মঙ্গলবার 5 রবীউল আউওয়াল 1440 - 13 নভেম্বর 2018
বাংলা

যে ব্যক্তি রমজান মাসে দিনের বেলায় স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছে কিন্তু বীর্যপাত হয়নি

প্রশ্ন

প্রশ্ন :
এক লোক রমজান মাসে দিনের বেলায় স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছে, কিন্তু বীর্যপাত হয়নি। এর হুকুম কী? আর সে স্ত্রীরই বা করণীয় কী- যিনি এ ব্যাপারে অজ্ঞ ছিলেন?

উত্তর

সমস্তপ্রশংসাআল্লাহরজন্য।

রমজানমাসেদিনেরবেলায়যেব্যক্তিযৌনমিলনকরেতিনিমুকীম (নিজঅঞ্চলেঅবস্থানকারী)রোযাদারহলেতারউপরবড়-কাফ্‌ফারা (আল কাফ্‌ফারাতুল মুগাল্লাযাহ) ওয়াজিবহয়।আরতাহলএকজনদাসমুক্তকরা।যদিতানাপায়তাহলেএকাধারে দুইমাসসিয়ামপালনকরা।আরযদিতাওনাপারেতবে৬০ জনমিসকীনকেখাওয়ানো।

যদি নারী সন্তুষ্টচিত্তে যৌনমিলনে সাড়া দেয় তাহলে একই বিধান নারীরক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।আরযদিজোরপূর্বক নারীর সাথে সহবাস করা হয়তাহলেতারউপরকোনজরিমানাওয়াজিবহবেনা। আরযদিস্বামী-স্ত্রীউভয়েমুসাফিরহয়তবেসহবাসের কারণে তাদেরকোনগুনাহহবেনা, তাদেরউপরকোনকাফ্‌ফারাওওয়াজিবহবেনাএবংদিনেরবাকিঅংশপানাহারওযৌনমিলনথেকেবিরতথাকাও ওয়াজিব হবেনা।শুধু তাদেরউভয়কেঐদিনেররোযাকাযাকরতেহবে।যেহেতু মুসাফিরঅবস্থায়রোযাপালনকরাতাদেরজন্যবাধ্যতামূলকনয়।

একইভাবে যে ব্যক্তিকোনো অনিবার্যপ্রয়োজনেরোযাভেঙ্গেফেলেছে (যেমন কোন নিরপরাধ মানুষকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর নিমিত্তে) ঐব্যক্তিসেইদিন যদিযৌনমিলনকরে, যেইদিন অনিবার্যপ্রয়োজনেরোযাভেঙ্গেফেলেছেতবে তারউপর কোনকিছুওয়াজিবহবেনা।কারণএক্ষেত্রেসে ব্যক্তিকোনওয়াজিবরোযাভঙ্গকরেনি।

নিজঅঞ্চলেঅবস্থানকারী (মুকীম) রোযাদারযদিযৌনমিলনকরে রোযা ভেঙ্গে ফেলেযারউপররোযারাখা বাধ্যতামূলকতারউপরপাঁচটিজিনিসবর্তাবে-

১।সে গুনাহগার হবে।

২।তার সেইদিনেররোযানষ্টহয়ে যাবে।

৩।সেইদিনেরবাকিঅংশপানাহারওযৌনমিলনথেকেবিরতথাকতে হবে।

৪।সেইদিনেররোযার কাযাকরাওয়াজিবহবে।

৫।(বড়) কাফ্‌ফারাআদায় করাওয়াজিবহবে।

কাফ্‌ফারা আদায়করারদলীলহলসেইহাদিসটি,যাআবুহুরাইরাহ (আল্লাহতাঁরউপরসন্তুষ্টহউন) থেকেবর্ণিতহয়েছে- এক ব্যক্তি রমজানের দিনের বেলায় তাঁর স্ত্রীর সাথে যৌন মিলন করেছিলেন।এই ব্যক্তি একাধারে দুইমাস রোযা পালন করা অথবা ষাটজন মিসকীনকে খাদ্য খাওয়াতে অক্ষম ছিলেন।তাই এই ব্যক্তি কাফ্‌ফারা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা হতে রেহাই পান। কারণ আল্লাহ তাআলা কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না [সূরা বাক্বারাহ, ২:১৮৬] অপারগের ওপর কোন ওয়াজিব আরোপ করা যায় না।

যৌনমিলন যেহেতু সংঘটিত হয়েছে সুতরাং উপরোল্লেখিত মাসয়ালাতে বীর্যপাত হওয়া বা না-হওয়ার কারণে হুকুমের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। কিন্তু ব্যাপারটি যদি এমন হয় যৌনমিলন ছাড়া বীর্যপাত হয়েছে সেক্ষেত্রে তাকে কাফ্‌ফারা আদায় করতে হবে না।বরং সে গুনাহগার হবে, দিনের বাকি অংশ তাকে যৌনমিলন ও পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে এবং রোযাটির কাযা করতে হবে।

সূত্র: আল্‌ফাতাওয়া আল্‌জামি‘আহ লিল মারআতিল মুসলিমাহ (মুসলিম নারীর জীবন ঘনিষ্ট ফতোয়াসমগ্র), খণ্ড-১, পৃঃ- ৩৪৮।

মতামত প্রেরণ