কাযা (নিয়তি) ও তাকদীর (ভাগ্য)-র বাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা কিছুটা দীর্ঘ হতে পারে। তবে আমরা উপকারের বিবেচনা থেকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সংক্ষিপ্তসার দিয়ে শুরু করছি। তারপর এই স্থানের উপযুক্ত কিছু ব্যাখ্যা প্রদান করব। আমরা আল্লাহর কাছে উপকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতা দোয়া করছি।
কাযা ও তাকদীরের স্বরূপ
জেনে রাখুন (আল্লাহ আপনাকে তৌফিক দান করুন), ভাগ্যের উপর ঈমান আনার অর্থ এই দৃঢ় বিশ্বাস রাখা যে এ জগতে যা কিছু ঘটছে তা আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত।
তাকদীরে ঈমান আনা ঈমানের রোকনসমূহের মাঝে ষষ্ঠ রোকন। এতে ঈমান আনা ছাড়া কারো ঈমান পূর্ণ হবে না। সহিহ মুসলিমে (৮) আছে: ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা শুনতে পারেন কিছু মানুষ তাকদীরকে অস্বীকার করছে। তিনি বললেন: ‘তুমি যদি এদের সাক্ষাৎ পাও তাহলে বলে দিও যে আমি তাদের থেকে মুক্ত এবং তারাও আমার থেকে মুক্ত। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর যার নামে শপথ করে (অর্থাৎ আল্লাহর নামে) তাঁর শপথ, যদি তাদের কারো কাছে উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকত এবং সে ওটাকে দান করত, তবুও আল্লাহ তার থেকে সেটি কবুল করতেন না; যতক্ষণ না সে তাকদীরের প্রতি ঈমান আনে।’
তারপর জেনে রাখুন যে তাকদীরের প্রতি ঈমান ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক হবে না যতক্ষণ না তাকদীরের চারটি স্তরের প্রতি ঈমান আনেন:
১- এই বিশ্বাস করা যে আল্লাহ অনাদিকাল থেকে ঘটমান সকল কিছু সমষ্টিগত ও ব্যষ্টিগতভাবে জানেন। আসমানে ও যমীনে শস্য দানা পরিমাণ কোনো কিছু তার অগোচরে নেই।
২- এই বিশ্বাস করা যে আল্লাহ আসমান ও যমীন সৃষ্টি করার পঞ্চাশ হাজার বছর আগে সকল কিছু লাওহে মাহফূযে লিখে রেখেছেন।
৩- আল্লাহর কার্যকর ইচ্ছা ও সর্বব্যাপী ক্ষমতায় বিশ্বাস করা। এই জগতে কোনো ভালো বা মন্দ নেই যা তার ইচ্ছার বাইরে হয়।
৪- এই বিশ্বাস করা যে জগতের সকল কিছু তার সৃষ্ট। তিনি সৃষ্টিকুলের স্রষ্টা এবং তাদের গুণাবলি ও কর্মগুলোরও স্রষ্টা। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: ذلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُم لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ “তিনি আল্লাহ, তোমাদের রব। তিনি ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই; সকল কিছুর স্রষ্টা।”[সূরা আনআম: ১০২]
তাকদীরের উপর ঈমান আনার ফলাফল
তাকদীরের উপর ঈমান আনার অবশ্যম্ভাবী ফল হচ্ছে এই বিশ্বাস আনা যে:
- বান্দার ইচ্ছাশক্তি রয়েছে এবং বাছাই করার সক্ষমতা রয়েছে। এর মাধ্যমে তার কাজগুলো বাস্তবায়িত হয়। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেন: لِمَنْ شَاءَ مِنْكُمْ أَنْ يَسْتَقِيمَ “তোমাদের মাঝে যে সরল পথে চলতে চায় তার জন্য”।[সূরা তাকভীর: ২৮] لَايُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا “আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে কাজ চাপিয়ে দেন না।”[সূরা বাকারা (২৮৬)]
- বান্দার ইচ্ছা ও সক্ষমতা আল্লাহর ইচ্ছা ও সক্ষমতার বাইরে নয়। তিনিই বান্দাকে এই ইচ্ছা ও সক্ষমতা দিয়েছেন। তাকে পার্থক্য করা ও বাছাই করার ক্ষমতাবান করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ “আর বিশ্বজগতের প্রভু আল্লাহ না চাইলে তোমরা (কিছু) চাইতে পারো না।”[সূরা তাকভীর: ২৯]
- তাকদীর হলো আল্লাহর সৃষ্টিতে তাঁর গোপন রহস্য। তিনি আমাদের কাছে যা স্পষ্ট করেছেন তা আমরা জানি এবং তার প্রতি আমরা ঈমান আনি। আর যা আমাদের কাছে অজানা রয়েছে তা আমরা মেনে নিই এবং তার প্রতিও আমরা ঈমান আনি। আমরা আমাদের অপূর্ণ বুদ্ধি ও দুর্বল বোধশক্তি দিয়ে আল্লাহর কর্মাবলী ও বিধানাবলীর উপরে আপত্তি করব না। বরং আমরা আল্লাহর পূর্ণ ইনসাফ ও প্রজ্ঞায় বিশ্বাস করব। তিনি যা করেন সে ব্যাপারে তাঁকে প্রশ্ন করা যাবে না। তিনি কতই না পবিত্র ও প্রশংসিত।
এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নেককার সালাফের সংক্ষিপ্ত আকীদা এটাই। আমরা নিচে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা পেশ করব। আমরা আল্লাহর কাছে সাহায্য ও সক্ষমতা প্রার্থনা করছি:
কাযা ও তাকদীরের পরিচিতি এবং এই দু'টির মাঝে পার্থক্য
আভিধানিক অর্থে কাযা হচ্ছে কোনো কিছুকে সুদৃঢ় করা ও পরিপূর্ণ করা। অন্যদিকে তাকদীরের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে নির্ধারণ করা।
তাকদীর হচ্ছে: আদিকালে আল্লাহ তাআলা কর্তৃক সকল কিছুর নির্ধারণ, সবকিছু যে নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ঘটবে তাঁর সেই জ্ঞান, তিনি সেটি লিখে রাখা, সেটার প্রতি তাঁর ইচ্ছা, তাঁর নির্ধারণ অনুযায়ী বাস্তবে সেগুলো ঘটা এবং সেগুলোকে তাঁর সৃষ্টি করা।
আলেমদের মাঝে কেউ কেউ কাযা ও তাকদীরের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তবে সম্ভবতঃ সঠিক মত হচ্ছে এই দুটোর মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। একটি অন্যটির অর্থবোধক। কুরআন-সুন্নাহতে এই দুটো ভিন্ন অর্থবোধক হওয়ার পক্ষে সুস্পষ্ট কোনো দলিল নেই। এ ব্যাপারে আলেমরা একমত যে একটি অন্যটির স্থানে ব্যবহৃত হতে পারে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, তাকদীর শব্দটি কুরআন-সুন্নাহর দলিলে বেশি পরিমাণে বর্ণিত হয়েছে, যে দলিলগুলো এই রোকনের প্রতি ঈমান আনার আবশ্যকতা প্রমাণ করে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
ইসলামে কাযা ও তাকদীরের প্রতি ঈমান আনার মর্যাদা
কাযা ও তাকদীরের প্রতি ঈমান হচ্ছে ঈমানের ষষ্ঠ স্তম্ভের অন্যতম, যার কথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসে উদ্ধৃত হয়েছে। যখন জিবরীল আলাইহিস সালাম তাকে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল তখন তিনি বলেছিলেন: “আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, শেষ দিবস এবং ভালো-মন্দ তাকদীরের উপর ঈমান আনা।”[হাদীসটি মুসলিম (৮) বর্ণনা করেন]
তাকদীরের কথা কুরআনে উদ্ধৃত হয়েছে, যেখানে আল্লাহ বলেছেন: إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ “আমি প্রত্যেক বস্তুকে তাকদীর অনুযায়ীই সৃষ্টি করেছি।”[সূরা কামার: ৪৯] তিনি আরো বলেছেন: وَكَانَ أمْرُ اللَّهِ قَدَرًا مَقْدُورًا “আল্লাহর আদিষ্ট বিষয় সুনির্ধারিত।”[সূরা আহযাব: ৩৮]
তাকদীরের উপর ঈমান আনার স্তরসমূহ
জেনে রাখুন (আল্লাহ আপনাকে তার সন্তুষ্টি লাভের তৌফিক দান করুন) যে তাকদীরের উপর ঈমান ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণতা পাবে না যতক্ষণ না আপনি এই চারটি স্তরের প্রতি ঈমান আনবেন, সেগুলো হচ্ছে:
১- জ্ঞানের স্তর: সেটি হচ্ছে এই ঈমান রাখা যে আল্লাহর জ্ঞান সকল কিছুকে ব্যাপ্ত করে আছে। আসমানসমূহ ও যমীনে একটি শস্য দানা পরিমাণ বস্তুও তার অগোচরে নেই। আল্লাহ সকল সৃষ্টিকে সৃষ্টি করার আগেই তাদের ব্যাপারে জানতেন। আল্লাহ স্বীয় প্রাচীন জ্ঞান দিয়ে জানতেন তারা কী করবে। এর সপক্ষে প্রমাণ অগণিত; তন্মধ্যে রয়েছে আল্লাহর বাণী: هُوَ اللَّهُ الَّذِي لا إِلَهَ إِلا هُوَ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ “তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যমান (সকল) বস্তু সম্পর্কে জানেন। তিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু।”[সূরা হাশ্র: ২২] এছাড়াও তার বাণী: وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا “আল্লাহ সব কিছুকে তার জ্ঞান দিয়ে ব্যপ্ত করেছেন।”[সূরা ত্বালাক: ১২]
২- লিখনীর স্তর: সেটি হচ্ছে এই বিশ্বাস স্থাপন করা যে, আল্লাহ লাওহে মাহফুযে সকল সৃষ্টির তাকদীর লিখে রেখেছেন। এর দলীল হচ্ছে আল্লাহর বাণী: أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاءِ وَالأَرْضِ إِنَّ ذَلِكَ فِي كِتَابٍ إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ “তুমি কি জানো না যে, আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে আল্লাহ তা জানেন। তা তো একটি কিতাবে (লাওহে মাহফূযে) লিখিত আছে। নিশ্চয়ই এটা আল্লাহর জন্য সহজ।”[সূরা হজ্জ: ৭০]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ আসমান-যমীন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে সৃষ্টিকুলের তাকদীর লিখে রেখেছেন।”[মুসলিম (২৬৫৩) বর্ণনা বর্ণনা করেছেন]
৩- ইচ্ছার স্তর: সেটি হচ্ছে এই বিশ্বাস স্থাপন করা যে এই জগতে যা কিছু ঘটে তা সবই আল্লাহর ইচ্ছায় ঘটে। তিনি যা চান তা ঘটে। আর যা চান না তা ঘটে না। কোনো কিছুই তার ইচ্ছার বাইরে নয়।
এর দলীল হচ্ছে আল্লাহর বাণী: وَلا تَقُولَنَّ لِشَيْءٍ إِنِّي فَاعِلٌ ذَلِكَ غَدًا إِلا أَنْ يَشَاءَ اللَّه “কোনো ব্যাপারে বলবে না: ‘আমি এটা আগামীকাল করব।’ ‘আল্লাহ চাইলে’ বলা ছাড়া।”[সূরা কাহফ: ২৩-২৪] এছাড়াও তার বাণী: وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ “আর বিশ্বজগতের প্রভু আল্লাহ না চাইলে তোমরা (কিছু) চাইতে পারো না।”[সূরা তাকভীর: ২৯]
৪- সৃষ্টির স্তর: সেটি হচ্ছে এই বিশ্বাস স্থাপন করা যে আল্লাহ সকল কিছুর স্রষ্টা। এই সমস্ত সৃষ্টির মাঝে বান্দার কর্মও অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এই জগতে এমন কিছু ঘটে না যা তিনি সৃষ্টি করেননি। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ “আল্লাহ সকল কিছুর স্রষ্টা।”[সূরা যুমার: ৬২] তিনি আরো বলেছেন: وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُون “আল্লাহ তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা যে কর্ম করো তাও (তিনি সৃষ্টি করেছেন)।”[সূরা সাফ্ফাত: ৯৬]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক নির্মাতা ও তার নির্মাণের স্রষ্টা।”[বর্ণনাটি ইমাম বুখারী তার ‘খালকু আফ’আলিল ইবাদ (২৫), ইবনু আবী আসিম তার ‘আস-সুন্নাহ’ (২৫৭) ও (৩৫৮)-তে বর্ণনা করেছেন। শাইখ আলবানী ‘সহিহাহ’ গ্রন্থে (১৬৩৭) এটিকে সহিহ বলে গণ্য করেছেন]
শাইখ ইবনে সাদী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: “আল্লাহ যেমনিভাবে তাদেরকে (মানুষদেরকে) সৃষ্টি করেছেন তেমনিভাবে তারা যা দিয়ে তাদের কাজগুলো করে (তথা ক্ষমতা ও ইচ্ছা) সেটাকেও তিনি সৃষ্টি করেছেন। তারপর তারা নানান কাজ করে, যেগুলোর মাঝে রয়েছে আল্লাহর আনুগত্যমূলক কিংবা অবাধ্যতার কাজ। এগুলো তারা তাদের শক্তি ও ইচ্ছার মাধ্যমেই করে থাকে যে দু'টিকে আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন।”[আদ-দুররাতুল বাহিয়্যা শারহুল কাসিদা আত-তাঈয়্যা: (পৃ. ১৮) থেকে সমাপ্ত]
কাযা ও তাকদীরের বিষয়ে বিবেক-বুদ্ধি খাটানোর ব্যাপারে সতর্কতা
কাযা ও তাকদীর হচ্ছে আল্লাহ তাআলার উপর সঠিকভাবে ঈমান আনার প্রকৃত মানদণ্ড। মানুষের জন্য তাদের রবকে চেনার ক্ষেত্রে এটি এক কঠিন পরীক্ষা। এটি জানার ফলে আল্লাহর প্রতি দৃঢ় ও সত্য একীন আসে এবং তাঁর জন্য যে সমস্ত পূর্ণতা ও মাহাত্ম্যের গুণাবলি অনিবার্য সেগুলোর উপরও একীন স্থাপিত হয়। কারণ কেউ যদি নিজের সীমিত বিবেক-বুদ্ধিকে লাগামহীন করে ছেড়ে দেয় তাহলে তাকদীরের ব্যাপারে বহু প্রশ্ন এসে হাজির হয়। তাকদীর সম্পর্কে বহু মতভেদ দেখা গিয়েছে। মানুষজন তাকদীর সম্পর্কে বর্ণিত আয়াতসমূহের ব্যাপারে তর্ক-বিতর্ক ও ব্যাখ্যা প্রদানে অনেক কথা বলেছে। বরং ইসলামের শত্রুরা যুগে যুগে তাকদীরের মাধ্যমেই মুসলিমদের আকীদায় সংশয় তৈরি করেছে। ফলে এমন হয়েছে যে সঠিক ঈমান এবং অকাট্য দৃঢ় বিশ্বাস কেবল ঐ ব্যক্তিরই আছে যে আল্লাহকে তাঁর উত্তম নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলি দিয়ে চিনেছে, আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করেছে, মনকে প্রশান্ত রেখেছে এবং রবের উপর ভরসা করেছে। সংশয়-সন্দেহ তার মনে জায়গা করে নিতে পারে না। আর এটি নিঃসন্দেহে অন্যান্য রোকনের তুলনায় এই রোকনের উপর ঈমান আনার গুরুত্বের সবচেয়ে বড় দলীল। এতে প্রমাণিত হয় যে মানুষের বিবেক-বুদ্ধি স্বতন্ত্রভাবে তাকদীর সম্পর্কে জানতে পারে না।
তাকদীর হলো সৃষ্টির ব্যাপারে আল্লাহর গোপন রহস্য। তিনি তাঁর কিতাবে কিংবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বচনে আমাদের কাছে যা উন্মোচন করেছেন তা আমরা জেনেছি এবং সেটার প্রতি ঈমান এনেছি। আর তিনি যে ব্যাপারে নীরব থেকেছেন সেটার প্রতিও আমরা ঈমান এনেছি এবং তাঁর পূর্ণ ন্যায় ও গভীর প্রজ্ঞার প্রতিও ঈমান এনেছি। তিনি যা করেন সে ব্যাপারে তিনি জিজ্ঞাসিত হন না; আর তারা (বান্দারা) জিজ্ঞাসিত হয়।
আল্লাহ তাআলা সর্বজ্ঞ। আল্লাহর দরূদ, সালাম ও বরকত তাঁর বান্দা ও নবী মুহাম্মাদের উপর অবতীর্ণ হোক।
সূত্রাবলি:
১- হাফেয ইবনে আহমদ আল-হাকামী রচিত أعلام السنة المنشورة لاعتقاد الطائفة الناجية المنصورة।
২- শাইখ ড. আব্দুর রহমান আল-মাহমুদ রচিত القضاء والقدر في ضوء الكتاب والسنة।
৩- শাইখ মুহাম্মাদ আল-হামাদ রচিত الإيمان بالقضاء والقدر।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।