দুই ঈদের নামাযের হুকুম প্রসঙ্গে আলেমদের তিনটি অভিমত রয়েছে। যথা:
প্রথম মত: ঈদের নামায সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। এটি ইমাম মালেক ও ইমাম শাফেয়ী মাযহাবের অভিমত।
দ্বিতীয় মত: ঈদের নামায ফরযে কেফায়া। এটি ইমাম আহমদ রাহিমাহুল্লাহুর মাযহাব।
তৃতীয় মত: ঈদের নামায প্রত্যেক মুসলিমের উপর ওয়াজিব। সুতরাং প্রত্যেক পুরুষের উপর এটি ওয়াজিব। ওজর ছাড়া কেউ তা ছেড়ে দিলে পাপী হবে। এটি ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহুর মাযহাব এবং ইমাম আহমদ থেকেও একটি বর্ণনা। এই মতাবলম্বীদের মধ্যে রয়েছেন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা এবং শাওকানী রাহিমাহুমাল্লাহ।
দেখুন: আল-মাজমূ (৫/৫), আল-মুগনী (৩/২৫৩), আল-ইনসাফ (৫/৩১৬), আল-ইখতিয়ারাত (পৃ. ৮২)।
তৃতীয় মতাবলম্বীরা কয়েকটি দলীল দিয়েছেন; যথা:
১- আল্লাহর বাণী: “সুতরাং তুমি তোমার রবের জন্য নামায পড়ো এবং কুরবানী করো।”(সূরা কাওসার: ২)
ইবনে কুদামা ‘আল-মুগনী’ গ্রন্থে বলেন: “এই আয়াতের তাফসীরের ব্যাপারে মশহুর অভিমত হলো এর দ্বারা উদ্দেশ্য ঈদের নামায।”[সমাপ্ত]
কিছু আলেম মনে করেন এই আয়াতটির উদ্দেশ্য হচ্ছে সাধারণভাবে যে কোনো নামায। এর দ্বারা বিশেষভাবে ঈদের নামায উদ্দেশ্য নয়। সুতরাং আয়াতটির মর্ম হলো: এককভাবে শুধু আল্লাহর জন্য নামায পড়া ও জবাই করা। তাই এটি আল্লাহর ঐ বাণীর মত হবে: “বলুন, আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহরই জন্য।”(সূরা আন‘আম: ১৬২)
আয়াতটির এ অর্থ গ্রহণ করেছেন ইবনে জারীর (১২/৭২৪) ও ইবনে কাসীর (৮/৫০২)।
সুতরাং এই আয়াতে ঈদের নামায ওয়াজিব হওয়ার পক্ষে কোনো দলীল নেই।
২- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের নামাযের জন্য বের হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি নারীদেরকেও এ নামাযের উদ্দেশে বের হওয়ার আদেশ প্রদান করেছেন।
বুখারী (৩২৪) ও মুসলিম (৮৯০) বর্ণনা করেন: উম্মু আতিয়্যা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নির্দেশ দেন আমরা যেন ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আদ্বহাতে নবযৌবনা, ঋতুমতী ও অন্তঃপুরবাসিনী (কুমারী) মেয়েদেরকেও উপস্থিত করাই। তবে ঋতুমতী নারীরা যেন নামাযের স্থান থেকে দূরে থাকে। তবে তারা যেন পুণ্যের কাজে এবং মুসলিমদের দোয়ায় অংশগ্রহণ করে।” আমি বললাম: “হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের কারো হয়তো তো জিলবাব থাকে না।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তার (মুসলিম) বোন যেন তাকে নিজের জিলবাব পরিয়ে দেয় (অর্থাৎ ধার দেয়)।”
এই হাদীসটি দিয়ে ঈদের নামায ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে দলীল দেওয়া পূর্বের আয়াতটি দিয়ে দলীল দেওয়ার তুলনায় শক্তিশালী।
শাইখ ইবনে উছাইমীন ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’-তে (১৬/২১৪) বলেন:
“আমি মনে করি ঈদের নামায ফরযে আইন (প্রত্যেকের উপর ফরয)। পুরুষদের জন্য এ নামায ত্যাগ করা জায়েয নেই। বরং এ নামাযে উপস্থিত হওয়া তাদের উপর আবশ্যক। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ নামাযে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বরং তিনি নবযৌবনা ও কুমারী মেয়েদেরকেও ঈদের নামাযে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু তাই নয় তিনি হায়েযগ্রস্ত নারীদেরকেও ঈদের নামাযে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু তারা নামাযের স্থান থেকে দূরে থাকবে। এর থেকে ঈদের নামাযের গুরুত্ব বোঝা যায়।”
তিনি আরো (১৬/২১৭) বলেন: “আমার কাছে দলীলগুলো থেকে যে মতটি প্রাধান্য পায় তা হলো এটি ফরযে আইন। প্রত্যেক পুরুষের জন্য ঈদের নামাযে উপস্থিত আবশ্যক, কেবল যাদের ওজর আছে তারা ছাড়া।”
শাইখ ইবনে বায ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’ (৭/১৩)-তে ঈদের নামায ফরযে আইন মনে করার মতটির ব্যাপারে বলেন: “এই মতটি দলীলের দিক থেকে সর্বাধিক স্পষ্ট এবং সঠিক হওয়ার অধিক নিকটবর্তী।”[সমাপ্ত]