হ্যাঁ, জামাতে নামাযের জন্য দু'জন মানুষ যথেষ্ট: ইমাম ও মুক্তাদী। হোক সেটা বাড়িতে বা অন্য কোথাও। ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: “দুই ও ততোধিকের সমন্বয়ে জামাত হওয়া সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ।” তারপর সেখানে মালেক ইবনুল হুয়াইরিস রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসটি বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “তোমরা সফরে গেলে আযান দিবে ও ইকামত বলবে। তোমাদের মধ্যে যে বড় সে ইমামতি করবে।” [সহীহ বুখারী: ৬৫৮]।
হাফেয ইবনে হাজার রাহিমাহুল্লাহ বলেন: “তার বক্তব্য ‘দুই ও ততোধিকের সমন্বয়ে জামাত হওয়া সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ’ এই শিরোনামটা একটা হাদীসের ভাষ্য যা দুর্বল কিছু বর্ণনায় এসেছে। ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক লোককে একাকী নামায পড়তে দেখে বললেন: “এমন কেউ কি নেই যে তার প্রতি সদকা করবে, তথা তার সাথে নামায পড়বে?” তখন এক লোক উঠে গিয়ে তার সাথে নামায আদায় করল। তিনি বললেন: “এই দুজনে মিলে জামাত হয়েছে।”
“এই দুজনে মিলে জামায়ত হয়েছে” অংশটুকু বাদে বাকি ঘটনা আবু দাউদ ও তিরমিযী অন্য এক বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
ইবনে হাজার আরো বলেন:
এটা (অর্থাৎ মালেক ইবনুল হুয়াইরিস রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস) দিয়ে দলীল প্রদান করা হয়েছে যে জামাতের সর্বনিম্ন সংখ্যা হলো একজন ইমাম ও একজন মুক্তাদী। মুক্তাদী সাধারণভাবে পুরুষ অথবা শিশু কিংবা নারী যে কেউ হতে পারে।” [হাফেযের কথা সমাপ্ত]।
হাফেয যে হাদীসটির দিকে ইঙ্গিত দিয়েছেন সেটা সুনান আবু দাউদে (৫৫৪) বর্ণিত হয়েছে এবং আবু দাউদ সেটাকে বিশুদ্ধ বলেছেন। হাদীসটির ভাষ্য হলো: আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক লোককে একাকী নামায পড়তে দেখে বললেন: “এমন কেউ কি নেই, যে তার প্রতি সদকা করবে, তথা তার সাথে নামায পড়বে?” [শাইখ আলবানী সহীহুল জামে (২৬৫২) বইয়ে এটাকে সহীহ বলেছেন]।
আউনুল মা‘বূদ গ্রন্থের লেখক বলেন: “যাতে করে সে জামাতের নেকী পায়। পরিণামে সে যেন তার প্রতি সদকা করল।”
উবাই ইবনে কা‘ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “একাকী নামাযের চেয়ে কোনো ব্যক্তির অন্য কারো সাথে নামায আদায় করা অধিক পবিত্র। আর একজনের সাথে নামায পড়ার চেয়ে দুইজনের সাথে নামায পড়া বেশি পবিত্র। সংখ্যায় তারা যত বেশি, আল্লাহর কাছে সে নামায তত প্রিয়।” [সুনান নাসাঈ (৮৪৩) ও সুনান আবি দাউদ (৫৫৪)। শাইখ আলবানী সহীহুল জামে (২২৪২) বইয়ে এটাকে সহীহ বলেছেন।] তবে এটা জানা জরুরী, প্রত্যেক ব্যক্তির উপর মসজিদে গিয়ে জামাতে নামায আদায় করা ওয়াজিব। ওজর ছাড়া একাকী কিংবা ঘরে জামাত করে নামায পড়া জায়েয নেই।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: দু'জনের একত্রে নামায পড়া কি জামাত হিসেবে গণ্য হবে?
কমিটি উত্তর দেয়: “দু'জন ও ততোধিক ব্যক্তির একত্রে নামায জামাত হিসেবে গণ্য হয়। কিন্তু সংখ্যা যত বেশি হয় মর্যাদাও তত বেড়ে যায়। তদুপরি মসজিদে জামাতের সাথে নামায আদায় করা ওয়াজিব।” [ফাতাওয়াল লাজনাহ আদ-দাইমাহ: (৭/২৮৯)]।
শাইখ ইবনে উছাইমীন রাহিমাহুল্লাহুকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল এমন একদল লোকের ব্যাপারে যারা ঘরে জামাত করে নামায আদায় করে। তিনি বলেন:
“আমি এদেরকে উপদেশ দিব যেন তারা আল্লাহকে ভয় করে এবং মসজিদে মুসলিমদের সাথে জামাতে নামায আদায় করে। কারণ এই মাসআলায় আলেমদের অগ্রগণ্য মত হলো, কোনো ওজর না থাকলে মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে নামায আদায় করা ওয়াজিব। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমি ইচ্ছা হচ্ছিল যে, নামায শুরু করার নির্দেশ দিই। নামায দাঁড়ানোর পর একজন লোককে আদেশ দিই যেন সে মানুষের ইমামতি করবে। আর আমি কিছু লোক নিয়ে বেরিয়ে যাই যাদের সাথে লাকড়ির বোঝা আছে। তারপর যে লোকেরা নামাযে উপস্থিত হয়নি আমি তাদের বাড়ীঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিই।” [দেখুন: বুখারী (৬৪৪) ও মুসলিম (৬৫১)]।
এই লোকেরা হয়তো নিজেদের বাসস্থানে জামাত করে নামায আদায় করে। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চেয়েছিলেন তারা যেন সেই জামাতের সাথে নামায আদায় করে, যেই জামাতকে শরীয়ত নির্ধারণ করেছে। আর শরীয়ত নির্ধারিত জামাত হলো তারা যারা এমন মসজিদে নামায আদায় করবে যেখানে নামাযের সময় হলে নামাযের জন্য আহ্বান করা হয়। তাই তো আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: “যে ব্যক্তি আগামীকাল মুসলিম অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে চায়, সে যেন এই নামাযগুলো নিয়মিত সেই স্থানে আদায় করে যেখানে নামাযগুলো আদায় করার জন্য ডাকা হয়।” তিনি বললেন: “যেখানে নামাযগুলো আদায় করার জন্য ডাকা হয়” আর ‘যেখানে’ শব্দটা স্থান নির্দেশক। অর্থাৎ সে যেন নামাযটা নিয়মিত সেই স্থানে আদায় করে যেখানে এর জন্য ডাকা হয়” [ফাতাওয়াশ শাইখ ইবনে উছাইমীন: (১৫/১৯)]।