"পবিত্র কুরআনের ব্যাপারে সলফে সালেহীন (উত্তম পূর্বসুরি)-এর আকিদা ঠিক তেমন, যেমনটি আল্লাহর অন্যান্য নাম ও গুণাবলির (সিফাত) ক্ষেত্রে তাদের আকিদা। এই আকিদা আল্লাহ তাআলার কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর দলিলের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমরা সবাই জানি যে, মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনকে তাঁর 'কালাম' (বাণী) হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এটি তাঁর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেন: (অর্থ): "আর মুশরিকদের মধ্যে যদি কেউ তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দাও, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়। অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও।"[সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ৬]
এখানে 'আল্লাহর কালাম' বলতে নিঃসন্দেহে পবিত্র কুরআনকে বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: (অর্থ): "নিশ্চয়ই এই কুরআন বনী ইসরাঈলদের কাছে সেই সব বিষয়ের অধিকাংশ বর্ণনা করে, যেগুলোতে তারা মতভেদ করে।" [সূরা আন-নামল, আয়াত: ৭৬]
সুতরাং, পবিত্র কুরআন ধ্বনি ও ভাব উভয় দিক থেকেই মহান আল্লাহর কালাম। আল্লাহ তাআলা বাস্তবে এ কথা বলেছেন এবং জিবরাঈল আলাইহিস সালামের কাছে এটি প্রেক্ষপণ করেছেন। অতঃপর জিবরাঈল আলাইহিস সালাম এ কালাম নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হৃদয়ে নাযিল করেছেন; যেন তিনি ভীতি প্রদর্শনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন; সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।
সলফে সালেহীন বিশ্বাস করেন যে, কুরআন অবতীর্ণ (নাযিলকৃত)। আল্লাহ তাআলা এটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর পর্যায়ক্রমে ২৩ বছর ধরে আল্লাহর প্রজ্ঞার দাবি মোতাবেক অবতীর্ণ করেছেন।
এই অবতরণ কখনো ছিল প্রাথমিক (কোনো বিশেষ কারণ ছাড়া)। আবার কখনো ছিল কারণভিত্তিক (সাবাবি)। অর্থাৎ এর কিছু অংশ কোনো বিশেষ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নাযিল হয়েছে। আর কিছু অংশ কোনো কারণ ছাড়াই নাযিল হয়েছে। আবার কিছু অংশ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের অতীত অবস্থার বর্ণনা করে নাযিল হয়েছে এবং এর কিছু অংশ শরয়ি বিধান হিসেবে প্রাথমিকভাবে নাযিল হয়েছে। ইলমে ওহীর বিশেষজ্ঞগণ এভাবে উল্লেখ করেছেন।
সালাফগণ আরও বলেন: কুরআন আল্লাহর নিকট থেকে শুরু হয়েছে এবং শেষ জামানায় তাঁর কাছেই ফিরে যাবে। পবিত্র কুরআন সম্পর্কে এটাই সালাফদের বক্তব্য।
আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট যে, আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনকে মহান সব বিশেষণে ভূষিত করেছেন। তিনি একে 'হাকিম' (প্রজ্ঞাময়), 'কারীম' (সম্মানিত), 'আজিম' (মহান) এবং 'মাজিদ' (মহিমান্বিত) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাঁর কালামকে পূর্বোক্ত যেসব গুণে গুণান্বিত করেছেন সেগুলো ঐ ব্যক্তির মধ্যে দেখা যায় যে এই কিতাবকে আঁকড়ে ধরে এবং প্রকাশ্যে ও গোপনে সে অনুযায়ী আমল করে। আল্লাহ তাআলা তাকে মর্যাদা, মহত্ত্ব, প্রজ্ঞা, শক্তি ও আধিপত্য দান করেন। যে গুণগুলো ঐ ব্যক্তিকে দেওয়া হয় না যে আল্লাহর কিতাবকে আঁকড়ে ধরে না।
এ কারণে আমি এই প্ল্যাটফর্ম থেকে শাসক-শাসিত, আলেম-সাধারণ নির্বিশেষে সকল মুসলিমকে আল্লাহর কিতাবকে প্রকাশ্যে ও গোপনে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরার আহ্বান জানাই। যাতে তারা পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিমে সম্মান, সুখ, মর্যাদা ও বিজয় লাভ করতে পারে।"[সমাপ্ত]
ফযীলাতুশ শাইখ ইবনে উসাইমীন (রহ.)
"ফাতাওয়া কিবার উলামাইল উম্মাহ", পৃষ্ঠা: ৪৫।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।