কুরআন, ফেরেশতা, নবী এবং সাহাবীদের মাধ্যমে ওসীলা দেয়ার বিধান

প্রশ্ন 220340

নিম্নোক্ত দোয়ায় কি এমন কিছু আছে যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অসন্তুষ্ট করে? এতে কি হারাম কিছু আছে? সেই হারামটা কী? এর স্বপক্ষে কুরআন-সুন্নাহ থেকে দলীল কী? ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কুরআন ও এর হরফসমূহ, জিবরীল ও তাঁর রিসালাত, মীকাইল ও তাঁর আমানতদারিতা, ইসরাফীল ও তাঁর ফুঁক দেয়া, আমাদের সর্দার নূহ ও তাঁর বংশধর, আমাদের সর্দার ইব্রাহীম ও তাঁর বন্ধুত্ব, আমাদের সর্দার মুসা ও তাঁর কথা, আমাদের সর্দার মুহাম্মাদ ও তাঁর সুপারিশ, সিদ্দীক ও তাঁর খেলাফত, উমর ও তাঁর ফারুকিয়াত, উসমান ও তাঁর লজ্জাশীলতা এবং আলী ও তাঁর সাহসিকতার ওসীলা দিয়ে দোয়া করছি'।

উত্তর

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের প্রতি। পর সমাচার:

উত্তর:

প্রশ্নকর্তা কয়েক প্রকার ওসীলা উল্লেখ করেছেন, যাকে চারটি ভাগে বিভক্ত করা যায়। এক. কুরআনের দ্বারা ওসীলা। দুই. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বারা ওসীলা। তিন. ফেরেশতাগণ, নবীগণ ও অন্যান্য নেককারদের দ্বারা ওসীলা। চার. এমন ওসীলা যা অর্থহীন।

এক:

দোয়াকারীর জন্য তার প্রভুর কাছে কুরআনের মাধ্যমে দোয়া করা জায়েয। কারণ এটি আল্লাহর কাছে তার কোনো একটি গুণের মাধ্যমে দোয়া করার অন্তর্ভুক্ত। শরীয়তের দৃষ্টিতে আল্লাহর কাছে তার গুণসমূহের কোনো একটি গুণের মাধ্যমে চাওয়া জায়েয। এমন দোয়ার উদাহরণ হচ্ছে মুসলিম (২২০২) ও তিরমিযী (২০৮০) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস, উসমান ইবনে আবিল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে শিখিয়ে দিয়েছেন যে সে যদি কোনো ব্যথা অনুভব করে তাহলে যেন এই দোয়া করে: أعُوْذُ بِعِزَّةِ اللهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ ما أجِدُ وأحاذِرُ    “এই যে আমি ব্যথা অনুভব করছি এবং যার আশঙ্কা করছি তা থেকে আমি আল্লাহর সম্মান এবং তাঁর কুদরতের ওসীলা দিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” এছাড়াও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়া করেছেন:  اللهمَّ بعِلْمِكَ الغيبَ وقُدْرَتِكَ عَلَى الخلَقِ ، أحْيِني ما علِمْتَ الحياةَ خيرًا لِي ، وتَوَفَّنِي إذا عَلِمْتَ الوفَاةَ خيرًا لي  (হে আল্লাহ! আপনার অদৃশ্যের জ্ঞান ও সৃষ্টির ওপর আপনার ক্ষমতার বদৌলতে আমাকে ততদিন বাঁচিয়ে রাখুন যতদিন জীবন আমার জন্য ভালো। আর আপনার জ্ঞানে যখন মৃত্যু আমার জন্য ভালো তখন আমাকে মৃত্যু দিন।)[হাদীসটি ইমাম আহমদ তার ‘মুসনাদ’ (৩০/২৬৫) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং রিসালা ছাপার মুহাক্কিকরা এটিকে বিশুদ্ধ বলে গণ্য করেছেন] আল্লাহর কাছে তার গুণাবলির মাধ্যমে চাওয়ার পক্ষে দলীল অগণিত।

আল্লাহর অন্যতম গুণ হচ্ছে তার "বাণী"। কুরআন আল্লাহর বাণীর অন্তর্ভুক্ত। তাই কুরআনের মাধ্যমে ওসীলা দেয়া জায়েয। এ কারণে ইমাম আহমদসহ অন্যান্য সালাফগণ 'আল্লাহর বাণী সৃষ্ট নয়' এই বক্তব্যের পক্ষে দলীল হিসেবে ‘আল্লাহর পূর্ণ বাক্যসমূহের মাধ্যমে আশ্রয় চাইছি’ হাদীসটি উল্লেখ করেন এবং বলেন: তিনি আল্লাহর বাণীর মাধ্যমে আশ্রয় চেয়েছেন। অথচ কোন সৃষ্টির মাধ্যমে আশ্রয় চাওয়া যায় না।[দেখুন: ‘কাইদাতুন জালীলাহ ফিত্তাওয়াস্‌সুলি ওয়াল-ওয়াসীলাহ’ (১/২৯৭)]

শাইখ ইবনে উছাইমীন বলেন: ‘কুরআন কারীমের মাধ্যমে দোয়া করার অর্থ হলো ব্যক্তি তার রবের কাছে তাঁর বাণীর মাধ্যমে প্রার্থনা করবে। ... কুরআন আল্লাহর গুণসমূহের মাঝে একটি গুণ। এটি আল্লাহর বাণী; যা দিয়ে তিনি প্রকৃতপক্ষে ধ্বনির মাধ্যমে কথা বলেছেন এবং কথার ভাবকে উদ্দেশ্য করেছেন। এটাই মহান আল্লাহর বাণী। ... আর যেহেতু এটি তাঁর একটি গুণ, সেহেতু এর মাধ্যমে ওসীলা দেয়া জায়েয।’[ফাতাওয়া নূরুন আলাদ্দারব থেকে সমাপ্ত]

দুই:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্তা দ্বারা ওসীলা। উত্তরসুরিদের মধ্যে অনেককে এই ওসীলা করতে দেখা যায়। সেটি হচ্ছে এভাবে বলা: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে প্রার্থনা করছি’ অথবা ‘আমি আপনার কাছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মান-প্রতিপত্তির মাধ্যমে প্রার্থনা করছি’ এমন কোনো কিছু সুন্নাহতে বর্ণিত হয়নি। আবু হানীফা ও তাঁর সাথীরা এ প্রসঙ্গে বলেছেন যে এটি জায়েয নেই। তারা এর থেকে নিষেধ করে বলেন: কোনো সৃষ্টির মাধ্যমে চাওয়া যাবে না। কেউ যেন না বলে: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার নবীদের অধিকারের মাধ্যমে প্রার্থনা করছি।’

ইমাম যাইলায়ী তার ‘তাবঈনুল হাকাইক’ (৬/৩১) গ্রন্থে বলেন: ‘আবু ইউসুফ বলেছেন: অমুকের অধিকারের বদৌলতে, আপনার নবী-রাসূলদের অধিকারের বদৌলতে প্রার্থনা করাকে অপছন্দ করি।’[সমাপ্ত] কারণ ‘মহান আল্লাহ তাআলার উপর কারো কোনো অধিকার নেই’ যেমনটি কাসানী ‘বাদাইউস সানায়ি’ (৫/১২৬) গ্রন্থে উল্লেখ করেন।

শাইখ ইবনে উছাইমীন বলেন: ‘আলেমদের মতসমূহের মাঝে প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত হলো... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মান দিয়ে ওসীলা করা হারাম। কোনো মানুষের জন্য এটি বলা জায়েয নেই যে: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার নবীর সম্মানের ওসীলায় এটা-ওটা চাইছি। কারণ ওসীলা তখনই ওসীলা হয় যখন উদ্দিষ্ট বিষয় হাছিলে এর কোন প্রভাব থাকে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা-প্রতিপত্তি দোয়াকারীর উদ্দেশ্য হাছিলে কোনো প্রভাব রাখে না। যেহেতু এর কোনো প্রভাব নেই, সেহেতু এটি সঠিক মাধ্যম নয়। মহান আল্লাহকে কেবল এমন সঠিক মাধ্যম দিয়েই ডাকা যাবে উদ্দিষ্ট বিষয়ে অর্জনে যার প্রভাব আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা-প্রতিপত্তি কেবল তাঁর জন্যই খাস। এটি কেবল তার জন্যই সম্মানজনক। আমরা এর দ্বারা কোনোভাবে উপকৃত হতে পারব না। আমরা কেবল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর ঈমান আনার মাধ্যমে উপকৃত হতে পারব।’[ফাতাওয়া নূরুন আলাদ্দারব থেকে সমাপ্ত]

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা রাহিমাহুল্লাহ বলেন: ‘যদি বলা হয়: ‘আমি আপনার কাছে আপনার নবী মুহাম্মাদের মাধ্যমে দোয়া করছি’ বক্তার এ বক্তব্যকে ‘আমি আপনার কাছে তাঁর উপর ঈমান ও তাঁর প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে দোয়া করছি’ এ অর্থে ব্যাখ্যা করা যায় এবং ইতোপূর্বে আপনারা উল্লেখ করেছেন যে, এ ব্যাপারে কোন মতভেদ নেই। তখন জবাবে বলা হবে: কেউ যদি এই অর্থ করে তাহলে সে নিঃসন্দেহে সঠিক কথা বলেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পরে সালাফের মধ্যকার যে সকল ব্যক্তি তাঁর ওসীলা দিয়ে দোয়া করেছেন যেমনটি কিছু সাহাবী, তাবেয়ী, ইমাম আহমদ ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণিত হয়েছে তাদের বক্তব্যকে যদি এই অর্থে নেওয়া হয় তাহলে সেটি উত্তম। সেক্ষেত্রে এ মাসয়ালায় কোনো মতভেদ থাকে না।

কিন্তু বহু সাধারণ মানুষ আছে যারা এই শব্দ ব্যবহার করে; কিন্তু তারা এই অর্থকে উদ্দেশ্য করে না। তাই যারা (এ ধরনের ওসীলার ব্যাপারে) আপত্তি করেছেন তারা মূলতঃ এদের ব্যাপারেই আপত্তি করেছেন।

এটি সাহাবীদের সেই ওসীলা দেয়ার মত যারা তাঁর ওসীলা দিয়ে দোয়া করা বলতে উদ্দেশ্য করতেন: তাঁর দোয়া ও শাফায়াতের মাধ্যমে ওসীলা দেয়া। এ ধরণের ওসীলা দেয়া জায়েয হওয়ার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই। কিন্তু, বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ এই কথার দ্বারা এই অর্থ উদ্দেশ্য করে না।’[কাইদাতুন জালীলাহ (পৃ. ১১৯)]

তিন: সৃষ্টজীবের সত্তা দিয়ে ওসীলা দেয়া।

এটি শরীয়তের দৃষ্টিতে নিন্দনীয় একটি বিদআত। প্রথাগত ও ভাষাগত দিক থেকেও এটি পরিত্যাজ্য। এতে আল্লাহর সাথে বেয়াদবি এবং তিনি অনুমতি দেননি এমন কিছু করা হয়। এতে দোয়াকারী, মাধ্যম গ্রহণকারী এবং সুপারিশপ্রার্থীর প্রকৃত উদ্দেশ্যের সাথে সাংঘর্ষিক এমন কিছু করা হয় যা দোয়ার শিষ্টাচারের খেলাফ।

শাইখুল ইসলাম বলেন: ‘যে ব্যক্তির মাধ্যমে সুপারিশ চাওয়া হচ্ছে তিনি যদি দোয়াকারীর জন্য সুপারিশ না করে থাকে, তার প্রয়োজনের জন্য কোনো আবেদন না করে থাকে, এমনও হতে পারে তিনি তার দোয়ার ব্যাপারে অবগতই নন; সেক্ষেত্রে তার মাধ্যমে সুপারিশ প্রার্থনা করা ভাষাগত দিক থেকে ‘সুপারিশ’ নয়। যারা বুঝেশুনে কথা বলেন তাদের দৃষ্টিতেও এটি সুপারিশ নয়।’[ফাতাওয়া (১/২৪২) থেকে সমাপ্ত]

তিনি আরও বলেন: ‘যদি কেউ কোনো বড় মর্যাদার কোনো অনুসরণীয় ব্যক্তিকে বলে: আমি আপনার কাছে আবেদন করছি— অমুক ব্যক্তি আপনার প্রতি যে আনুগত্য দেখান এর বদৌলতে, তার আনুগত্যের কারণে আপনি তার প্রতি যে ভালোবাসা রাখেন এর বদৌলতে, আপনার প্রতি তার আনুগত্য আপনার কাছে তার যে মর্যাদাকে অবধারিত করেছে সেই মর্যাদার বদৌলতে; তাহলে সে এমন অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের মাধ্যমে আবেদন করল যার সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

অনুরূপভাবে আল্লাহ তায়ালা তাঁর নিকটবর্তী বান্দাদের প্রতি যে অনুগ্রহ করেন, তাদের প্রতি যে ভালোবাসা পোষণ করেন, এবং তারা আল্লাহর প্রতি যে ইবাদত ও আনুগত্য প্রকাশ করে— এগুলোর কোনোটিই তাদের মাধ্যমে প্রার্থনা করা ব্যক্তির দোয়া কবুলকে আবশ্যক করে না।

বরং দোয়া কবুল হওয়াকে আবশ্যক করবে যদি দোয়াকারীর পক্ষ থেকে দোয়া কবুলের কোনো হেতু থাকে; যেমন: দোয়াকারী তাদের আনুগত্য করা। কিংবা যদি তাদের পক্ষ থেকে দোয়া কবুলের কোনো হেতু থাকে; যেমন: তারা তার জন্য সুপারিশ করা। কিন্তু যদি এই দুটির কোনো হেতুই না পাওয়া যায়, তাহলে তার দোয়া কবুলের কোনো কারণ অবশিষ্ট নেই।’

তিনি আরো বলেন: ‘ব্যক্তি যদি বলে: আমি অমুক অমুক ফেরেশতা, নবী, নেককার ইত্যাদি ব্যক্তিদের হক্বের (অধিকারের) মাধ্যমে কিংবা প্রতিপত্তি (جاه)-এর মাধ্যমে কিংবা সম্মান (حُرْمَة) এর মাধ্যমে প্রার্থনা করছি, তাহলে এই কথার দাবি হচ্ছে আল্লাহর কাছে এদের সবার মর্যাদা রয়েছে। এটা সঠিক। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে এদের সবার মর্যাদা, প্রতিপত্তি ও স্থান রয়েছে; যার দাবি হচ্ছে আল্লাহ তাদের মর্যাদা বাড়িয়ে দিবেন, তাদেরকে সম্মানিত করবেন এবং তারা সুপারিশ করলে তাদের সুপারিশ গ্রহণ করবেন। ... কিন্তু যদি তাদের পক্ষ থেকে কোনো দোয়া বা সুপারিশ না পাওয়া যায় তাহলে দোয়াকারী এমন অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের মাধ্যমে দোয়া করল যেটা তার উপকার করার মাধ্যম নয়।’

তিনি অন্য এক স্থানে বলেন: ‘আল্লাহ তাকে (যার মাধ্যম গ্রহণ করা হচ্ছে) সম্মানিত করার মধ্যে এমন কোনো হেতু নাই যা এই ব্যক্তির দোয়া কবুল করাকে অনিবার্য করবে। যদি সে বলে: হেতু হলো তিনি সুপারিশ করা ও দোয়া করা। তাহলে এ কথা ঠিক। যদি বাস্তবেই তিনি তার জন্য সুপারিশ করে থাকেন ও দোয়া করে থাকেন। আর যদি তিনি কোনো সুপারিশ বা দোয়া না করে থাকেন তাহলে তো কোনো হেতু নাই।’

ইমাম শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা রাহিমাহুল্লাহ উক্ত বিষয়ে তার বরকতময় বই ‘কাইদাতুন জালীলা ফিত-তাওয়াস্‌সুলি ওয়াল-ওয়াসীলাহ’-তে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

চার:

শিঁঙ্গায় ফুঁক দেয়ার ওসীলা, নূহের বংশধরের ওসীলা, সিদ্দীকের খেলাফতের ওসীলা, আলীর সাহসিকতার ওসীলা ইত্যাদি যত কিছুর ওসীলা দেয়ার কথা প্রশ্নকর্তা উল্লেখ করেছেন এবং অর্থের দিকে লক্ষ্য না করে কেবল অন্ত্যমিলের দিকে খেয়াল করে দোয়া বাক্য উল্লেখ করেছেন— সে গুলো কিছু অর্থহীন কথা। কোনো ব্যক্তি যদি পূর্ণ মনোযোগের সাথে দোয়া করে থাকে তার মুখ থেকে এমন কথা বের হতে পারে না।

নূহের বংশধরেরা কীভাবে দোয়া কবুলের কারণ হতে পারে যাদের মধ্যে মুসলিম, কাফের, পুণ্যবান ও পাপী সবাই আছে?! সিদ্দীকের খেলাফত, আলীর সাহসিকতা, উমরের ফারুকিয়াত, উসমানের লজ্জাশীলতা, এমনকি ইবরাহীমের সাথে আল্লাহর বন্ধুত্ব কী করে দোয়া কবুলের কারণ হতে পারে?!

'আল্লাহর সাথে ইবরাহীমের বন্ধুত্ব' এর সাথে দোয়াকারীর কী সম্পর্ক? এই সুউচ্চ মর্যাদাবান অবস্থানে তার কী কোনো অংশ আছে?!

এটি সুন্নাহর বিরোধিতা করা, বানানো দোয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়া এবং অন্ত্যমিলের কৃত্রিমতার ফলাফল। এখান থেকেই দোয়ায় অন্ত্যমিলের কৃত্রিমতা থেকে নিষেধ করার প্রজ্ঞা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ইবনে বাত্তাল রাহিমাহুল্লাহ বলেন: ‘কারণ অন্ত্যমিল অন্বেষণে কৃত্রিমতা ও কাঠিন্য রয়েছে। এটি দোয়ার মনোযোগ এবং আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠভাবে চাওয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। হাদীসে এসেছে: ‘আল্লাহ অমনোযোগী উদাসীন অন্তরের দোয়া কবুল করেন না।’ দোয়ার ক্ষেত্রে অন্ত্যমিল অন্বেষী ব্যক্তির লক্ষ্য থাকে তার কথাকে ছন্দবদ্ধ ও মিলযুক্ত করা। যে ব্যক্তি নিজের চিন্তাকে কৃত্রিম কিছু অর্জনে ব্যস্ত রাখে তার অন্তর মনোযোগের বদলে উদাসীন ও বেখবর হয়ে পড়ে।’[শারহু সহীহিল বুখারী (১০/৯৭) থেকে সমাপ্ত]

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

সূত্র

উলুহিয়্যত
দুআ
বিদআত

সূত্র

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

at email

নিউজলেটার

ওয়েবসাইটের ইমেইল ভিত্তিক নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন

phone

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব অ্যাপ্লিকেশন

কন্টেন্টে আরও দ্রুত পৌঁছতে ও ইন্টারনেট ছাড়া ব্রাউজ করতে

download iosdownload android