উত্তম গুণাবলি অর্জন

প্রশ্ন 101023

আমি কীভাবে উত্তম গুণাবলি অর্জন করতে পারব?

উত্তর

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের প্রতি। পর সমাচার:

এক:

উত্তম চরিত্র রাসূলদের সর্দারের বৈশিষ্ট্য। এটি সিদ্দিকীনদের (সত্যবাদীদের) সর্বোত্তম আমল। এটি (সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ অনুযায়ী) দ্বীনের অর্ধেক, মুত্তাকীদের প্রচেষ্টার ফল, ইবাদতগুজারদের অনুশীলন। অন্যদিকে মন্দ চরিত্র হন্তারক বিষ ও স্বরূপ উন্মোচনকারী লাঞ্ছনা।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “আমি উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা দানের জন্য প্রেরিত হয়েছি।”[হাদীসটি বুখারী ‘আদাবুল মুফরাদ’ (২৭৩)-এ বর্ণনা করেন। শাইখ আলবানী সিলসিলাতুস সহীহাহ (৪৫) গ্রন্থে এটিকে সহিহ বলে গণ্য করেন]

আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: “মানুষকে সবচেয়ে বেশি কোন জিনিসটা জান্নাতে প্রবেশ করায়?” তিনি উত্তর দেন: “আল্লাহভীতি ও উত্তম চরিত্র।”[হাদীসটি তিরমিযী (২০০৪) বর্ণনা করেন এবং বলেন: হাদীসটি সহীহ গরীব। শাইখ আলবানী সহীহুত তিরমিযীতে এটিকে সহীহ বলে গণ্য করেছেন]

তাই অন্তরের রোগসমূহের চিকিৎসার নিয়মকানুন এবং উত্তম চরিত্র অর্জন করার পদ্ধতি রপ্ত করা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কারণ প্রতিটি অন্তরেরই নানান রোগ আছে। যদি সেগুলোর প্রতি অবহেলা করা হয়, তাহলে স্তূপে পরিণত হয়। প্রতিটি আত্মারই কিছু চরিত্র আছে, সেগুলোকে যদি বল্গাহীন করে দেওয়া হয়, তাহলে দুনিয়া-আখিরাতে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।

এ ধরনের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন সূক্ষ্মভাবে রোগ ও কারণগুলো জানা, তারপর সেই রোগের চিকিৎসা ও সংশোধনে আন্তরিক প্রচেষ্টা; যাতে করে সফলতা অর্জন করা যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন:

قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا

“যে তাকে (আত্মাকে) পবিত্র করে সে সফলকাম হয়।”[সূরা শামস: ৯]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তম চরিত্রের জন্য দোয়া করে বলতেন: “আল্লাহ! আপনি আমার আকৃতিকে সুন্দর করেছেন, অতএব আমার চরিত্রকেও সুন্দর করুন।”[হাদীসটি ইবনে হিব্বান (৩/২৩৯) তার সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেন এবং শাইখ আলবানী ‘ইরওয়াউল গালীল’ (৭৫) গ্রন্থে এটিকে সহীহ বলে গণ্য করেন]

দুই:

বান্দা নিজের দোষ-ত্রুটি জানতে পারলে তার জন্য চিকিৎসা করা সম্ভব। কিন্তু, বহু মানুষ আছে যারা নিজেদের দোষ-ত্রুটির ব্যাপারে বেখবর। তারা নিজ ভাইয়ের চোখের ময়লা দেখতে পায়; অথচ নিজের চোখের ময়লা দেখতে পায় না। কেউ যদি নিজের দোষ-ত্রুটি জানতে চায় তার জন্য চারটি পন্থা রয়েছে:

১। সে এমন শাইখের কাছে যাবে যে আত্মার দোষ-ত্রুটির ব্যাপারে গভীর জ্ঞান রাখে এবং গোপন সমস্যাসমূহের ব্যাপারে অবহিত। তার কাছ থেকে সে জ্ঞান, প্রতিপালন ও দিক-নির্দেশনা একত্রে গ্রহণ করবে।

২। সে একজন সত্যবাদী, অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ও দ্বীনদার বন্ধু খুঁজে বের করবে। তাকে নিজের পর্যবেক্ষক নিযুক্ত করবে যেন সে তার অবস্থাসমূহ ও কার্যাবলির দিকে নজর রাখে। তার যে সমস্ত বৈশিষ্ট্য, কার্যাবলি এবং প্রকাশ্য-গোপনীয় দোষ-ত্রুটিসমূহ সে অপছন্দ করে সেগুলো সে দেখিয়ে দিবে। বুদ্ধিমান ও বড় ইমামগণ এমনটি করতেন। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন: যে ব্যক্তি আমার দোষ ধরিয়ে দেয় আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন।

৩। শত্রুদের মুখ থেকে নিজের দোষ-ত্রুটির ব্যাপারে জানবে। কারণ অসন্তোষের চোখ দোষ প্রকাশ করে দেয়। যে বন্ধু তার প্রশংসা ও তোষামোদী করে এবং দোষ লুকিয়ে রাখে, তার তুলনায় হয়তো বিদ্বেষ পোষণকারী যে শত্রু তার দোষ-ত্রুটি স্মরণ করিয়ে দেয় তার দ্বারাই সে বেশি উপকৃত হবে।

৪। মানুষের সাথে মেলামেশা করা। এ মেলামেশার মাধ্যমে সে মানুষদের মাঝে যা কিছু নিন্দনীয় দেখতে পাবে সেগুলোর দায়ে নিজেকে অভিযুক্ত করবে। কারণ এক মুমিন অপর মুমিনের আয়নাস্বরূপ। সে অন্যের দোষ-ত্রুটির মাঝে নিজের দোষ-ত্রুটি দেখতে পায়। ঈসা আলাইহিস সালামকে বলা হয়েছিল: কে আপনাকে শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছে? তিনি বলেছিলেন: কেউ আমাকে শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়নি। আমি দেখেছি মূর্খের মূর্খতা লজ্জাস্কর। তাই আমি তা থেকে বিরত থেকেছি।

তিন:

চরিত্র হচ্ছে: আত্মার অভ্যন্তরীণ রূপ ও আকৃতি। বাহ্যিক চেহারার সৌন্দর্য্য যেমনিভাবে নাক-মুখ-চোখ ছাড়া কেবলমাত্র সুন্দর চোখ দিয়ে পূর্ণ হয় না, বরং এ সবগুলোর সৌন্দর্য্য প্রয়োজন হয়, তেমনিভাবে অভ্যন্তরেও এমন চারটি স্তম্ভ রয়েছে সুন্দর চরিত্র পূর্ণ হতে হলে যেগুলোর সৌন্দর্য্য পূর্ণ হওয়া অনিবার্য। যদি সেই চারটি পূর্ণ হয়, যথাযথ হয় এবং পরস্পর সাযুজ্যপূর্ণ হয় তবেই উত্তম চরিত্র অর্জিত হবে। সে সম্ভগুলো হলো:

জ্ঞানের শক্তি, রাগের শক্তি, প্রবৃত্তির শক্তি এবং এই তিনটির মাঝে যথাযথ সমন্বয়ের (ইনসাফ করার) শক্তি।

জ্ঞানের শক্তির উত্তমতা অর্জিত হবে এভাবে যে এর মাধ্যমে সত্য কথা ও মিথ্যা কথার মাঝে পার্থক্য করা, সঠিক বিশ্বাস ও অসঠিক বিশ্বাসের মধ্যে পার্থক্য করা এবং ভালো কাজ ও মন্দ কাজের মধ্যে পার্থক্য করা সহজ হবে। যদি এই শক্তি ঠিক থাকে তাহলে এর মাধ্যমে প্রজ্ঞার ফলাফল লাভ হয়। আর প্রজ্ঞা উত্তম গুণাবলির মূল।

রাগের শক্তির উত্তমতা অর্জিত হবে এভাবে যে প্রজ্ঞার চাহিদা অনুসারে রাগের বৃদ্ধি ও কমতি হবে।

প্রবৃত্তির শক্তির উত্তমতা অর্জিত হবে এভাবে যে এটি প্রজ্ঞার পরামর্শের অনুগামী থাকবে। আমি বুঝাতে চাচ্ছি আকল ও শরীয়তের পরামর্শের অনুগামী থাকবে।

আর ন্যায়ের শক্তি হচ্ছে: প্রবৃত্তি ও ক্রোধকে শরীয়ত ও আকলের পরামর্শের অনুগামী করা।

আকল হচ্ছে পরামর্শদাতা ও উপদেশদাতার মত। ন্যায়ের শক্তি হচ্ছে সক্ষমতা। এটি আকলের পরামর্শ বাস্তবায়নকারীর মত। ক্রোধ হচ্ছে যার মাঝে পরামর্শ বাস্তবায়ন করা হয়।

যার মাঝে এই বৈশিষ্ট্যগুলো পরিপূর্ণতা পাবে ও সুষমভাবে অর্জিত হবে সেই পরম সচ্চরিত্রের অধিকারী। তার থেকে সকল উত্তম গুণাবলি উৎসারিত হবে।

এই চারটি বৈশিষ্ট্যের পূর্ণমাত্রায় কেবল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই পৌঁছতে পেরেছিলেন। তাঁর পরে এ বৈশিষ্ট্যগুলোর কাছাকাছি যেতে পারা ও দূরে থাকার ক্ষেত্রে মানুষের তারতম্য রয়েছে। এই গুণাবলির ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যত কাছের সে আল্লাহর তত কাছের।

চার:

এই পূর্ণমাত্রা দুইভাবে অর্জিত হয়:

এক: আল্লাহর দান ও সহজাত পূর্ণতার মাধ্যমে।

দুই: প্রচেষ্টা ও অনুশীলনের মাধ্যমে এগুলোকে অর্জন করা। আমি এর দ্বারা বোঝাতে চাচ্ছি নিজেকে এমন কাজে বাধ্য করা যা সচ্চরিত্রের প্রত্যাশিত দাবি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ‘শেখার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জিত হয়। ধৈর্য ধারণের মাধ্যমেই ধৈর্যশীল হওয়া যায়। যে কল্যাণ অনুসন্ধান করে, তাকে তা দেওয়া হয়। যে মন্দ থেকে বিরত থাকতে চায়, তাকে তা থেকে বাঁচিয়ে রাখা হয়।’[হাদীসটি খত্বীব ও অন্যান্যরা আবুদ-দারদা থেকে বর্ণনা করেছেন। শাইখ আলবানী এটিকে হাসান বলে গণ্য করেন]

তাই কেউ যদি বদান্যতার গুণ অর্জন করতে চায় তার করণীয় হলো বদান্য ব্যক্তির কাজকে নিজের উপর চাপিয়ে দেয়া। তথা ব্যয় করাকে নিজের উপর চাপিয়ে দেয়া। এভাবে নিয়মিত নিজের উপর চাপিয়ে দেয়া ও আত্মার সাথে সংগ্রাম করার এক পর্যায়ে এটি তার স্বভাবে পরিণত হবে, তার জন্য সহজ হয়ে যাবে। এভাবে সে একজন দানশীল ব্যক্তিতে পরিণত হবে।

অনুরূপভাবে কারো মাঝে অহংকার থাকার কারণে সে যদি বিনয়ের চরিত্র ধারণ করতে চায় তাহলে তার উচিত হলো: নিয়মিত বিনয়ীদের কাজগুলো করার জন্য দীর্ঘদিন নিজেকে বাধ্য করা ও নিজের সাথে সংগ্রাম করা। এক পর্যায়ে বিনয় প্রকাশ তার স্বভাবে পরিণত হবে ও তার জন্য সহজ হয়ে যাবে।

শরিয়ত-স্বীকৃত সকল ভালো গুণ এ প্রক্রিয়ায় অর্জিত হয়। কোনো ব্যক্তির মাঝে দ্বীনি আখলাক ততক্ষণ পর্যন্ত সুদৃঢ় হবে না যতক্ষণ না সে নিজেকে উত্তম অভ্যাসগুলোতে অভ্যস্ত করতে না পারে এবং খারাপ কাজগুলো ত্যাগ করতে না পারে। এবং যতক্ষণ না ভাল কাজগুলো সে এত নিবিঢ়ভাবে পালন করে যেন সে ভালো কাজগুলোর প্রতি আসক্ত এবং এগুলোতে সে শান্তি পায়, আর খারাপ কাজগুলোকে সে অপছন্দ করে এবং এগুলোতে সে কষ্ট পায়।

একটি উদাহরণ থেকে বিষয়টি জানা যাবে:

যে ব্যক্তি চায় তার হাতের লেখার দক্ষতা একটি নিজস্ব গুণে পরিণত হোক যাতে করে সে জাত লেখক হয়ে উঠতে পারে তাহলে তার করণীয় হলো একজন দক্ষ লেখক যা করে নিজের হাত দিয়েও তা করা এবং নিয়মিত সুন্দর লেখাকে অনুকরণ করা। এক পর্যায়ে এটি তার সুদৃঢ় গুণে পরিণত হবে এবং সহজাতভাবে সুন্দর লেখা তার থেকে প্রকাশ পাবে।

আরেকটি উদাহরণ হলো: কেউ যদি ফকীহ হতে চায় তাহলে তাকে ফকীহদের কাজগুলো পুনঃপুনঃ করতে হবে। ফকীহদের কাজ হলো পুনঃপুনঃ ফিকহ চর্চা করা। এভাবে এক পর্যায়ে তার অন্তর ফিকহের বৈশিষ্ট্য ধারণ করবে এবং সে ফকীহে পরিণত হয়।

একই কথা প্রযোজ্য কেউ যদি দানশীল হতে চায়, পুত চরিত্রের অধিকারী হতে চায়, সহিষ্ণু ও বিনয়ী হতে চায় তাহলে তাকে কৃত্রিমভাবে হলেও এদের কাজগুলো করতে হবে। এক পর্যায়ে সেটি তার স্বভাবে পরিণত হবে। এর বিকল্প কোনো উপায় নেই।

যেমনিভাবে ফিকহ অন্বেষী (ছাত্র) এক রাত সময় দিয়ে এ মর্তবা অর্জন থেকে হতাশ হয়ে যায় না, এমনকি কয়েক রাত পুনরাবৃত্তি করার মাধ্যমেও তা অর্জন করে ফেলে না; তেমনিভাবে আত্মার পরিশুদ্ধি অন্বেষী, পূর্ণতা ও উত্তম কাজের মাধ্যমে নিজের শোভা সন্ধানী এক দিনের ইবাদতের মাধ্যমে এটি লাভ করে না কিংবা এক দিনের গুনাহর মাধ্যমে সেটি হারিয়েও ফেলে না। কিন্তু, একদিনের বিরতি অনুরূপ অন্য আরেক দিনের বিরতি ডেকে আনে। তারপর দিনের পর দিন এমনটি ঘটতে থাকলে এক পর্যায়ে ব্যক্তির মন অলসতাকে আপন করে নেয়।

পাঁচ:

আত্মার নিকৃষ্ট ও মন্দ বৈশিষ্ট্য দূর করা এবং উত্তম ও সুন্দর বৈশিষ্ট্য অর্জন করার ক্ষেত্রে আত্মার উদাহরণ হচ্ছে শরীরের চিকিৎসার মত; রোগ দূর করা ও সুস্থতা অর্জন করার মাধ্যমে।

যেমনিভাবে দেহরসের মৌলিক অবস্থা হলো ভারসাম্যপূর্ণ হওয়া। তবে, পাকস্থলী নানা খাদ্য, আবহাওয়া ও অবস্থার শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঠিক তেমনিভাবে প্রতিটি শিশু সুষম অবস্থা ও সুষ্ঠু ফিতরাত নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু তার বাবা-মা তাকে ইহুদি, খ্রিষ্টান বা অগ্নিপূজারী বানায়। অর্থাৎ অভ্যস্তকরণ ও শিক্ষাদানের মাধ্যমে মন্দ অভ্যাস গড়ে তোলা হয়।

প্রথম যেমন শরীরের গঠন পূর্ণাঙ্গ থাকে না; বরং খাদ্যের মাধ্যমে এটি পরিপূর্ণ ও শক্তিশালী হয়, তেমনিভাবে মানবাত্মাও পূর্ণতা লাভের উপযুক্ত কিন্তু অপূর্ণ অবস্থায় সৃষ্টি হয়। অতঃপর প্রতিপালন, চারিত্রিক পরিশুদ্ধি ও ইলমের পরিপুষ্টির মাধ্যমে মানবাত্মা পূর্ণতা পায়।

শরীর সুস্থ থাকলে ডাক্তারের দায়িত্ব হলো সুস্থ সুরক্ষামূলক নিয়মকানুন নির্ধারণ করে দেওয়া। আর অসুস্থ হলে শরীরের সুস্থতা ফিরিয়ে আনা। একইভাবে আত্মা যদি পরিশুদ্ধ, পবিত্র ও মার্জিত হয়, তাহলে কর্তব্য হলো এর সংরক্ষণ, শক্তি বাড়ানো ও নির্মলতা বৃদ্ধির জন্য চেষ্টা চালানো। আর যদি আত্মা অপূর্ণ ও অস্বচ্ছ হয়, তাহলে পূর্ণতা ও স্বচ্ছতা অর্জনে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

অনুরূপভাবে যে রোগ শরীরের ভারসাম্যতা পরিবর্তন করে দেয় এমন রোগের চিকিৎসা এর বিপরীত কিছু দিয়েই করতে হয়। যদি উষ্ণতার কারণে হয় তাহলে শীতলতা দিয়ে। আর শীতলতার কারণে হলে উষ্ণতা দিয়ে। ঠিক তেমনি অন্তরের রোগের চিকিৎসাও হবে এর বিপরীত বিষয় দিয়ে। অজ্ঞতা রোগের চিকিৎসা হবে ইলমের মাধ্যমে। কৃপণতা রোগের চিকিৎসা দানশীলতার মাধ্যমে। অহংকার রোগের চিকিৎসা বিনয়ের মাধ্যমে। খাদ্য-লিপ্সা রোগের চিকিৎসা কামনীয় খাবার থেকে জোরপূর্বক বিরত থাকার মাধ্যমে।

অসুস্থ দেহের চিকিৎসার জন্য যেমনিভাবে ঔষধের তিক্ততা সহ্য করা ও কামনীয় খাবার থেকে কঠোর ধৈর্য ধারণ করতে হয়, তেমনিভাবে অন্তরের রোগের চিকিৎসার জন্যেও ধৈর্য ও সংগ্রামের তিক্ততা সহ্য করতে হয়। বরং অন্তরের ক্ষেত্রে এটি আরও অধিক যুক্তিযুক্ত। কারণ দেহের রোগ থেকে মৃত্যুর মাধ্যমে মুক্তি মেলে। কিন্তু অন্তরের রোগ (আল্লাহ তায়ালার কাছে পানাহ চাই) মৃত্যুর পরও অনন্তকাল বিরাজমান থাকবে। এই উদাহরণগুলো আপনাকে অন্তরের চিকিৎসার পথ চেনাবে। আপনাকে অবহিত করবে যে, অন্তরের চিকিৎসার সামগ্রিক পদ্ধতি হলো নফসের কামনা-বাসনার বিপরীতে চলা। আল্লাহ এ সব কিছু তাঁর মহান কিতাবের এক বাক্যে এভাবে উল্লেখ করেছেন:

وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى . فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَى

“আর যে তার প্রভুর সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করেছে এবং কুপ্রবৃত্তি (নফসের কামনা) থেকে নিজেকে ফিরিয়ে রেখেছে, তার বাসস্থান হবে জান্নাতে।”[সূরা নাযি’আত: ৪০-৪১]

শেষকথা:

সাধনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি হলো: সংকল্পকে পূর্ণ করা। যদি ব্যক্তি কোনো প্রবৃত্তির কাজ পরিত্যাগের সংকল্প করে, তাহলে তাকে অবশ্যই ধৈর্য ধরতে হবে এবং অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। সে যদি সংকল্প ত্যাগ করায় নিজেকে অভ্যস্ত করে তোলে তাহলে তার নফস এটাকেই আপন করে নিবে এবং নষ্ট হয়ে যাবে। তাই যদি একবার কোনো সংকল্প লঙ্ঘিত হয়, তাহলে তার উচিত নিজের উপর একটি শাস্তি আরোপ করা। সে যদি নিজের নফসকে শাস্তির ভয়-ভীতি না দেখায়, তাহলে তার নফস তাকে পরাভূত করে ফেলবে এবং কামনাকে পূরণ করা তার কাছে সুশোভিত করে তুলবে। যার ফলে সব অনুশীলন নষ্ট হয়ে যাবে।

উপর্যুক্ত আলোচনাসমূহ গাযালীর (৩/৬২-৯৮) ‘ইহয়াউ উলূমিদ্দীন’ গ্রন্থ থেকে পরিমার্জন ও সংযোজনসহ সংকলিত।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

সূত্র

আখলাক

সূত্র

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

Previous
পরবর্তী
at email

নিউজলেটার

ওয়েবসাইটের ইমেইল ভিত্তিক নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন

phone

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব অ্যাপ্লিকেশন

কন্টেন্টে আরও দ্রুত পৌঁছতে ও ইন্টারনেট ছাড়া ব্রাউজ করতে

download iosdownload android