এক:
আমরা আমাদের ওয়েবসাইটে যে সমস্ত উত্তর প্রকাশ করি সেগুলো পড়ার জন্য প্রশ্নকারী ভাইকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। এছাড়া তিনি এগুলোতে নিজের চিন্তাকে প্রয়োগ করছেন সে জন্যও তার প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। বাহ্যতঃ বিরোধপূর্ণ মনে হয় এমন বিষয়ে তিনি যে প্রশ্ন করেছেন এটি প্রমাণ করে যে তিনি জানতে আগ্রহী এবং যা পড়েন তা থেকে উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করেন, ইন শা আল্লাহ।
দুই:
উল্লিখিত প্রশ্নের উত্তরে যা বর্ণিত হয়েছে তার সাথে প্রশ্নে উল্লিখিত হাদীসসমূহের কোনো বৈপরিত্য নেই। এর ব্যাখ্যা নিম্নরুপ:
জাহান্নামবাসী দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: তাওহীদবাদী (ঈমানদার); যারা নেক আমলের সাথে বদ আমলের মিশ্রণ করেছে। তাদের পাপের কারণে আল্লাহ তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করিয়েছেন এবং তিনি চেয়েছেন যে, তারা সেখানে শাস্তি ভোগ করুক।
এই প্রকার ব্যক্তিরা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জাহান্নামে শাস্তি পাবে। সে সময়টা আল্লাহই নির্ধারণ করবেন। তারপর তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনবেন এবং তাদের জন্য স্থায়ীভাবে জান্নাত লিখে দিবেন।
এই প্রকার মানুষই প্রশ্নে বর্ণিত হাদীসসমূহে উদ্দেশ্য। সে হাদিসগুলোতে বলা হয়েছে যে, তাদের মাঝে বিদ্যমান তাওহীদের কারণে তারা জাহান্নাম থেকে বের হবে। এরা জাহান্নামবাসী মুসলিম।
দ্বিতীয় প্রকার: কাফের ও মুনাফিক সম্প্রদায়। এদের তাওহীদের প্রতি ঈমান নেই। কুফুরী, শির্ক, নাস্তিকতা ও নিফাকীর উপর এরা মারা গিয়েছে।
এই প্রকার মানুষের শাস্তি হবে চিরন্তন। এ প্রকারের মানুষকে আল্লাহ এই বলে ধমক দিয়েছেন যে, তারা যদি আল্লাহর নির্দেশিত তাওহীদ (আল্লাহর এককত্ব) ও আল্লাহর জন্য ধর্মকে একনিষ্ঠ না করে তাহলে তারা চিরস্থায়ী জাহান্নামে থাকবে। কিন্তু তারা নিজেদের জন্য কুফরী বেছে নিয়েছে, জাহান্নামে চিরস্থায়ীভাবে থাকাকে এখতিয়ার করেছে।
আপনি আপনার প্রশ্নের শুরুতে যে প্রশ্নোত্তরের কথা উল্লেখ করেছেন, সেখানে সূরা হূদের যে আয়াতসমূহ আমরা উল্লেখ করেছি সেগুলোর দ্বারা এই প্রকার মানুষ উদ্দেশ্য।
তিন:
যেমনটা আমরা আগে উল্লেখ করেছি জেনে রাখুন: এক শ্রেণী নয়; বরং দুই শ্রেণীর মানুষ জাহান্নামে প্রবেশ করবে। এদের মাঝে এক শ্রেণী জাহান্নাম থেকে বের হবে। তারা হচ্ছে তাওহীদবাদী মানুষ; যারা এমন কিছু পাপে লিপ্ত হয়েছে যার কারণে তারা জাহান্নামের উপযুক্ত হয়েছে। অন্য দলটি জাহান্নাম থেকে বের হবে না। তারা হচ্ছে ঐ সমস্ত মানুষ যারা কুফরী করেছে এবং কুফরীর উপর মারা গিয়েছে।
অন্যদিকে জান্নাতে কেবল একটি দলই প্রবেশ করবে। তারা হচ্ছে তাওহীদে বিশ্বাসী দলটি। বান্দা যদি জান্নাতে প্রবেশ করে সে কখনো সেখান থেকে বের হবে না। বরং সেখানে বিদ্যমান নিয়ামত সে পেতে থাকবে। সেখানে সে দুর্ভাগা হবে না, কষ্ট পাবে না, মারা যাবে না, অসুস্থ হবে না এবং বৃদ্ধ হবে না। একবার এই নিয়ামত পাওয়ার পর আর কখনও এর থেকে বঞ্চিত হবে না।
যদি আপনি বুঝতে পারেন যে মানুষ দুই প্রকার: ঈমানদার ও কাফের এবং সৌভাগ্যবান ও দুর্ভাগ্যবান তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন যে, কুরআনে জাহান্নাম থেকে বের না হওয়ার যে বিধানের কথা বর্ণিত হয়েছে সেটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জাহান্নামের স্থায়ীবাসিন্দা কাফের ব্যক্তিবর্গ। যেমনটি আল্লাহর বাণীতে এসেছে:
كَذَلِكَ يُرِيهِمُ اللَّهُ أَعْمَالَهُمْ حَسَرَاتٍ عَلَيْهِمْ وَمَا هُمْ بِخَارِجِين مِنَ النَّارِ
“এভাবেই আল্লাহ তাদের কাজসমূহকে তাদের জন্যই আক্ষেপে পরিণত করবেন। তারা জাহান্নাম থেকে কখনো বের হবে না।”[সূরা বাকারা: ১৬৭]
এছাড়াও তার বাণী:
يُرِيدُونَ أَنْ يَخْرُجُوا مِنَ النَّارِ وَمَا هُمْ بِخَارِجِينَ مِنْهَا وَلَهُمْ عَذَابٌ مُقِيمٌ
“তারা আগুন থেকে বের হতে চাইবে, কিন্তু তারা সেখান থেকে আর বের হবে না। তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী শাস্তি।”[সূরা মায়েদা: ৩৭]
অন্যদিকে সৌভাগ্যবান ও ঈমানদার সম্প্রদায়ের ব্যাপারে আল্লাহর হুকুম হচ্ছে তারা জান্নাত থেকে বের হবে না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِمْ مِنْ غِلٍّ إِخْوَانًا عَلَى سُرُرٍ مُتَقَابِلِينَ لا يَمَسُّهُمْ فِيهَا نَصَبٌ وَمَا هُمْ مِنْهَا بِمُخْرَجِينَ
“আমি তাদের অন্তরের বিদ্বেষ দূর করে দেব। তারা ভাই-ভাইয়ের মত সামনাসামনি আসনে বসবে। সেখানে তাদের কোনো ক্লান্তি আসবে না এবং সেখান থেকে তাদেরকে বেরও করা হবে না।”[সূরা হিজর: ৪৭-৪৮]
চার:
আপনার কাছে যদি এটি স্পষ্ট হয় তাহলে এটাও জানা জরুরী যে, কাফের যদি এমন কোন কাজ করে যার জন্য সে প্রতিদানের হকদার তাহলে দুনিয়াতেই তাকে এর প্রতিদান দেয়া হবে; আখিরাতে না। কারণ সে যে কুফরীতে লিপ্ত এটি তার কাজটি আখিরাতে উপকৃত হওয়ার জন্য কবুল হওয়ার পথে প্রতিবন্ধক। কারণ আমল কবুল হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে— ইসলাম।
ইমাম ত্বাবারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করা ছাড়া (অর্থাৎ মুশরিক ব্যক্তি) কোনো ভালো কাজ করে তাকে এর প্রতিদান দুনিয়াতেই দেওয়া হয়। যেমন: সে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, ভিক্ষুককে দান করা, নিরুপায় ব্যক্তির প্রতি দয়া করা ইত্যাদি উত্তম কাজসমূহ। আল্লাহ দুনিয়াতে নগদে তার কর্মের প্রতিদান প্রদান করেন। তার জীবিকায় ও রিযিকে প্রবৃদ্ধি দান করেন। তাকে যা দেন তাতে তা দ্বারা তার চক্ষু শীতল করে দেন। তার থেকে দুনিয়াবী অনিষ্টসমূহ প্রতিহত করেন। অনুরূপভাবে আরো কিছু বিষয় প্রদান করেন। কিন্তু তার জন্য আখিরাতে কোনো কিছুই নেই।’[তাফসীরুত ত্বাবারী (১৫/২৬৫)]
হাফেয ইবনে হাজার রাহিমাহুল্লাহ বলেন: ‘কাযী ইয়ায বলেছেন: এ ব্যাপারে ইজমা তথা ঐকমত্য রয়েছে যে, কাফেরদের কাজসমূহ তাদের কোনো কাজে আসবে না, তারা এর জন্য প্রতিদান হিসেবে কোনো আখিরাতে কোনো নিয়ামত পাবে না, তাদের শাস্তি কমিয়ে দেওয়া হবে না, যদিও তাদের মাঝে কারো কারো শাস্তি অন্যদের চেয়ে বেশি হবে।’[ফাতহুল বারী (৯/৪৮)]
জেনে রাখুন, আল্লাহ তাদের জনহিতকর কাজের প্রতিদান বিনষ্ট করবেন না। কিন্তু তাদের প্রতিদান দুনিয়াতেই দেয়া হবে; আখিরাতে নয়। অন্যদিকে মুমিন তার নেককাজের প্রতিদান দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানে পাবে।
আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কাফের যখন দুনিয়াতে কোনো পুণ্যের কাজ করে তখন এর বিনিময়ে তাকে দুনিয়াতে কোন খাবার খেতে দেওয়া হয়। (আর আখেরাতে সে এর কিছুই প্রতিদান পাবে না)। কিন্তু মুমিনের জন্য আল্লাহ তা’আলা আখেরাতে তার প্রতিদানকে সঞ্চিত করে রাখেন এবং দুনিয়াতে তাঁর আনুগত্যের বিনিময়ে তিনি তাকে জীবিকা দেন।”[হাদীসটি মুসলিম (২৮০৮) বর্ণনা করেন]
অন্য বর্ণনা অনুযায়ী, “মহান আল্লাহ কোন মুমিনের উপর তার নেকীর ব্যাপারে যুলুম করেন না। তাকে তার প্রতিদান দুনিয়াতেও দেওয়া হয় এবং আখেরাতেও দেওয়া হবে। কিন্তু কাফেরকে ভালো কাজের বিনিময় (যা সে আল্লাহর জন্য করে) দুনিয়াতেই দিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি যখন সে আখেরাতে পাড়ি জমাবে, তখন তার এমন কোনো পুণ্য থাকবে না যার বিনিময়ে তাকে কিছু (পুরস্কার) দেওয়া যাবে।”
আরো জেনে রাখুন যে, দুনিয়াতে এই প্রতিদান দেওয়ার বিষয়টিও অবধারিত নয়। বরং এটি আল্লাহর ইচ্ছাধীন। মহান আল্লাহ বলেন:
مَّن كَانَ يُرِيدُ العاجلة عَجَّلْنَا لَهُ فِيهَا مَا نَشَآءُ لِمَن نُّرِيدُ
“যে দুনিয়া (দুনিয়া সুখ-শান্তি) চায় তার জন্য আমি যাকে যা দিতে চাই দ্রুত দিয়ে দিই।”[সূরা ইসরা: ১৮]
শানকীত্বী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: ‘জেনে রাখুন, আমরা কুরআন-সুন্নাহ থেকে যে দলীলসমূহ উল্লেখ করলাম যে, কাফের ব্যক্তি পিতামাতার আনুগত্য করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, অতিথি ও প্রতিবেশীর সমাদর করা, বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে সাহায্য করা ইত্যাদি ভালো কাজের মাধ্যমে সে পার্থিব জীবনে উপকৃত হবে— এ সবই আল্লাহর ইচ্ছার শর্তযুক্ত। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: مَّن كَانَ يُرِيدُ العاجلة عَجَّلْنَا لَهُ فِيهَا مَا نَشَآءُ لِمَن نُّرِيدُ “যারা দুনিয়ার (দুনিয়ার সুখ-শান্তি) চায় তাদের মধ্যে আমি যাকে যা দিতে চাই দ্রুত দিয়ে দিই।”[সূরা ইসরা: ১৮] উক্ত আয়াতটি এ সম্পর্কিত আয়াত ও হাদীসগুলোকে শর্তযুক্ত করে দিয়েছে। আর উসূলে সাব্যস্ত হয়েছে যে শর্তহীন বিষয় (مطلق)-কে শর্তযুক্ত বিষয় (مقيد) দিয়ে ব্যাখ্যা করতে হয়। বিশেষতঃ যদি হুকুম ও কারণ অভিন্ন হয়; যেমনটি এখানে ঘটেছে।’[আদ্বওয়াউল বায়ান: (৩/৪৫০)]
'কাফেরদের মাঝে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা প্রতিদান দেন', পূর্বোক্ত এ কথা তা তেরেসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তেরেসার প্রকৃত নাম অ্যাগনিক গঞ্জা বোজাঝিউ। সে মূলত মেসিডোনিয়ার। ১৯৯৭ সালে সে মারা যায়। সে ছিল একজন খ্রিষ্টান পাদ্রী; যে দরিদ্র, ছিন্নমূল ও অসুস্থ ব্যক্তিদের সেবাকে কাজে লাগিয়ে তাদেরকে খ্রিষ্টান বানাতো এবং নিজ ধর্মে তাদেরকে দীক্ষিত করত। এ ধরনের কাজকে ‘ভালো’ কাজ হিসেবে কোনোভাবে গণ্য করা যায় না। সে দুনিয়াতে যা প্রতিদান পাচ্ছে সেটি তার কর্মের প্রতিদান নয়। বরং আল্লাহ তার যে দায়িত্ব নিয়েছেন সেটির কারণে। কেউ যদি আল্লাহর সাথে কুফরী করে আল্লাহ তাকে শাস্তি প্রদান করবেন, যেমনটি আল্লাহ বলেন:
وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَذَا بَلَدًا آمِنًا وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنَ الثَّمَرَاتِ مَنْ آمَنَ مِنْهُم بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ قَالَ وَمَن كَفَرَ فَأُمَتِّعُهُ قَلِيلاً ثُمَّ أَضْطَرُّهُ إِلَى عَذَابِ النَّارِ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ
“(স্মরণ করো) যখন ইবরাহীম বলেছিল, “হে প্রভু! একে (মক্কা নগরীকে) একটি নিরাপদ শহর বানিয়ে দিন এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিন (পরকালে) ঈমান আনবে, ফল-ফলাদি দ্বারা তাদের জীবিকার ব্যবস্থা করে দিন।” তিনি বলেছিলেন: “আর যে অবিশ্বাস করবে তাকেও কিছুদিনের জন্য (এ সব) উপভোগ করতে দেব, তারপর তাকে জাহান্নামের শাস্তির দিকে ঠেলে দেব; সেটা কতই না খারাপ গন্তব্যস্থল”।”[সূরা বাকারা: ১২৬]
সুতরাং দুনিয়াতে কাফেরদের কর্ম দুই ভাগে বিভক্ত:
এক: এমন দুনিয়াবী ভালো কাজ যার জন্য আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের নিয়ত করা শর্ত নয়। যেমন: আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, অতিথির সমাদর করা প্রভৃতি। হাদীসে এ ধরণের কর্মই উদ্দেশ্য। যে কর্মের কারণে আল্লাহ যদি চান কাফেরকে দুনিয়াতেই প্রতিদান দিয়ে দেওয়া হবে।
ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: ‘উক্ত হাদীসে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে কাফের ব্যক্তি যে ভালো কাজগুলো করে সেগুলোর বিনিময়ে তাকে দুনিয়াতে খাদ্য খাওয়ানো হয়। অর্থাৎ যে কাজগুলো সে আল্লাহর নৈকট্য হিসেবে করেছে, কিন্তু সেগুলোর শুদ্ধতার জন্য নিয়তের দরকার নেই। যেমন: যে কাজগুলো সে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের জন্য করেছে; যেমন: আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, দান-সদকা করা, দাস মুক্ত করা, আতিথেয়তা করা ইত্যাদি অন্যান্য ভালো কাজ।’[শরহু মুসলিম (১৭/১৫০)]
দুই: এমন দুনিয়াবী কাজ যার দ্বারা সে তার ধর্ম প্রচার করা এবং মুসলিমদেরকে তাদের দ্বীনের ব্যাপারে ফিতনায় ফেলার উদ্দেশ্য করে। এমন কর্ম এ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং এমন ব্যক্তির জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তির হুমকি। কারণ সে এর দ্বারা আল্লাহর দ্বীন থেকে বিমুখ করে এবং এই অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলে মানুষের প্রয়োজন, দারিদ্র্য ও অসুস্থতাকে কাজে লাগায়। এর নমুনা হচ্ছে তেরেসা এবং তার মত খ্রিষ্টধর্মের প্রচারক ও বাতিলের দিকে আহ্বানকারী ব্যক্তিরা।
অন্যদিকে যেটি ধর্মীয় কাজ এবং যে কাজের জন্য নৈকট্য অর্জনের নিয়ত করা শর্ত, যেমন: হজ্জ, উমরা ও দোয়া; এমন কাজের জন্য কাফের ব্যক্তি দুনিয়া ও আখিরাতে কোনো বিনিময় পাবে না। কারণ তার কাজ বাতিল। তার কাজ কবুলের শর্তগুলোই এখানে অনুপস্থিত। সেগুলো হচ্ছে ইসলাম, ইখলাস তথা একনিষ্ঠতা এবং রাসূলের অনুসরণ। অধিকন্তু কাফেরের আমল ধ্বংস করে দেয়া হবে, সে কিয়ামতের দিন এর থেকে কোনো উপকার লাভ করবে না।