এক:
বান্দাদের প্রতি আল্লাহ তাআলার অন্যতম নিয়ামত হচ্ছে তিনি প্রত্যেক রোগের জন্য ঔষধ নির্ধারণ করেছেন এবং চিকিৎসা গ্রহণে উৎসাহিত করেছেন।
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ এমন কোনো রোগ অবতীর্ণ করেননি যে রোগের তিনি চিকিৎসা রাখেননি।”[হাদীসটি বুখারী (৫৬৭৮) বর্ণনা করেন]
জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘প্রত্যেকটি রোগের চিকিৎসা রয়েছে। কোনো রোগে যদি সঠিক ঔষধ প্রয়োগ করা হয়, তাহলে মহান আল্লাহর হুকুমে আরোগ্য লাভ হয়।’[হাদীসটি মুসলিম (২২০৪) বর্ণনা করেন]
ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন: ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “প্রত্যেক রোগের ঔষধ রয়েছে” এটি রোগী ও চিকিৎসকের মনকে দৃঢ় করে এবং উক্ত ঔষধ অন্বেষণ ও অনুসন্ধানের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে।’[যাদুল মা’আদ (৪/১৫)]
চিকিৎসা গ্রহণের অনুমতি, চিকিৎসা গ্রহণে বা অন্বেষণে ছাড় দেয়ার সাথে সাথে হারাম দিয়ে চিকিৎসা গ্রহণের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে।
ওয়ায়েল হাদ্বরামী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তারেক ইবনে সুয়াইদ আল-জূ’ফী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে নিষেধ করেছেন কিংবা সেটি তৈরি করাকে অপছন্দ করেছেন। তখন তারেক বলেন: আমি চিকিৎসার জন্য এটি তৈরি করছি। জবাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বলেন: “এটি কোনো ঔষধ নয়; বরং এটিই রোগ।”[হাদীসটি মুসলিম (১৯৪৮) বর্ণনা করেন]
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাপাক ঔষধ সম্পর্কে নিষেধ করেছেন।[হাদীসটি তিরমিযী (২০৪৫) বর্ণনা করেন। শাইখ আলবানী এটিকে সহিহ বলে গণ্য করেন]
আবুদ-দারদা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “আল্লাহ রোগ ও ঔষধ অবতীর্ণ করেছেন। প্রত্যেক রোগের জন্য তিনি ঔষধ রেখেছেন। সুতরাং তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো। তবে হারাম দিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করো না।”[হাদীসটি আবু দাউদ (৩৮৭৪) বর্ণনা করেন।] শাইখ আলবানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: সমার্থক আরো কিছু হাদীসের কারণে হাদীসটির ভাব সহিহ।[আত-তা’লীক্বাতুর রাদ্বিয়্যাহ ‘আলার-রাউদ্বাহ আন-নাদিয়্যাহ (৩/১৫৪) থেকে সমাপ্ত]
দুই:
কোনো ঔষধে মদ কিংবা শূকরের মতো হারাম কিছু আছে, কেবল এটি বলার মাধ্যমে কোনো কিছু ঔষধ হারাম হয়ে যাবে না। বরং এ বিষয়টি আলেমদের মাঝে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ সাপেক্ষ। আমরা নিম্নে সংক্ষেপে বিষয়টি উল্লেখ করব:
১- হারাম-দ্রব্যাদি ও নিছক নাপাকির মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণ:
যেমন: মদের মাধ্যমে চিকিৎসা নেওয়া। অথবা কোন কোন দেশে মানুষ যেমনটা করে তথা নিজেদের পেশাব পান করে থাকে। এটি হারাম। এর পক্ষে দলীল হচ্ছে মদ ও নাপাক বস্তু দিয়ে চিকিৎসা গ্রহণের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত উপরে বর্ণিত হাদীসসমূহ।
ইবনে তাইমিয়্যা রাহিমাহুল্লাহ বলেন: ‘নাপাক হারাম বস্তু দিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করা হারাম। কারণ হারামের বিধান আরোপকারী দলীলসমূহ যেমন আল্লাহর বাণী: حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ “তোমাদের জন্য মৃত প্রাণীকে (খাওয়া) হারাম করা হয়েছে” কিংবা হাদিস: ‘প্রত্যেক শিকারী দাঁত বিশিষ্ট হিংস্র জন্তু হারাম’ কিংবা আল্লাহর বাণী: إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ “মদ, জুয়া, মূর্তি ও ভাগ্য নির্ণয়ের তীর এগুলো নাপাক।” এই আয়াত ও হাদীসগুলো চিকিৎসার ক্ষেত্রে ও চিকিৎসা ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রের জন্য আম (সাধারণ)। তাই যে ব্যক্তি এই দুটি ক্ষেত্রের মাঝে পার্থক্য করল, সে এমন দুটি বিষয়ের মাঝে পার্থক্য করল আল্লাহ যে দুটোকে একত্রিত করেছেন এবং আম (সাধারণ)-কে খাস (নির্দিষ্ট) করল। এমনটি করা জায়েয নয়।[মাজমুউল ফাতাওয়া (২১/৫৬২) থেকে ঈষৎ পরিবর্তনসহ]
ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহু তাআলা বলেন: ‘হারাম বস্তু দিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করা শরীয়ত ও আকল উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে নিন্দনীয়। শরীয়তের দৃষ্টি থেকে নিন্দনীয় হওয়ার কারণ আমাদের উল্লেখিত পূর্বোক্ত হাদীসসমূহ ও অন্যান্য হাদিসসমূহ। আর আকলের দৃষ্টি থেকে নিন্দনীয় হওয়ার কারণ এই যে মহান আল্লাহ এটাকে খারাপ হওয়ার কারণেই হারাম করেছেন। তিনি এই উম্মতকে শাস্তি দেওয়ার জন্য কোনো ভালো জিনিসকে হারাম করেননি; যেমনটি বনী ইসরাইলের ক্ষেত্রে করেছিলেন। আল্লাহ সে প্রসঙ্গে বলেন: فَبِظُلْمٍ مِّنَ الَّذِينَ هَادُوا حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ طَيِّبَاتٍ أُحِلَّتْ لَهُمْ “(প্রথমে) বৈধ করা হয়েছিল এমন কতিপয় ভালো জিনিস আমি তাদের জন্য (ইহুদিদের জন্য) অবৈধ করে দিয়েছি তাদের যুলুমের কারণে।” বরং আল্লাহ এই উম্মতের জন্য যা হারাম করেছেন তা খারাপ হওয়ার কারণেই হারাম করেছেন। তিনি তাদেরকে এগুলো গ্রহণ করা থেকে রক্ষা করার জন্য হারাম করেছেন। সুতরাং এগুলোর মাধ্যমে রোগ-বিমার থেকে চিকিৎসা গ্রহণ অন্বেষণ করা উপযুক্ত নয়। কেননা যদি রোগ দূর করার ক্ষেত্রে এগুলোর প্রভাব থাকেও তবুও এগুলোর খারাপ দিক শক্তিশালী হওয়ার কারণে অন্তরের উপর গুরুতর আরেক রোগ রেখে যাবে। ফলে এগুলোর দ্বারা চিকিৎসা গ্রহণকারী ব্যক্তি যেন অন্তরকে রোগাক্রান্ত করার মাধ্যমে দেহের রোগ দূর করল।’[যাদুল মা’আদ (৪/১৪৩) থেকে সমাপ্ত]
২- নেশাকর দ্রব্য মিশ্রিত ঔষধ:
ঔষধে নেশাকর দ্রব্যের উপস্থিতির দুটি অবস্থা:
প্রথম অবস্থা: যদি নেশাকর বস্তুর পরিমাণ অল্প হয়, অর্থাৎ যদি ধরে নেওয়া হয় যে কোনো মানুষ এই ঔষধ থেকে বেশি পরিমাণ পান করলেও নেশাগ্রস্ত হবে না, তাহলে একদল আলেম এ ধরনের ঔষধ পান করা জায়েয হওয়ার ব্যাপারে ফতোয়া প্রদান করেছেন। কারণ মদ নেশাগ্রস্ত করে বিধায় এটি অল্প বা বেশি পরিমাণ পান করতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু এই ঔষধে নেশার ইল্লত (কারণ) অনুপস্থিত। সুতরাং এর পরিমাণ অল্প হোক কিংবা বেশি হোক, এটি নেশাগ্রস্ত করে না। তাই আলেমরা এমন ঔষধ গ্রহণ করা জায়েয বলে গণ্য করেছেন। আরো
দ্বিতীয় অবস্থা: ঔষধে নেশাকর দ্রব্যের অনুপাত অনেক। ফলে কোনো ব্যক্তি যদি তা থেকে বেশি পরিমাণে পান করে তাহলে সে নেশাগ্রস্ত হবে। এ অবস্থায় নেশার ইল্লত (কারণ) উপস্থিত থাকায় রোগীকে এমন ঔষধ প্রদান করা জায়েয হবে না। এটি মদের হুকুমে পড়বে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিতা‘ (মধু থেকে উৎপন্ন শরাব) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: ‘প্রত্যেক নেশা উদ্রেককারী পানীয় হারাম।’[হাদীসটি মুসলিম (২০০১) বর্ণনা করেন]
জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “যে বস্তুর বেশি পরিমাণ নেশাগ্রস্ত করে, তার স্বল্প পরিমাণও হারাম।”[হাদীসটি আবু দাউদ (৩৬৮১) বর্ণনা করেন, শাইখ আলবানী ‘সহিহ আবু দাউদ’ (৩৬৮১)-তে এটিকে সহিহ বলে গণ্য করেন]
৩- হারাম নাপাকি মিশ্রিত ঔষধ:
কিছু ঔষধে শূকরের চর্বি, মৃত প্রাণীর অংশ বা অনুরূপ কিছু থাকে। এর দুটি অবস্থা:
প্রথম অবস্থা: ঔষধের সাথে মিশ্রিত হওয়ার সময় এই হারাম নাপাকিগুলোর ‘ইস্তেহালা’ (استحالة) ঘটা। ইস্তেহালা বলতে বোঝানো হয় বস্তুর স্বীয় বৈশিষ্ট্য রূপান্তরিত হয়ে যাওয়া ও বদলে যাওয়া।[আল-মাউসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহ (৩/২১৩) থেকে সমাপ্ত]
ঔষধ তৈরির সময়ে কিছু নাপাকির ক্ষেত্রে এমন রাসায়নিক বিক্রিয়া হয় যে এর মূল রূপ হারিয়ে অন্য পদার্থে রূপ নেয়।
বহু সংখ্যক আলেমের মতে যদি নাপাকির রূপ বদলে অন্য কিছু হয়ে যায় তাহলে এগুলোর থেকে নাপাকির কারণ দূর হয়ে যায় এবং এগুলোকে পাক হিসেবে হুকুম প্রদান করা হয়। ক্বারাফী রাহিমাহুল্লাহু তা’আলা বলেন: ‘কেননা আলেমদের ঐকমত্য রয়েছে যে, আল্লাহ কোনো বস্তুকে কেবল সত্তাগত এবং আকৃতিগত কারণে নাপাক বা নাপাকিযুক্ত বলে ঘোষণা দেননি। বরং বস্তুর সত্তায় স্থান গ্রহণ করা বিশেষ গুণের জন্যই আল্লাহ কোনো বস্তুকে নাপাক বলে গণ্য করেছেন। সেটি হতে পারে: বিশেষ রং ও বিশেষ কোনো অবস্থা। যদি সেই বিশেষ অবস্থা ও গুণ বিলুপ্ত হয়ে যায়, তাহলে হারাম হওয়াকে অবধারিত করে এমন কিছুর অনুপস্থিতির কারণে হারামের বিধানও নাকচ হয়ে যাবে।’[আল-ফুরুক (২/২০৭) থেকে সমাপ্ত]
ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন: ‘এই মূলনীতির উপর ভিত্তি করে মদ রূপান্তরিত হওয়ার মাধ্যমে তা পবিত্র হয়ে যাওয়াটা কিয়াসের দাবী। নিকৃষ্টতার বৈশিষ্ট্যের কারণে মদ নাপাক। নিকৃষ্টতা দূর হয়ে গেলে নাপাকিও দূর হয়ে যায়। শরীয়তের সকল উৎস ও ফলাফলের ক্ষেত্রে এটিই মূলনীতি। বরং নেকী ও শাস্তির ক্ষেত্রেও এটি প্রধান নীতি।
সুতরাং সঠিক কিয়াস হচ্ছে অন্যান্য সকল নাপাকিও রূপান্তরিত হলে সেগুলোর ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রয়োগ করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের মসজিদের স্থান থেকে মুশরিকদের কবরগুলো উপড়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু মাটি সরিয়ে ফেলেননি। মহান আল্লাহ দুধের ব্যাপারে জানিয়েছেন যে দুধ রক্ত ও গোবরের মধ্য থেকে বের হয়। মুসলিমরা এ ব্যাপরে একমত যে কোনো প্রাণী যদি নাপাক খাদ্য গ্রহণ করার পর তাকে বেঁধে রাখা হয় এবং প্রাণীটি পাক খাদ্য গ্রহণ করে, তাহলে তার দুধ ও গোশত হালাল। অনুরূপভাবে শস্য ও ফল নাপাক পানি দিয়ে সেচ দেওয়ার পরে যদি পাক পানি দিয়ে সেচ দেওয়া হয় তাহলে সেই শস্যও হালাল। নাপাকির বৈশিষ্ট্য রূপান্তরিত হয়ে পবিত্র বৈশিষ্ট্য চলে আসার কারণে।
এর বিপরীতে যদি পবিত্র বস্তু নাপাকিতে রূপান্তরিত হয়, তাহলে বস্তুটি নাপাক হয়ে যায়। যেমন: পানি ও খাবার যখন পেশাব ও পায়খানায় রূপ নেয়।
তাই পবিত্র বস্তু নাপাকিতে রূপান্তরিত হলে এর প্রভাব থাকলে, নাপাক বস্তু পবিত্র বস্তুতে রূপান্তরিত হলে এর প্রভাব থাকবে না কেন?
আল্লাহ তাআলা পবিত্র থেকে নাপাক ও নাপাক থেকে পবিত্রকে বের করেন। এখানে মূল অবস্থা বিবেচ্য নয়। বরং বস্তুর বৈশিষ্ট্য বিবেচ্য। ...’ [ই’লামুল মুওয়াক্কি’ঈন (৩/১৮৩) থেকে সমাপ্ত]
এটি অধিকাংশ মাযহাবের অভিমত। যেমনটি উল্লেখ করেছেন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা রাহিমাহুল্লাহ। তিনি বলেন: ‘জমহুরের মতে রূপান্তরিত নাপাকি পবিত্র। এটি হানাফী ও যাহেরীদের প্রসিদ্ধ মত। এটি মালেক ও আহমদের মাযহাবে দুই মতের একটি মত এবং শাফেয়ীর মাযহাবেও একটি মত।’[মাজমুউল ফাতাওয়া (২১/১৫০) থেকে সমাপ্ত] আরো
দ্বিতীয় অবস্থা: যদি ঔষধে উক্ত নাপাকি এর মূল রূপে অবশিষ্ট থেকে যায় এবং অন্য বস্তুতে রূপ না নেয়, যেমন কিছু ঔষধে শূকরের চর্বি এর মূল রূপে বহাল থাকে এবং ঔষধ প্রস্তুত করার সময় তা পরিবর্তিত হয়ে যায় না। এমনটি হলে সে ঔষধ খাওয়া হারাম হবে। কারণ এ ঔষধ খাওয়া মানে নাপাকির কিছু অংশ খাওয়া। আরো জানতে লেখক হাসান ইবনে আহমদ আল-ফাক্কী রচিত বই ‘আহকামুল আদউইয়া ফিশ-শারিয়াতিল ইসলামিয়্যাহ’ পড়ুন। এটি আপনার এক্সপার্টাইজে একটি উপকারী বই। এর ভাষাও সহজ। আপনি ইন্টারনেটে বইটি পেয়ে যাবেন।
সারকথা হলো:
হারাম বস্তু সেটি নেশাকর হোক কিংবা অ-নেশাকর নাপাক হোক; সেটাকে যে কারণে হারাম করা হয়েছে সে বৈশিষ্ট্য যদি অনুপস্থিত হয়ে যায়, নাপাকির কোনো চিহ্ন না থাকে কিংবা ঔষধের সাথে মিশ্রিত নেশাকর বস্তুর নেশা সৃষ্টির কোনো প্রভাব অবশিষ্ট না থাকে, তাহলে এই ঔষধ গ্রহণ করা হালাল হবে এবং রোগীকে এর প্রেসক্রিপশন দেওয়া বৈধ হবে। কারণ এতে থাকা হারাম অথবা নাপাকি নিঃশেষ হয়ে গেছে এবং এর কোনো প্রভাব অবশিষ্ট নেই। কিন্তু যদি হারামের প্রভাব বাকি থাকে, তাহলে এমন ঔষধের প্রেসক্রিপশন দেওয়া ও এর দ্বারা চিকিৎসা গ্রহণ করা হালাল হবে না।
ঔষধে হারাম বস্তু উপস্থিত নাকি অনুপস্থিত তা অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা ইন্দ্রিয় ও পরীক্ষণের মাধ্যমে জানতে পারবে। ঔষধে মিশ্রণের অনুপাত সম্পর্কে জানাও তা জানতে সাহায্য করবে।
তিন:
হারাম উপাদান সম্বলিত ঔষধগুলোর নাম জানতে হলে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি তথা ঔষধ প্রস্তুতের কাজে নিয়োজিত নির্ভরযোগ্য দ্বীনদার ফার্মাসিস্টদেরকে জিজ্ঞাসা করুন।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।