শুক্রবার 8 রবীউল আউওয়াল 1440 - 16 নভেম্বর 2018
বাংলা

এক ব্যক্তির দাদী অসুস্থ ও বেহুঁশ। রোযা পালন না করার কারণে কি তাঁকে কাফ্‌ফারা দিতে হবে

প্রশ্ন

প্রশ্ন :
প্রায় দেড় বছর ধরে আমার দাদী/নানী অসুস্থ। তাঁর হুঁশ নেই, তিনি কথা বলতে পারেন না এবং খাবারদাবারও চান না। যদি আমরা তাঁকে কোন খাবার দেই তবে তিনি খান। তাঁর সাথে কেউ কথা বললে তিনি কদাচিৎ তাকে চিনতে পারেন। তাঁর যা প্রয়োজন সেটাও তিনি আমাদেরকে বলেন না।[যেমন ধরুন তিনি বলেন না যে, আমি টয়লেটে যাব। আল্লাহ আপনাদেরকে সম্মানিত করুন**] তাঁর অবস্থা হলো- তিনি কোন নড়াচড়া ছাড়া বিছানার উপর ঘুমিয়ে থাকেন। তাঁর ছেলেরা তাঁকে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে। আমি তাঁর সিয়াম ও সালাতের ব্যাপারে জানতে চাই। আমরা কি তাঁর পক্ষ থেকে ফিদিয়া আদায় করব এবং ইতিপূর্বে গত অবস্থার জন্য আমাদের কোন করণীয় আছে কী?
[** আরবী ভাষাভাষীরা অপবিত্র জিনিস যেমন জুতো, টয়লেট ইত্যাদির কথা উল্লেখের পর সাধারণত “আল্লাহ আপনাদের সম্মানিত করুন” এই দু‘আটি উল্লেখ করে থাকে।]

উত্তর

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

যিনি বয়সের ভারে দেহ ও মনের চরম অবনতির পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন, তাঁর বিবেক-বুদ্ধি লোপ পেয়ে গেছে, হুঁশ থাকে না এমন ব্যক্তিনামায-রোযার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়ে যান। তাঁর উপর কোন কাফ্‌ফারাআদায় করাও আবশ্যক নয়। কারণ মুকাল্লাফ(শরয়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত) হওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছেবিবেকবুদ্ধি সম্পন্ন হওয়া।

নবীসাল্লাল্লাহু‘আলাইহিওয়াসাল্লামবলেছেন :“তিনব্যক্তিরউপরথেকে (দায়িত্বের) কলমউঠিয়েনেয়াহয়েছেঃ (১) ঘুমন্তব্যক্তিজাগ্রতহওয়াপর্যন্ত (২) শিশুবালিগহওয়াপর্যন্তএবং (৩) পাগল বিবেকবুদ্ধিফিরেপাওয়াপর্যন্ত ।”[আবুদাউদ (৪৪০৩), তিরমিযী ( ১৪২৩), নাসা’ঈ (৩৪৩২), ইবনেমাজাহ (২০৪১)]আবুদাউদবলেছেন: “এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন ইবনে জুরাইজ ক্বাসিম ইবনে ইয়াজিদ হতে, তিনি আলীরাদিয়াল্লাহু আনহুহতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে এবং এ বর্ণনাতে তিনিوَالْخَرِفِ (বয়োবৃদ্ধ) শব্দটি যোগ করেছেন।শাইখ আলবানী এই হাদিসটিকে ‘সহীহ আবু দাউদ’গ্রন্থে সহীহ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

আউনুল মাবুদ গ্রন্থে বলেছেন:

“আলখারিফ”শব্দটি “আলখারাফ”শব্দ হতে উদ্ভূত। এর অর্থ হলো বার্ধক্যের কারণে বুদ্ধি লোপ পাওয়া। হাদিসে এ শব্দটির অর্থ হলো অতিশয় বৃদ্ধব্যক্তি, বার্ধক্যের কারণে যার বুদ্ধি-বৈকল্য ঘটেছে। অতি বৃদ্ধ ব্যক্তির কখনো কখনো বুদ্ধিভ্রম হতে পারে। যারফলে তিনি ভালমন্দ বিচার করতে পারেন না।এমতাবস্থায় তিনি আরমুকাল্লাফ (দায়িত্বপ্রাপ্ত) বলে বিবেচিত হননা। এ অবস্থাকে পাগলামিও বলা যায় না। সমাপ্ত

শাইখ ইবনেউছাইমীন রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন:
“নিম্নোক্ত শর্ত ব্যতিরেকে কারো উপর রোযা পালন করা ওয়াজিব হয় না:
১. বিবেকবুদ্ধি সম্পন্ন হওয়া
২. সাবালগ হওয়া
৩. ইসলাম
৪.সক্ষমতা থাকা

৫. সংসারী (মুকিম)হওয়া,সফরেনাথাকা
৬.নারীদেরক্ষেত্রেহায়েয ওনিফাসমুক্তহওয়া

প্রথম শর্ত:

বিবেকবুদ্ধি সম্পন্ন হওয়া।এরবিপরীতহলবুদ্ধি-বৈকল্যহওয়া।তাপাগলামিরকারণেহোকবাবার্ধক্যজনিতঅক্ষমতারকারণে হোকঅথবাকোন দুর্ঘটনারকারণেবোধশক্তিওঅনুভুতিশক্তিলোপ পেয়ে যাক। বিবেকবুদ্ধিলোপ পাওয়ারকারণেএ ব্যক্তিরউপরকোন শরয়িদায়িত্ববর্তায়না। এরউপরভিত্তিকরেবলাযায়যে, বৃদ্ধব্যক্তিযদিবার্ধক্যজনিতঅক্ষমতারচরমপর্যায়েপৌঁছেতবেতাঁরউপররোযাবাফিদিয়া প্রদান করারদায়িত্ববর্তায়না।কারণতাঁরবিবেকবুদ্ধিঅনুপস্থিত।”সমাপ্ত[লিক্বাউলবাবিল মাফতূহ ( ৪/২২০)]

পক্ষান্তরে ইতিপূর্বে যা গত হয়েছে সে সময়ের ক্ষেত্রে উনার অবস্থা যদি এমনই হয়ে থাকে যে উনার কোন জ্ঞান বাউপলব্ধি ছিল না তবে তাঁর উপর কোন সিয়াম বা কাফ্‌ফারানেই।আর যদি তাঁর জ্ঞান ও বোধশক্তি থেকে থাকে কিন্তু রোগের কারণে সিয়াম ত্যাগ করে থাকেন সেক্ষেত্রে দুটি অবস্থা হতে পারে :

(১) যদি সে সময় তাঁর রোগমুক্তির আশা ছিল। কিন্তু তিনি সুস্থ না হয়ে রোগ আরো দীর্ঘায়িত হয়। তবে তার উপর কোন কিছু বর্তায় না। কারণ তাঁর ওয়াজিব ছিল সুস্থ হওয়ার পর কাযা আদায় করা। কিন্তু তিনি তো আর সুস্থ হননি।

(২) আরযদি অবস্থা এমন হয় যে,সেসময়েওতারসুস্থহওয়ার কোন আশাছিলনাতবেতারপক্ষথেকেপ্রতিদিনেরপরিবর্তেকাফ্‌ফারাআদায়করাওয়াজিব। কাফফরাহচ্ছেএকজন মিসকীনকেঅর্ধসা‘পরিমাণ স্থানীয় খাদ্যদ্রব্য প্রদান করা। আপনারা যদি এ কাফফারা আদায় না করে থাকেন তবে তাঁরসম্পদথেকেতাআদায়করুন। আমরাআল্লাহতা‘আলারকাছেতাঁরসুস্থতা ও রোগ নিরাময়ের দোয়া করছিএবংআপনাদেরজন্যতাওফিক ওদৃঢ়তারপ্রার্থনাকরছি।

আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

মতামত প্রেরণ