এক:
প্রশ্ন নং (98308) এবং (98189)-এর উত্তরে পূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, মৃত ব্যক্তিকে কাফন দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোত্তম হলো: পুরুষের জন্য তিনটি কাপড় এবং মহিলার জন্য পাঁচটি কাপড়।
দুই:
মৃত ব্যক্তিকে কাফন দেওয়ার ন্যূনতম যে পরিমাণ দিয়ে ফরয আদায় হয় তা হলো এমন একটি কাপড় যা পুরো শরীর ঢেকে নেয়। এটি ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আহমাদের মাযহাব এবং মালেকীদের দুই মতের মাঝে একটি মত।
[দেখুন: ‘হাশিয়াতু ইবনে আবেদীন’ (৩/৯৮), ‘আল-মুগনী’ (৩/৩৮৬), ‘মাওয়াহিবুল জালীল’ (২/২৬৬)]।
এই মতের পক্ষে তারা দলীল দিয়েছেন বুখারী (৪০৪৭) ও মুসলিমে (৯৪০) বর্ণিত হাদীস থেকে: খাব্বাব ইবনুল আরাত রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: উহুদের দিন যখন মুসআব ইবনে উমায়র শহীদ হলেন, তখন তিনি কেবল একটি ডোরাকাটা চাদর রেখে গিয়েছিলেন। যখন আমরা তা দিয়ে তার মাথা ঢাকতাম, তখন তার পা বের হয়ে যেত; আর যখন পা ঢাকতাম, তখন মাথা বেরিয়ে পড়ত। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বললেন: “তার মাথা ঢেকে দাও এবং পায়ের উপর ‘ইযখির’ ঘাস রেখে দাও।”
যাইলাঈ বলেন: ‘এটি প্রমাণ করে যে কেবল লজ্জাস্থান ঢাকাই যথেষ্ট নয়।’[হাশিয়াতু ইবনে আবেদীন (৩/৯৮) থেকে সমাপ্ত]
শাইখ ইবনে বায রাহিমাহুল্লাহ বলেন: “যদি মৃত ব্যক্তিকে একটি মাত্র কাপড়ে কাফন দেওয়া হয় যা পুরো শরীর ঢেকে নেয়, তবে তা জায়েয হবে; চাই সে পুরুষ হোক বা মহিলা। এ বিষয়ে ব্যাপক অবকাশ রয়েছে।”[‘মাজমু ফাতাওয়া ইবনে বায’ (১৩/১২৭)]
শাইক বাসসাম ‘তাওদ্বীহুল আহকাম’ (২/৩৯)-এ বলেন:
‘মৃত ব্যক্তি ছোট হোক বা বড়, পুরুষ হোক বা নারী, তার জন্য আবশ্যক হলো এমন একটি কাপড় যা তার সমগ্র দেহ ঢেকে নেয়।’[সমাপ্ত]
ইমাম শাফেঈর মাযহাব অনুযায়ী: কাফনের ন্যূনতম পরিমাণ হলো যা লজ্জাস্থান ঢাকে; আর মহিলার জন্য এমন কাপড় যা চেহারা ও দুই হাতের তালু ছাড়া সমগ্র দেহ ঢাকে। মালেকীদের দ্বিতীয় মতও এটি।
[দেখুন: ‘আল-মাজমূ’ (৫/১৬২), ‘মাওয়াহিবুল জালীল’ (২/২৬৬)]
তারাও মুসআবের হাদীস থেকেই দলিল নিয়েছেন।
ইমাম নববী বলেন: “যদি সমগ্র দেহ ঢাকা ওয়াজিব হতো, তাহলে তার পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে কাফন কিনত (তা অস্ত্র বা অন্য কিছু হলেও)। আর যদি তার সম্পদ না থাকত, তাহলে বায়তুল-মাল থেকে কাফনের ব্যবস্থা করা ওয়াজিব হতো; আর তাও না থাকলে মুসলমানদের উপর আবশ্যক হতো।”[‘আল-মাজমূ’ (৫/১৫০-১৫১)]
এর জবাবে বলা হয়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীরা উহুদের শহীদদের কাফন দেওয়ার মতো কিছুই পাননি, এমনকি দুজন দুজন করে একটি কাপড়ে কাফন দিতেন। যেমন বুখারী (১৩৪৩) বর্ণিত হাদিসে জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন:
‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শহীদদের মধ্য থেকে দু’জনকে একটি কাপড়ে একত্রে কাফন দিতেন, তারপর জিজ্ঞেস করতেন: ‘এদের মধ্যে কে কুরআন বেশি পড়েছে?’ যখন একজনের দিকে ইশারা করা হতো, তখন তাকে কবরে আগে রাখতেন।’
কাজেই তারা কাফন কিনবেন কোথা থেকে, যখন উহুদের শহীদদের কাফন দেওয়ার মতোও কিছু পাচ্ছিলেন না?!
কাফন যদি সংকুলান না হয় এবং মৃতকে ঢাকার মতো কিছু না পাওয়া যায়, তাহলে তার মাথা ও যতটুকু শরীর ঢাকা যায় ততটুকু ঢেকে দেওয়া হবে। আর যে অংশ খোলা থাকবে তার উপর ইযখির ঘাস বা অনুরূপ কিছু উদ্ভিদ রেখে দেওয়া হবে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসআব ইবনে উমাইরের ঘটনায় বলেছেন: ‘তার মাথা ঢেকে দাও এবং পায়ের উপর ইযখির (ঘাস) রেখে দাও।’[বুখারী ও মুসলিম]
শাইখ ইবনে উছাইমীন ‘আশ-শারহুল মুমতি’ (৫/২২৫)-এ বলেন:
“এটি ওয়াজিব হওয়ার দলিল (অর্থাৎ কাফন দিয়ে মৃতের সমগ্র দেহ ঢাকা): যে সাহাবীদের কাফন পর্যাপ্ত ছিল না, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে মাথার দিক থেকে কাফন রাখতে এবং পায়ের উপর ‘ইযখির’ (যা একটি পরিচিত উদ্ভিদ) রেখে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
যদি কিছু না পাওয়া যায়, যেমন কেউ নিজের কাপড়সহ আগুনে পুড়ে যায় এবং কাফন দেওয়ার জন্য কোনো কাপড় না থাকে, তাহলে তাকে ঘাস বা অনুরূপ কিছু দিয়ে ঢেকে তার উপর বেঁধে দেওয়া হবে। আর যদি একেবারেই কিছু না পাওয়া যায়, তাহলে যে অবস্থায় আছে সে অবস্থায়ই দাফন করা হবে। কেননা (এ অবস্থায়) আল্লাহ তাআলার এই সাধারণ বক্তব্য প্রযোজ্য:
فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُم
“তোমরা সাধ্যমতো আল্লাহকে ভয় করো।”[সূরা আত-তাগাবুন: ১৬][সমাপ্ত]
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।