সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের প্রতি। পর সমাচার:
উত্তর:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নতে ঘুমের বিশুদ্ধ যিকিরের সংখ্যা অনেক। এমনকি ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: ‘জেনে রাখুন, এ অধ্যায়ে বর্ণিত হাদীস ও আছারের সংখ্যা অনেক। আমরা যা উল্লেখ করেছি কোনো ব্যক্তি যদি এগুলোর উপর আমল করার তৌফিক লাভ করে তাহলে এগুলো তার জন্য যথেষ্ট। এগুলোর অতিরিক্ত বর্ণনা আমরা বাদ দিয়েছি এই আশঙ্কায় যে, কেউ এতগুলো পড়তে গিয়ে একঘেঁয়েমিতে আক্রান্ত হবে। উত্তম হচ্ছে ব্যক্তি উক্ত অধ্যায়ে উল্লিখিত সকল যিকির পড়বে। যদি সে তা করতে না পারে তাহলে গুরুত্বপূর্ণ যিকিরগুলো থেকে যে কয়েকটি পারে সেগুলো পড়বে।’[আল-আযকার (পৃ. ৯৫) গ্রন্থ থেকে সমাপ্ত]
এ অধ্যায়ের সহিহ হাদীসসমূহ আমরা এখানে সংকলন করছি:
- সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে দুই হাতের তালুতে ফুঁক দেওয়া
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাতে ঘুমানোর জন্য বিছানায় শোয়ার পর নিজের দুই হাতের তালু একত্র করে তাতে ফুঁক দিয়ে তারপর সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক এবং সূরা নাস পড়তেন। অতঃপ তা দিয়ে শরীরের যতটুকু সম্ভব মুছতেন। দুই হাত দিয়ে মাথায় ও চেহারায় শুরু করতেন। তারপর শরীরের সম্মুখভাগে মুছতেন। এভাবে তিন বার করতেন।”[হাদীসটি বুখারী (৫০১৭) বর্ণনা করেন]
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (একবার) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে রমযানের যাকাত (ফিতরা) দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেন। (আমি পাহারা দেওয়ার সময়) একজন আগন্তুক এসে আঁজলা ভরে খাদ্যদ্রব্য নিতে লাগল। আমি তাকে ধরে ফেললাম এবং বললাম, ‘তোকে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে পেশ করব।’ তিনি পূর্ণ হাদীস বললেন। এর মধ্যে রয়েছে আগন্তুক বলল: “যখন তুমি বিছানায় (শোয়ার জন্য) যাবে তখন আয়াতুল কুরসি পড়বে। এতে করে আল্লাহর তরফ থেকে সর্বদা তোমার জন্য একজন রক্ষক নিযুক্ত থাকবে। সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান আসবে না।” (এ কথা শুনে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “শোনো! সে নিজে ভীষণ মিথ্যাবাদী; কিন্তু তোমাকে সত্য কথা বলেছে। সে মূলত শয়তান।”[হাদীসটি বুখারী (২৩১১) বর্ণনা করেন]
- সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়া
আবূ মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি সূরা বাকারার শেষের আয়াতদ্বয় কোনো রাতে তিলাওয়াত করবে তার জন্য এ আয়াতদ্বয় যথেষ্ট হয়ে যাবে।
আলেমরা ‘যথেষ্ট হয়ে যাবে’ কথাটির অর্থ প্রসঙ্গে মতভেদ করেছেন। কারো কারো মতে: রাতের বিপদাপদ রোধের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে। কেউ কেউ বলেন: রাতের কিয়ামের পরিবর্তে যথেষ্ট হয়ে যাবে। উভয় অর্থ উদ্দিষ্ট হতে পারে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
নওফেল আল-আশজাঈ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তুমি সূরা কাফিরূন পড়ে তা শেষ করার পর ঘুমিয়ে যাবে। কারণ এটি শিরক থেকে মুক্তি।”[হাদীসটি আবু দাউদ (৫০৫৫) বর্ণনা করেন। ইবনে হাজার ‘নাতায়েজুল আফকার’ (৩/৬১) গ্রন্থে এ হাদিসটিকে হাসান বলে গণ্য করেন]
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা বনী ইসরাইল ও সূরা যুমার না পড়ে ঘুমাতেন না।”[হাদীসটি তিরমিযী (৩৪০২) বর্ণনা করে বলেন: হাদীসটি হাসান। হাফেয ইবনে হাজার ‘নাতায়েজুল আফকার’ গ্রন্থে এ হাদিসকে হাসান বলে গণ্য করেছেন]
পূর্বোক্ত হাদীসটিই এর স্বপক্ষে দলীল।
- بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ أَمُوْتُ وَأَحْيَا
(বিসমিকাল্লাহুম্মা আমূতু ওয়া-আহইয়া পড়া)
হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমাতে গেলে بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ أَمُوتُ وَأَحْيَا “হে আল্লাহ! আপনার নাম নিয়েই আমি মৃত্য বরণ করছি (ঘুমাচ্ছি)। আর আপনার নাম নিয়েই জীবিত (জাগ্রত) হবো” পড়তেন। আর ঘুম থেকে ওঠার পর পড়তেন الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ “হামদ-প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি (নিদ্রারূপ) মৃত্যুর পর আমাদেরকে জীবিত করলেন। আর তাঁরই নিকট সকলের পুনরুত্থান।”[হাদীসটি বুখারী (৬৩২৪) বর্ণনা করেন]
- اَللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ وَجْهِيْ إِلَيْكَ: وَفَوَّضْتُ أَمْرِيْ إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِيْ إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لَا مَلْجَأَ وَلَا مَنْجَا مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ، اللَّهُمَّ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ
আল্লাহুম্মা ইন্নি আসলামাতু নাফসি ইলাইকা ওয়া-ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহি ইলাইকা ওয়া-ফাওয়াদ্বতু আমরি ইলাইকা, ওয়া-আলজাতু যাহরি ইলাইকা, রাগবাতান ওয়া-রাহবাতান ইলাইকা, লা মালজাআ ওয়ালা মানজা মিনকা ইল্লা ইলাইকা। আমানতু বিকিতাবিকাল্লাযি আনযালতা, ওয়া-নাবিয়্যিকাল্লাযী আরসালতা)
বারা ইবনে আযিব বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তুমি শোয়ার সময় নামাযের জন্য অযু করার মত করে অযু করবে। তারপর ডান কাতে শুয়ে বলবে:
اَللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ وَجْهِيْ إِلَيْكَ: وَفَوَّضْتُ أَمْرِيْ إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِيْ إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لَا مَلْجَأَ وَلَا مَنْجَا مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ، اللَّهُمَّ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ.
“হে আল্লাহ! আমি নিজেকে আপনার কাছে সঁপে দিলাম। আমার যাবতীয় বিষয় আপনার কাছেই সোপর্দ করলাম। আমার চেহারা আপনার দিকেই ফেরালাম। আমার পৃষ্ঠদেশকে আপনার দিকেই ন্যস্ত করলাম। আপনার প্রতি অনুরাগী হয়ে এবং আপনার ভয়ে ভীত হয়ে। একমাত্র আপনার নিকট ছাড়া আপনার (পাকড়াও) থেকে বাঁচার কোনো আশ্রয়স্থল নেই এবং মুক্তির কোনো উপায় নেই। আমি ঈমান এনেছি আপনার নাযিলকৃত কিতাবের উপরে এবং আপনার প্রেরিত নবীর উপরে।” তুমি যদি এ অবস্থায় মারা যাও তাহলে ফিতরাতের উপর মারা গেলে। এগুলোকে তোমার সর্বশেষ বাক্য বানাও। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বারংবার এটি পড়ে শুনালাম। যখন اَللَّهُمَّ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ -তে পৌঁছলাম তখন বললাম وَرَسُولِكَ। তিনি (শুধরে) বলে দিলেন: না, وَنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ।”[হাদীসটি বুখারী (৬৩১১) ও মুসলিম (২৭১০) বর্ণনা করেন]
- بِاسْمِكَ رَبِّ وَضَعْتُ جَنْبِي، وَبِكَ أَرْفَعُهُ، إِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِي فَارْحَمْهَا، وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ
(বিসমিকা রাব্বি ওয়াদা’তু জাম্বী, ওয়া-বিকা আরফাউহু। ইন আমসাক্তা নাফসি ফারহামহা ওয়া ইন আরসালতাহা ফাহফাযহা বিমা তাহফাযু বিহি ইবাদাকাস সালিহীন)
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন বিছানায় (শুতে) যায় তখন তার উচিত লুঙ্গির ভিতরের অংশ দিয়ে বিছানা ঝেড়ে নেয়। কারণ সে জানে না সে চলে যাওয়ার পরে সেখানে কী পতিত হয়েছে। এরপর তার বলা উচিত: بِاسْمِكَ رَبِّ وَضَعْتُ جَنْبِي، وَبِكَ أَرْفَعُهُ، إِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِي فَارْحَمْهَا، وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ “হে আমার রব! আপনার নামে আমি আমার পার্শ্বদেশ রেখেছি (শুয়েছি), আপনারই নামে তা উঠাবো। যদি আপনি (ঘুমন্ত অবস্থায়) আমার প্রাণ আটকে রাখেন, তাহলে আপনি তাকে দয়া করুন। আর যদি আপনি তা ফেরত পাঠান, তাহলে আপনি তার হেফাযত করুন যেভাবে আপনি আপনার সৎকর্মশীল বান্দাদেরকে হেফাযত করে থাকেন।”[হাদীসটি বুখারী (৬৩২০) ও মুসলিম (২৭১৪) বর্ণনা করেন]
- তেত্রিশ বার সুবহানাল্লাহ, তেত্রিশ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং চৌত্রিশ বার আল্লাহু আকবার পড়া:
আলী ইবনে আবী তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন: ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে খাদেম চাইতে আসলে তিনি বললেন: “আমি কি তোমাকে এর চেয়ে ভালো কিছুর সংবাদ দিব না? তুমি ঘুমের সময় তেত্রিশ বার সুবহানাল্লাহ, তেত্রিশ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং চৌত্রিশ বার আল্লাহু আকবার পড়বে।” আমি এরপর কখনো তা ছেড়ে দিইনি। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: সিফ্ফীনের রাতেও না? তিনি বললেন: ‘সিফ্ফীনের রাতেও না।’[হাদীসটি বুখারী (৫৩৬২) ও মুসলিম (২৭২৭) বর্ণনা করেন]
- اللَّهُمَّ قِنِى عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ
(আল্লাহুম্মা ক্বিনি আযাবাকা ইয়াওমা তাব‘আসু ইবাদাকা)
হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুমাতে যেতেন তখন তার ডান হাত গালের নিচে রেখে তিন বার বলতেন: اللَّهُمَّ قِنِى عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ “আল্লাহ! আপনি যেদিন আপনার বান্দাদের পুনর্জীবিত করবেন, সেদিন আপনার আযাব থেকে আমাকে রক্ষা করুন।”[হাদীসটি আবু দাউদ (৫০৪৫) বর্ণনা করেন। ইমাম ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ বলে গণ্য করেন]
- الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَكَفَانَا وَآوَانَا فَكَمْ مِمَّنْ لَا كَافِيَ لَهُ وَلَا مُؤْوِيَ
(আলহামদুলিল্লাহিল্লাযী আত্ব‘আমানা ওয়া-সাক্বানা ওয়া-কাফানা ওয়া-আ-ওয়ানা, ফাকাম-মিম্মান লা কাফিয়া লাহু ওয়ালা মুউইয়া)
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিছানায় আশ্রয় নিতেন তখন বলতেন: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَكَفَانَا وَآوَانَا فَكَمْ مِمَّنْ لَا كَافِيَ لَهُ وَلَا مُؤْوِيَ “সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে আহার করিয়েছেন, পান করিয়েছেন, আমাদের প্রয়োজন পূর্ণ করেছেন এবং আমাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন। কেননা, বহু লোক আছে যাদের প্রয়োজনপূর্ণকারী কেউ নেই এবং যাদের আশ্রয়দানকারীও কেউ নেই।”[হাদীসটি মুসলিম (২৭১৫) বর্ণনা করেন]
- اللَّهُمَّ خَلَقْتَ نَفْسِي وَأَنْتَ تَوَفَّاهَا، لَكَ مَمَاتُهَا وَمَحْيَاهَا، إِنْ أَحْيَيْتَهَا فَاحْفَظْهَا، وَإِنْ أَمَتَّهَا فَاغْفِرْ لَهَا، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ
(আল্লাহুম্মা খালাক্বতা নাফসি ওয়া-আন্তা তাওয়াফ্ফাহা, লাকা মামাতুহা ওয়া মাহইয়াহা। ইন আহইয়াইতাহা ফাহফাযহা, ওয়া-ইন আমাত্তাহা ফাগফির লাহা। আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফিয়াতা)
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দেন যেন সে শুইতে গেলে এটি পড়ে: اللَّهُمَّ خَلَقْتَ نَفْسِي وَأَنْتَ تَوَفَّاهَا، لَكَ مَمَاتُهَا وَمَحْيَاهَا، إِنْ أَحْيَيْتَهَا فَاحْفَظْهَا، وَإِنْ أَمَتَّهَا فَاغْفِرْ لَهَا، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ “হে আল্লাহ! আপনি নিশ্চয় আমার আত্মাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আপনি তার মৃত্যু ঘটাবেন। তার মৃত্যু ও তার জীবন আপনার মালিকানায়। যদি তাকে বাঁচিয়ে রাখেন তাহলে আপনি তার হেফাযত করুন, আর যদি তার মৃত্যু ঘটান তবে তাকে মাফ করে দিন। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে নিরাপত্তা চাই।” লোকটি বলল: আপনি কি এটি উমর থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন: “উমরের থেকে উত্তম ব্যক্তির কাছ থেকে শুনেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে শুনেছি।”[হাদীসটি মুসলিম (২৭১২) বর্ণনা করেন]
- اَللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ وَرَبَّ الْأَرْضِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ، فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى، وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْفُرْقَانِ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَيْءٍ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ، اَللَّهُمَّ أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُوْنَكَ شَيْءٌ، اِقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ، وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ
(আল্লাহুম্মা রাব্বাস সামাওয়াতিস সাবই ওয়া-রাব্বাল আরদ্বি ওয়া-রাব্বাল আরশিল আযীম, রব্বানা ওয়া রাব্বা কুল্লি শাই’ইন, ফালিক্বাল হাব্বি ওয়ান-নাওয়া, ওয়া মুনযিলাত তাওরাতি ওয়াল-ইঞ্জিলি ওয়াল-ফুরক্বান। আউযু বিকা মিন শার্রি কুল্লি শাই’ইন আন্তা আখিযুন বি-নাসিয়াতিহা। আল্লাহুম্মা আন্তাল আউয়ালু ফালাইসা ক্বাবলাকা শাইউন। ওয়া আন্তাল আখিরু ফালাইসা বা’দাকা শাইউন। ওয়া আন্তায যাহিরু ফালাই্সা ফাওক্বাকা শাইউন। ওয়া আন্তাল বাত্বিনু ফালাইসা দূনাকা শাইউন। ইক্বদ্বি আন্নাদ-দাইন ওয়া-আগনিনা মিনাল ফাক্বরি)
সুহাইল বলেন: আবু সালেহ আমাদেরকে নির্দেশ দিতেন যে আমাদের কেউ যদি ঘুমানোর জন্য শুতে যায় তাহলে যেন ডান কাতে শুয়ে পড়ে:
اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ وَرَبَّ الْأَرْضِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ، فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى، وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْفُرْقَانِ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَيْءٍ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ، اللَّهُمَّ أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ، اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ، وَأَغْنِنَا مِنْ الْفَقْرِ
“হে আল্লাহ! হে সপ্ত আকাশের রব, যমিনের রব, মহান আরশের রব, আমাদের রব ও প্রত্যেক বস্তুর রব! হে শস্য-বীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী! হে তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআন নাযিলকারী! আমি প্রত্যেক এমন বস্তুর অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি, যার (মাথার) অগ্রভাগ আপনি ধরে রেখেছেন (নিয়ন্ত্রণ করছেন)। হে আল্লাহ! আপনিই প্রথম, আপনার পূর্বে কিছু ছিল না। আপনি সর্বশেষ, আপনার পরে কিছু থাকবে না। আপনি সব কিছুর উপরে, আপনার উপরে কিছু নেই। আপনি সর্বনিকটে, আপনার চেয়ে নিকটবর্তী কিছু নেই। আপনি আমাদের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাদেরকে অভাবগ্রস্ততা থেকে অভাবমুক্ত করুন।” তিনি এ হাদিসটি আবু হুরাইরা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে বর্ণনা করেন।[হাদীসটি মুসলিম (২৭১৩) বর্ণনা করেন]
- اَللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِوَجْهِكَ الْكَرِيمِ وَكَلِمَاتِكَ التَّامَّةِ مِنْ شَرِّ مَا أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ، اللَّهُمَّ أَنْتَ تَكْشِفُ الْمَغْرَمَ وَالْمَأْثَمَ، اَللَّهُمَّ لَا يُهْزَمُ جُنْدُكَ، وَلَا يُخْلَفُ وَعْدُكَ، وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ، سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ
(আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বি-ওয়াজহিকাল কারীম ওয়া-কালিমাতিকাত্তামাহ মিন শার্রি মা আনতা আখিযুন বি-নাসিয়াতিহি। আল্লাহুম্মা আন্তা তাকশিফুল মাগরামা ওয়াল-মা’সামা। আল্লাহুম্মা লা ইউহযামু জুন্দুকা ওয়ালা ইউখলাফু ওয়া‘দুকা। ওয়ালা ইয়ানফাউ যাল-জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু। সুবহানাকা ওয়াবিহামদিকা)
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুইতে গেলে বলতেন: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِوَجْهِكَ الْكَرِيمِ وَكَلِمَاتِكَ التَّامَّةِ مِنْ شَرِّ مَا أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ، اللَّهُمَّ أَنْتَ تَكْشِفُ الْمَغْرَمَ وَالْمَأْثَمَ، اللَّهُمَّ لَا يُهْزَمُ جُنْدُكَ، وَلَا يُخْلَفُ وَعْدُكَ، وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ، سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ “হে আল্লাহ! আমি আপনার সম্মানিত চেহারা ও পূর্ণ বাক্যসমূহের ওসীলায় এমন সকল কিছুর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাইছি যা আপনার নিয়ন্ত্রণে। হে আল্লাহ! আপনিই তো ঋণের বোঝা ও পাপাচার থেকে আশ্রয় প্রদান করেন। হে আল্লাহ! আপনার বাহিনী পরাজিত হয় না, আপনার ওয়াদা ভঙ্গ হয় না। কোনো ক্ষমতা-প্রতিপত্তির অধিকারীর ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি আপনার কাছে কোনো কাজে লাগবে না। আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি।”[হাদীসটি আবু দাউদ (৫০৫২) বর্ণনা করেন। ইমাম নববী ‘আল-আযকার’ (পৃ. ১১১) গ্রন্থে এবং ইবনে হাজার ‘নাতায়েজুল আফকার’ (২/৩৮৪) গ্রন্থে এ হাদিসটিকে সহিহ বলে গণ্য করেন]
- بِسْمِ اللَّهِ وَضَعْتُ جَنْبِي، اَللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي، وَأَخْسِئْ شَيْطَانِي، وَفُكَّ رِهَانِي، وَاجْعَلْنِي فِي النَّدِيِّ الْأَعْلَى
(বিসমিল্লাহি ওয়াদ্বা‘তু জাম্বী, আল্লাহুম্মাগফিরলি যাম্বী, ওয়া-আখসি’ শাইত্বানী, ওয়া ফুক্কা রিহানী, ওয়াজ‘আলনী ফিন্নাদিয়্যিল আ‘লা)
আবুল আযহার আল-আনমারী বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে শোয়ার সময় বলতেন: بِسْمِ اللَّهِ وَضَعْتُ جَنْبِي، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي، وَأَخْسِئْ شَيْطَانِي، وَفُكَّ رِهَانِي، وَاجْعَلْنِي فِي النَّدِيِّ الْأَعْلَى “আল্লাহর নামে শয়ন করলাম। হে আল্লাহ! আপনি আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন। আমার শয়তানকে বিতাড়িত করুন। আমার বন্ধন মুক্ত করুন এবং আমাকে সর্বোচ্চ সভার অন্তর্ভুক্ত করুন।”[হাদীসটি আবু দাউদ (৫০৫৪) বর্ণনা করেন। ইমাম নববী ‘আল-আযকার’ (পৃ. ১২৫) ও হাফেয ইবনে হাজার ‘নাতায়েজুল আফকার’ (৩/৬০) গ্রন্থে এটিকে হাসান বলে গণ্য করেন]
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।