সোমবার 9 রবীউল আউওয়াল 1442 - 26 অক্টোবর 2020
বাংলা

করোনা মহামারীর প্রেক্ষিতে জারীকৃত কারফিউ- এর কারণে বাসা-বাড়ীতে ঈদের নামায আদায় করার হুকুম

প্রশ্ন

করোনা ভাইরাসের প্রেক্ষিতে লকডাউনের মধ্যে ঈদের নামায বাসায় আদায় করা জায়েয হবে কিনা; যদি বাসাতে তিনজনের অধিক পুরুষ লোক থাকে? এটি কি বাসাতে নামায আদায় করার জন্য যথাযথ ওজর? হোম কোয়ারেন্টিনের কারণে যদি কেউ তার পরিবারকে নিয়ে বাসাতে ঈদের নামায আদায় করে সেক্ষেত্রে সে কি খোতবা দিবে?

উত্তর

আলহামদু লিল্লাহ।.

এক:

ইতিপূর্বে 96922 নং প্রশ্নোত্তরে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যে ব্যক্তির ঈদের নামায ছুটে গেছে কিংবা কোন প্রতিবন্ধকতার কারণে তিনি ঈদের নামাযে হাযির হতে পারেননি তার জন্য ঈদের নামায নিজ বাসায় আদায় করা জায়েয; এমনকি তিনি একা হলেও। এটি জমহুর (অধিকাংশ আলেম) এর অভিমত।

ইবনে কুদামা “আল-মুগনী” গ্রন্থে (২/২৮৯) বলেন: “যে ব্যক্তির ঈদের নামায ছুটে গেছে সে ব্যক্তির উপর কাযা পড়া আবশ্যক নয়। যেহেতু ঈদের নামায ফরযে কিফায়া। যে কেউ পড়লে সেটাই যথেষ্ট।

তবে কেউ যদি কাযা পড়তে চায় তাহলে তার একাধিক এখতিয়ার থাকবে। তিনি ইচ্ছা করলে এক সালামে কিংবা দুই সালামে চার রাকাত নামায পড়তে পারেন।

এটি ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে এবং এটি ছাওরী (রহঃ) এর অভিমত। যেহেতু ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন: যে ব্যক্তির ঈদের নামায ছুটে গেছে সে ব্যক্তি চার রাকাত নামায পড়বেন। যে ব্যক্তির জুমার নামায ছুটে গেছে তিনিও চার রাকাত পড়বেন।

আলী (রাঃ) থেকেও বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন: যদি আমি দুর্বল লোকদেরকে নিয়ে কাউকে নামায পড়ার নির্দেশ দিই তাহলে আমি তাকে চার রাকাত পড়ার নির্দেশ দিব।[সুনানে সাঈদ ইবনে মানছুর]

ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেন: এ অভিমতকে শক্তিশালী করে আলী (রাঃ) এর হাদিস। তিনি জনৈক ব্যক্তিকে দুর্বল লোকদেরকে নিয়ে নামায পড়ার ও খোতবা না দেয়ার নির্দেশ দেন।

এবং যেহেতু এটি ঈদের নামাযের কাযা; তাই জুমার কাযা নামাযের ন্যায় এটাও চার রাকাত।

এবং তিনি ইচ্ছা করলে নফল নামাযের মত দুই রাকাত পড়তে পারেন। এটি আওযায়ির অভিমত। যেহেতু এটি নফল।

আর যদি ইচ্ছা করেন যে, তাকবীর দিয়ে ঈদের নামাযের পদ্ধতিতে পড়বেন; তাহলে এমন অভিমত ইমাম আহমাদ থেকে ঈসমাইল বিন সাঈদ বর্ণনা করেছেন, জুযজানী এ অভিমতকে পছন্দ করেছেন। এবং এটি নাখাঈ, মালেক, শাফেয়ি, আবু ছাওর ও ইবনে মুনযির প্রমুখের অভিমত।

যেহেতু আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি একবার বসরাতে ইমামের সাথে ঈদের নামায পাননি। তখন তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদেরকে ও তাঁর দাসদেরকে একত্রিত করেন। এরপর তাঁর দাস আব্দুল্লাহ্‌ বিন আবি উতবা নামায পড়ান। আব্দুল্লাহ্‌ দুই রাকাত নামায পড়ান এবং উভয় রাকাতে তাকবীর দেন।

এবং যেহেতু এটি একটা নির্দিষ্ট নামাযের কাযা নামায। তাই অন্য সকল নামাযের মত এটি ঐ (মূল) নামাযের পদ্ধতিতে হওয়া চাই। এভাবে নামায পড়ার ক্ষেত্রেও ব্যক্তির স্বাধীনতা থাকবে একাকী পড়ার কিংবা জামাতের সাথে পড়ার।

আবু আব্দুল্লাহ্‌কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: কোথায় পড়বে? তিনি বলেন: চাইলে সে ঈদগাহে যেতে পারে; কিংবা সে যেখানে চায় সেখানে পড়তে পারে।”[সমাপ্ত]

পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, খলিফার সাথে যেভাবে ঈদের নামায পড়া হয় সেভাবে পড়াটা জমহুরের অভিমত। অতএব, ঈদের নামাযের যে পদ্ধতি রয়েছে সে পদ্ধতিতে নামাযটি পড়বেন। অর্থাৎ অতিরিক্ত তাকবীর দিয়ে দুই রাকাত নামায পড়বেন; খোতবা ছাড়া।

আর যখন পূর্বোক্ত মতভেদের আলোচ্য বিষয় তথা নামাযটি ঈদের নামাযের কাযা হিসেবে পালিত না হয়; বরং মূল ঈদের নামায হিসেবে সম্পাদিত হয় এবং এর দ্বারা ফরয দায়িত্ব কিংবা কিফায়া দায়িত্ব পালিত হয়; বর্তমান পরিস্থিতির হাল তো এটাই; সেক্ষেত্রে এই নামায ঈদের নামাযের মূল পদ্ধতিতে পড়ার বিষয়টি আরও তাগিদপূর্ণ। যেহেতু পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের ঈদগাহসমূহে ও মসজিদগুলোতে ঈদের নামায পড়া হবে না; তাই এমন পরিস্থিতিতে ঈদের নামাযের পরিচিত পদ্ধতির খিলাফ করাটা অগ্রগণ্য হতে পারে না। বরঞ্চ ব্যক্তি যদি তার বাসা-বাড়ীতে ঈদের নামায পড়ে তাহলে তার উচিত হবে ঈদের নামাযের পরিচিত পদ্ধতিতে পড়া।

দুই:

শাফেয়ি মাযহাবের অভিমত হচ্ছে জনবিচ্ছিন্ন ব্যক্তি ঈদের নামায তার নিজ বাসস্থানে আদায় করা সুন্নত। তাদের নিকট সেটা কাযা নামাযের সাথে সম্পৃক্ত নয়। ইমাম মুযানি ইমাম শাফেয়ি (রহঃ) থেকে ‘মুখতারাসুল উম্ম’ (৮/১২৫) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, “জনবিচ্ছিন্ন ব্যক্তি তার বাসস্থানে দুই ঈদের নামায আদায় করবে এবং অনুরূপভাবে মুসাফির, দাস ও মহিলাও।”[সমাপ্ত]

ইমাম নববী ‘আল-মাজমু’ গ্রন্থে (৫/২৬) বলেন: “আহকাম: ঈদের নামায ক্রীতদাস, মুসাফির, নারী ও জনবিচ্ছিন্ন ব্যক্তির জন্য নিজ বাসায় কিংবা অন্য কোন স্থানে আদায় করা কি শরিয়ত সম্মত?

“এক্ষেত্রে দুটো অভিমত রয়েছে। সর্বাধিক শুদ্ধ ও মশহুর অভিমত হচ্ছে ঈদের নামায তাদের জন্য আদায় করা শরিয়তসম্মত হওয়ার পক্ষে নিশ্চয়তা জ্ঞাপন করা।”[সমাপ্ত]

তাদের নিকট এ শ্রেণীর ব্যক্তিদের মধ্যে যারা জামাতের সাথে আদায় করবেন তাদের ক্ষেত্রে খোতবা দেয়াও সুন্নত।

‘মুগনিল মুহতাজ’ গ্রন্থে (১/৫৮৯) বলেন: “জামাতের সাথে এ নামাযদ্বয় আদায়কারীদের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সুপথপ্রাপ্ত খলিফাদের অনুসরণে খোতবা দেয়া সুন্নত। এক্ষেত্রে মুসাফিরদের জামাত করা ও অন্যদের জামাত করার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।”[সমাপ্ত]

তুহফাতুল মুহতাজ গ্রন্থে (৩/৪০) বলেন: “জনবিচ্ছিন্ন ব্যক্তির জন্য (ঈদের নামায) আদায় করা সুন্নত; তবে খোতবা ছাড়া। অনুরূপভাবে ক্রীতদাস, নারীর জন্যেও সুন্নত। স্বাধীন নারী ও দাসী ঈদের নামাযে হাযির হওয়ার ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে ‘জামায়াত’ অধ্যায়ের শুরুর দিকে তারা জামায়াতে হাজির হওয়ার ক্ষেত্রে যা কিছু উল্লেখিত হয়েছে সেগুলো প্রযোজ্য হবে। অনুরূপভাবে মুসাফিরের জন্যেও সুন্নত; অন্য সকল নফল নামাযের মত। মুসাফিরদের ইমামের জন্য তাদের উদ্দেশ্যে খোতবা দেয়া সুন্নত।”[সমাপ্ত]

এরপর তিনি বলেন (৩/৪৫): “ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একা একা আদায়কারীর জন্য খোতবা দেয়া সুন্নত নয়।”[সমাপ্ত]

মালেকী মাযহাব হচ্ছে- একাকী আদায়কারী, নারী ও মুসাফিরের জন্য আদায় করা সুন্নত; মুস্তাহাব নয়।

আল-খিরাশী বলেন (২/৯৮): “যিনি জুমার নামায আদায় করতে আদিষ্ট তার জন্য ঈদের নামায আদায় করা সুন্নত; নফল নামায বৈধ হওয়ার সময় থেকে শুরু করে সূর্য হেলে পড়া পর্যন্ত।” ব্যাখ্যাকার বলেন: ঈদের নামাযের হুকুমের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। মশহুর অভিমত হচ্ছে যেমনটি গ্রন্থাকার উল্লেখ করেছেন সুন্নতে আইন (প্রত্যেকের জন্য সুন্নত); অন্য মতে, সুন্নতে কিফায়া (কেউ পড়লে অন্যদের সুন্নত আদায় হয়ে যাবে)।

যে ব্যক্তির উপর জুমার নামায আবশ্যক তাকে আদায় করার নির্দেশ দেয়া হবে। ক্রীতদাস, বালক, নারী ও মুসাফির ঈদের নামাযে হাযির হবেন। আর যে ব্যক্তি শহর থেকে ৩ মাইল দূরত্বের বাইরে তার ক্ষেত্রে সুন্নত নয়; কিন্তু মুস্তাহাব। অচিরেই সেই আলোচনা আসবে।”[সমাপ্ত]

আরও বলেন (২/১০৪): যে ব্যক্তি এই নামায পড়ার জন্য আদিষ্ট নয় কিংবা যার ছুটে গেছে তার নামাযটি আদায় করা:

ব্যাখ্যাকার বলেন: অর্থাৎ যে ব্যক্তি জুমার নামায আদায় করার জন্য আবশ্যকীয়ভাবে আদিষ্ট নয় কিংবা যে ব্যক্তির ইমামের সাথে ঈদের নামায আদায় ছুটে গেছে: তার জন্য এটি পড়া মুস্তাহাব।

এটি কি জামায়াতের সাথে পড়বে; নাকি একাকী? দুটো অভিমত রয়েছে।”[সমাপ্ত]

কিছু কিছু আলেম একাকী পড়াকে প্রাধান্য দিয়েছেন।[দেখুন: হাশিয়াতুদ দুসুকী (১/৪০১)]

মালেকী মাযহাবে আরও রয়েছে যে, যদি তারা জামায়াতের সাথে আদায় করেন তাহলে তারা খোতবা ছাড়া আদায় করবেন।

আল-হাত্তাব ‘মাওয়াহিবুল জালিল’ গ্রন্থে (২/১৯৮) বলেন: “শহরবাসীদের মধ্যে যাদের নামাযটি ছুটে গেছে তাদের জন্য জামায়াত করা জায়েযের অভিমতের ভিত্তিতেও তারা খোতবা দিবে না; এতে কোন মতভেদ নাই। অনুরূপ বিধান প্রযোজ্য যে ব্যক্তি কোন ওজরের কারণে এ নামায আদায় করেনি এবং ক্রীতদাস ও মুসাফিরদের ক্ষেত্রে। আর ছোট গ্রামের অধিবাসীদের ব্যাপারে দুইটি অভিমত রয়েছে। আল্লাহ্‌ই সর্বজ্ঞ।”[সমাপ্ত]

পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে যদি কেউ তার নিজ বাসায় তার পরিবারকে নিয়ে ঈদের নামায আদায় করেন তাহলে শাফেয়ি মাযহাবের আলোকে তার জন্য দুটো খোতবা দেয়া সুন্নত। আর মালেকি মাযহাব মতে, খোতবা দিবে না।

এ দুই মাযহাবের অভিমতের পক্ষে দলিল পেশ করা যায় ইমাম বুখারী তাঁর সহিহ গ্রন্থে দৃঢ়তা প্রকাশক ভাষ্যে যে ‘মুআল্লাক’ রেওয়ায়েতটি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেন: “আনাস বিন মালেক তাঁর আযাদকৃত দাস ইবনে আবি উতবাকে (বাড়ীর) কোণায় (নামায প্রতিষ্ঠার) নির্দেশ দেন। তখন সে তাঁর পরিবার ও ছেলেদেরকে একত্রিত করে।”[সমাপ্ত]

আনাস (রাঃ) এর নামায ছুটে যায়নি। তবে, তিনি বসরাতে শহরের কয়েক মাইল বাহিরে বসবাস করতেন।

ইবনে রজব ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থে (৯/৭৬) বলেন: আনাস (রাঃ) এর নামায ছুটে যায়নি। বরং তিনি শহরের বাইরে দূরে বসবাস করতেন। তাই তাঁর হুকুম গ্রামবাসীদের হুকুম। ইমাম আহমাদ (তার থেকে বর্ণিত এক বর্ণনাতে) সেদিকে ইশারা করেছেন।”[সমাপ্ত]

তিন:

শাইখ আল্লামা আব্দুর রহমান আল-বার্‌রাক ফতোয়া দিয়েছেন যে, যদি মহামারী ও কারফিউ-এর কারণে শহরে নামায অনুষ্ঠিত না হয় তাহলে এ অবস্থার হুকুম হচ্ছে যার নামায ছুটে গেছে তার হুকুম। এমতাবস্থায় বাসা-বাড়ীতে খোতবা ছাড়া ঈদের নামায আদায় করা হবে।

তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়: বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন করোনা ভাইরাসের কারণে নামাযগুলো ঘরে আদায় করা হচ্ছে এমতাবস্থায় ঈদের নামাযের ব্যাপারে আপনার অভিমত কি? ঈদের নামায কি বাসা-বাড়ীতে আদায় করা হবে; যদি আদায় করা হয় তাহলে কিভাবে আদায় করা হবে?

জবাব: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীবর্গের প্রতি আল্লাহ্‌র রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর: যদি কোন প্রতিবন্ধকতার কারণে ঈদের পড়া না যায়; যেমনটি এ দিনগুলোর পরিস্থিতি; সেক্ষেত্রে এর হুকুম হবে যে ব্যক্তির নামায তথা ঈদের নামায ছুটে গেছে তার হুকুমের মত।

এ মাসয়ালায় আলেমদের একাধিক অভিমত রয়েছে: কেউ বলেছেন: দুই রাকাত পড়বে। কেউ বলেছেন: চার রাকাত পড়বে। কেউ বলেছেন: ঈদের নামাযের মত পড়বে; এটাই সঠিক অভিমত। অর্থাৎ দুই রাকাত পড়বে এবং অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বলবে। ক্বিরাত উচ্চস্বরে পড়বে। খোতবা দিবে না। যেমনটি করা হয় যে কোন কাযা ইবাদত সম্পাদনের ক্ষেত্রে। অর্থাৎ মূল ইবাদতের আদলে সম্পাদন করা হয়। একাকীও পড়া যাবে, জামায়াতের সাথেও পড়া যাবে।

এ অভিমতের পক্ষে দলিল হচ্ছে আনাস বিন মালেক (রাঃ) এর কর্ম: যখন তাঁর ঈদের নামায ছুটে যায় তখন তিনি তাঁর পরিবার-পরিজনকে একত্রিত করেন। এরপর আব্দুল্লাহ বিন আবি উতবা তাদেরকে দুই রাকাত নামায পড়ান; যেভাবে শহরবাসীগণ নামায পড়েছে সেভাবে এবং তারা যেভাবে তাকবীর দিয়েছে সেভাবে তাকবীর দিয়ে।

পক্ষান্তরে, ঈদের নামাযের কাযা হয় না এ অভিমত এখানে প্রযোজ্য নয়। কেননা আমাদের এ অবস্থাতে ঈদের নামায মূলতঃ পড়াই হয়নি। অতএব আদৌ ফরয আদায় হয়নি। কিন্তু, এমতাবস্থায় ঈদের নামাযকে যে ব্যক্তির এটি ছুটে গেছে তার অবস্থার উপর কিয়াস করা হবে; যেমনটি ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহই্ সর্বজ্ঞ।[শাইখের ওয়েবসাইট থেকে সমাপ্ত: https://sh-albarrak.com/article/18234]

সারকথা:

১। যে ব্যক্তি ঈদের নামায একাকী পড়বেন তিনি খোতবা ছাড়া আদায় করবেন।

২। যে ব্যক্তি জামায়াতের সাথে আদায় করবেন শাফেয়ি মাযহাব মতে, নামাযের পর দুটো খোতবা দেয়া তার জন্য সুন্নত। যদি খোতবা দেয়া সম্ভবপর হয় তবে খোতবা দেয়ার দিকটিকে শক্তিশালী করে শাইখ তাঁর জবাবে যা উল্লেখ করেছেন: নামায মূলতঃ পড়াই হয়নি এবং সাধারণ জামে মসজিদগুলোতে খোতবা দেয়া হয়নি।

আর মালেকি ও হাম্বলি মাযহাব মতে এবং যারা বর্তমানের ওজরগ্রস্ত মানুষকে যাদের নামায ছুটে গেছে তাদের মত মনে করেন তাদের মতে: জামায়াতের সাথে খোতবা ছাড়া আদায় করা হবে।

ঈদের নামাযের জন্য সংখ্যার শর্ত জানতে দেখুন: 337550 নং প্রশ্নোত্তর।

আল্লাহ্‌ই সর্বজ্ঞ।

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব