আলহামদু লিল্লাহ।.
বেতনে কি যাকাত ওয়াজিব হয়?
যে ব্যক্তি মাসিক বেতন পায় এবং যা পায় সেটা সে খরচ করে ফেলে, কোনো কিছু সঞ্চয় করতে পারে না। ফলে মাস শেষে তার অর্থ ফুরিয়ে যায়। তার উপর যাকাত আবশ্যক হবে না। কারণ যাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য এক বছর পূর্ণ হওয়া আবশ্যক। (অর্থাৎ নেসাব পরিমাণ সম্পদ অর্জনের পর পূর্ণ এক বছর পেরিয়ে যাওয়া)
প্রশ্নকর্তা! সুতরাং আপনার উপর যাকাত আবশ্যক হবে না। তবে আপনি যদি আপনার সম্পদ থেকে কিছু সঞ্চয় করেন, সে সঞ্চয় যদি নেসাব পরিমাণে পৌঁছে এবং তার বছর পূর্ণ হয় তাহলে যাকাত আবশ্যক হবে।
আর যে ব্যক্তি আপনাকে বলেছে চাকুরিজীবীর বেতনের যাকাত কৃষকের ফসলের যাকাতের মত, যেখানে বছর পূর্ণ হওয়ার শর্ত নেই; তার কথা সঠিক নয়।
বেতনের যাকাত প্রদানের পদ্ধতি
যেহেতু অধিকাংশ মানুষ বেতনে চাকুরী করে তাই আমরা বেতনের যাকাত প্রদান করার পদ্ধতি উল্লেখ করাকে সমীচীন মনে করছি:
চাকুরিজীবীর বেতনের দুই অবস্থা:
প্রথম অবস্থা: সে পুরো অর্থ ব্যয় করে। কোনো কিছুই্ সঞ্চয় করে না। প্রশ্নকর্তার মতো তার উপরে কোনো যাকাত নেই।
দ্বিতীয় অবস্থা: সে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করে। এটি কখনো বাড়ে আবার কখনো কমে। এমন অবস্থায় সে কীভাবে যাকাতের হিসাব করবে?
উত্তর হলো: “যদি সে নিজের অধিকার পরিপূর্ণরূপে উপভোগ করতে সচেষ্ট হয় এবং যাকাতগ্রহীতাদেরকে তার সম্পদ থেকে যতটুকু দেয়া ওয়াজিব ততটুকুর বেশি না দিতে সচেষ্ট হয়; তাহলে তার কর্তব্য নিজের উপার্জনের একটি ছক তৈরী করা । ঐ ছকে যে কোন এমাউন্ট তার মালিকানায় আসার দিন থেকে বর্ষ গণনা শুরু করবে এবং প্রত্যেক এমাউন্টের যাকাত আলাদা আলাদাভাবে আদায় করবে, যে এমাউন্টের যে দিন বর্ষপূর্তি হবে ঐ এমাউন্টের যাকাত সেই দিন পরিশোধ করবে।
আর যদি ব্যক্তি সহজতা চায় ও উদারতার পথ বেছে নেয়, নিজের অধিকারের উপর দরিদ্র ও অন্যান্য যাকাত গ্রহীতাদের যাকাত প্রাপ্তির দিকটিকে প্রাধান্য দেয়, তাহলে তার মালিকানায় থাকা সম্পদের সর্বপ্রথম নেসাব পূর্ণ হওয়ার এক বছর পূরণ হলে সে তার কাছে থাকা সমস্ত সম্পদের যাকাত প্রদান করবে। এই কাজে তার নেকী বেশি হবে এবং মর্যাদা বুলন্দ হবে। এটি তার জন্য প্রশান্তিদায়ক এবং দরিদ্র-নিঃস্বসহ যাকাতের অন্যান্য খাতের ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষায় অধিক সহায়ক। তার যে সম্পদের বর্ষপূর্তি হয়েছে সে সম্পদের সাথে অতিরিক্তি যে সম্পদের বর্ষপূর্তি হয়নি সে সম্পদেরও যাকাত দিয়ে দেয়া এটি ‘অগ্রিম প্রদত্ত যাকাত’ বলে গণ্য হবে।”[সমাপ্ত][ফাতাওয়াল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ: (৯/২৮০)]
এর উদাহরণ হলো: একজন ব্যক্তি মহররমের বেতন পেয়ে এর থেকে এক হাজার রিয়াল সঞ্চয় করল। তারপর সফর মাসেও সঞ্চয় করল। এভাবে বাকি মাসগুলোতেও ...। এরপর দ্বিতীয় বছরের মহররম মাস আসার পর সে নিজের কাছে থাকা সমস্ত সম্পদের হিসাব করে যাকাত প্রদান করা।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।