরযোগ্য এজেন্সিগুলোর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

আল্লাহই ভাল জানেন।

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

মতামত প্রেরণ