গোসল ওয়াজিব হওয়ার কারণ মোট ছয়টি। এর যে কোনো একটি পাওয়া গেলে মুসলিম ব্যক্তির ওপর গোসল করা ফরয হয়:
১. বীর্য নির্গত হওয়া: পুরুষ বা নারীর বীর্যের নিজস্ব স্থান থেকে বীর্য বের হওয়া। এটি দুই অবস্থায় হতে পারে: জাগ্রত অবস্থায় অথবা ঘুমন্ত অবস্থায়। যদি জাগ্রত অবস্থায় বীর্য বের হয়, তবে গোসল ওয়াজিব হওয়ার জন্য 'তৃপ্তি' বা 'কামভাব' থাকা শর্ত। যদি কোনো অসুস্থতার কারণে তৃপ্তি ছাড়াই বীর্য বের হয়, তবে গোসল ওয়াজিব হবে না। আর ঘুমন্ত অবস্থায় বীর্য বের হলে এটাকে 'ইহতিলাম' বা স্বপ্নদোষ বলা হয়। এ অবস্থায় শর্তহীনভাবে (কামভাব অনুভূত হোক বা না হোক) গোসল ওয়াজিব হবে। যেহেতু ঘুমন্ত অবস্থায় মানুষের বোধশক্তি থাকে না, তাই তৃপ্তি অনুভূত না হতে পারে। সুতরাং, ঘুম থেকে উঠে যদি কাপড়ে বীর্যের চিহ্ন পাওয়া যায়, তবে গোসল করতে হবে। আর যদি কেউ স্বপ্নে সহবাস করতে দেখে, কিন্তু ঘুম ভাঙার পর বীর্যের কোনো চিহ্ন না পায়, তবে তার ওপর গোসল ওয়াজিব হবে না।
২. লিঙ্গাগ্র যৌনাঙ্গে প্রবেশ করানো: যদি বীর্যপাত না-ও হয়, তবুও স্ত্রী সহবাসের ক্ষেত্রে লিঙ্গাগ্র যোনিপথে প্রবেশ করালে গোসল ওয়াজিব হয়ে যায়। সহীহ মুসলিম ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন কেউ স্ত্রীর চার শাখার (হাত-পা) মাঝে বসলো এবং খতনা করা স্থান (লিঙ্গাগ্র) খতনা করা স্থানকে (যৌনিকে) স্পর্শ করলো, তখন গোসল ওয়াজিব হয়ে গেল।" অর্থাৎ প্রবেশ করানোর মাধ্যমেই স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ওপর গোসল ওয়াজিব হবে; বীর্যপাত হোক বা না হোক। এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের ইজমা (ঐক্যমত) রয়েছে।
৩. কাফিরের ইসলাম গ্রহণ: একদল উলামায়ে কেরামের মতে, কোনো অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করলে তার ওপর গোসল করা ওয়াজিব। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকজন নও-মুসলিমকে গোসল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে অনেক আলেম মনে করেন এটি মুস্তাহাব (উত্তম); ওয়াজিব নয়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক নতুন মুসলমানকে গোসল করার নির্দেশ দিতেন বলে প্রমাণিত নয়। তাই যে হাদিসে নির্দেশসূচক ক্রিয়া উদ্ধৃত হয়েছে সেই নির্দেশকে 'মুস্তাহাব' (উত্তমতা) অর্থে ব্যাখ্যা করা হবে। যাতে সবগুলো দলিলের মধ্যে সমন্বয় করা যায়।
৪. মৃত্যু: কোনো মুসলিম মারা গেলে তাকে গোসল করানো (জীবিতদের ওপর) ওয়াজিব। তবে জিহাদের ময়দানের শহীদকে গোসল করানো যাবে না।
৫ ও ৬. হায়েয (ঋতুস্রাব) ও নিফাস (প্রসবোত্তর রক্তস্রাব): হায়েয বা নিফাস বন্ধ হওয়ার পর গোসল করা ওয়াজিব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন তোমার ঋতুস্রাব শেষ হবে, তখন গোসল করো এবং নামাজ পড়ো।" আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন: "অতঃপর যখন তারা প্রকৃষ্টভাবে পবিত্র হবে" [সূরা বাকারা: ২২২] অর্থাৎ রক্ত বন্ধ হওয়ার পর গোসল করবে..."
[শায়খ সালিহ আল-ফাওজান (হাফিযাহুল্লাহ) রচিত "আল-মুলাখখাস আল-ফিকহী" থেকে সংক্ষেপিত।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।