রবিবার 10 রবীউল আউওয়াল 1440 - 18 নভেম্বর 2018
বাংলা

ইহরামকারী যে ভুলগুলো করে থাকেন

প্রশ্ন

প্রশ্ন: আমরা বিমানযোগে জেদ্দায় এসে থাকি। আমাদের জন্য আগে ইহরাম না বেঁধে জেদ্দায় পৌঁছে ইহরাম বাঁধা জায়েয হবে কি?

উত্তর

আলহামদুলিল্লাহ।

শাইখ উছাইমীন (রহঃ) বলেন:

কিছু কিছু হাজীসাহেব ইহরামের ক্ষেত্রে যে ভুলগুলো করে থাকেন:

এক:

মীকাত থেকে ইহরাম না বাঁধা। কিছু কিছু হজ্জপালনেচ্ছু ব্যক্তি, বিশেষত যারা আকাশ পথে সফর করেন তারা মীকাত থেকে ইহরাম না বেঁধে জেদ্দায় পৌঁছে ইহরাম বাঁধেন। অথচ তারা মীকাতের উপর দিয়ে উড়ে আসেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দিষ্ট এলাকার অধিবাসীদের জন্য নির্দিষ্ট মীকাত নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন: “এগুলো এ সমস্ত এলাকার অধিবাসীদের জন্য এবং অন্য যারা এসব স্থানের উপর দিয়ে গমন করবে তাদের জন্য”[সহিহ বুখারী (১৫২৪) ও সহিহ মুসলিম (১১৮১)]

সহিহ বুখারীতে উমর বিন খাত্তাব (রাঃ) থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে, যখন ইরাকবাসী তাঁর কাছে অভিযোগ করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নজদবাসীদের জন্য ‘ক্বার্‌ন’ নামক যে মীকাত নির্ধারণ করেছেন সেটি তাদের পথে পড়ে না অথবা সেটি তাদের জন্য দূরে হয় ও ঘুরতি পথ। তখন তিনি বললেন: “তোমরা তোমাদের পথে ক্বার্‌নের বরাবরে পড়ে এমন কোন স্থান ঠিক কর।”[সহিহ বুখারী (১৫৩১)] এতে প্রমাণিত হয় যে, মীকাতের বরাবর কোন স্থান অতিক্রম করলে সেটা মীকাত অতিক্রম করার পর্যায়ভুক্ত। যে ব্যক্তি বিমানে চড়ে মীকাতের উপর দিয়ে অতিক্রম করে সে যেন মীকাতই অতিক্রম করে। অতএব, তার কর্তব্য হচ্ছে- মীকাতের বরাবরে আসলে ইহরাম বাঁধা। তার জন্য ইহরাম ছাড়া মীকাত অতিক্রম করে জেদ্দা থেকে ইহরাম বাঁধা জায়েয হবে না।

এ ভুল সংশোধন করার পদ্ধতি হচ্ছে- হজ্জযাত্রী তার নিজের বাড়ি থেকে কিংবা এয়ারপোর্ট থেকে গোসল করে আসবেন এবং বিমানে বসে ইহরামের প্রস্তুতি নিবেন; ইহরামের কাপড় পরে নিবেন, স্বাভাবিক পোশাক খুলে রাখবেন। এরপর বিমান মীকাত বরাবর আসলে ইহরাম করবেন। অর্থাৎ হজ্জ বা উমরা যা পালন করতে চান সেটার তালবিয়া পাঠ করবেন। তার জন্য মীকাত থেকে ইহরাম না বেঁধে জেদ্দা থেকে বাঁধা জায়েয হবে না। যদি তা করেন তাহলে তিনি ভুল করলেন। এ ভুলের জন্য জমহুর আলেমের মতে, তাকে মক্কাতে একটি ফিদিয়া (ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি) জবাই করে গরীবদের মাঝে বণ্টন করে দিতে হবে; কেননা তিনি একটি ওয়াজিব ছেড়ে দিয়েছেন।

দুই:

কিছু কিছু মানুষ বিশ্বাস করে যে, জুতা পরেই ইহরাম বাঁধতে হবে। যদি ইহরামকালে কেউ জুতা না পরে তাহলে পরবর্তীতে তার জন্য জুতা পরা জায়েয হবে না। এটি ভুল। কারণ ইহরামের সময় জুতা পরা ওয়াজিব নয়; শর্তও নয়। জুতা পরা ছাড়াই ইহরাম হয়ে যায়। ইহরামের সময় জুতা না পরলেও পরবর্তীতে জুতা পরতে পারবে। এতে কোন অসুবিধা নেই।

তিন:

কিছু কিছু মানুষ বিশ্বাস করেন যে, ইহরামের কাপড় দিয়েই ইহরাম বাঁধতে হবে এবং হালাল হওয়ার আগ পর্যন্ত এ এক কাপড়েই থাকতে হবে; পরিবর্তন করতে পারবে না। এটি ভুল। কেননা ইহরামকারীর জন্য বিশেষ কারণে কিংবা কোন কারণ ছাড়াই ইহরামের কাপড় পরিবর্তন করা জায়েয আছে; যদি তিনি পরিবর্তন করে এমন কোন কাপড় পরেন; ইহরাম অবস্থায় যে কাপড় পরা বৈধ।

এক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। যে ব্যক্তি কোন একটি ইহরামের কাপড় পরে ইহরাম বেঁধেছেন তিনি সে কাপড় পরিবর্তন করতে চাইলে পরিবর্তন করতে পারেন। কিন্তু, কখনো কখনো পরিবর্তন করাটা আবশ্যকীয় হয়ে পড়তে পারে; যেমন- উক্ত কাপড়ে কোন নাপাকি লাগলে; যাতে করে কাপড়টি না খুলে ধৌত করা সম্ভবপর নয়। কখনও কখনও পরিবর্তন করাটা উত্তম হতে পারে। যেমন- ইহরামের কাপড় যদি খুব ময়লা হয়ে যায়; তবে নাপাকি লাগেনি সে ক্ষেত্রে অন্য পরিস্কার ইহরামের কাপড় দিয়ে এটি পরিবর্তন করাটা বাঞ্ছনীয়।

আবার কখনও কখনও এমন প্রয়োজন পড়ে না; সেক্ষেত্রে ইচ্ছা হলে পরিবর্তন করবে; নচেৎ নয়। তবে, এ বিশ্বাসটি সঠিক নয় যে, কেউ যদি কোন একটি কাপড়ে ইহরাম বাঁধে তাহলে হালাল হওয়ার আগ পর্যন্ত এ কাপড়টি খুলতে পারবে না।

চার:

কেউ কেউ ইহরাম করার পর থেকে অর্থাৎ নিয়ত করার পর থেকে ইযতিবা করে থাকেন। ইযতিবা মানে হচ্ছে- ডান কাঁধ বের করে দিয়ে বাম কাঁধের উপর চাদরের পার্শ্ব ফেলে দেয়া। আমরা দেখতে পাই অনেক হাজীসাহেব ইহরামের শুরু থেকে হালাল হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এটি করে থাকেন। এমনটি করা ভুল। ইযতিবা শুধুমাত্র তাওয়াফে কুদুমের মধ্যে করতে হয়; সায়ীর মধ্যেও না, তাওয়াফের আগেও না।

পাঁচ:

কেউ কেউ বিশ্বাস করে যে, ইহরামকালে দুই রাকাত নামায আদায় করা ওয়াজিব। এটিও ভুল। ইহরামকালে দুই রাকাত নামায পড়া ওয়াজিব নয়। বরং ইবনে তাইমিয়ার নিকট অগ্রগণ্য মতানুযায়ী: ইহরামের বিশেষ কোন নামায নেই। কেননা, এ ধরণের কোন নামায নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়নি।

অতএব, হজ্জপালনেচ্ছু ব্যক্তি গোসল করার পর ইহরামের কাপড় পরে ইহরাম বাঁধবে; নামায পড়বে না। তবে, যদি কোন নামাযের ওয়াক্ত হয় যেমন- ফরয নামাযের ওয়াক্ত হয়ে গেছে, কিংবা ওয়াক্ত হওয়ার সময় কাছাকাছি এবং সে ব্যক্তি নামায পড়া পর্যন্ত মীকাতে অবস্থান করতে চায় এক্ষেত্রে উত্তম হচ্ছে- নামাযের পর ইহরাম বাঁধা। পক্ষান্তরে, ইহরামকালে বিশেষ কোন নামাযের উপর নির্ভর করা: অগ্রগণ্য মতানুযায়ী ইহরামের বিশেষ কোন নামায নেই।

সূত্র: দালিলুল আখতা আল্লাতি ইয়াউ ফি-হাল হাজ্জ ওয়াল মুতামির’ গ্রন্থ থেকে সমাপ্ত

মতামত প্রেরণ