শুক্রবার 7 সফর 1442 - 25 সেপ্টেম্বর 2020
বাংলা

যারা হাজী নন তাদের জন্য আরাফার দিন দুআ করার কি কোন ফযিলত আছে?

প্রশ্ন

যারা হাজী নন আরাফার দিনে তাদের দোয়াও কি কবুল হওয়ার সম্ভাবনাময়?

উত্তর

আলহামদু লিল্লাহ।.

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আরাফার দিনের চেয়ে উত্তম এমন কোন দিন নেই যেই দিন আল্লাহ সবচেয়ে বেশি বান্দাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেন; নিশ্চয় তিনি নিকটবর্তী হন; অতঃপর আরাফাবাসীকে নিয়ে ফেরেশতাদের কাছে গৌরব করে বলেন: এরা কি চায়?”[সহিহ মুসলিম (১৩৪৮)]

আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “সর্বোত্তম দোয়া হচ্ছে- আরাফার দিনের দোয়া। আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণ সর্বোত্তম যে দোয়াটি পাঠ করেছি সেটা হচ্ছে- لا إله إلا الله وحده لا شريك له ، له الملك ، وله الحمد ، وهو على كل شيء قدير (অর্থ- এক আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই; তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব তাঁর জন্য, প্রশংসা তাঁর জন্য, তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান)।[সুনানে তিরমিযি (৩৫৮৫), আলবানী ‘সহিহুত তারগীব’ গ্রন্থে (১৫৩৬) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]

মুরসাল সনদে তালহা বিন উবাইদ বিন কুরাইয থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: “সর্বোত্তম দোয়া হচ্ছে- আরাফা দিনের দোয়া”।[মুয়াত্তা মালেক (৫০০), আলবানী তাঁর ‘সহিহুল জামে’ গ্রন্থে হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]

আরাফার দিনে দোয়া করার ফযিলত কি শুধু আরাফাবাসীর জন্য খাস; নাকি অন্যসব স্থানের মানুষকেও অন্তর্ভুক্ত করবে— এ ব্যাপারে আলেমদের মতভেদ আছে। অগ্রগণ্য মতানুযায়ী, এ ফযিলত আম বা সাধারণ এবং ফযিলতটি হচ্ছে কালকেন্দ্রিক। তবে, নিঃসন্দেহে যে ব্যক্তি আরাফার ময়দানে হাজির রয়েছেন তিনি স্থানের ফযিলত ও কালের ফযিলত উভয়টি পাচ্ছেন।

আল-বাযি (রহঃ) বলেন:

তাঁর কথা: “সর্বোত্তম দোয়া হচ্ছে- আরাফার দিনের দোয়া”। অর্থাৎ সবচেয়ে বরকতময়, অধিক সওয়াব ও কবুল হওয়ার অধিক উপযুক্ত যিকির। এর দ্বারা শুধু হজ্জপালনকারী উদ্দেশ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; কেননা আরাফার দিনে দোয়া করা হজ্জপালনকারীর ব্যাপারে শুদ্ধ হয় এবং বিশেষভাবে হাজীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। সাধারণভাবে এই দিনকে আরাফার দিন বলা হলেও সেটা হাজীদের আমলের কারণেই। আল্লাহই ভাল জানেন।[সমাপ্ত, আল-মুনতাকা শারহুল মুয়াত্তা (১/৩৫৮)]

কোন কোন সলফে সালেহীন থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তাঁরা ‘تعريف’ (তা’রীফ) করাকে জায়েয মনে করতেন। تعريف (তা’রীফ) হচ্ছে- আরাফার দিনে দোয়া ও যিকির করার জন্য মসজিদে একত্রিত হওয়া। যারা এটি করতেন তাদের মধ্যে রয়েছেন- ইবনে আব্বাস (রাঃ)। ইমাম আহমাদ তা’রীফ করাকে জায়েয বলেছেন। যদিও তিনি নিজে করতেন না।

ইবনে কুদামা (রহঃ) বলেন:

কাযী বলেন: “আরাফার দিন সন্ধ্যায় শহরবন্দরে (অর্থাৎ আরাফা ছাড়া অন্যত্র) تعريف (তা’রীফ) পালন করতে কোন বাধা নেই। আল-আসরাম বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে অর্থাৎ ইমাম আহমাদকে আরাফার দিন বিভিন্ন শহরের মসজিদে একত্রিত হয়ে تعريف (তা’রীফ) পালন করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি বলেন: “আমি আশা করছি এতে কোন অসুবিধা নেই; একাধিক সলফে সালেহীন এটি করতেন।” আল-আসরাম হাসান থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: সর্বপ্রথম বসরা শরে যিনি تعريف পালন করেছেন: ইবনে আব্বাস (রাঃ)। ইমাম আহমাদ বলেন: “সর্বপ্রথম যিনি এটি করেছেন তিনি হচ্ছেন- ইবনে আব্বাস (রাঃ) ও আমর বিন হুরাইছ (রাঃ)”।

তিনি আরও বলেন: হাসান, বকর, সাবেত ও মুহাম্মদ বিন ওয়াসে’ তাঁরা আরাফার দিন মসজিদে হাজির হতেন। ইমাম আহমাদ বলেন: এতে কোন অসুবিধা নেই। এটা তো দোয়া ও যিকির ছাড়া আর কিছু নয়। তাঁকে বলা হল: আপনি কি এটা করেন? তিনি বলেন: না; আমি করি না। ইয়াইয়া বিন মায়ী’ন থেকে বর্ণিত আছে যে, আরাফার দিন সন্ধ্যায় সবার সাথে তিনিও হাজির থাকতেন।[সমাপ্ত]

[আল-মুগনী (২১২৯)]

এ আলোচনা প্রমাণ করে যে, তারা মনে করতেন যে, আরাফার দিনের ফযিলত শুধু হাজীদের জন্য খাস নয়। যদিও আরাফার দিন দোয়া ও যিকির পালন করার জন্য মসজিদে একত্রিত হওয়ার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কোন কিছু বর্ণিত হয়নি। এ কারণে ইমাম আহমাদ এটি করতেন না। তবে, তিনি এ ব্যাপারে রুখসত বা ছাড় দিতেন; নিষেধ করতেন না। যেহেতু ইবনে আব্বাস, আমর বিন হুরাইছ প্রমুখ সাহাবী এটি করতেন।

আল্লাহই ভাল জানেন।

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব