কিয়ামতের দিনের ধারাবাহিক ঘটনাবলী

প্রশ্ন 220511

কিয়ামতের দিনের ঘটনাবলী কি ধারাবাহিকভাবে বিন্যাস করা সম্ভব? ঘটনাগুলো কীভাবে ঘটবে: প্রথমে পুনরুত্থান, তারপর পঞ্চাশ হাজার বছর অপেক্ষা, হাউযে উপস্থিতি, হাশর, হিসাবের জন্য আমল পেশ, হিসাব-নিকাশ, কাফেরদের জাহান্নামে প্রবেশ, মুসলিম ও মুনাফিকদের পুলসিরাত অতিক্রম, বান্দাদের পারস্পরিক জুলুমের কিসাস বা প্রতিশোধ গ্রহণ, জান্নাত। পুলসিরাত পার হওয়ার সময় যে ব্যক্তি জাহান্নামে পড়ে যাবে সে হয়তো এমন মুনাফিক হবে যে স্থায়ীভাবে জাহান্নামী অথবা এমন পাপী মুসলিম যে তার পাপের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি পাবে। এই ধারাবাহিকতা কি সঠিক? আমি একজন শাইখের মুখে শুনেছি যে মৃত্যুর সময় দু'জন শয়তান তার বাবা-মায়ের আকৃতি ধারণ করে বসে থাকে। তারা তাকে ইহুদি ও খ্রিষ্টান ধর্ম অনুসরণের নির্দেশ দেয়। এই হাদীস কি সহীহ?

উত্তরের সার-সংক্ষেপ

কিয়ামতের দিনের ধারাবাহিক ঘটনাবলী:

  • পুনরুত্থান ও মানুষদের হাশরের মাঠে গমন
  • হাউয ও তা থেকে মুমিনদের পান করা
  • হিসাব ত্বরান্বিত করার জন্য বৃহত্তর সুপারিশ (শাফায়াত)
  • আমল পেশ ও প্রাথমিক হিসাব
  • আমলনামা উড়ে যাওয়া ও তা পড়া
  • মীযান
  • পুলসিরাত অতিক্রম
  • জান্নাত অথবা জাহান্নামে প্রবেশ
সংশ্লিষ্ট প্রশ্নোত্তরসমূহ

উত্তর

কিয়ামতের দিনের ধারাবাহিক ঘটনাবলী

মুহাক্কিক আলেমদের মতে কিয়ামতের দিন যা ঘটবে তার ধারাবাহিকতা নিম্নরূপ:

১. মানুষের পুনরুত্থান করা হবে। তখন সবাই কবর থেকে উঠে হাশরের মাঠে যাবে। তারপর তারা হাশরের মাঠে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকবে। এখানে তাদের ভয়াবহ অবস্থা হবে ও তীব্র পিপাসা লাগবে। এ সময় তারা প্রচণ্ড ভয়ের মধ্যে থাকবে। একদিকে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা, হিসাব গ্রহণের ব্যাপারে তারা নিশ্চিত থাকা এবং আল্লাহ তাদের উপর আরও যা ঘটাবেন সে সব কারণে।

২. দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার পর মহান আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য সর্বপ্রথমে তার হাউয উত্থাপন করবেন। রাব্বুল আলামীনের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা যখন তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে, এমন এক দিনে যে দিনের দৈর্ঘ্য হবে পঞ্চাশ হাজার বছর। তখন কিয়ামতের ময়দানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাউয পেশ করা হবে। যে ব্যক্তি তার সুন্নতের উপর মারা যাবে, কোনো কিছু বদলাবে না, কোনো কিছু নব-উদ্ভাবন করবে না, কোনো কিছুর পরিবর্তন করবে না, সে হাউযে আসবে এবং তাকে সেখান থেকে পান করানো হবে। সেদিন ব্যক্তির প্রথম নিরাপত্তা হবে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাউয থেকে পানি পান করা। এরপর সকল নবীর হাউয উত্থাপন করা হবে। প্রত্যেক (নবীর) উম্মতের নেককার ব্যক্তিরা সেই নবীর হাউয থেকে পানি পান করবে।

৩. এরপর মানুষ লম্বা সময় দাঁড়িয়ে থাকবে। তারপর বৃহত্তর শাফায়াত ঘটবে, যেটি হবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফায়াত। যাতে করে মহান আল্লাহ সৃষ্টিকুলের হিসাব দ্রুত শুরু করেন। এ প্রসঙ্গে প্রসিদ্ধ দীর্ঘ হাদীসে আছে: তারা আদমের কাছে এটি চাইবে। তারপর নূহের কাছে এবং তারপর ইব্রাহীমের কাছে। এভাবে শেষ পর্যন্ত যেতে যেতে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলবে: ‘হে মুহাম্মাদ! তারপর তারা তাঁর কাছে নিজেদের পরিস্থিতির উল্লেখ করবে। তারা তাঁর কাছে বলবে যেন তিনি আল্লাহর কাছে অবিলম্বে হিসাব গ্রহণ শুরু করার মাধ্যমে মানুষকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করেন। লোকেরা যখন বলবে: আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন, তখন তিনি বলবেন: “আমিই এই কাজের জন্য। আমিই এই কাজের জন্য।” তারপর তিনি আরশের কাছে এসে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে আল্লাহর এমন কিছু প্রশংসা করবেন যেগুলো আল্লাহ তাকে শিখিয়ে দিবেন। এরপর তাকে বলা হবে: “মুহাম্মাদ, তুমি তোমার মাথা তোল। তুমি চাও, তোমাকে দেওয়া হবে। তুমি সুপারিশ করো, তোমার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে।” নবীজির বৃহত্তম সুপারিশ (শাফায়াত) হবে অবিলম্বে হিসাব শুরু করার জন্য।

৪. এরপর আমলসমূহ পেশ করা হবে।

৫. আমলসমূহ পেশ করার পর হিসাব করা হবে।

৬. প্রাথমিক হিসাবের পর আমলনামার পাতাসমূহ উড়তে থাকবে। প্রাথমিক হিসাব আমল পেশের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কারণ এ সময় তর্ক-বিতর্ক হবে, অনেক ওজর-আপত্তি পেশ করা হবে। তারপর আমলনামার পাতাসমূহ উড়তে থাকবে। ডানপন্থীদেরকে ডান হাতে আমলনামা দেওয়া হবে। বামপন্থীদেরকে বাম হাতে আমলনামা দেওয়া হবে। তারপর আমলনামা পড়া হবে।

৭. আমলনামা পড়ার পর আবার হিসাব করা হবে যাতে কোনো ওজর বা কৈফিয়তের সুযোগ না থাকে এবং আমলনামায় থাকা সব কিছু পড়ার মাধ্যমে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হবে।

৮. তারপর মীযানে আনা হবে। মীযানে আমরা যেগুলোর কথা উল্লেখ করেছি সেগুলো মাপা হবে।

৯. মীযানে মাপার পর মানুষ নানা দলে ও গ্রুপে বিভক্ত হয়ে যাবে। প্রত্যেক শ্রেণীর মানুষ তার স্বশ্রেণীর সাথে। নবীদের পতাকাসমূহ উত্তোলন করা হবে। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পতাকা, ইব্রাহীমের পতাকা, মুসার পতাকা—এভাবে শেষ পর্যন্ত। মানুষের প্রকারভেদে তারা পতাকাতলে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হবে। প্রত্যেক প্রকারকে অনুরূপ প্রকারের সাথে একত্রিত করা হবে। যালেম ও কাফেরদেরকেও অনুরূপ মানুষের সাথে হাশর (একত্রিত) করা হবে, যেমনটি আল্লাহ বলেন: احْشُرُوا الَّذِينَ ظَلَمُوا وَأَزْوَاجَهُمْ وَمَا كَانُوا يَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ  (ফেরেশতাদেরকে বলা হবে,) “জালেমদেরকে, তাদের দোসরদেরকে ও তারা আল্লাহ ব্যতীত যাদের ইবাদত করত তাদেরকে একত্রিত (হাশর) করো।”[সূরা সাফ্‌ফাত: ২২-২৩] মুশরিক জ্ঞানীদেরকে মুশরিক জ্ঞানীদের সাথে একত্রিত করা হবে। যালিমদেরকে যালিমদের সাথে একত্রিত করা হবে। পুনরুত্থান অস্বীকারকারীদেরকে পুনরুত্থান অস্বীকারকারীর সাথে হাশর করা হবে ইত্যাদি।

১০. এরপর আল্লাহ তাআলা জাহান্নামের দিকে অন্ধকার করে দিবেন; আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। মানুষকে যতটুকু আলো দেওয়া হবে তারা এর সহায়তায় চলবে। এই উম্মতও চলতে থাকবে, তাদের মাঝে মুনাফিকরা থাকবে। যখন তারা নিজেদের আলোতে চলতে থাকবে তখন আলোচিত প্রাচীরটি স্থাপন করা হবে। যে প্রাচীরের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন:

فَضُرِبَ بَيْنَهُمْ بِسُورٍ لَهُ بَابٌ بَاطِنُهُ فِيهِ الرَّحْمَةُ وَظَاهِرُهُ مِنْ قِبَلِهِ الْعَذَابُ ۝ يُنَادُونَهُمْ أَلَمْ نَكُنْ مَعَكُمْ قَالُوا بَلَى وَلَٰكِنَّكُمْ فَتَنتُمْ أَنفُسَكُمْ وَتَرَبَّصْتُمْ وَارْتَبْتُمْ وَغَرَّتْكُمُ الْأَمَانِيُّ حَتَّىٰ جَاءَ أَمْرُ اللَّهِ وَغَرَّكُم بِاللَّهِ الْغَرُورُ

“অতঃপর তাদের (উভয় দলের) মাঝে একটি প্রাচীর স্থাপন করা হবে, যার একটি দরজা থাকবে। এর ভিতরের দিকে থাকবে রহমত এবং বাইরের দিকে থাকবে আযাব। তারা মুমিনদেরকে ডেকে বলবে: আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? মুমিনরা বলবে: হ্যাঁ (ছিলে), কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ ও সন্দেহ পোষণ করেছ। আর (মিছে) আশা তোমাদেরকে ধোঁকা দিয়েছে। অবশেষে আল্লাহর আদেশ এসে গিয়েছে। (আসলে) মহাপ্রতারক (শয়তান) তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করেছে।” [সূরা হাদীদ: ১৩-১৪] আল্লাহ মুমিনদেরকে আলো দিবেন। ফলে তারা পুলসিরাতের রাস্তা দেখতে পাবে। অন্যদিকে মুনাফিকদেরকে আলো দেওয়া হবে না। তারা কাফেরদের সাথে থাকবে এবং জাহান্নামে পড়ে যাবে। তারা হাঁটতে থাকবে এবং তাদের সামনে থাকবে জাহান্নাম। আমরা আল্লাহর কাছে পানাহ চাই।

১১. তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম পুলসিরাতে আসবেন। তিনি নিজের জন্য ও তাঁর উম্মতের জন্য প্রার্থনা করে বলবেন: ‘হে আল্লাহ! রক্ষা করুন, রক্ষা করুন। আল্লাহ! রক্ষা করুন, রক্ষা করুন!’ এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুলসিরাত অতিক্রম করবেন। তাঁর উম্মতও পুলসিরাত অতিক্রম করবে। প্রত্যেকে তার আমল অনুপাতে পুলসিরাত অতিক্রম করবে। প্রত্যেকের কাছে তার আমল অনুপাতে আলো থাকবে। আল্লাহ যাকে ক্ষমা করবেন সে পেরিয়ে যাবে। আর তাওহীদধারীদের মধ্যে আল্লাহ যাকে শাস্তি দিতে চান সে জাহান্নামে পড়ে যাবে। এরপর যখন তারা জাহান্নাম অতিক্রম করবে তখন তারা জান্নাতের আঙিনায় এসে সমবেত হবে। অর্থাৎ যে আঙ্গিনাগুলোকে আল্লাহ ঈমানদারদের পারস্পরিক জুলুমের কিসাস (প্রতিশোধ) নেয়া ও তাদের অন্তর থেকে বিদ্বেষ দূর করার জন্য প্রস্তুত করেছেন। অবশেষে তারা এমন অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে যে তাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ নেই।

১২. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর প্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে দরিদ্র মুহাজিরগণ। তারপর দরিদ্র আনসারগণ। তারপর এই উম্মতের দরিদ্ররা। ধনীদের বিলম্ব করা হবে। কারণ তাদের সাথে অন্যান্যদের হিসাব-নিকাশ থাকবে। তাদের সেই হিসাব নেওয়ার জন্য।[শাইখ সালিহ আলুশ শাইখ রচিত ‘শারহুত ত্বহাভী’ (পৃ. ৫৪২- শামেলা সংস্করণ) থেকে ঈষৎ পরিবর্তনসহ]

কোনো মানুষ মারা যাওয়ার সময় তার কাছে দু'জন শয়তান মা-বাবার আকৃতি ধরে বসে থাকে এবং তাকে ইহুদি-খ্রিষ্টান ধর্মের অনুসরণের নির্দেশ দিতে থাকে— এটি কি প্রমাণিত?

আমরা এমন কোনো সহিহ হাদীস জানি না যেখানে বলা হয়েছে যে ব্যক্তির মৃত্যুর সময়ে তার সামনে দু'জন শয়তান বাবা-মার আকৃতি নিয়ে বসে তাকে ইহুদি-খ্রিষ্টান ধর্ম অনুসরণের নির্দেশ প্রদান করে।

তবে কুরতুবী রাহিমাহুল্লাহ ‘তাযকেরাহ’ (পৃ. ১৮৫) গ্রন্থে বলেছেন: ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত: বান্দার মৃত্যুর সময় দুটি শয়তান তার কাছে বসে থাকে। একটি তার ডানে, অন্যটি তার বামে। তার ডানে যে শয়তান বসে সে বাবার আকৃতি ধারণ করে তাকে বলে: হে আমার ছেলে! আমি তোমার ব্যাপারে দয়ার্দ্র ছিলাম এবং তোমাকে ভালোবাসতাম। কিন্তু তুমি খ্রিষ্টধর্মের উপর মৃত্যুবরণ করো; এটি সর্বোত্তম ধর্ম। তার বামে একটি শয়তান মায়ের আকৃতি নিয়ে বসে তাকে বলে: হে আমার ছেলে! আমার পেট ছিল তোমার জন্য আধার ছিল। আমার স্তন ছিল তোমার জন্য মশক। আর আমার উরু ছিল তোমার পা রাখার স্থান। কিন্তু তুমি ইহুদি ধর্মের উপর মৃত্যুবরণ করো; এটিই সর্বোত্তম ধর্ম।’[বর্ণনাটি ইবনু আবি যাইদের রিসালাতের একটি ব্যাখ্যায় আবুল হাসান আল-ক্বাবেসী উল্লেখ করেছেন। আবু হামেদ তার কাশফু উলূমিল আখিরাহ গ্রন্থে ভাবার্থে এটি উল্লেখ করেছেন]

তবে উক্ত বর্ণনার কোনো ভিত্তি নেই। তাই এর মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করা যায় না।

কিন্তু আদম সন্তানের মৃত্যুর সময় শয়তান তার কাছে উপস্থিত হয়। তাকে বিভ্রান্ত করার জন্য এই রূপে বা অন্য রূপে কাছে হাজির হয়। আবু দাউদ (১৫৫২) ও নাসাঈ (৫৫৩১) বর্ণনা করেন: আবুল ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করতেন:

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الهَدْمِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ التَّرَدِّي، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْغَرَقِ، وَالْحَرَقِ، وَالْهَرَمِ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ يَتَخَبَّطَنِي الشَّيْطَانُ عِنْدَ الْمَوْتِ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَمُوتَ فِي سَبِيلِكَ مُدْبِرًا، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَمُوتَ لَدِيغًا

“হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি— চাপা পড়া থেকে। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই— উঁচু স্থান থেকে পতিত হওয়া থেকে। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই— পানিতে ডোবা থেকে, আগুনে পোড়া থেকে এবং অতিশয় বার্ধক্য থেকে। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই— মৃত্যুর সময় শয়তান আমাকে বিভ্রান্ত করা থেকে। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই— আপনার পথে জিহাদরত অবস্থায় পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে মৃত্যুবরণ করা থেকে। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই— বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে মৃত্যু থেকে।”[হাদীসটি শাইখ আলবানী সহিহু আবি দাউদে সহিহ হিসেবে গণ্য করেন]

খাত্তাবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: ‘মৃত্যুর সময় শয়তানের দ্বারা বিভ্রান্ত হওয়া থেকে আশ্রয় চাওয়া হচ্ছে এই যে: সে দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার সময় শয়তান তার উপর ভর করে তাকে বিভ্রান্ত করা, তার মাঝে ও তাওবা করার মাঝে প্রতিবন্ধক হওয়া অথবা তাকে নিজেকে শুধরে নিতে অথবা কোনো যুলুম থেকে বের হতে বাধা দেওয়া অথবা তাকে আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে নিরাশ করে তোলা অথবা সে মৃত্যু অপছন্দ করা ও দুনিয়ার জীবনের জন্য আফসোস করা। ফলে সে আল্লাহ তার জন্য যে মৃত্যু ও আখিরাতের জীবনে স্থানান্তরের ফয়সালা করেছেন তাতে সন্তুষ্ট হবে না। ফলশ্রুতিতে তার খারাপ মৃত্যু হবে এবং সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট।

বর্ণিত আছে যে শয়তান আদম সন্তানের উপর মৃত্যুর সময়ের চেয়ে আর কোনো সময়ে এত বেশি চড়াও হয় না। শয়তান তার সহযোগীদেরকে বলে: তোমরা একে ধরো। আজকে তোমাদের থেকে সে ছুটে গেলে আর ধরতে পারবে না।’[মা’আলিমুস সুনান (১/২৯৬) থেকে সমাপ্ত][দেখুন: আত-তাযকেরাহ (পৃ. ১৮৫)]

ইমাম আহমদের ছেলে সালেহ বলেন: যখন আমার বাবার মৃত্যু ঘনিয়ে এল তখন আমি তার কাছে বসলাম। আমার হাতে এক টুকরো কাপড় ছিল; যেন আমি সেটি দিয়ে তার চোয়ালদ্বয় বাঁধতে পারি। তিনি ঘামতে লাগলেন। তারপর অস্বস্তি অনুভব করলেন। একবার চোখ খুলে হাত দিয়ে ইঙ্গিত দিয়ে বললেন: ‘এখনো না, এখনো না।’ এমনটি তিনবার বললেন!!

পরে আমি বললাম: বাবা, এই সময়টাতে আপনি কী বলেছিলেন? তিনি বললেন: ‘বৎস! তুমি কি জানো না?’ আমি বললাম: না। তিনি বললেন: ‘ইবলিসের উপর আল্লাহর অভিশাপ পড়ুক। সে আমার জুতার কাছে দাঁড়িয়ে আঙুল কামড়াচ্ছে। সে বলছে: আহমদ, তুমি আমার থেকে ছুটে গেছ! আমি বলছিলাম: না; যতক্ষণ না মরছি!’[ত্বাবাকাতুল হানাবিলাহ (১/১৭৫) থেকে সমাপ্ত]

কুরতুবী বলেন: আমাদের শাইখ আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে উমর আল-কুরতুবী আলেকজান্দ্রিয়ার সীমান্তে থাকা অবস্থায় বলেন: আমি আমাদের শাইখ আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-কুরতুবীর মৃত্যুর সময় কর্ডোভায় উপস্থিত ছিলাম। তাকে বলা হচ্ছিল: আপনি বলুন: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। তিনি বলছিলেন: না, না। জ্ঞান ফেরার পর তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: আমার ডানে ও বামে দু'জন শয়তান এসেছিল। একজন বলছিল: ইহুদি হয়ে মরো, এটি সর্বোত্তম ধর্ম। আরেকজন বলছিল: খ্রিষ্টান হয়ে মরো, এটি সর্বোত্তম ধর্ম। আমি তাদেরকে বলছিলাম: না, না। আমার জবাব তাদের উদ্দেশ্যে ছিল; তোমাদের উদ্দেশ্যে না।

আমি বলব: নেককারদের থেকে এমন ঘটনা অগণিত। এমন উত্তর শয়তানের উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে; যে ব্যক্তি তাকে কালিমা তালকীন দিচ্ছেন তার উদ্দেশ্যে নয়।’[আত-তাযকেরাহ (পৃ. ১৮৭) থেকে সমাপ্ত]

আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।

সূত্র

শেষদিবসের প্রতি ঈমান এবং কিয়ামতের আলামত

সূত্র

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

answer

সংশ্লিষ্ট প্রশ্নোত্তরসমূহ

at email

নিউজলেটার

ওয়েবসাইটের ইমেইল ভিত্তিক নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন

phone

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব অ্যাপ্লিকেশন

কন্টেন্টে আরও দ্রুত পৌঁছতে ও ইন্টারনেট ছাড়া ব্রাউজ করতে

download iosdownload android