কোনো মুসলিম যখন ওযু করেন, তখন ওযু ভঙ্গ হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তার ওযু ভেঙেছে বলে রায় দেওয়া যাবে না। কেবল সন্দেহের কারণে— সেই সন্দেহ যত প্রবলই হোক না কেন—ওযু ভঙ্গ হবে না।
সহীহ বুখারী (১৩৭) ও সহীহ মুসলিমে (৩৬১) বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এমন এক ব্যক্তির কথা বলা হলো যার মনে হয় যে নামাজের মধ্যে তার কিছু (বায়ু) বের হয়েছে। তখন তিনি বললেন: "সে যেন নামাজ থেকে বিরত না হয়, যতক্ষণ না সে শব্দ শোনে অথবা গন্ধ পায়।"
ইমাম নববী (রহ.) শারহ সহীহ মুসলিম-এ বলেন:
"রাসূলুল্লাহ-এর বাণী 'শব্দ শোনা বা গন্ধ পাওয়া'র অর্থ হলো— এই দু'টির কোনো একটির ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া। সকল মুসলিমের ঐকমত্য অনুযায়ী (ওযু ভাঙার জন্য) শব্দ শোনা বা গন্ধ পাওয়া আবশ্যিক শর্ত নয় (বরং নিশ্চিত হওয়াটাই মূল)।
এই হাদীসটি ইসলামের একটি অন্যতম মূলনীতি এবং ফিকহ শাস্ত্রের একটি মহান ভিত্তি। মূলনীতিটি হলো: 'কোনো জিনিস নিশ্চিতভাবে যে অবস্থায় ছিল, এর বিপরীত কিছু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তা সেই অবস্থাতেই বহাল আছে বলে গণ্য হবে।' পরে আসা কোনো সন্দেহ সেই অবস্থাকে প্রভাবিত করবে না। আলোচ্য মাসআলাটিও এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ যে ব্যক্তি নিশ্চিত যে সে পবিত্র (ওযুযুক্ত), কিন্তু পরে অপবিত্র হওয়া (ওযু ভাঙা) নিয়ে সন্দেহ পোষণ করছে, তবে তাকে পবিত্র হিসেবেই গণ্য করা হবে। এই সন্দেহ নামাজের ভেতরে হোক বা বাইরে— উভয় ক্ষেত্রেই বিধান সমান। এটিই আমাদের (শাফেয়ী) মাযহাব এবং সালাফ ও খালাফ পর্যায়ের অধিকাংশ উলামায়ে কেরামের মাযহাব।
আমাদের (শাফেয়ী) আলেমদের মতে: এই সন্দেহের ক্ষেত্রে উভয় সম্ভাবনা (ওযু থাকা বা না থাকা) সমান হোক, কিংবা একটির সম্ভাবনা বেশি হোক বা প্রবল ধারণা (যান্ন-এ-গালিব) তৈরি হোক—কোনো অবস্থাতেই তার ওপর পুনরায় ওযু করা আবশ্যক নয়।"
সুতরাং, ঘুম গভীর ছিল কি না এ নিয়ে যদি সন্দেহ তৈরি হয়, তবে তার ফলে ওযু নষ্ট হবে না।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) মাজমুউল ফাতাওয়া (২১/৩৯৪) গ্রন্থে বলেন:
"যে ঘুম নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়— অর্থাৎ এই ঘুমের কারণে বায়ু নির্গত হয়েছে কি না? এমন ঘুম ওযু ভঙ্গ করে না। কারণ পবিত্রতা নিশ্চিতভাবে সাব্যস্ত। সুতরাং সন্দেহের দ্বারা নিশ্চিত কিছু দূর হবে না।"
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।