স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সম্প্রীতি ও দয়া

প্রশ্ন: 101130

আমি যখন অসুস্থতায় ভুগি (যেমন: মাইগ্রেনের ব্যথা, নার্ভ ব্লকসহ আরো কিছু সমস্যা) তখন আমার স্বামী আমাকে বিশ্রাম নিতে দেয় না। অথচ আমার বিশ্রাম প্রয়োজন (যেমনটা ডক্টর পরামর্শ দিয়েছেন)। কিন্তু আমার স্বামী আমাকে বিশ্রাম দেওয়ার জন্য কোন কিছু করতে নারাজ (আমাদের সন্তান আছে)। এমনকি আমি যে অসুস্থতায় ভুগি সেটাও সে স্বীকার করতে চায় না। কারণ সে মনে করে আমি একজন যুবতী। তাই আমার পক্ষে এত সব স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগতে থাকা অসম্ভব। তার এই কাজের হুকুম কী? আর আমার করণীয় কী?

উত্তর

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের প্রতি। পর সমাচার:

আল্লাহর পবিত্র শরীয়তে বিবাহের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে— স্বামী-স্ত্রীর মাঝে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও রহমত তৈরি হওয়া। বৈবাহিক জীবন এই ভিত্তির উপরই প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً

“তার নিদর্শনসমূহের মধ্যে আরেকটি এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন; যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও। তিনি তোমাদের মাঝে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।”[সূরা রূম: ২১]

হাফেয ইবনে কাসীর রাহিমাহুল্লাহ বলেন: ‘সম্প্রীতি হচ্ছে— ভালোবাসা। আর রহমত হচ্ছে— দয়া। ব্যক্তি তার স্ত্রীকে হয় ভালোবাসার কারণে ধরে রাখে। নতুবা তার প্রতি দয়ার কারণে, যদি তার ঘরে নিজের সন্তান আছে।’

প্রিয় বোন,

আপনার জন্য উপদেশ হচ্ছে: আল্লাহ  তাআলা পূর্বোক্ত আয়াতে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে যে সম্প্রীতি ও রহমতের কথা উল্লেখ করেছেন আপনি যেন সেটা ভুলে না যান। উম্মাহাতুল মুমিনীন ও মহিলা সাহাবীদের কথা ভাবুন, বিশেষতঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে খাদীজা রাদিয়াল্লাহু আনহার ভূমিকার কথা। তারপর আপনার পরিবারকে সুখী করতে চেষ্টা করতে থাকুন। আপনি এর উত্তম ফলাফল পাবেন; ইনশা আল্লাহ।

মানুষের অন্তর জয়ের সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে হাসিমুখে নরম ভাষায় কথা বলা। কোনো এক নেককার বলেছেন: ‘সদাচরণ খুবই সহজ। হাসিমুখ ও নরম কথা।’ সুতরাং আপনি আপনার স্বামীর সাথে কৃত্রিমতা করে হলেও এটি করতে থাকুন। এক সময় এটি আপনার স্বভাবে পরিণত হবে। আপনি তার মন জয় করতে পারবেন এবং আপনার প্রতি তার অন্তরে ভালোবাসা ও রহমত পুনরুজ্জীবিত করতে সমর্থ হবেন।

বরং এই্ সব কিছুর আগে ও সব কিছুর উপরে আমাদের রবের বাণী:

وَلا تَسْتَوِي الْحَسَنَةُ وَلا السَّيِّئَةُ ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ فَإِذَا الَّذِي بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ عَدَاوَةٌ كَأَنَّهُ وَلِيٌّ حَمِيمٌ * وَمَا يُلَقَّاهَا إِلا الَّذِينَ صَبَرُوا وَمَا يُلَقَّاهَا إِلا ذُو حَظٍّ عَظِيمٍ

“ভালো কাজ আর মন্দ কাজ সমান নয়। ভালো কাজটি দিয়ে (মন্দ কাজের) জবাব দেবে। দেখবে, যার সাথে তোমার শত্রুতা ছিল সে যেন এক অন্তরঙ্গ বন্ধু হয়ে গিয়েছে। এ গুণটি দেওয়া হয়— কেবল ধৈর্যশীলদেরকে। এ গুণটি দেওয়া হয়— পরম ভাগ্যবানকে।”[সূরা ফুস্‌সিলাত: ৩৪-৩৫]

শাইখ ইবনে সা’দী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: ‘আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্যই কৃত ভালো কাজ, আর তাকে অসন্তুষ্ট ও ক্রোধান্বিত করে এমন গুনাহর কাজ সমান নয়। সৃষ্টির প্রতি সদাচরণ ও তাদের সাথে দুর্ব্যবহার সমান নয়। না মৌলিকভাবে, না বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে, আর না প্রতিদানের দিক থেকে। “উত্তম কাজের প্রতিদান কি উত্তম ছাড়া আর কিছু হতে পারে?”

তারপর আল্লাহ এক বিশেষ প্রকার সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছেন, যার বড় রকমের প্রভাব রয়েছে। সেটি হচ্ছে— যে আপনার সাথে দুর্ব্যবহার করেছে তার সাথে সদাচরণ করা। আল্লাহ বলেন: “ভালো কাজটি দিয়ে (মন্দ কাজের) জবাব দেবে” অর্থাৎ যদি সৃষ্টির কেউ তোমার সাথে দুর্ব্যবহার করে, বিশেষতঃ তোমার উপর যার বড় অধিকার রয়েছে যেমন: আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব প্রমুখ, সেই দুর্ব্যবহার কথায় হোক বা কাজে; তাহলে এর বিপরীতে তুমি তার সাথে সদাচরণ করো। সে যদি তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে, তাহলে তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখো। সে যদি তোমার প্রতি যুলুম করে, তাহলে তাকে ক্ষমা করে দাও। সে যদি উপস্থিত অথবা অনুপস্থিত অবস্থায় তোমার ব্যাপারে মন্তব্য করে, তাহলে তুমিও ব্যাপারে অনুরূপ করো না। বরং তাকে ক্ষমা করো। তার সাথে নরম ভাষায় কথা বলো। সে যদি তোমাকে পরিত্যাগ করে, তোমার সাথে কথা বলা ছেড়ে দেয়, তাহলে তার সাথে নম্রভাবে কথা বলো এবং সালাম দাও। তার মন্দ আচরণের বিপরীতে যদি তুমি ভালো আচরণ করো, তাহলে বিশাল উপকার হবে। সেটা হলো: “যার সাথে তোমার শত্রুতা ছিল সে যেন এক অন্তরঙ্গ বন্ধু হয়ে গিয়েছে।” অর্থাৎ সে যেন কাছের সহমর্মী মানুষে পরিণত হয়েছে।

“এ গুণটি দেওয়া হয়— কেবল ধৈর্যশীলদেরকে”: অর্থাৎ এই প্রশংসনীয় বৈশিষ্ট্য ধারণের সক্ষমতা কেবল তাদেরকে দেয়া হয় যারা তাদের মনকে অপছন্দনীয় বিষয়ে ধৈর্য ধারণ করাতে পারে এবং আল্লাহ যা ভালোবাসেন সেটাতে মনকে বাধ্য করতে পারে। কারণ মানুষের স্বভাবই হচ্ছে কেউ তার সাথে মন্দ কিছু করলে বিপরীতে মন্দ আচরণ করা এবং ক্ষমা না করা। সেখানে তার সাথে সদাচরণ করা কেমন গুণ?’

মানুষ যদি নিজেকে ধৈর্য ধারণ করায়, রবের নির্দেশ মেনে চলে, বিপুল প্রতিদানের কথা মনে রাখে এবং জেনে রাখে যে মন্দ আচরণকারীর জবাবে মন্দ আচরণ করা তার জন্য কোনো উপকার নিয়ে আসবে না; বরং শত্রুতার তীব্রতা বাড়াবে, অন্যদিকে ভালো আচরণ তার মর্যাদা কমাবে না; বরং যে আল্লাহর জন্য বিনয়ী হয় আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন— তাহলে তার কাছে বিষয়টা তুচ্ছ হয়ে যায় এবং সে বেশ আনন্দের সাথে উপভোগ করেই সদাচরণ করে।

“এ গুণটি দেওয়া হয়— কেবল পরম ভাগ্যবানকে”: কেননা এটি সবিশেষ ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্য। যে গুণটির মাধ্যমে বান্দা দুনিয়া ও আখিরাতে উচ্চ মর্যাদা অর্জন করে। যে গুণটি উত্তম চরিত্রের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য।[তাফসীরুস সা’দী (পৃ. ৫৪৯-৫৫০) থেকে সমাপ্ত]

এই কথাগুলো যদি যে কোনো সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, তাহলে আপনার স্বামীর ক্ষেত্রে কেমন হবে? যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যদি আমি কাউকে নির্দেশ দিতাম অন্য কাউকে সিজদা করার তাহলে নারীদেরকে নির্দেশ দিতাম তাদের স্বামীদের সিজদা করার। যেহেতু আল্লাহ তাদের উপর স্বামীদের এমন অধিকার দিয়েছেন।”[হাদীসটি আবু দাউদ (২১৪০) বর্ণনা করেন এবং হাদীসের ভাষা তার, তিরমিযী (১১৯২), শাইখ আলবানী ‘সিলসিলাহ সহিহা’ গ্রন্থে (১২০৩) এটিকে সহিহ বলে গণ্য করেছেন]

প্রিয় বোন, আমরা আপনাকে দিয়ে কথাটুকু শুরু করেছি কারণ আপনি প্রশ্নটি করেছেন এবং আমরা মনে করি যে, আমাদের কথা আপনিই বেশি শুনবেন এবং আমাদের উপদেশে আপনিই বেশি সাড়া দিবেন। এর জন্য যদি নিজের কিছু অধিকার ছেড়ে দিতে হয় এবং আপনার প্রতি যে যুলুম করেছে তাকে ক্ষমা করে দিতে হয় তবুও কোনো সমস্যা নেই। নিজের কিছু অধিকার ছেড়ে দেওয়া ও যুলুমকে ক্ষমা করে দেওয়া কোনো দোষ বা দুর্বলতা এমনটি কে দাবি করেছে? বরং এটাই তো পূর্ণতা পূর্ণমাত্রার পূর্ণতা।

মুসলিম ‘সহিহ’ গ্রন্থে (২৫৮৮) বর্ণনা করেন: আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “দানের মাধ্যমে কোনো সম্পদ হ্রাস পায় না। ক্ষমা করলে আল্লাহ কোনো বান্দার মর্যাদা কেবল বাড়িয়েই দেন। আর যে ব্যক্তিই আল্লাহর জন্য বিনয়ী হবে, আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন।”

অন্যদিকে আপনার স্বামীর উদ্দেশ্যে কথা কিংবা তিরস্কার করব উপদেশদাতা সহমর্মী ব্যক্তির ভাষায়। এমন ব্যক্তিদের ভাষায় তিরস্কার করব যারা তার জন্য কল্যাণ কামনা করে এবং মন্দ পরিণতির আশঙ্কা করে। যারা আশঙ্কা করে যে সে ইবলিসের আনুগত্য করে তাকে খুশি করবে এবং রহমানের অবাধ্যতা করে তাকে অসন্তুষ্ট করবে।

ইবলিসের প্রতি তার আনুগত্যের দলীল হচ্ছে মুসলিমে (২৮১৩) বর্ণিত হাদীস, জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “ইবলীস (শয়ত্বান) পানির উপর তার সিংহাসন স্থাপন করে। অতঃপর সে তার বাহিনী চারদিকে প্রেরণ করে। এদের মধ্যে সে শয়ত্বানই তার নিকট সর্বাধিক সম্মানিত যে শয়তান মানুষকে সবচেয়ে বেশী ফিতনায় নিপতিত করতে পারে। তাদের মধ্যে একজন ফিরে এসে বলে, আমি এরূপ এরূপ ফিতনাহ্‌ মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করেছি। তখন সে (ইবলীস) প্রত্যুত্তরে বলে, তুমি কিছুই করনি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, অতঃপর এদের অপর একজন এসে বলে, আমি অমুক ও তার স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাবার আগ পর্যন্ত তাকে ছেড়ে দিইনি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: শয়তান এ কথা শুনে তাকে নিকটে বসিয়ে বলে, তুমিই উত্তম কাজ করেছো।” বর্ণনাকারী আ’মাশ বলেন: আমার মনে হয় জাবির (রাঃ) এটাও বলেছেন যে, অতঃপর ইবলীস তার সাথে আলিঙ্গন করে”। 

আর তিনি যে, রহমানকে অসন্তুষ্ট ও ক্রুদ্ধ করছেন সে ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই হাদীসটি শুনুন: “নারীদের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। কারণ তোমরা আল্লাহর নিরাপত্তায় তাদেরকে গ্রহণ করেছ। আল্লাহর বাণীর দ্বারা তোমরা তাদের লজ্জাস্থানকে নিজেদের জন্য হালাল করেছ ..।”[হাদীসটি মুসলিম (১২১৮) বর্ণনা করেন]

হে আল্লাহর বান্দা! আল্লাহর নিরাপত্তা কি এমন হয়?!!

হে আল্লাহর বান্দা! আল্লাহর বাণীর সাথে কি আপনি এমনটাই করবেন?!

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওসীয়তের ক্ষেত্রে কি আপনি এমনটি করবেন। অথচ নবীজী আপনাকে বলেছেন: “তোমরা স্ত্রীদের সাথে সদাচরণ করার ওসিয়ত গ্রহণ কর।”[হাদীসটি বুখারী (৩৩৩১) ও মুসলিম (১৪৬৮) বর্ণনা করেন]

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “তোমাদের মাঝে সবচেয়ে উত্তম ঐ ব্যক্তি যে তার পরিবারের কাছে উত্তম। আমি তোমাদের মাঝে আমার পরিবারের কাছে উত্তম।”[হাদীসটি তিরমিযী (৩৮৯৫), ইবনে মাজাহ (১৯৭৭) বর্ণনা করেন। শাইখ আলবানী ‘সহীহুত তিরমিযী’তে এটিকে সহিহ বলে গণ্য করেন]

সদাচরণ কী এভাবে হয়? অথচ আল্লাহ বলেছেন: وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ  “তাদের সাথে সম্মানজনকভাবে বসবাস করো।”[সূরা নিসা: ১৯]

তদারকি কি এভাবে হয়? যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা সকলেই তদারককারী এবং তোমাদের প্রত্যেককেই অধীনস্থদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হবে। ইমাম একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি, তাঁকে তাঁর অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্বশীল, তাকে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। নারী তার স্বামী-গৃহের তদারককারী, তাকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। খাদেম তার মনিবের ধন-সম্পদের তদারককারী, তাকেও তার মনিবের ধন-সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। ইব্নে ‘উমর বলেন, আমার মনে হয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন: পুত্র তার পিতার ধন-সম্পদের তদারককারী এবং এগুলো সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করা হবে। তোমরা সবাই দায়িত্বশীল এবং সবাইকে তাদের অর্পিত দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে।”[হাদীসটি বুখারী (৮৯৩) ও মুসলিম (১৮২৯) বর্ণনা করেন]

আপনি কি সম্মানিত সাহাবী আয়েয ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কথা শোনেননি? তিনি যালেম প্রশাসক উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদের কাছে প্রবেশ করে বলেছিলেন: ‘হে বৎস! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: নিকৃষ্টতম শাসক হচ্ছে সে, যে প্রজাদের ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করে। এদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে সাবধান!!’[হাদীসটি মুসলিম (১৮৩০) বর্ণনা করেন]

আপনি কি এদের অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে ভয় করেন না?

হে আল্লাহর বান্দা! আপনি কি কখনো শুনেছেন যে অসুস্থতার কোন বয়স আছে? মাথা ব্যথার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় কিংবা স্থান রয়েছে?! এর থেকে বিস্ময়কর ও অদ্ভুত কিছু আমরা শুনিনি!!

নাকি আপনার দলীল-প্রমাণ লাগবে, তাহলে শুনুন হে আল্লাহর বান্দা:

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাক্বী‘ থেকে ফিরে আমাকে দেখতে পেলেন আমি মাথাব্যথায় ভুগছি। আমি বলছি: আমার মাথা যাচ্ছে। তিনি বললেন: আয়েশা! বরং আমার মাথা যাচ্ছে।”[হাদীসটি ইবনে মাজাহ (১৪৬৫) বর্ণনা করেন এবং শাইখ আলবানী মিশকাতের তাখরীজে (৫৯৭০) এটিকে সহিহ বলে গণ্য করেন]

হে মুসলিম ভাই! আপনার স্মরণ রাখা উচিত যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মারা যান তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বয়স আঠারো বছর। অর্থাৎ তার এই মাথা ব্যথার অভিযোগ ছিল আঠারো বছরের আগে কিশোরী থাকা অবস্থায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কথা বিশ্বাস করেছেন, তার সাথে আবেগময় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে কী করতেন? তিনি উত্তর দেন: “তিনি পরিবারের খেদমত করতেন। যখন নামাযের সময় হত তখন নামাযের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যেতেন।”[হাদীসটি বুখারী (৬৭৬) বর্ণনা করেন]

আপনি যদি দলীল-প্রমাণ খুঁজেন, তাহলে এই হলো দলীল। আমরা মনে করি না আপনার দলীল প্রয়োজন। আপনার দরকার হলো আমল করা। আপনার সামনে রাস্তা আছে, কিন্তু আপনি সে পথে হাঁটছেন না!!

আল্লাহর বান্দা! আপনার উদ্দেশ্যে কথা বললে অনেক লম্বা হবে। তবে যে ব্যক্তির অল্প কথা উপকারে আসে না, বেশি কথাও তার উপকারে আসবে না!!

আল্লাহর বান্দা! সুতরাং এমন কোন দিন আসাকে ভয় করুন যেদিন আপনি বিপদে পড়বেন, তখন এই দুর্বল মহিলা আপনার দায়িত্ব নিবে ও দেখভাল করবে। আপনি কি চান আপনি তার সাথে এখন যে রকম আচরণ করছেন তখন সে আপনার সাথে সে রকম আচরণ করুক?!

নাকি আপনি চান যে— আপনার স্ত্রী আপনার চেয়েও দয়ার্দ্র হবে, আপনাকে বিশ্বাস করবে; আপনি তাকে বিশ্বাস না করলেও?! সে আপনার দায়িত্ব নিবে; আপনি তাকে অবহেলা করলেও? সে আপনার সাথে সদাচরণ করবে; আপনি তার সাথে দুর্ব্যবহার করলেও? সে আপনার জন্য ধৈর্য ধরবে; আপনি তার সাথে অন্যায় আচরণ করলেও?!

আল্লাহর কসম! এই দুটোর মাঝে যেটি অধিক মিষ্টি সেটাও তিক্ত!!

সুতরাং হে আল্লাহর বান্দা! নিজের জন্য ইহসানের পথ বেছে নিন। “উত্তমের প্রতিদান কি উত্তম ছাড়া কিছু হতে পারে?”[সূরা রহমান: ৬০]

যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজ করে, সে কখনো এর প্রতিদান পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয় না। আল্লাহ ও মানুষের মাঝে তার প্রতিদান হারিয়ে যায় না (হয় মানুষ তার প্রতিদান দিবে, সে না দিলেও আল্লাহর কাছে সে প্রতিদান পাবেই)।

সূত্র

সূত্র

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

at email

নিউজলেটার

ওয়েবসাইটের ইমেইল ভিত্তিক নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন

phone

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব অ্যাপ্লিকেশন

কন্টেন্টে আরও দ্রুত পৌঁছতে ও ইন্টারনেট ছাড়া ব্রাউজ করতে

download iosdownload android