যে নারীর অপারেশন হওয়ার কারণে হায়েয থেকে পবিত্রতার গোসল করতে পারছেন না; তিনি কি তায়াম্মুম করবেন?

প্রশ্ন 87711

আমার একটা অপারেশন হয়েছে। এদিকে আমার মাসিক ঋতুস্রাব চলমান। আমি যখন নামায পড়তে যাব তখন আমার করণীয় কী? আমি কি তায়াম্মুম করব? হায়েয থেকে তায়াম্মুম করার সঠিক পন্থা কী? আমি কি প্রত্যেক নামাযের জন্য তায়াম্মুম করব?

উত্তর

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের প্রতি। পর সমাচার:

ঋতুমতী নারী ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হওয়ার পর তিনি যদি নামায পড়তে চান, তখন তার উপর গোসল করা আবশ্যক। তিনি যদি গোসল করতে অক্ষম হন— বিছানা থেকে উঠে পানি ব্যবহার করার ক্ষমতা না থাকার কারণে কিংবা পানি ব্যবহারে শারীরিক ক্ষতি হওয়ার কারণে; তাহলে তিনি তায়াম্মুম করবেন।

শাইখ ইবনে বায রাহিমাহুল্লাহ বলেন: “যেহেতু ইসলামী শরীয়ত সহজতার উপর প্রতিষ্ঠিত, সেহেতু যে ব্যক্তিদের ওজর আছে, তাদেরকে ওজর অনুযায়ী আল্লাহ তায়ালা কাজের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদান করেছেন; যাতে তারা কোনো প্রকার সংকীর্ণতা বা কঠোরতায়  না পড়ে যায়। আল্লাহ তায়ালা বলেন: “তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোনো সংকীর্ণতা আরোপ করেননি।” তিনি আরো বলেন: “তিনি তোমাদের জন্য সহজ চান, তোমাদের জন্য কষ্ট চান না।” মহান আল্লাহ বলেন: “তোমরা সাধ্যমত আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো।” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “আমি যখন তোমাদেরকে কোনো কাজের নির্দেশ দিব, তোমরা সাধ্যমত সে কাজটা করো।” তিনি আরো বলেন: “এই দ্বীন সহজ।”

অসুস্থ ব্যক্তি যদি অক্ষমতা, অসুস্থতা বৃদ্ধি পাওয়া কিংবা সুস্থতা অর্জন বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কায় পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করতে না পারে তথা ছোট নাপাকি থেকে অযু করতে কিংবা বড় নাপাকি থেকে গোসল করতে সক্ষম না হয়, তাহলে সে তায়াম্মুম করবে। এর পদ্ধতি হলো: সে তার দুই হাত দিয়ে পবিত্র মাটিতে একবার আঘাত করবে। তারপর আঙুলের পেট দিয়ে মুখমণ্ডল মুছবে। আর দুই হাতের তালু দিয়ে দুই হাতের কবজিদ্বয় মুছবে। কারণ আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: “আর যদি তোমরা পীড়িত হও অথবা সফরে থাক বা তোমাদের কেউ শৌচাগার থেকে আসে অথবা তোমরা নারী সম্ভোগ কর এবং পানি না পাও তবে পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম কর। অর্থাৎ মাসেহ কর তোমাদের চেহারা ও হাত আর পানি ব্যবহার করতে অক্ষম ব্যক্তির হুকুম পানি পায়নি এমন ব্যক্তির হুকুমে পড়বে। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু বলেন: “তোমরা সাধ্যমত আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো।”  আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “আমি যখন তোমাদেরকে কোনো কাজের নির্দেশ দিই, তোমরা সাধ্যমত তা করো

তিনি আরো বলেন: “রোগীর জন্য পবিত্রতার ক্ষেত্রে কয়েকটি অবস্থা:

১- রোগীর রোগ যদি সামান্য হয় যে, পানি ব্যবহার করলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, আশঙ্কাজনক রোগে আক্রান্ত হওয়া, সুস্থতায় বিলম্ব হওয়া কিংবা ব্যথা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকে, কিংবা তার জন্য কোনো ক্ষতি ছাড়া উষ্ণ পানি ব্যবহার করা সম্ভবপর হয়, তাহলে তার জন্য তায়াম্মুম করা জায়েয নেই। কারণ তাকে এমন বৈধতা দেওয়া হয়েছে ক্ষতি না থাকার শর্তে; এক্ষেত্রে তার তো কোনো ক্ষতি হবে না। অধিকন্তু তার কাছে পানি আছে; সুতরাং সেটা ব্যবহার করা আবশ্যক।

২- আর যদি রোগীর এমন রোগ হয় যার কারণে প্রাণ হারানো, অঙ্গহানি হওয়া কিংবা এমন নতুন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে যার ফলে সে প্রাণ হারাবে অথবা অঙ্গ হারাবে অথবা অঙ্গের কার্যকারিতা হারাবে, তাহলে সেই ব্যক্তির জন্য তায়াম্মুম করা জায়েয। কারণ আল্লাহ তায়ালা বলেন: “তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো না, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি অনুগ্রহশীল।

৩- রোগীর যদি এমন রোগ হয় যার কারণে নড়াচড়া করতে না পারে কিংবা তাকে পানি দেওয়ার মত কেউ না থাকে, তাহলে তার জন্য তায়াম্মুম করা জায়েয।

৪- যার শরীরে এমন কিছু জখম, ঘা, ভাঙন বা রোগ আছে যেটার জন্য পানি ব্যবহার করা ক্ষতিকর; তার উপর যদি গোসল ফরয হয়, তাহলে উপর্যুক্ত দলীলের ভিত্তিতে তার জন্যেও তায়াম্মুম করা জায়েয। যদি তার পক্ষে শরীরের সুস্থ অংশ ধোয়া সম্ভবপর হয় তাহলে ততটুকু ধোয়া তার উপর ওয়াজিব; আর বাকি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জন্য সে তায়াম্মুম করবে।

৫- রোগী যদি এমন কোনো স্থানে থাকে যেখানে পানি নেই, মাটি নেই, এমনকি তাকে এই দুইটি এনে দেয়ার মত কোনো মানুষও নেই, তাহলে সে যে অবস্থাতে আছে ঐ অবস্থাতেই নামায পড়বে। কিন্তু, তার জন্য নামায পেছানো জায়েয নেই। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু বলেন: “তোমরা আল্লাহকে সাধ্যমত ভয় করো” [আল-ফাতাওয়া আল-মুতায়াল্লিকাতু বিত্তিব্বি ওয়া-আহকামিল মারদ্বা, পৃ. ২৬]।

দুই:

হায়েয বা ঋতুস্রাব থেকে তায়াম্মুম করা ছোট অপবিত্রতা থেকে তায়াম্মুম করার ধরন থেকে ভিন্ন নয়। ইতঃপূর্বে শাইখ ইবনে বায রাহিমাহুল্লাহুর বক্তব্যে তায়াম্মুমের বিবরণ গিয়েছে।

(21074) নং প্রশ্নের উত্তরে বিস্তারিত এর বিবরণ গিয়েছে।

তিন:

অগ্রগণ্য মতানুসারে তায়াম্মুমও অযুর মত অপবিত্র অবস্থাকে দূর করে দেয়। সুতরাং এটা দিয়ে আপনি একাধিক ফরয নামায পড়তে পারবেন। প্রতিটি নামাযের জন্য পুনঃ পুনঃ তায়াম্মুম করা আবশ্যক হবে না।

উদাহরণস্বরূপ আপনি যদি যোহরের নামাযের জন্য তায়াম্মুম করেন এবং আপনার অযু না ভাঙে, তাহলে সেটা দিয়ে আসরের নামায পড়তে পারবেন। এভাবে বাকি নামাযগুলোতেও করবেন।

শাইখ ইবনে উছাইমীন রাহিমাহুল্লাহুকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: “একজন মানুষ যদি নফল নামাযের জন্য তায়াম্মুম করে, সে কি ঐ তায়াম্মুম দিয়ে ফরয নামায পড়তে পারবে?”

তিনি উত্তর দেন: “তায়াম্মুম অপবিত্রতা দূরকারী। সুতরাং সে নফলের জন্য তায়াম্মুম করলে সেটা দিয়ে ফরযও আদায় করতে পারবে, যেমনিভাবে নফল নামাযের জন্য অযু করলে সেই অযু দিয়ে ফরয নামায পড়া যায়। তায়াম্মুম ভঙ্গের কোনো কারণ না পাওয়া যাওয়া পর্যন্ত ওয়াক্ত শেষ হয়ে গেলেও তায়াম্মুম পুনরায় করা আবশ্যক হয় না।” [ফাতাওয়াশ-শাইখ ইবনে উছাইমীন (১১/২৪০)]।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

সূত্র

তায়াম্মুম

সূত্র

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

Previous
পরবর্তী
answer

সংশ্লিষ্ট প্রশ্নোত্তরসমূহ

at email

নিউজলেটার

ওয়েবসাইটের ইমেইল ভিত্তিক নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন

phone

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব অ্যাপ্লিকেশন

কন্টেন্টে আরও দ্রুত পৌঁছতে ও ইন্টারনেট ছাড়া ব্রাউজ করতে

download iosdownload android