শনিবার 20 সফর 1441 - 19 অক্টোবর 2019
বাংলা

ভাইদের বিয়ের সময় সে খরচ দিয়েছে এখন তার বাবা পরিত্যক্ত সম্পত্তির কিছু অংশ তাকে লিখে দেয়া কি ঠিক হবে?

প্রশ্ন

প্রশ্ন: আমি জিজ্ঞেস করতে চাই, জনৈক ব্যক্তি তার চার বোনের বিয়েতে সাহায্য করেছে যাতে করে, পিতার কোন সম্পত্তি বিক্রি করতে না হয়। এখন তার পিতা কি তাকে নিজের সম্পত্তির একটা অংশ লিখে দিতে পারেন? এক্ষেত্রে কি বোনদের সম্মতি নিতে হবে? নাকি বোনদের সম্মতি ছাড়া পিতা নিজেই লিখে দিতে পারেন? যদি কোন কোন বোন তাদের ভাইকে এ সম্পত্তি দিতে সম্মতি না দেয় তাহলে পিতা লিখে দিলে তিনি কি গুনাহগার হবেন? পিতা যদি এমন কিছু লিখে দেয়ার আগে মারা যান সেক্ষেত্রে পরিত্যক্ত সম্পত্তি কি সবার সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে? নাকি ছেলে তার বোনদের জন্য যা খরচ করেছে সেটা নিয়ে নিতে পারে; এরপর অবশিষ্ট সম্পত্তি বণ্টন হবে?

উত্তর

BN'>

আমার পিতার বয়স প্রায় ৭৫ বছর।তিনি এখনো জীবিত আছেন। আমার বাবার একটি পুরাতন মাটির ঘর আছে। ঘরটি সুন্দর জায়গায়। আমি ঘরটি ভেঙ্গে নিজের খরচে শক্ত কংক্রিট দিয়ে নতুন করে বানিয়েছি। আমি বাড়ীটি ভাড়া দিয়েছি। ভাড়ার টাকা দিয়ে এখনো আমি পাওনাদারদের ঋণ পরিশোধ করি; যারা টাকা পাবে। উল্লেখ্য আমি বাড়িটি বানানোর জন্য ‘হাউজিং ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক’ থেকে ঋণ গ্রহণ করিনি। আমার পিতা চাচ্ছেন তিনি এ বাড়ীটি আমার কোন এক ছেলেকে দিয়ে দিবেন। যে ছেলেটির বয়স কমপক্ষে সাতবছর। উল্লেখ্য, আমার বাবার সন্তানদের মধ্যে আমি ও পাঁচ বোন আছে। বাবার এক মেয়ে আমার চেয়ে বড়; বাকীরা আমার চেয়ে ছোট। আমি কমপক্ষে ১৫ বছর যাবৎ আমার পিতা-মাতার খরচ চালিয়ে যাচ্ছি।

জবাবে তারা বলেন: আপনি যা কিছু উল্লেখ করেছেন সেগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, আপনার পিতা যে বাড়ীটি আপনার ছেলেকে দিতে চাচ্ছে বর্তমানে সে ছেলের বাড়ীর কোন প্রয়োজন নেই্। আরও দেখা যায়, আপনি আপনার পিতাকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তিনি যদি বাড়ীটি আপনার ছেলেকে দেন তাহলে আপনি এর পরিবর্তে আপনার নিজের খরচে আপনার ভাইদেরকে একটি বাড়ি বানিয়ে দিবেন। আপনার বিবাহিতা পাঁচজন বোন আছে। ইতিপূর্বে আপনি আপনার পিতার বাড়িটি নিজের খরচে নির্মাণ করেছেন; যে বাড়িটি তিনি আপনার ছেলেকে দিতে চাচ্ছেন। এতে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, উদ্দেশ্য হচ্ছে এ বাড়ীটি আপনাকে দেয়া; আপনার বোনদেরকে বাদ দিয়ে। কিন্তু দেয়ার সময় আপনার ছেলের নামে দেয়া হচ্ছে- কৌশলগত কারণে। এ কারণে আপনার পিতার জন্য এ বাড়িটি আপনার ছেলেকে দেয়া জায়েয হবে না। যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সন্তানদের মাঝে ন্যায়বিচার কর”। পক্ষান্তরে, আপনি যা উল্লেখ করেছেন যে, আপনি আপনার পিতার পরিবারের জন্য খরচ করতেন সে খরচের সময় আপনার মনে যদি থাকে ‘দান’ তাহলে আল্লাহ আপনাকে প্রতিদান দিবেন। আপনি আপনার পিতার কাছে এ অর্থ আর দাবী করতে পারবেন না।

আর যদি আপনি পরবর্তীতে উসূল করার নিয়তে খরচ করে থাকেন তাহলে আপনি আপনার পাওনা পাবেন। তবে, উত্তম হচ্ছে- বাপের সাথে হিসাব-নিকাশ না করা এবং বাপের জন্য যা খরচ করেছেন সেটাকে বড় কোন সম্পদ মনে না করা। আপনি আল্লাহর কাছে আপনার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি প্রতিদান পাবেন; যদি আপনি আল্লাহর সাথে বিশ্বস্ত হয়ে থাকেন। আল্লাহই উত্তম তাওফিকদাতা। আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীবর্গের প্রতি আল্লাহর রহমত ওশান্তি নাযিল করুন।

গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি

সদস্য- আব্দুল্লাহ বিন কুয়ুদ, সহ-সভাপতি- আব্দুর রাজ্জাক আফিফি, সভাপতি- আব্দুল আযিয বিন বায।

আরও জানতে দেখুন: 131901 নং প্রশ্নোত্তর।

আল্লাহই ভাল জানেন।

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

মতামত প্রেরণ