আমরা কীভাবে আমাদের হৃদয়ে আল্লাহভীতি বাড়াতে পারি?

প্রশ্ন 228612

আমরা কীভাবে আমাদের হৃদয়ে তাকওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারব? আমি টিভি দেখে ও গেইম খেলে সময় নষ্ট করি। আমার কী করণীয়?

উত্তরের সার-সংক্ষেপ

যে বিষয়গুলো আমাদের অন্তরে আল্লাহভীতি বৃদ্ধি করে:

  • আল্লাহর আনুগত্যে সাধনা করা
  • রোযা রাখায় সচেষ্ট হওয়া ও বেশি বেশি রোযা রাখা।
  • মুত্তাকীদের চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য ধারণ করা
  • নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শকে আঁকড়ে ধরা এবং দ্বীনে নব-উদ্ভাবিত বিদআত থেকে দূরে থাকা
  • আল্লাহর হারামকৃত বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকা
  • আল্লাহর শরয়ী ও জাগতিক নিদর্শনসমূহ নিয়ে চিন্তা করা
  • কল্যাণকামী উপদেশদাতা নেককার লোকদের সাহচর্যে থাকা এবং খারাপ ও বিদআতী লোকদের সঙ্গ পরিহার করা
  • আলেম-উলামা, দুনিয়াবিমুখ ও ইবাদতগুজার ঈমানদার নেককার প্রমুখ মুত্তাকীদের জীবনী পাঠ করা

উত্তর

আল্লাহ ভীতির ফলাফল

  • আল্লাহ তাআলা তাকওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তাকওয়া হচ্ছে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা ও বিজয়ের ঠিকানা।

আল্লাহ বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে পরিপূর্ণভাবে ভয় করো এবং 'মুসলমান' থাকা অবস্থা ছাড়া অন্য কোন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে না।”[সূরা আলে-ইমরান: ১০২]

তিনি আরো বলেন:

وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَخْشَ اللَّهَ وَيَتَّقْهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ

“যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে এবং আল্লাহকে ভয় করে ও তার অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকে তারাই সফলকাম।”[সূরা নূর: ৫২]

  • আল্লাহ আরো জানিয়েছেন যে তিনি মুত্তাকীদের সাথে আছেন:

إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوْا وَالَّذِينَ هُمْ مُحْسِنُونَ

“আল্লাহ তো তাদের সাথেই আছেন যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে এবং যারা সৎকর্মশীল।”[সূরা নাহল: ১২৮]

তিনি জানিয়েছেন যে তিনি তাদের মিত্র। তিনি বলেছেন:

وَاللَّهُ وَلِيُّ الْمُتَّقِينَ

“আর আল্লাহ মুত্তাকীদের মিত্র।”[সূরা জাসিয়া: ১৯]

  • আল্লাহ জানিয়েছেন যে মুত্তাকীদের জন্যই রয়েছে উত্তম পরিণতি। তিনি বলেন:

وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ

“আর শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্যই।”[সূরা আ’রাফ: ১২৮]

তিনি জানিয়েছেন যে দুনিয়া-আখিরাতে তারাই বিজয়ী ও সফল। তার বাণী:

وَنَجَّيْنَا الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ

“আর যারা ঈমান এনেছিল এবং (তদানুযায়ী) তাকওয়া অবলম্বন করে চলত আমি তাদেরকে রক্ষা করেছিলাম।”[সূরা ফুস্সিলাত: ১৮]

তিনি আরো বলেন:

ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوْا

“অতঃপর যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছিল আমরা তাদেরকে উদ্ধার করব।”[সূরা মারইয়াম: ৭২]

আল্লাহ বলেন:

إِنَّ لِلْمُتَّقِينَ مَفَازًا

“মুত্তাকীদের জন্য রয়েছে এক বিরাট সাফল্য (জান্নাত)।”[সূরা নাবা: ৩১]

মুমিনদের মধ্যকার মুত্তাকীরাই আল্লাহর মিত্র। আল্লাহ বলেন:

أَلا إِنَّ أَوْلِيَاء اللّهِ لاَ خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلاَ هُمْ يَحْزَنُونَ۝ الَّذِينَ آمَنُواْ وَكَانُواْ يَتَّقُونَ

“জেনে রাখো, আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না। যারা ঈমান এনেছিল এবং (তদানুযায়ী) তাকওয়া অবলম্বন করে চলত।”[সূরা ইউনুস: ৬২-৬৩]

এ সংক্রান্ত আয়াত অনেক।

তাকওয়ার পরিচয়

তাকওয়া হচ্ছে আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তা পালন করা এবং তিনি যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকা। দুনিয়া ও আখিরাতের বিষয়ে ভাবনা ও উভয়টির মর্যাদা বোঝা বান্দাকে তাকওয়া অর্জনে সাহায্য করে। এই জ্ঞান মানুষকে আখিরাতে জান্নাতের নিয়ামত লাভ ও জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির জন্য চেষ্টার দিকে ধাবিত করে। তাই তো মহান আল্লাহ আমাদেরকে জান্নাত সম্পর্কে জানিয়ে বলেছেন: “তা মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।”[সূরা আলে-ইমরান: ১৩৩]

আমরা কীভাবে আমাদের অন্তরে আল্লাহর তাকওয়া বৃদ্ধি করব?

  • অন্তরে তাকওয়া বৃদ্ধি করে এমন অন্যতম বিষয় হচ্ছে: আল্লাহ তাআলার আনুগত্যে সাধনা করা। এর বিনিময়ে আল্লাহ বান্দার হেদায়াত ও তাকওয়া বৃদ্ধি করে দেন। তথা আল্লাহ তাকে যা করার নির্দেশ দিয়েছেন তাকে তা করতে তিনি সাহায্য করেন। তার জন্য তিনি কল্যাণ ও আনুগত্যের দরজাগুলো খুলে দেন এবং আগে তার জন্য যা করা সহজ ছিল না সেগুলো তিনি তার জন্য সহজ করে দেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: وَالَّذِينَ اهْتَدَوْا زَادَهُمْ هُدًى وَآتَاهُمْ تَقْواهُمْ  “আর যারা সঠিক পথ অনুসরণ করে আল্লাহ তাদেরকে বেশি বেশি হেদায়াত ও তাকওয়া দান করেন।”[সূরা মুহাম্মাদ: ১৭]
  • আরো যে বিষয়টি মানুষকে তাকওয়ায় পৌঁছে দেয়: রোযা রাখায় সচেষ্ট হওয়া ও বেশি বেশি রোযা রাখা। আল্লাহ তাআলা রোযার মাঝে এমন বিশেষত্ব রেখেছেন যা বান্দাকে আল্লাহর আনুগত্য করতে সাহায্য করে এবং তার কাছে পছন্দনীয় করে তোলে। তাই তো আল্লাহ ফরয রোযার ব্যাপারে বলেন: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمْ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ  “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর যেমন রোযা ফরয করা হয়েছিল, তেমনি তোমাদের উপরও তা ফরয করা হল; যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।”[সূরা বাকারা: ১৮৩]

এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযা রাখার উপদেশ দেন। এই উপদেশের উপর তাগিদ প্রদান করেন এবং জানিয়ে দেন যে এর অনুরূপ কিছুই নেই। আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম: ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে একটি আমলের নির্দেশ দিন।’ তিনি বললেন: “তুমি রোযা রাখবে। কারণ এর মত আর কিছুই নেই।” আমি বললাম: ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে একটি আমলের নির্দেশ দিন।’ তিনি বললেন: “তুমি রোযা রাখবে। কারণ এর মত কিছুই নেই।”[হাদীসটি আহমদ (২২১৪৯) ও নাসাঈ (৪/১৬৫) ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেন। শাইখ আলবানী এটিকে সহীহ বলে গণ্য করেন]

  • এর মধ্যে আরো রয়েছে: মুত্তাকীদের চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য ধারণ করা; যেগুলোর কথা আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَالْمَلائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَآتَى الْمَالَ عَلَى حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّائِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِينَ الْبَأْسِ أُوْلَئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَأُوْلَئِكَ هُمْ الْمُتَّقُونَ  “পুন্য এটা নয় যে, তোমরা পূর্ব দিকে ও পশ্চিম দিকে মুখ ফিরাবে। বরঞ্চ পুন্য হচ্ছে (তাদের পুন্য) যারা ঈমান এনেছে— আল্লাহর প্রতি, পরকালের প্রতি, ফেরেশতাদের প্রতি, কিতাবের প্রতি ও নবীগণের প্রতি এবং সম্পদের প্রতি ভালোবাসা সত্ত্বেও সম্পদ দান করেছে— আত্মীয়-স্বজনকে, এতিম-মিসকীনকে, মুসাফিরকে, ভিক্ষুককে ও দাস মুক্তিতে এবং নামায আদায় করেছে ও যাকাত প্রদান করেছে এবং যারা অঙ্গীকার করলে অঙ্গীকার পূরণকারী এবং প্রশংসা করছি তাদের যারা অভাব-অনটনে, রোগ-বিমারে ও তীব্র যুদ্ধকালে ধৈর্যধারণকারী। এরাই হচ্ছে সত্যবাদী এবং এরাই হচ্ছে মুত্তাকী।”[সূরা বাকারা: ১৭৭]

তিনি আরো বলেন:

وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَوَاتُ وَالأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ ۝ الَّذِينَ يُنْفِقُونَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنْ النَّاسِ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ ۝ وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ ۝ أُوْلَئِكَ جَزَاؤُهُمْ مَغْفِرَةٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَجَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ

“তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমা ও সেই জান্নাত লাভের চেষ্টা করো যার বিশালতা আসমান ও যমীনের মত, যা মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। যারা সুদিন ও দুর্দিনে (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে এবং যারা ক্রোধ সংবরণকারী ও মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল। আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন। আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা নিজেদের প্রতি যুলুম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা চায়। আল্লাহ ছাড়া পাপ ক্ষমা করবে কে? এবং তারা জেনেশুনে নিজেদের কৃতকর্মের (গুনার) উপর অব্যাহত থাকে না। তাদের প্রতিদান হলো— তাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও এমনসব জান্নাত যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়। সেখানে তারা চিরকাল বাস করবে। সৎকর্মশীলদের এই প্রতিদান কতই না উত্তম!”[সূরা আলে-ইমরান: ১৩৩-১৩৬]

  • এছাড়াও আরো রয়েছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শকে আঁকড়ে ধরা এবং দ্বীনের ক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবন থেকে দূরে থাকা। আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

“আর এই হচ্ছে আমার সরল পথ। অতএব, তোমরা এ পথই অনুসরণ করো, অন্যান্য পথ অনুসরণ করো না। করলে সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। তিনি তোমাদেরকে এই আদেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা (বিভ্রান্তি থেকে) বেঁচে থাকতে পারো।”[সূরা আল-আন’আম: ১৫৩]

  • এছাড়াও রয়েছে: আল্লাহর হারামকৃত বিষয়াবলি থেকে বিরত থাকা। আল্লাহ তাআলা বলেন:

تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَقْرَبُوهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ

“এগুলো আল্লাহর সীমারেখা। অতএব, এর কাছে যেয়ো না (এগুলো লঙ্ঘনের চেষ্টা করো না)।”[সূরা বাকারা: ১৮৭]

  • এর মধ্যে আরো রয়েছে: আল্লাহর শরঈ ও জাগতিক নিদর্শনসমূহ নিয়ে চিন্তাভাবনা করা। আল্লাহ তাআলা বলেন:

إِنَّ فِي اخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمَا خَلَقَ اللَّهُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَّقُونَ

“নিশ্চয়ই রাত ও দিনের পরিবর্তনে এবং আসমান ও জমিনে আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সেগুলোতে তাকওয়া অবলম্বনকারীদের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে।”[সূরা ইউনুস: ৬]

তিনি আরো বলেন:

وَكَذَلِكَ أَنْزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا وَصَرَّفْنَا فِيهِ مِنَ الْوَعِيدِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ أَوْ يُحْدِثُ لَهُمْ ذِكْرًا

“আর এভাবেই আমি আরবী ভাষায় কুরআন নাযিল করেছি এবং তাতে বিস্তারিতভাবে সতর্কবাণী বিবৃত করেছি; যাতে করে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে অথবা তা তাদের জন্য শিক্ষাগ্রহণের উপাদান যোগায়।”[সূরা ত্বাহা: ১১৩]

  • এর মধ্যে আরো রয়েছে: বেশি বেশি আল্লাহর স্মরণ ও কুরআন তিলাওয়াত করা।
  • কল্যাণকামী উপদেশদাতা নেককার লোকদের সাহচর্যে থাকা এবং খারাপ ও বিদআতী লোকদের সঙ্গ পরিহার করা।
  • আলেম, দুনিয়াবিমুখ ও ইবাদতগুজার নেককার ঈমানদার মুত্তাকীদের জীবনী পড়া।

আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুতি নেয়া ও অন্তরের তাকওয়া

একজন আকলবান ব্যক্তির উচিত সর্বদা আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করা। কারণ সে জানে না কখন তার মৃত্যু চলে আসবে। মৃত্যু চলে এলে যে কাজে তার ঘাটতি ছিল, সেটির প্রতিবিধান করা তার জন্য সম্ভব হবে না। ফলে সে এমন সময়ে এসে আফসোস করবে যখন আফসোস কোনো উপকারে আসবে না।

কিয়ামতের দিন প্রতিটি মানুষ জিজ্ঞাসিত হবে: “তার জীবনকে সে কোন কাজে ব্যয় করেছে এবং তাঁর যৌবনকে সে কীসে নষ্ট করেছে।”[হাদীসটি তিরমিযী (২৪১৬) বর্ণনা করেন ও শাইখ আলবানী সহিহ বলে গণ্য করেন]

সুস্বাস্থ্য ও সময় আল্লাহ তাআলার অন্যতম নেয়ামত, যার মর্যাদা বহু মানুষ হারিয়ে ফেলার আগ পর্যন্ত জানতে পারে না। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “দুটি নিয়ামাত আছে যে ব্যাপারে অনেক মানুষ লোকসানে নিমজ্জিত: সুস্বাস্থ্য ও অবসর সময়।”[হাদীসটি বুখারী (৬৪১২) বর্ণনা করেন]

কেনা-বেচার ক্ষেত্রে লোকসান হওয়ার অর্থ হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। এখানে লোকসানে নিমজ্জিত হওয়ার অর্থ হচ্ছে তা থেকে উপকৃত না হওয়া। বরং তার সুস্বাস্থ্য ও অবসর সময়কে সে এমন কিছুতে ব্যয় করা যা দুনিয়ায় কিংবা আখিরাতে তার কোনো উপকারে আসবে না। এটি একজন ব্যবসায়ীর ব্যবসায়ের ক্ষতির চেয়ে বড় ক্ষতি।

আকলবান ব্যক্তি জানে যে সে এক মহা পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং তাকে অবশ্যই এর জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।

দুনিয়ায় আল্লাহর আনুগত্যে প্রতিটি কষ্ট-ক্লান্তি আখিরাতে শান্তির বিষয় হবে। তাই কোনো এক সালাফ আল্লাহর আনুগত্যমূলক কাজে নিজেকে খুবই কষ্ট দিতেন। লোকেরা তাকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও আরাম করতে বললে তিনি বলতেন: ‘আমি তো নিজের আরামই চাই।’[আল-ফাওয়াইদ (পৃ. ৪২) থেকে সমাপ্ত]

দুনিয়ায় আল্লাহর অবাধ্যতার প্রতিটি আরাম ও সুখের পরিণতি হবে অনুশোচনা ও শাস্তি, যদি কিয়ামতের দিন আল্লাহ এই অবাধ্যতায় লিপ্ত ব্যক্তিকে ক্ষমা না করেন।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

সূত্র

অন্তর পরিচর্যা

সূত্র

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

Previous
পরবর্তী
at email

নিউজলেটার

ওয়েবসাইটের ইমেইল ভিত্তিক নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন

phone

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব অ্যাপ্লিকেশন

কন্টেন্টে আরও দ্রুত পৌঁছতে ও ইন্টারনেট ছাড়া ব্রাউজ করতে

download iosdownload android