শুক্রবার 8 জুমাদাল ছানী 1442 - 22 জানুয়ারী 2021
বাংলা

বাসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ট্রেড ইন্সুরেন্স থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য সে কি তার সহকর্মীকে কাগজপত্র তৈরীতে সহযোগিতা করবে?

প্রশ্ন

আমার কর্মস্থলের এক সহকর্মীর বাড়ীটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিপূর্বে সে বাসাটির অনুকূলে ট্রেড ইন্সুরেন্স করেছে; যদিও তাকাফুল ইন্সুরেন্স ছিল। সে প্রতি বছর ইন্সুরেন্সের কিস্তি পরিশোধ করে। সে আমার কাছে আবদার করেছে আমি যেন তাকে ইন্সুরেন্স কোম্পানী থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য কাঙ্ক্ষিত কাগজপত্র তৈরীতে সহযোগিতা করি। এ কোম্পানী ক্ষেত্র বিশেষে যে কিস্তি পরিশোধ করা হয়েছে সে কিস্তির সমান কিংবা তার চেয়ে বেশি কিংবা তার চেয়ে কম ক্ষতিপূরণ প্রদান করে। আমি কি তাকে এই ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তিতে সহযোগিতা করব?

উত্তর

আলহামদু লিল্লাহ।.

এক:

ট্রেড ইন্সুরেন্সের সকল পদ্ধতি হারাম। যেহেতু এটি সুদ ও জুয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত। সেই ইন্সুরেন্স বাসাবাড়ীর অনুকূলে হোক কিংবা কোন গাড়ী-যানবাহনের অনুকূলে হোক কিংবা অন্য কোন কিছুর অনুকূলে হোক।

কিন্তু কাউকে যদি ইন্সুরেন্স করতে বাধ্য করা হয়; এবং সে ব্যক্তি যদি ট্রেড ইন্সুরেন্স ব্যতীত অন্য কোন ইন্সুরেন্স না পায় তাহলে তার জন্য ট্রেড ইন্সুরেন্স করা জায়েয হবে; তবে যতটুকু না করলেই নয় ততটুকুর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। যে ব্যক্তি তাকে বাধ্য করেছে তার উপর গুনাহ বর্তাবে। দেখুন: 8889 নং প্রশ্নোত্তর।

দুই:

যে ব্যক্তি স্বপ্রণোদিত হয়ে ট্রেড ইন্সুরেন্স করেছে যদি ইন্সুরেন্স কোম্পানি থেকে সে ক্ষতিপূরণ পায় তাহলে সে যেই পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করেছে এর চেয়ে বেশি গ্রহণ করা তার জন্য বৈধ হবে না। অতিরিক্ত অর্থ ইন্সুরেন্স কোম্পানিকে ফেরত দিয়ে দেওয়া আবশ্যক হবে। যদি তারা ফেরত দেওয়া অর্থ গ্রহণ করতে অস্বীকার করে তাহলে উক্ত অর্থ সে গরীব-মিসকীনদের মাঝে দান করে দিবে; তবে সে নিজে যদি গরীব হয় তাহলে তার প্রয়োজনমাফিক গ্রহণ করতে পারবে। দেখুন: 131591 নং ও নং 81915 প্রশ্নোত্তর।

তিন: যদি আপনি এ বিষয়টি আপনার সহকর্মীর কাছে পরিস্কার করেন এবং আপনার প্রবল ধারণা হয় যে, সে যতটুকু অর্থ পরিশোধ করেছে এর চেয়ে বেশি গ্রহণ করবে না, সেক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য তাকে সহযোগিতা করা জায়েয হবে। আর যদি আপনার প্রবল ধারণা হয় যে, সে যা পরিশোধ করেছে এতটুকু নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবে না; বরং অতিরিক্ত যেটা পায় সেটাও গ্রহণ করবে— তাহলে এ ক্ষেত্রে তাকে সহযোগিতা করা জায়েয হবে না। যেহেতু এটি অবৈধ মাল ভক্ষণে তাকে সাহায্য করা। আল্লাহ্‌তাআলা বলেছেন: "তোমরা সৎকাজ ও দ্বীনদারিতে পরস্পর সহযোগিতা কর, পাপ ও বাড়াবাড়িতে সহযোগিতা করো না; আর আল্লাহ্‌কে ভয় কর; নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌কঠোর শাস্তিদাতা।"[সূরা মায়িদা, আয়াত: ২]

আল্লাহ্‌ই সর্বজ্ঞ।

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব