বৃহস্পতিবার 7 রবীউল আউওয়াল 1440 - 15 নভেম্বর 2018
বাংলা

ইফতারকালে পঠিতব্য দোয়া

প্রশ্ন

প্রশ্ন: যে হাদিসগুলোর ব্যাপারে আলেমগণ বলেছেন “যায়িফ বা দুর্বল” সেসব হাদিস দিয়ে দোয়া করার হুকুম কি?
১. ইফতারের সময়: ‘আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু, ওয়া আলা রিযকিকা আফতারতু’ (অর্থ হে আল্লাহ্‌, আমি আপনার জন্যই রোযা রেখেছি এবং আপনার দেয়া রিযিক দিয়ে ইফতার করছি।)
২. ‘আশহাদু আন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্‌। আসতাগফিরুল্লাহ্‌। আসআলুকাল জান্নাহ, ওয়া আউজু বিকা মিনান্নার’Ñ এ দোয়াটি পড়া কি শরিয়তসম্মত, জায়েয নাকি জায়েয নয়? নাকি মাকরূহ? নাকি শুদ্ধ নয়; হারাম?

উত্তর

আলহামদুলিল্লাহ।

এক:

আপনি ইফতারের যে দোয়াটি উল্লেখ করেছেন সেটি একটি দুর্বল হাদিসে এসেছে। হাদিসটি সুনানে আবু দাউদ গ্রন্থে মুয়ায বিন যাহরা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তার কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে পৌঁছেছে যে, যখন কেউ ইফতার করে তখন সে যেন বলে, আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু, ওয়া আলা রিযকিকা আফতারতু” (অর্থ- হে আল্লাহ্‌, আমি আপনার জন্য রোযা রেখেছি। এবং আপনার দেয়া রিযিক দিয়ে ইফতার করছি।)

তবে এ দোয়ার পরিবর্তে সুনানে আবু দাউদ গ্রন্থে ইবনে উমর (রাঃ) থেকে যে দোয়াটি বর্ণিত হয়েছে সেটাই যথেষ্ট। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইফতার করতেন তখন বলতেন: “যাহাবায যামাউ, ওয়াব তাল্লাতিল উরুক্বু ও ছাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ্‌।” (অর্থ- তৃষ্ণা দূর হয়ে গেল, শিরা-উপশিরা সিক্ত হল এবং ইনশাআল্লাহ্‌, সওয়াব সাব্যস্ত হল” [আলবানী ‘সহিহ আবু দাউদ গ্রন্থে’ হাদিসটিকে হাসান আখ্যায়িত করেছেন]

দুই:

রোযাদারের জন্য রোযা অবস্থায় ও ইফতারকালীন সময়ে দোয়া করা মুস্তাহাব। দলিল হচ্ছে, আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা বললাম: ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌, যখন আমরা আপনাকে দেখি আমাদের অন্তরগুলো কোমল হয়ে যায় এবং আখেরাতমুখী হয়ে উঠি। আর আমরা যখন আপনার সাক্ষাত থেকে চলে যাই তখন দুনিয়া আমাদেরকে আকৃষ্ট করে, আমরা নারী ও সন্তানে মুগ্ধ হই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: তোমরা আমার কাছে থাকাকালে যে অবস্থায় থাক সর্বদা যদি সে অবস্থায় থাকতে তাহলে ফেরেশতারা তাদের হাত দিয়ে তোমাদের সাথে মুসাফাহা করত, তোমাদের বাড়ীতে গিয়ে তোমাদের সাথে সাক্ষাত করত। আর যদি তোমরা গুনাহ না করতে তাহলে আল্লাহ্‌ তোমাদের বদলে এমন এক কওমকে নিয়ে আসতেন যারা গুনাহ করত; যাতে করে আল্লাহ্‌ তাদেরকে ক্ষমা করতে পারেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বললাম: হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমাদেরকে জান্নাতের বিবরণ দিন, জান্নাতের ভবনগুলো কেমন হবে? তিনি বলেন: একটি ইট হবে স্বর্ণের, অপরটি হবে রৌপ্যের। প্লাস্টার হচ্ছে- উত্তম সুঘ্রাণের মিসক দিয়ে। কংকর হবে মুক্তা ও নীলকান্তমণির। মাটি হবে জাফরানের। যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে সে সেখানে নেয়ামত ভোগ করবে; কখনও দুর্ভোগে পড়বে না। চিরদিন সেখানে থাকবে; কখনও মৃত্যুবরণ করবে না। তার পোশাকাদি পুরাতন হবে না। তার যৌবন শেষ হবে না। তিন ব্যক্তির দোয়া ফেরত দেয়া হয় না: ন্যায়পরায়ন শাসক, রোযাদার ব্যক্তি ইফতার করা অবধি এবং মজলুম ব্যক্তি। মজলুমের দোয়া মেঘের উপরে বহন করা হয়, মজলুমের দোয়ার জন্য আসমানের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়। রব্ব বলতে থাকেন: আমার গৌরবের শপথ, কিছু সময় পরে হলেও আমি তোমাকে সাহায্য করব।” [মুসনাদে আহমাদের তাহকীক এর মধ্যে শুয়াইব আরনাউত হাদিসটিকে সহিহ আখ্যায়িত করেছেন]

সুনানে তিরমিযির রেওয়ায়েতে (২৫২৫) এসেছে, “রোযাদার ইফতার করাকালে...”[আলবানী সহিহুত তিরমিযি গ্রন্থে হাদিসটিকে সহিহ আখ্যায়িত করেছেন]

অতএব, আপনি আল্লাহ্‌র কাছে জান্নাত প্রার্থনা করতে পারেন, জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারেন, ইসতিগফার করতে পারেন, শরিয়ত অনুমোদিত যে কোন দোয়া করতে পারেন। তবে, আপনি প্রশ্নে যে ভাষ্যে দোয়াটি উল্লেখ করেছেন “আশহাদু আন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আসতাগফিরুল্লাহ্‌, আসআলুকাল জান্নাহ, ওয়া আউযুবিকা মিনান্নার” এ ভাষায় আমরা দোয়াটি পাইনি।

আল্লাহ্‌ ভাল জানেন।

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

মতামত প্রেরণ