জীনের অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকার অন্যতম উপায় হল আল্লাহর কাছে জীনের থেকে আশ্রয় চাওয়া, সূরা ফালাক ও নাস পড়া, আয়াতুল কুরসী পড়া, সূরা বাকারা পড়া, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়া, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া-লাহুল হামদু ওয়া-হুয়া আলা কুল্লি শাই-ইন ক্বাদীর’ পড়া, বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করা, আযান দেওয়া। সাধারণত কুরআন পড়া শয়তানদের থেকে সুরক্ষা দেয়।
আমরা কীভাবে জীনের অনিষ্ট থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারব?
প্রশ্ন 10513
আমি জীন নিয়ে সমস্যায় ভুগছি। সারা জীবনই আমি বিভিন্ন অবস্থায় জীন প্রকাশ পেতে দেখেছি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময় ছাড়া কখনো তাদেরকে নিয়ে খুব বেশি সংকট অনুভব করিনি। আমাদের ফ্ল্যাটে প্রথম যেদিন এলাম সেদিন আমি একটি জীন দেখেছি। প্রায়ই আমি এই জীন বা জীনদের নানান কার্যক্রম লক্ষ্য করতাম। যেমন: দরজা নিজে নিজে খুলে যেত। আমি এদেরকে দেখতাম, শুনতে পেতাম .. ইত্যাদি। কিন্তু এক পর্যায়ে এসে বিষয়টিতে বড় ধরনের পরিবর্তন হতে শুরু হল। কিছু কিছু কাজ দৈনিক ঘটতে লাগল। এই বিষয়গুলোর কারণে আমি ঘরে থাকতে অস্বস্তি বোধ করছি। এমনকি এখন আমি আর এই বাড়িতে থাকতে চাইছি না। ঐ জীন অথবা জীনেরা দরজা খুলে আমার নাম ধরে ডাকে, তখন আমি ভয়ে ঘুম থেকে জেগে যাই। কিছু আসবাব-পত্রে আঘাত করে। বিড়ালের আকৃতিতে প্রকাশ করে। আমার কম্পিউটার ও টেলিফোন নিয়ে নাড়াচাড়া করে। আমি তার ছায়া দেখতে পাই ... ইত্যাদি। বিষয়টি খুবই অস্বাভাবিক। আমি নিশ্চিতভাবে জানি না যে, এই সমস্যা মোকাবেলায় কী করতে পারি। আমি আশা করছি এই বাড়ি থেকে চলে গেলে সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু এই মুহূর্তে আমি সূরা বাকারা, ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ার চেষ্টা করছি। এছাড়া আমি ঘরে কুরআনের ক্যাসেট চালু করে রাখি। আমি এগুলো করার সাথে সাথে জীনের উৎপাত থেমে যায়। কিন্তু পড়া ছেড়ে দিলে জীন আবার হাজির হয় এবং (অধিকাংশ সময়ে) আমাকে তার উপস্থিতি কোনো না কোনোভাবে জানান দেয়। কখনো ক্যাসেট প্লেয়ার বন্ধ করে দেয় এবং পড়ার সময়ে কম্পিউটার চালু হয়ে যায়। ... বেশ কয়েক বার এমনটি ঘটেছে। এছাড়াও জীনেরা বহুবার আমার স্বপ্নে দেখা দিয়েছে। আমি জানি না এই অবস্থা থেকে কীভাবে মুক্তি পাব। কিন্তু এই বিষয়ে আমার প্রতি আপনার উত্তর বা পরামর্শকে আমি খুব গুরুত্ব দিয়ে গ্রহণ করব। আশা করি দ্রুত সেটি করবেন।
উত্তরের সার-সংক্ষেপ
উত্তর
এক:
মানুষ কি জীনকে দেখতে পায়?
প্রশ্নকারী বোন বলছেন তিনি জীন দেখতে পেয়েছেন। এটি ভুল। কেননা জীন (মানুষদেরকে) দেখতে পায়। কিন্তু মানুষেরা জীনকে দেখতে পায় না।
শাফেয়ী বলেন: ‘যে দ্বীনদার ব্যক্তি দাবি করে যে সে জীন দেখে তার সাক্ষ্য বাতিল হবে। কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: “সে ও তার দলবল তোমাদেরকে দেখতে পায়; কিন্তু তোমরা তাদেরকে দেখতে পাও না”। তবে নবী হলে জীনকে দেখতে পায়।’[আহকামুল কুরআন (২/১৯৫, ১৯৬)]
ইবনে হাযম বলেন:
‘জীন সত্য। তারা আল্লাহর অন্যতম সৃষ্টি। তাদের মধ্যে রয়েছে কাফের ও মুমিন। তারা আমাদেরকে দেখতে পায়; আমরা তাদেরকে দেখতে পাই না। তারা খায়, সন্তান জন্ম দেয় ও মারা যায়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالإنْسِ “হে জীন ও মানুষ সম্প্রদায়”। তিনি আরো বলেছেন: وَالْجَانَّ خَلَقْنَاهُ مِن قَبْلُ مِن نَّارِ السَّمُومِ “আমরা ইতঃপূর্বে জীনকে ধুম্রহীন আগুন থেকে সৃষ্টি করেছি।” তিনি তাদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন:
وَأَنَّا مِنَّا الْمُسْلِمُونَ وَمِنَّا الْقَاسِطُونَ ۖ فَمَنْ أَسْلَمَ فَأُولَٰئِكَ تَحَرَّوْا رَشَدًا (*) وَأَمَّا الْقَاسِطُونَ فَكَانُوا لِجَهَنَّمَ حَطَبًا
“আমাদের মধ্যে (আল্লাহর কাছে) মুসলিমরাও আছে, আবার আমাদের মধ্যে বিপথগামীরাও আছে। যারা মুসলিম, তারাই সঠিক পথ খুঁজে নিয়েছে। আর যারা বিপথগামী, তারা হবে জাহান্নামের জ্বালানি।” তিনি আরো বলেন: إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ “সে ও তার দলবল তোমাদেরকে দেখতে পায়; কিন্তু তোমরা তাদেরকে দেখতে পাও না।” তিনি আরো বলেন: أَفَتَتَّخِذُونَهُ وَذُرِّيَّتَهُ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِي “তোমরা কি আমাকে ছাড়া তাকে ও তার বংশধরদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে?” তিনি আরো বলেন: كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ “ভূপৃষ্ঠে যারা আছে তাদের প্রত্যেকেই ধ্বংসশীল।” এছাড়াও তিনি বলেন: كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ “প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে।” ...[আল-মুহাল্লা (১/৩৪-৩৫)]
তাই প্রশ্নকারী বোন যা কিছু দেখেছেন সেগুলো কল্পনা অথবা এমন জীন যা আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত আকৃতির পরিবর্তে ভিন্ন আকৃতি ধারণ করেছে।
দুই:
জীন কি মানুষকে কষ্ট দেয়?
জীন কর্তৃক মানুষকে কষ্ট দেওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত ও প্রমাণিত। কুরআন ও শরয়িসম্মত যিকিরের মাধ্যমে এর থেকে সুরক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
শাইখ ইবনে উছাইমীন রাহিমাহুল্লাহ বলেন:
‘নিঃসন্দেহে জীনেরা মানুষদের এমন কষ্ট দিতে সক্ষম; যা হত্যা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। কখনো পাথর ছুঁড়ে মারার মাধ্যমে তাকে কষ্ট দেয়। কখনো তারা মানুষদেরকে ভয় দেখায়, ইত্যাদি নানান কিছু যা সুন্নাহর মাধ্যমে সাব্যস্ত ও বাস্তবে প্রমাণিত। সহিহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কোনো এক সাহাবীকে এক যুদ্ধে (সম্ভবত খন্দকের যুদ্ধে) পরিবারের কাছে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। উক্ত সাহাবী ছিলেন নতুন বিবাহিত বর। ঘরে পৌঁছানোর পরে দেখতে পেলেন তার স্ত্রী দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন। সাহাবী তার এই কাজে আপত্তি করলেন। তার স্ত্রী বলল: আপনি ঘরে প্রবেশ করুন। সাহাবী ঘরে ঢুকে দেখতে পেলেন বিছানার উপর একটি সাপ কুণ্ডলী পাকিয়ে বসে আছে। তার হাতে একটি বর্শা ছিল। তিনি সেটা দিয়ে সাপটিকে আঘাত করতে করতে মেরে ফেললেন। আর তৎক্ষণাৎ (সাপ মরার সময়ে) লোকটাও মারা গেল। এমনকি সাপ আগে মরল; নাকি লোকটি আগে মারা গেল সেটি বোঝা গেল না। খবরটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পৌঁছলে তিনি ঘরে থাকা ছোট সাপ হত্যা করতে নিষেধ করেছেন। কেবল লেজ-বিহীন সাপ ও পিঠে দুই দাগ বিশিষ্ট সাপ ছাড়া।
এটি প্রমাণ করে যে জীনেরা মানুষের উপর আক্রমণ করে এবং তাদেরকে কষ্ট দেয়। বাস্তবতাও এর সাক্ষী। মুতাওয়াতির সূত্র এমন বহু ঘটনা বর্ণিত হয়েছে যে মানুষ কোনো পোড়োবাড়িতে এসেছিল। তখন তাকে পাথর মেরেছে। কিন্তু, সেখানে কোনো মানুষকে সে দেখেনি। সে হয়তো কিছু আওয়াজ শুনে কিংবা গাছের পাতার খসখসানির মত খসখসানি বা এ ধরনের কিছু শুনে। যেগুলো থেকে সে ভয় পায় ও কষ্ট পায়। অনুরূপভাবে জীন কখনো প্রেম বা কষ্ট দেওয়া বা অন্য কোনো কারণে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। আল্লাহর একটি বাণী এর সপক্ষে ইঙ্গিত প্রদান করে। আল্লাহ বলেন: الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ “যারা সুদ খায় তারা (কেয়ামতের দিন) শয়তানে-ধরা মানুষের মতই দাঁড়াবে।” এই প্রকারের ক্ষেত্রে জীন হয়তো মানুষের ভেতরে থেকে কথা বলে। যে ব্যক্তি কুরআনের কিছু আয়াত দিয়ে তাকে ঝাড়ফুঁক করে সে তাকে সম্বোধন করে কথা বলে । কখনো এই ঝাড়ফুঁককারী তার কাছ থেকে ওয়াদা নেয় যে আর কখনো সে ফিরবে না। এছাড়া আরো অনেক ঘটনা বহু সংখ্যক মানুষের থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং ছড়িয়ে পড়েছে।
জীন থেকে আত্মরক্ষা
সুতরাং জীনের অনিষ্ট থেকে সুরক্ষার জন্য মানুষ সুন্নাহতে বর্ণিত সুরক্ষক দোয়াগুলো পড়বে। যেমন: আয়াতুল কুরসী। কেননা আয়াতুল কুরসী কোনো রাতে পড়লে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য রক্ষাকারী থাকে এবং সকাল হওয়া পর্যন্ত তার কাছে কোনো শয়তান আসতে পারে না। আল্লাহই রক্ষাকারী।[মাজমুউ ফাতাওয়াশ শাইখ ইবনে উছাইমীন (১/২৮৭-২৮৮)]
শয়তান থেকে সুরক্ষামূলক কিছু যিকির সুন্নাহতে বর্ণিত এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে:
- আউযুবিল্লাহ পড়া তথা আল্লাহর কাছে জীন থেকে আশ্রয় চাওয়া।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَإِمَّا يَنزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ إِنَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
“আর যদি তোমার কাছে শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো কুমন্ত্রণা আসে তাহলে আল্লাহর আশ্রয় চাইবে। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছু শোনেন, সবকিছু জানেন।”[সূরা আ’রাফ: ২০০]
সুলাইমান ইবনে সুরাদ বর্ণনা করেন: দুজন লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে গালমন্দ করছিল। এক পর্যায়ে একজনের চেহারা রক্তিম বর্ণ ধারণ করলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “আমি এমন বাক্য জানি যা পড়লে এই ব্যক্তির রাগ চলে যাবে। সেটি হচ্ছে: আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাজীম।”[হাদীসটি বুখারী (৩১০৮) ও মুসলিম (২৬১০) বর্ণনা করেন]
- সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়া
আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীন ও মানুষের বদনজর থেকে পানাহ চাইতেন (আউযুবিল্লাহ পড়তেন)। এক পর্যায়ে সূরা ফালাক ও সূরা নাস অবতীর্ণ হলো। এই দুটি অবতীর্ণ হওয়ার পর তিনি এই দুই সূরা গ্রহণ করলেন এবং এই দুটি ছাড়া অন্য সব কিছু পরিহার করলেন।’[হাদীসটি তিরমিযী (২০৫৮) বর্ণনা করেন এবং বলেন: হাদীসটি হাসান-গরীব। এছাড়া নাসাঈ (৫৪৯৪) ও ইবনে মাজাহ (৩৫১১) এটি বর্ণনা করেন। শাইখ আলবানী রাহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে ‘সহীহুল জামে’ (৪৯০২) গ্রন্থে সহিহ বলে গণ্য করেছেন]
- আয়াতুল কুরসী পড়া
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ফিতরার সম্পদ পাহারায় নিযুক্ত করলেন। এমন সময় আমার কাছে এক ব্যক্তি এসেই অঞ্জলি ভরে খাদ্যশস্য উঠাতে লাগল। আমি তাকে ধরে ফেললাম ও বললাম: আমি তোমাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে যাব। সে বলল: ‘আমি তোমাকে এমন কয়টি বাক্য শিখাব, যে বাক্যগুলোর দ্বারা আল্লাহ তোমার উপকার করবেন। আমি বললাম: সেগুলো কী? সে বলল: তুমি শোবার জন্য বিছানায় গেলে পড়বে: الله لا إله إلا هو الحي القيوم ... আয়াতুল কুরসির শেষ পর্যন্ত। তাহলে আল্লাহর তরফ থেকে তোমার জন্য একজন রক্ষী থাকবে, ভোর হওয়া পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান ঘেঁষতে পারবে না।’ ভোরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: ‘তোমার বন্দীর কী হলো? আমি বললাম: ‘হে আল্লাহর রাসূল! সে দাবি করল যে সে আমাকে এমন কয়টি বাক্য শিখাবে যার দ্বারা আল্লাহ আমার উপকার করবেন।’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “কী সেটা?” আবু হুরাইরা বললেন: ‘সে আমাকে শিখিয়েছে যেন আমি ঘুমানোর জন্য শুতে গেলে আয়াতুল কুরসী পড়ি। তাহলে সকাল পর্যন্ত সে আমার কাছে আসবে না। আর আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আমার জন্য রক্ষী থাকবে।’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “শুনো! সে সে চরম মিথ্যুক হলেও তোমাকে সত্য বলেছে। ওটা ছিল শয়তান।”[হাদীসটি বুখারী (৩১০১) বর্ণনা করেন]
- সূরা বাকারা পড়া
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা তোমাদের ঘরকে কবর বানিয়ো না। যে ঘরে সূরা বাকারা পঠিত হয়, সে ঘর থেকে শয়তান পলায়ন করে।”[হাদীসটি মুসলিম (৭৮০) বর্ণনা করেন]
- সূরা বাকারার শেষাংশ পড়া
আবু মাসউদ আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “যে ব্যক্তি কোনো রাতে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়বে তার জন্য এই দুই আয়াতই যথেষ্ট।”[হাদীসটি বুখারী (৪৭২৩) ও মুসলিম (৮০৭) বর্ণনা করেন]
নু’মান ইবনে বশীর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ আসমান ও যমীন সৃষ্টির দুই হাজার বছর আগে একটি কিতাব লিখেছেন। এর মধ্য থেকে দুটি আয়াত তিনি অবতীর্ণ করেছেন, সে দুটো দিয়ে তিনি সূরা বাকারার সমাপ্তি করেছেন। কোনো ঘরে এই আয়াত দুটি তিনরাত পড়া হলে তাতে শয়তান অবস্থান করে না।”[হাদীসটি তিরমিযী (২৮৮২) বর্ণনা করেন। শাইখ আলবানী সহিহুল জামে’ (১৭৯৯) গ্রন্থে এটিকে সহিহ বলে গণ্য করেছেন।]
- একশ বার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাই-ইন ক্বাদীর’ পড়া।
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি দিনে একশ বার এই দোয়া পড়বে:
لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
‘আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব একমাত্র তাঁরই। সমস্ত প্রশংসাও একমাত্র তাঁরই জন্য। আর তিনি সকল বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান’, তাহলে দশটি গোলাম মুক্ত করার সমান সাওয়াব তার হবে। তার জন্য একশটি সাওয়াব লেখা হবে এবং আর একশটি গুনাহ মিটিয়ে ফেলা হবে। ঐদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত এই দুআটি তার জন্য রক্ষাকবচ হবে। কোন লোক তার চেয়ে উত্তম সওয়াবের কাজ করতে পারবে না। তবে হ্যাঁ, কেবল ঐ ব্যক্তি সক্ষম হবে, যে ঐ দুআটির আমল এর চেয়েও বেশি পরিমাণে করবে।”[হাদীসটি বুখারী (৩১১১৯) ও মুসলিম (২৬৯১) বর্ণনা করেন]
- বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করা
আল-হারেস আল-আশআরী বর্ণনা করেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তাআলা ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া আলাইহিস সালামকে পাঁচটি বিষয়ের আদেশ করলেন যেন তিনি নিজে তা অনুযায়ী আমল করেন এবং বনী ইসরাঈলকেও তার উপর আমল করার আদেশ করেন। ... আমি তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছি যেন তোমরা আল্লাহ তাআলার যিকির করো। যিকিরের উদাহরণ হল সেই ব্যক্তির ন্যায় যার দুশমনেরা তার পিছু ধাওয়া করছে। অবশেষে সে একটি সুরক্ষিত দুর্গে প্রবেশ করে শক্র হতে নিজের প্রাণ রক্ষা করল। তদ্রুপ কোন বান্দা আল্লাহ তা'আলার যিকির ছাড়া নিজেকে শয়তানের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে না।... সম্পূর্ণ হাদীস।[হাদীসটি তিরমিযী (২৮৬৩) বর্ণনা করেন এবং বলেন: এটি হাসান সহীহ। শাইখ আলবানী সহীহুল জামে’ গ্রন্থে (১৭২৪) এটিকে সহীহ বলে গণ্য করেন]
- আযান:
সুহাইল ইবনে আবী সালিহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে বনু হারিসা গোত্রের কাছে পাঠালেন। আমার সাথে আমাদের এক দাস অথবা আমার এক সাথী ছিল। তখন এক বাগানের দেয়ালের ভিতর থেকে তার নাম ধরে কে যেন তাকে ডাকল। আমার সাথী দেয়ালের উপর দিয়ে তাকিয়ে কোনো কিছুকে দেখতে পেল না। এ ঘটনা আমি আমার পিতার কাছে বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন: আমি যদি মনে করতাম যে তুমি এমন অবস্থার মুখোমুখি হবে তবে তোমাকে পাঠাতাম না। কিন্তু, যখন তুমি এমন কোনো শব্দ শুনতে পাবে তখন নামাযের অনুরূপ আযান দিবে। কেননা আমি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন নামাযের আযান দেয়া হয় তখন শয়তান বায়ু ছাড়তে ছাড়তে তাড়াতাড়ি পালিয়ে যায়।”[হাদীসটি মুসলিম (৩৮৯) বর্ণনা করেন]
- কুরআন পাঠ শয়তানদের থেকে সুরক্ষা দেয়
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ جَعَلْنَا بَيْنَكَ وَبَيْنَ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ حِجَابًا مَّسْتُورًا
“তুমি যখন কুরআন পাঠ করো তখন আমি তোমার মধ্যে ও যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তাদের মধ্যে একটি প্রচ্ছন্ন পর্দা স্থাপন করি।”[সূরা ইসরা: ৪৫]
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
সূত্র:
ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব