শনিবার 16 যুলহজ্জ 1445 - 22 জুন 2024
বাংলা

ক্ষুধা ও বায়ু চেপে রাখা ব্যক্তির নামায

প্রশ্ন

নামায চলাকালীন বা নামাযের আগে ওযু টিকিয়ে রাখার জন্য বায়ু চেপে রাখা কি বৈধ?

উত্তর

আলহামদু লিল্লাহ।.

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “খাবারের উপস্থিতিতে নামায নেই এবং পেশাব-পায়খানাকে আটকে রেখে নামায নেই।” [হাদীসটি মুসলিম (৫৬০) বর্ণনা করেছেন]

শাইখ মুহাম্মাদ আস-সালেহ আল-উছাইমীন রাহিমাহুল্লাহুকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: “যদি রাতের খাবার আনা হয় এবং ব্যক্তির খাওয়ার চাহিদা থাকে সে কি খাবার খাওয়া শুরু করবে; যদি এতে করে ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায় তবুও?”

তিনি উত্তর দেন: “বিষয়টা মতভেদপূর্ণ। কিছু আলেম বলেন: নামায পরে পড়বে; যদি প্রস্তুতকৃত খাবার, পানীয় বা অন্য কিছুতে মন আটকে থাকে; এমনকি তাতে যদি ওয়াক্ত বেরিয়েও যায় তবুও।

কিন্তু অধিকাংশ আলেম বলেন: রাতের খাবার প্রস্তুত হলেও নামাযকে ওয়াক্ত থেকে দেরী করে পড়ার ওজর দেওয়া যাবে না। বরং খাবারের উপস্থিতিকে জামাতে নামাযের ক্ষেত্রে ওজর দেওয়া হবে। অর্থাৎ মানুষের সামনে যদি রাতের খাবার উপস্থিত হয় এবং খাবারের মধ্যে তার মন আটকে থাকে তখন সে জামাত ত্যাগের ওজর পাবে। সে খেয়ে নিবে, তারপর মসজিদে যাবে। যদি জামাত পায় তাহলে ভালো, না পেলে তার গুনাহ হবে না।

কিন্তু এটাকে অভ্যাস বানিয়ে নেওয়া যাবে না; অর্থাৎ সবসময় নামাযের ওয়াক্তেই রাতের খাবার আনা। কেননা এর অর্থ হলো পরিকল্পিতভাবে জামাত ত্যাগ করা। কিন্তু যদি কাকতালীয়ভাবে এটা হয়ে যায় তাহলে সে জামাত ছাড়ার ওজর পাবে। পরিতৃপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সে খাবে। কারণ এক বা দুই লোকমা খেলে হয়তো খাবারের প্রতি তার টান আরও বেড়ে যাবে।

তবে অন্নহীন জরুরী পরিস্থিতির শিকার ব্যক্তির হুকুম এর বিপরীত। সে যদি মৃত প্রাণীর মত হারাম কিছু পায় আমরা কি তাকে বলব: আপনি যদি মৃত প্রাণী ছাড়া কিছু না পান এবং নিজের মৃত্যু বা ক্ষতির আশঙ্কা করেন; তাহলে পরিতৃপ্ত হওয়া পর্যন্ত খাবেন? নাকি আমরা তাকে জরুরত অনুপাতে খেতে বলব?

আমরা তাকে বলব: আপনি জরুরত অনুপাতে খাবেন। অর্থাৎ যদি দুই লোকমা আপনার জন্য যথেষ্ট হয়, তাহলে তৃতীয় লোকমা খাবেন না।

যে বিষয়গুলো মানুষের মনোযোগ নষ্ট করে, যেমন: পেশাব, পায়খানা ও বায়ু; সেগুলোও কি রাতের খাবারের হুকুমে পড়বে?

উত্তর: হ্যাঁ। সেগুলোও খাবারের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হবে। সহীহ মুসলিমে আছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: খাবারের উপস্থিতিতে নামায নেই এবং দুই অপবিত্রতাকে আটকে রেখেও নামায নেই।  দুই অপবিত্রতা বলতে পেশাব ও পায়খানা উদ্দেশ্য। বায়ুও একই হুকুমে পড়বে।

সুতরাং মূলনীতি হলো: যা কিছু নামাযে মনোযোগ আনার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়, সেটা কাঙ্ক্ষিত কিছু হলে যার সাথে অন্তর আটকে থাকে, আর অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু হলে যা নিয়ে অন্তর উদ্বিগ্ন থাকে; নামাযে প্রবেশ করার আগে সেটা থেকে ব্যক্তি নিজেকে মুক্ত করে নিবে।

এখান থেকে আমরা একটা শিক্ষা পেলাম: নামাযের সারবস্তু ও প্রাণ হল অন্তরের উপস্থিতি। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন মানুষ নামাযে প্রবেশ করার আগে সকল প্রতিবন্ধক দূর করার নির্দেশ দিয়েছেন।”[ফাতাওয়াশ শাইখ ইবনে উছাইমীন: (১৩/ প্রশ্ন: ৫৮৮)]

শাইখকে এটাও জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: “কোন ব্যক্তি যদি পেশাব-পায়খানার বেগ চেপে রাখে, আর আশঙ্কা করে যে টয়লেট সারলে তার জামাত ছুটে যাবে, তাহলে কি সে জামাত পাওয়ার জন্য বেগ নিয়ে নামায আদায় করবে? নাকি জামাত ছুটে গেলেও টয়লেট সারবে?

তিনি উত্তর দেন: সে টয়লেট সেরে ওযু করবে; যদি এতে তার জামাত ছুটে যায় তবুও। কারণ এটি ওজর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: খাবারের উপস্থিতিতে নামায নেই এবং পেশাব-পায়খানাকে আটকে রেখে নামায নেই”।” [ফাতাওয়াশ-শাইখ ইবনে উছাইমীন: (১৩/ প্রশ্ন: ৫৮৯)]

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব