শনিবার 9 রবীউল আউওয়াল 1440 - 17 নভেম্বর 2018
বাংলা

নামায নষ্ট করলে সিয়াম কবুল হয় না

প্রশ্ন

প্রশ্ন: নামায না পড়ে সিয়াম পালন করা কি জায়েয?

উত্তর

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

বে-নামাযীরযাকাত, রোজা, হজ্জ ইত্যাদি কোনো আমলই কবুল হয়না।

ইমাম বুখারী (৫২০) বুরাইদা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

( مَنْ تَرَكَ صَلاةَ الْعَصْرِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ )

“যে ব্যক্তি আসরের নামায ত্যাগ করে তার আমল নিষ্ফল হয়ে যায়।”

“তারআমল নিষ্ফল হয়ে যায়”এর অর্থ হল: তা বাতিল হয়ে যায় এবং তা তার কোনো কাজে আসবে না। এ হাদিস প্রমাণ করে যে, বেনামাযীর কোনোআমল আল্লাহ কবুল করেন না এবং বেনামাযী তারআমল দ্বারা কোনভাবে উপকৃত হবেনা। তার কোনোআমল আল্লাহর কাছে উত্তোলন করা হবে না।

ইবনুল কায়্যিম তাঁর ‘আস-স্বালাত’ (পৃ-৬৫) নামক গ্রন্থে এ হাদিসের মর্মার্থ আলোচনা করতে গিয়েবলেন –“এ হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, নামায ত্যাগ করা দুই প্রকার:

(১) পুরোপুরিভাবে ত্যাগ করা।কোন নামাযই না-পড়া। এ ব্যক্তির সমস্তআমলবিফলে যাবে।
(২) বিশেষ কোন দিন বিশেষ কোন নামায ত্যাগ করা। এক্ষেত্রে তার বিশেষ দিনেরআমল বিফলে যাবে। অর্থাৎ সার্বিকভাবেসালাত ত্যাগ করলে তার সার্বিক আমল বিফলে যাবে।আর বিশেষ নামায ত্যাগ করলে বিশেষ আমল বিফলে যাবে।” সমাপ্ত।

“ফাতাওয়াস সিয়াম” (পৃ-৮৭) গ্রন্থে এসেছে শাইখ ইবনেউছাইমীনকে বেনামাযীর রোজা রাখার হুকুম সম্পর্কেজিজ্ঞেস করা হয়েছিলো তিনি উত্তরে বলেন: বেনামাযীররোজা শুদ্ধ নয় এবং তা কবুলযোগ্য নয়। কারণ নামায ত্যাগকারী কাফের, মুরতাদ।এর সপক্ষে দলিল হচ্ছে-

আল্লাহ্‌ তাআলার বাণী:

( فَإِنْتَابُواوَأَقَامُواالصَّلاةَوَآتَوُاالزَّكَاةَفَإِخْوَانُكُمْفِيالدِّينِ ) [9 التوبة : 11]

“আর যদি তারা তওবা করে,সালাত কায়েম করে ও যাকাত দেয় তবে তারা তোমাদের দ্বীনি ভাই।”[৯ সূরা আত্‌ তওবা:১১]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণী:

( بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ وَالْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلاةِ ) رواه مسلم (82)

“কোন ব্যক্তির মাঝে এবং শির্‌ক ও কুফরের মাঝেসংযোগ হচ্ছেসালাত বর্জন।”[সহিহ মুসলিম(৮২)]

এবং রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী –

( الْعَهْدُالَّذِيبَيْنَنَاوَبَيْنَهُمْالصَّلاةُفَمَنْتَرَكَهَافَقَدْكَفَرَ ) رواه الترمذي (2621) . صححهالألبانيفيصحيحالترمذي

“আমাদের ও তাদের মধ্যে চুক্তি হলোনামাযের।সুতরাং যে ব্যক্তি নামায ত্যাগ করল, সে কুফরি করল।”[জামে তিরমিযী (২৬২১), আলবানী ‘সহীহ আত-তিরমিযী’গ্রন্থে হাদিসটিকে সহিহ বলে চিহ্নিত করেছেন]

এই মতের পক্ষে সাহাবায়ে কেরামের ‘ইজমা’সংঘটিত না হলেও সর্বস্তরের সাহাবীগণ এই অভিমত পোষণ করতেন।

প্রসিদ্ধ তাবেয়ী আব্দুল্লাহ ইবনে শাক্বিক রাহিমাহুমুল্লাহ বলেছেন:“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর সাহাবীগণ নামায ছাড়া অন্য কোন আমল ত্যাগ করাকে কুফরি মনে করতেন না।”

পূর্বোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, যদি কোন ব্যক্তি রোজা রাখে; কিন্তুনামায না পড়ে তবে তার রোজা প্রত্যাখ্যাত, গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা কেয়ামতের দিন আল্লাহ্‌র কাছেকোন উপকারে আসবেনা। আমরাএমন ব্যক্তিকে বলবো:আগে নামায ধরুন, তারপর রোজা রাখুন।আপনি যদিনামায না পড়েন, কিন্তু রোজা রাখেন তবে আপনার রোজা প্রত্যাখ্যাত হবে; কারণ কাফেরের কোন ইবাদত কবুল হয়না।” সমাপ্ত।

আল-লাজনাহ আদ্‌দায়িমা (ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি)কে প্রশ্ন করা হয়েছিল(১০/১৪০): যদি কোন ব্যক্তি শুধুমাত্ররমজান মাসে রোজা পালনে ওনামায আদায়ে সচেষ্ট হয় আর রমজান শেষ হওয়ার সাথে সাথেইনামায ত্যাগ করে, তবে তার সিয়াম কি কবুল হবে?
এর উত্তরে বলা হয়- “নামায ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম।সাক্ষ্যদ্বয়ের পর ইসলামের স্তম্ভগুলোর মধ্যেএটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ফরজে আইন। যে ব্যক্তিএর ফরজিয়তকে অস্বীকার করেকিংবা অবহেলা বা অলসতা করে তা ত্যাগ করল সে কাফের হয়ে গেল। আর যারা শুধু রমজানেনামায আদায় করে ও রোজা পালন করে তবে তা হলো আল্লাহ্‌র সাথে ধোঁকাবাজি। কতইনা নিকৃষ্ট সেসব লোক যারা রমজান মাস ছাড়া আল্লাহ্‌কেচেনেনা!রমজান ব্যতীত অন্য মাসগুলোতেনামায ত্যাগ করায় তাদের সিয়াম শুদ্ধ হবেনা। বরং আলেমদের বিশুদ্ধ মতানুযায়ী নামাযের ফরজিয়তকে অস্বীকার না-করলেও তারাবড় কুফরে লিপ্ত কাফের।” সমাপ্ত

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

মতামত প্রেরণ