এক:
'ইয়ামিনে গামূস' হলো সেই পাপিষ্ঠ ও মিথ্যা শপথ, যার মাধ্যমে শপথকারী অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করে। একে 'গামূস' (নিমজ্জিতকারী) বলা হয় কারণ এটি শপথকারীকে প্রথমে পাপে এবং পরবর্তীতে জাহান্নামের আগুনে নিমজ্জিত করে। ইবনুল আসীর তাঁর আন-নিহায়াহ (৩/৭২৪) গ্রন্থে এভাবেই উল্লেখ করেছেন।
দুই:
আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ গ্রন্থে (৩৫/৪১) এসেছে: ইয়ামিনে গামূস-এর কাফফারা ওয়াজিব কি না— এ বিষয়ে ফকিহগণের মধ্যে দুটি মত রয়েছে:
১. অধিকাংশ ফকিহগণের (হানাফী, মালিকী ও হাম্বলী মাযহাব) মতে: ইয়ামিনে গামূস-এর কোনো কাফফারা নেই। (অর্থাৎ কেবল কাফফারা দিয়ে এই পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না)।
২. শাফেয়ী মাযহাবের মতে: এতে কাফফারা ওয়াজিব।
প্রত্যেক মতাবলম্বী তাদের মতের পক্ষে একাধিক দলিল পেশ করেছেন।[সমাপ্ত]
দেখনু: বাদায়িউস সানায়ি (৩/৩), আত-তাজুল ইকলিল (৩/২৬৬) এবং কাশশাফুল ক্বিনা (৬/২৩৫)
স্থায়ী কমিটির ফতোয়াসমগ্রে এসেছে: (ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ) (২৩/১৩৩):
"ইয়ামিনে গামূস কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। এর পাপ এতই বিশাল যে কেবল কাফফারা দিলেই তা যথেষ্ট হয় না। ওলামায়ে কেরামের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী এতে কোনো কাফফারা নেই। বরং এর জন্য তাওবা এবং ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করা ওয়াজিব।"
কাফফারা ওয়াজিব হোক বা না হোক— কেবল কাফফারা দিলেই এই শপথের গুনাহ মোচন হবে না। বরং এর জন্য তাওবায়ে নাসূহ বা খাঁটি তাওবা আবশ্যক। তাই শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) মাজমুউল ফাতাওয়া গ্রন্থে (৩৪/১৩৯) ইয়ামিনে গামূসের কাফফারার ব্যাপারে আলেমদের মতভেদ উল্লেখ করার পর বলেছেন:
"ওলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে একমত যে, কেবল কাফফারা দিলে এই পাপের দায়ভার মিটে যায় না।"
তিন:
অন্যান্য গুনাহের মতো ইয়ামিনে গামূস-ও খাঁটি তাওবার মাধ্যমে মোচন হয়। এমন কোনো গুনাহ নেই যার তাওবা কবুল হয় না। আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক অবাধ্য বান্দার জন্য তাওবার দরজা খোলা রেখেছেন। আল্লাহ বলেন:
"বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন। তিনি পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু।" [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৫৩]
ইবনে কাসীর (রহ.) বলেন: এই আয়াতটি কাফির থেকে শুরু করে সমস্ত অপরাধীকে তাওবার দিকে, ফিরে আসার দিকে আহ্বান করছে। আল্লাহ ঘোষণা করছেন যে, কেউ তাওবা করে ফিরে আসলে তিনি তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন, তা যত বড়ই হোক বা সমুদ্রের ফেনার মতো বেশিই হোক না কেন...। এ অর্থবোধক আয়াত অনেক।[সমাপ্ত]
আরও বিস্তারিত জানতে দেখুন: 46683 নং প্রশ্নোত্তর।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।