বুধবার 6 রবীউল আউওয়াল 1440 - 14 নভেম্বর 2018
বাংলা

সেহেরির সময়ে পড়তে হয় ইসলামী শরিয়তে এমন কোন দুআ আছে কী?

প্রশ্ন

প্রশ্ন: স্কুলে অধ্যয়নকালে আমি মনে করতাম যে, শুধু ইফতারের সময় বিশেষ দুআ আছে; সেহেরির সময়ে নয়। কারণ সেহেরির সময় নিয়্যত করা হয়; আর নিয়্যতের স্থান হলো অন্তর। তবে আমার স্বামী আমাকে বলেছেন যে, সেহেরির সময়ও বিশেষ দুআ আছে। আশা করি বিষয়টি স্পষ্ট করবেন- এই কথা সঠিক কিনা?

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

হ্যাঁ, হাদিসে এমন কিছু দোয়া বর্ণিত হয়েছে যে দোয়াগুলো একজন রোজাদার ইফতারের সময় তথা রোজা ভাঙ্গার সময় পড়বেন। যেমন রোজাদার বলবেন:

ذَهَبَالظَّمَأُوَابْتَلَّتِالعُرُوْقُوَثَبَتَالأَجْرُإنْشَاءَالله

“পিপাসা দূরীভূত হল, শিরা-উপশিরা সিক্ত হল এবং আল্লাহ চাহেত সওয়াব সাব্যস্ত হল।’’এছাড়াওরোজাদার তার পছন্দমতযে কোন দুআ করতে পারেন।এই দোয়া করার কারণ এই নয় যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের আদর্শ (সুন্নাহ) হতে সুনির্দিষ্টভাবে এ ক্ষেত্রে কোন উদ্ধৃতি আছে। বরং এজন্য যে, এটি একটিইবাদতের সমাপ্তি পর্ব। এ ধরনের সময়েএকজন মুসলমানের দুআ করা শরিয়তসম্মত।

শাইখমুহাম্মদবিনসালেহআল-উছাইমীন রাহিমাহুল্লাহকেপ্রশ্নকরাহয়েছিল:

ইফতারেরসময়নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম হতেবর্ণিতমাসনুন (সুন্নাহতে প্রমাণিত)দুআআছেকি? এই দোয়া করারসময়ইবাকখন?একজনরোজাপালনকারীকিমুয়াজ্জিনেরসাথেআযানপুনরাবৃত্তিকরবেন;নাকিতারইফতারচালিয়েযেতেথাকবেন ?

উত্তরে তিনি বলেন:

“নিঃসন্দেহে ইফতারের সময় দু‘আকবুলের সময়। কারণএটিএকটি ইবাদত পালনের শেষমুহূর্ত।তাছাড়া অধিকাংশক্ষেত্রে ইফতারেরসময়রোজাদার দুর্বলথাকে। আরমানুষযত বেশিদুর্বল থাকেওঅন্তর যত নরম থাকে সে তত বেশিআল্লাহরপ্রতিঅনুগতওবিনয়ীহয়। ইফতারের সময়ের মাসনূন দুআহল:

اَللهُمَّلَكَصُمْتُوَعَلَىرِزْقِكأَفْطَرْتُ

‘‘হে আল্লাহ আমি আপনার জন্য রোজাপালন করলাম এবং আপনার দেয়া রিযিক দ্বারা ইফতার করলাম।’’
এ বিষয়ে আরও একটি দোয়া নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে:

ذَهَبَالظَّمَأُوَابْتَلَّتِالعُرُوْقُوَثَبَتَالأَجْرُإنْشَاءَالله

‘‘পিপাসা দূরীভূত হল, শিরা উপশিরা সিক্ত হল এবং আল্লাহ চাহেত সওয়াব সাব্যস্ত হল।’
এই হাদীসদ্বয় সাব্যস্তের ক্ষেত্রেদুর্বলতা থাকলেওআলেমগণের কেউ কেউ এই হাদিসদুটোকে“হাসান” হাদিস হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। যাই হোক, আপনিইফতারের সময় এই দুআ দুটি পড়তে পারেন অথবা অন্য যে কোন দুআ করতে পারেন। এটি দোয়া কবুল হওয়ার মুহূর্ত।”সমাপ্ত [মাজমূফাতাওয়াআশ-শাইখ ইবনেউছাইমীন (প্রশ্ন নং ১৯/৩৪১)]

“পিপাসা দূরীভূত হল...” ও“হে আল্লাহ, আপনার জন্য রোজা পালন করলাম...”এই দুই হাদীসের তাখরীজ (সনদ-বিশ্লেষণ) জানতে দেখুন (26879) নং প্রশ্নের উত্তর।সেখানে প্রথম হাদিসটির “যয়ীফ” (দুর্বল) হওয়া ও দ্বিতীয় হাদিসটির“হাসান” (মধ্যমমান) হওয়ার বর্ণনা রয়েছে এবং সেখানে দুআ সংক্রান্ত শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এর ফতোয়াও উল্লেখ করা হয়েছে। পক্ষান্তরেসেহেরিরসময় পড়তে হয় এমন কোনবিশেষদুআনেই। শরীয়তসম্মতহল, খাওয়ারশুরুতেবিসমিল্লাহ বলে বা আল্লাহরনামে শুরু করা এবংখাওয়াশেষেআলহামদুলিল্লাহ পড়ে তাঁরপ্রশংসাকরা, যেমনটিসবখাওয়ারবেলায়করাহয়। তবেযেব্যক্তি রাতের এক তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার পর সেহেরি খায় তিনি এমন একটি সময় পান যে সময়ে আল্লাহ তাআলা অবতরণ করেন এবং যে সময়ে দোয়া কবুল হয়। আবু হুরাইরাহরাদিয়াল্লাহুআনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লামবলেছেন:

( يَنْزِلُرَبُّنَاتَبَارَكَوَتَعَالَىكُلَّلَيْلَةٍإِلَىالسَّمَاءِالدُّنْيَاحِينَيَبْقَىثُلُثُاللَّيْلِالآخِرُيَقُولُ :مَنْيَدْعُونِيفَأَسْتَجِيبَلَهُ،مَنْيَسْأَلُنِيفَأُعْطِيَهُ،مَنْيَسْتَغْفِرُنِيفَأَغْفِرَلَهُ ). رواهالبخاري ( 1094 )ومسلم ( 758 )

‘‘রাতেরশেষ তৃতীয়াংশবাকিথাকতেআমাদেরমহান রব্বদুনিয়ারআসমানে অবতরণ করেন। অবতরণ করেতিনিবলতে থাকেন: ‘কেআমার কাছে দোয়া করবে?আমিতারদোয়াকবুল করব।কেআমারকাছেপ্রার্থনা করবে? আমিতাকেদানকরব।কেআমারকাছেইসতিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করবে?আমিতাকেক্ষমাকরে দিব।”[হাদিসটি বর্ণনাকরেছেনইমাম বুখারী (১০৯৪) ওমুসলিম (৭৫৮)] সুতরাংএসময়েদুআ করা যেতে পারে।যেহেতু এটিদুআকবুলেরসময়;সেহরিরসময় হিসেবে নয়।

আরনিয়্যতের স্থান হচ্ছে অন্তর। জিহ্বা দ্বারা নিয়্যতউচ্চারণকরা- শরিয়তসম্মতনয়। শাইখুলইসলামইবনেতাইমিয়্যাহবলেছেন:“যে ব্যক্তিমনেমনেসংকল্পকরলোযে, সেপরেরদিনরোজাপালনকরবে,তবেতারনিয়্যতকরাহয়েগেলো।’’(37643)ও(22909)নংপ্রশ্নেরউত্তর দেখুন।

আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি

মতামত প্রেরণ