বৃহস্পতিবার 20 শাবান 1440 - 25 এপ্রিল 2019
বাংলা

কেউ রোজা রেখে এমন কোন দেশে সফর করল যেখানে রমজান বিলম্বে শুরু হয়েছে এ ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তিকে কি ৩১ দিন রোজা রাখতে হবে?

প্রশ্ন

প্রশ্ন: যদি আমি এক দেশে রোজা পালন শুরু করে রমজান মাসের মধ্যে অন্য কোন দেশে ভ্রমণ করি যেখানে রমজান একদিন পরে শুরু হয়েছে, মাসের শেষ দিকে সে দেশবাসী যখন ৩০ তম রোজা পালন করছে তখন কি আমি তাদের সাথে রোজা রাখব; এতে তো আমার ৩১টি রোজা পালন হবে?

উত্তর

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। যদিকোনব্যক্তিরমজানের প্রথম রোজা যে দেশে রেখেছে সে দেশ থেকে এমন কোন দেশেসফর করে যেখানেঈদুলফিতরবিলম্বে হয় তাহলেসে ব্যক্তি রোজা পালনচালিয়েযাবেযতদিননাসে দেশবাসী ঈদ উদযাপন না করে। শাইখ বিন বায রাহিমাহুল্লাহকে প্রশ্ন করা হয়েছিল:

আমি পূর্ব এশিয়ার অধিবাসী। আমাদের দেশে হিজরি মাস সৌদি আরবের একদিন পর শুরু হয়। রমজান মাসে আমি দেশে যাব। আমি যদি সৌদি আরবে সিয়াম পালন শুরু করি এবং আমার দেশে গিয়ে শেষ করি, তাহলে আমার ৩১ দিন রোজা পালন করা হবে। এভাবে আমার সিয়াম পালনের হুকুম কি? আমি কতটি রোজা রাখব?

তিনি উত্তরে বলেন-

“আপনি যদি সৌদি আরব বা অন্য কোন দেশে সিয়াম পালন শুরু করেন এবং নিজের দেশে গিয়ে বাকিটা পালন করেন তাহলে আপনার দেশের লোকদের সাথে সিয়াম ভঙ্গ করবেন তথা ঈদ উদযাপন করবেন; যদিও বা তা ৩০ দিনের বেশি হয়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

(الصوميومتصومون،والفطريومتفطرون)

“রোজাহলসেদিনযেদিনতোমরা (সকলে) রোজাপালনকর, আরঈদুলফিতরহলসেদিনযেদিনতোমরা (সকলে) ইফতার(রোজা ভঙ্গ) কর।”কিন্তুআপনিযদিতাকরতেগিয়ে২৯ দিনেরকমরোজাপালনকরেন, তাহলেআপনাকেপরবর্তীতে১টি রোজাকাযাআদায়করেনিতেহবে। কারণরমজানমাস২৯দিনেরকমহতেপারেনা।” সমাপ্ত[মাজমূফাতাওয়াশ-শাইখইবনে বায (১৫/১৫৫)]

শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল উছাইমীন রাহিমাহুল্লাহ এর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল:

যদি কোন ব্যক্তি এক মুসলিম দেশ থেকে অন্য দেশে গমন করে যে দেশের মুসলমানেরা প্রথম দেশের একদিন পরে রমজান শুরু করেছে সে ব্যক্তি সেদেশের লোকদের সাথে রোজা রাখতে গিয়ে তার ৩০টির বেশি রোজা হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে হুকুম কী?অনুরূপভাবে এ অবস্থারবিপরীতঅবস্থারহুকুম কী?

তিনি উত্তরে বলেন :

“যদিকেউএকমুসলিমদেশথেকে অন্যমুসলিমদেশেভ্রমণকরেএবংসেইদেশেরমজানপরে শুরুহয়, তবেতিনিঐদেশেরলোকেরাসিয়ামনা-ছাড়া পর্যন্তসিয়ামপালনকরেযাবেন। কারণরোজাহলসেদিন,যেদিনলোকেরাসিয়ামপালনকরে;আরঈদুলফিতরহলসেদিন, যেদিনলোকেরারোজা ছেড়ে দেয়। আরঈদুলআযহাহলসেদিন, যেদিনলোকেরাপশুযবেহকরে। তাকে এভাবে রোজা পালন করতে হবে; যদিওবাএজন্যতাকেএকদিনবাএরবেশিদিনসিয়ামপালনকরতেহয়।এটিসেইমাসয়ালার অনুরূপ যখনকোন ব্যক্তি এমন কোনদেশেভ্রমণ করেযেখানেসূর্যাস্তদেরীতেহয়, তবেসে ব্যক্তিকেসূর্যাস্তনাযাওয়াপর্যন্তরোজাপালনকরতে হবে।যদিওবাএরফলে রোজা পালন স্বাভাবিকদিনেরচেয়েদুই,তিনবাততোধিকঘণ্টাবিলম্বিত হয়। এছাড়া এ কারণেও তাকে বেশিদিন রোজা থাকতে হবে যেহেতু সেদ্বিতীয় যে দেশে ভ্রমণ করেছে সেখানে(শাওয়াল মাসের) নতুনচাঁদদেখাযায়নি।অথচনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে চাঁদ দেখেরোজারাখতে ও চাঁদ দেখে রোজা ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছেন।তিনিবলেছেন:

(صوموالرؤيته،وأفطروالرؤيته)

“তোমরা তা (নতুন চাঁদ) দেখে রোজাধর এবং তা (নতুন চাঁদ) দেখে রোজা ছাড়।”

আর বিপরীত অবস্থা হচ্ছে-কোন ব্যক্তি এক দেশ থেকে অন্য এক দেশে ভ্রমণ করে যেখানে রমজান মাস প্রথম দেশের তুলনায় আগে শুরু হয়েছে, তবে তিনি তাদের সাথেই রোজাপালন ছেড়ে দিবেন এবং যে কয়দিনের রোজা বাদ পড়েছে সে রোজাগুলো পরে কাযা আদায় করে নিবেন। যদি একদিন বাদ পড়ে তবে একদিনের রোজাকাযা করবেন। যদি দুই দিনের বাদ পড়ে তবে দুই দিনের কাযা করবেন। তিনি ২৮ দিন পর রোজাছাড়লে দুই দিনের রোজা কাযা আদায় করবেন। যদি উভয় দেশে মাস ৩০দিনে শেষ হয়, আর এক দিনের কাযা করবেন যদি উভয় দেশে বা যে কোন এক দেশে ২৯ দিনে মাস শেষ হয়।”[মাজমূ‘ ফাতাওয়া আশ-শাইখইবনেউছাইমীন (১৯/ প্রশ্ন নং ২৪)] তাঁর কাছে আরও জানতে চাওয়া হয়েছিল -

কেউ হয়ত বলবে যে, কেন আপনি বলছেন যে প্রথম ক্ষেত্রে ৩০ দিনের বেশি রোজা পালন করতে হবে এবং দ্বিতীয় ক্ষেত্রে রোযার কাযা পালন করতে হবে?

তিনি উত্তরে বলেন-

“দ্বিতীয় ক্ষেত্রে রোযার কাযা রোজা পালন করতে হবে কারণ মাস ২৯ দিনের কম হতে পারে না। আর প্রথম ক্ষেত্রে সে ৩০ দিনের বেশি রোজা পালন করবে কারণ তখনও নতুন চাঁদ দেখা যায়নি। প্রথম ক্ষেত্রে আমরা তাকে বলব রোজাছেড়ে দাও যদিও তোমার ২৯ দিন পূর্ণ হয়নি। কারণ নতুন চাঁদ দেখা গিয়েছে। নতুন চাঁদ দেখা যাওয়ার পর রোজাছেড়ে দেয়া বাধ্যতামূলক। শাওয়াল মাসের প্রথম দিন রোজা পালন করা হারাম। আর কেউ যদি ২৯ দিনের কম রোজা পালন করে থাকে তাহলে তাকে ২৯ দিন পূরণ করতে হবে। এটি দ্বিতীয় অবস্থা হতে ভিন্ন। কারণ যে দেশে আসা হয়েছে সেখানে তখন রমজান চলছে; নতুন চাঁদ দেখা যায় নি। যেখানে এখনও রমজান চলছে সেখানে কিভাবে রোজা ভঙ্গ করা যেতে পারে?তাই আপনাকে রোজা পালন চালিয়ে যেতে হবে। আর যদি তাতে মাস বেড়ে যায়, তাহলে তা দিনের দৈর্ঘ্য বেড়ে যাওয়ার মত।”[মাজমূ ‘ফাতাওয়া আশ-শাইখ ইবনেউছাইমীন (১৯/ প্রশ্ন নং ২৫)]

আরো জানতে দেখুন (38101) নং প্রশ্নের উত্তর। আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

মতামত প্রেরণ