প্রথমেই প্রশ্নকর্তাকে শুকরিয়া জানাই এ জন্য যে, আপনি মুসলিমদের আবেগ-অনুভূতির ব্যাপারে সচেতন থেকেছেন এবং তাদেরকে কষ্ট দেয় এমন কিছুর ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন যেন তা পরিহার করতে পারেন। আপনি যা জানতে চেয়েছেন আমরা তার বিস্তারিত উত্তর দিতে চাই এবং এর চেয়েও বেশি জানাতে চাই; যাতে করে এর মাধ্যমে আপনার এমন কিছু জানার সুযোগ হয় যা আপনাকে অধিক কল্যাণের দিকে নিয়ে যায়।
ইসলাম পূর্ণাঙ্গ দ্বীন
বরকতময় ইসলামী শরীয়তের অন্যতম মাহাত্ম্য হচ্ছে এটি ছোট-বড় যে কোনো উত্তম বিষয়ের নির্দেশই প্রদান করেছে ও সেটির প্রতি আহ্বান করে গিয়েছে এবং ছোট-বড় যে কোনো অনিষ্ট থেকেই সতর্ক করেছে এবং তা করতে নিষেধ করেছে। তাই সকল দিক থেকে ইসলামী শরীয়ত পূর্ণাঙ্গ ও সুন্দর। বিষয়টি অমুসলিমদেরকে বিস্মিত করেছে এবং এই দ্বীনের ব্যাপারে তাদের মুগ্ধতাও সৃষ্টি করেছে। এক মুশরিক সাহাবী সালমান আল-ফারেসী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেন: ‘তোমাদের নবী তোমাদেরকে সকল কিছু শিখিয়েছে, এমনকি বর্জ্য ত্যাগও?’ তিনি উত্তর দেন: ‘হ্যাঁ, তিনি আমাদেরকে প্রস্রাব কিংবা পায়খানার উদ্দেশ্যে কিবলামুখী হতে নিষেধ করেছেন ...।’[হাদীসটি তিরমিযী (১৬) বর্ণনা করেন এবং বলেন: হাদীসটি হাসান সহীহ। এটি সহীহ মুসলিম এবং অন্য গ্রন্থে রয়েছে]
ইসলামে প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার শিষ্টাচার
ইসলামী শরীয়তে প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার বেশ কিছু শিষ্টাচার ও বিধি-বিধান বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
১- প্রস্রাব ও পায়খানার সময় কিবলামুখী না হওয়া (মুসলিমদের কিবলা হচ্ছে কাবাঘর, যেটি আল্লাহর আদেশে ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম মক্কায় নির্মাণ করেছেন)। এটি কিবলার প্রতি সম্মান ও আল্লাহর নিদর্শনকে মর্যাদা প্রদানের অন্তর্ভুক্ত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কেউ যদি প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার জন্য বসে সে যেন কিবলামুখী না হয় কিংবা কিবলাকে তার পেছনের দিকে না রাখে।”[হাদীসটি মুসলিম (৩৮৯) বর্ণনা করেন]
২- প্রস্রাবের সময় ডান হাত দিয়ে সে লজ্জাস্থান স্পর্শ করবে না। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কেউ যখন প্রস্রাব করে তখন সে যেন তার ডান হাত দিয়ে লজ্জাস্থান স্পর্শ না করে, ডান হাত দিয়ে শৌচকার্য না করে এবং পাত্রে শ্বাস-প্রশ্বাস না নেয়।”[হাদীসটি বুখারী (১৫০) বর্ণনা করেন]
৩- ডান হাত দিয়ে নাপাকি দূর করবে না। বরং নাপাকি দূর করার জন্য বাম হাত ব্যবহার করবে। এর পক্ষে দলীল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ও্য়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদীস এবং অন্য একটি হাদীস: “তোমাদের কেউ যদি মোছার মাধ্যমে শৌচকার্য করে সে যেন ডান হাত দিয়ে শৌচকার্য না করে।”[হাদীসটি বুখারী (৫১৯৯) বর্ণনা করেন]
এছাড়াও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ডান হাত খাওয়া, পান করা, অযু, কাপড় পরা, কিছু নেওয়া এবং দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতেন। আর বাম হাত বাকি অন্যান্য কাজে ব্যবহার করতেন।[মুসনাদে আহমদ ও ‘সহীহুল জামে’ (৪৯১২)]
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “তোমাদের কেউ যেন তার ডান হাতে শৌচ না করে, বরং সে যেন তার বাম হাতে শৌচ করে।”[হাদীসটি ইবনে মাজাহ (৩০৮) বর্ণনা করেন। এটি সহিহুল জামে (৩২২) গ্রন্থে রয়েছে]
৪- সুন্নাত হচ্ছে ব্যক্তি বসা অবস্থায় তার প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারবে। সে ভূমির নিকটবর্তী হয়ে থাকবে। কেননা এটি তাকে বেশি আড়ালে রাখবে এবং প্রস্রাবের ছিটা এসে শরীর-কাপড় অপরিষ্কার করার থেকে তাকে বেশি নিরাপত্তা দিবে। যদি উল্লেখিত বিষয় থেকে সে বেঁচে থাকতে পারে তাহলে দাঁড়ানো অবস্থায় প্রস্রাব করাও জায়েয হবে।
৫- প্রয়োজন সারার সময় সে লোকচক্ষুর আড়ালে যাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রয়োজন সারার জন্য সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতেন কোনো উঁচু ভূমির আড়াল কিংবা খেজুরের বাগান।[হাদীসটি মুসলিম (৫১৭) বর্ণনা করেন]
যদি মানুষ খোলা ময়দানে থাকে এবং নিজের প্রয়োজন পূরণ করতে চায় কিন্তু নিজেকে ঢেকে রাখার জন্য কোনো কিছু খুঁজে না পায় তাহলে সে যেন আশেপাশের মানুষ থেকে দূরে সরে যায়। মুগীরাহ ইবনে শু’বাহ বর্ণনা করেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একটি সফরে ছিলাম। এ সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার জরুরত আসলে তিনি অনেক দূরে চলে গেলেন।[হাদীসটি তিরমিযী (২০) বর্ণনা করেন এবং বলেন: হাদীসটি হাসান সহীহ]
আব্দুর রহমান ইবনু আবী কুরাদ বর্ণনা করেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে টয়লেটের উদ্দেশ্যে বের গিয়েছি। তিনি যখন প্রয়োজন সারতে চাইতেন তখন দূরে চলে যেতেন।[হাদীসটি নাসাঈ (১৬) বর্ণনা করেন। এটি সহীহুল জামে‘ গ্রন্থে (৪৬৫১) রয়েছে]
৬- যমীনের নিকটবর্তী না হয়ে লজ্জাস্থান উন্মোচন করবে না। কারণ এভাবে নিজের লজ্জাস্থানকে বেশি আড়ালে রাখা যায়। এর স্বপক্ষে দলীল হচ্ছে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রয়োজন সারতে উদ্যত হলে যমীনের কাছাকাছি না যাওয়া পর্যন্ত নিজের কাপড় তুলতেন না।[হাদীসটি তিরমিযী (১৪) বর্ণনা করেন। এটি সহিহুল জামে‘ (৪৬৫২) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।] তাই ব্যক্তি টয়লেটে ঢুকে দরজা বন্ধ করা কিংবা লোকচক্ষুর আড়ালে না যাওয়ার আগে কাপড় তুলবে না।
সুতরাং সম্মানিত প্রশ্নকর্তা ভাই, আপনি এ পয়েন্ট ও এর আগের পয়েন্ট থেকে জানতে পারবেন যে, পশ্চিমা দেশসমূহে ও অন্যান্য দেশে পাবলিক টয়লেটের ভেতরে উন্মুক্ত স্থানে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার যে বিষয়টি দেখতে পান সেটি শিষ্টাচার, লজ্জাশীলতা, ভদ্রতা ও উত্তম চরিত্রের বিপরীত। এ দৃশ্য দেখে সঠিক ফিতরাত ও বিশুদ্ধ আকলের অধিকারী প্রত্যেক ব্যক্তির শরীর কেঁপে ওঠে। কারণ কিভাবে একজন ব্যক্তি মানুষের সামনে তার লজ্জাস্থানকে উন্মুক্ত করতে পারে, যেটাকে আড়ালে রাখার জন্য আল্লাহ তার দুই পায়ের মাঝখানে স্থাপন করেছেন, ঢেকে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সকল বিবেকবান মানুষের কাছে যেটি ঢেকে রাখার বিষয় প্রতিষ্ঠিত।
মূলতঃ এ ধরনের নিকৃষ্ট ডিজাইনে টয়লেট নির্মাণ করাই ভুল, যেখানে টয়লেট ব্যবহারকারীরা প্রস্রাব করার সময়ে একে অন্যকে দেখতে পায়। এক্ষেত্রে তারা কিছু পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট; যে পশুরা প্রস্রাব ও পায়খানা করার সময় স্বভাবতঃ নিজেদেরকে আড়াল করে নেয়।
৭- মুসলিমদের কাছে শরয়ী শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত বিষয় হচ্ছে এই যে, তারা টয়লেটে প্রবেশ করা এবং বের হওয়ার সময়ে নির্দিষ্ট কিছু যিকির পড়বে যা তাদের স্থান ও অবস্থার সাথে উপযুক্ত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিখিয়েছেন আমাদের কেউ যেন টয়লেটে প্রবেশের প্রাক্কালে বলে: بِسْمِ اللهِ، اللهُمَّ إنِّيْ أعُوْذُ بِكَ مِنَ الخُبُثِ وَالخَبَائِثِ “হে আল্লাহ্! আমি পুরুষ জিন ও নারী জিন থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই”। এভাবে প্রত্যেক অপবিত্র বিষয় থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবে, প্রত্যেক নর ও নারী শয়তান থেকে আশ্রয় চাইবে। আর বের হওয়ার সময় ক্ষমা প্রার্থনা করে সে বলবে: غُفْرانَكَ (হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি)।
৮- প্রয়োজন সারার পর নাপাকি দূর করার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্রাব থেকে পবিত্রতা অর্জনে শিথিলতার ব্যাপারে সতর্ক করে বলেছেন: “অধিকাংশ কবরের আযাব হয়ে থাকে প্রস্রাবের (থেকে অসতর্কতার) কারণে।”[হাদীসটি ইবনে মাজাহ (৩৪২) বর্ণনা করেন এবং সহীহুল জামে‘ গ্রন্থে (১২০২) এটি রয়েছে]
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি কবরকে অতিক্রম করার সময় বলেন: “তারা দু'জন শাস্তি পাচ্ছে কিন্তু কোনো বড় কিছুর জন্য শাস্তি পাচ্ছে না। এই ব্যক্তি প্রস্রাব থেকে সুরক্ষা গ্রহণ করত না। আর এই ব্যক্তি চোগলখুরী করে বেড়াত।”[হাদীসটি ইমাম বুখারী (৫৫৯২) বর্ণনা করেন]
৯- তিনবার বা তদুর্ধ্ব বেজোড় সংখ্যায় নাপাকি ধৌত করা কিংবা মোছন করা। এটি নির্ধারিত হবে পবিত্রতার প্রয়োজন অনুপাতে। এর দলীল হচ্ছে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদীস, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার তার পশ্চাৎদেশ ধৌত করতেন। ইবনে উমর বলেন: আমরাও এটা করেছি এবং এটাকে চিকিৎসা ও পবিত্রতা হিসেবে পেয়েছি।[হাদীসটি ইবনে মাজাহ (৩৫০) বর্ণনা করেন। এটি সহীহুল জামে (৪৯৯৩) গ্রন্থে হয়েছে]
এছাড়া আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ‘তোমাদের কেউ ঢিলা ব্যবহার করলে সে যেন বেজোড় সংখ্যক বার ঢিলা ব্যবহার করে।’[হাদীসটি ইমাম আহমদ বর্ণনা করেন এবং সহীহুল জামে‘ গ্রন্থে এটিকে হাসান বলে গণ্য করেন]
১০- সে যেন হাড়-গোড় ও গোবরকে ঢিলা হিসেবে ব্যবহার না করে। বরং সে যেন টিস্যু, পাথর এবং অনুরূপ জিনিসগুলো ব্যবহার করে। এর দলীল আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অযুর জন্য ও টয়লেট সারার জন্য একটি পানির পাত্র বহন করতেন। একবার তিনি যখন নবীজীকে অনুসরণ করছিলেন তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ‘কে এটা?’ আমি বললাম: আমি আবু হুরাইরা। তিনি বললেন: ‘আমাকে কিছু পাথর দাও যেটা দিয়ে আমি পবিত্রতা অর্জন করব। আমাকে হাড়-গোড় কিংবা গোবর দিও না।’ আমি আমার কাপড়ের প্রান্তে করে কিছু পাথর বহন করে এনে তার পাশে রেখে চলে গেলাম। তিনি প্রয়োজন পূরণ শেষ করার পর তার কাছে গিয়ে বললাম: ‘হাড়-গোড় ও গোবরের বিষয়টা কী?’ তিনি বললেন: ‘এগুলো জীনদের খাদ্য।’[হাদীসটি বুখারী (৩৫৭১) বর্ণনা করেন]
১১- ব্যক্তি যেন বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব না করে। কারণ জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন।[হাদীসটি মুসলিম (৪২৩) বর্ণনা করেন] কেননা এটি পানিকে নাপাক করে ফেলে এবং এই পানি ব্যবহারকারীকে কষ্ট দেওয়া হয়।
১২- মানুষের চলার পথে কিংবা মানুষ ছায়া হিসেবে বিশ্রাম নেয় এমন কোনো স্থানে প্রস্রাব করবে না। কারণ এতে করে তাদেরকে কষ্ট দেওয়া হয়। আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “তোমরা দুই অভিশাপ বর্ষণকারী কাজ থেকে সাবধান থাকবে।” সাহাবীরা প্রশ্ন করল: “দুই অভিশাপ বর্ষণকারী কাজ কী, হে আল্লাহর রাসূল?” তিনি বললেন: “যে ব্যক্তি মানুষের চলার পথে কিংবা ছায়ার স্থানে প্রস্রাব-পায়খানা করে (তার এই দুটি কাজ অভিসম্পাতের কারণ)।”[হাদীসটি আবু দাউদ (২৩) বর্ণনা করেন এবং এটি সহীহুল জামে‘ গ্রন্থে (১১০) রয়েছে]
১৩- যে ব্যক্তি প্রয়োজন সারছে তাকে সালাম না দেওয়া এবং প্রয়োজন সারার স্থানে কারো সালামের জবাব না দেওয়া; যাতে করে অপবিত্র স্থানে আল্লাহর নাম উল্লেখ করা না হয়। জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেন: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রস্রাবরত অবস্থায় অতিক্রম করলেন এবং তাকে সালাম দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: “তুমি যদি আমাকে এ অবস্থায় দেখতে পাও তাহলে সালাম দিবে না। কারণ তুমি যদি এমনটি করো আমি তোমার সালামের জবাব দিব না।”[হাদীসটি ইবনে মাজাহ (৩৪৬) বর্ণনা করেন। এটি সহীহুল জামে‘ (৫৭৫) গ্রন্থে রয়েছে]
অধিকাংশ আলেম প্রয়োজন ছাড়া প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার স্থানে কথা বলা অপছন্দ করেন।
উপর্যুক্ত আলোচনায় এটি এমন একটি প্রসঙ্গে ইসলামী শরীয়তে বর্ণিত একগুচ্ছ শিষ্টাচার ও বিধি-বিধান উল্লেখ করা হলো যা মানুষের দ্বারা দৈনন্দিন বারংবার সংঘটিত হয়। তাই শরীয়ত এটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে এবং বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করেছে। তাহলে এর থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ক্ষেত্রে শরীয়তের নির্দেশনা কেমন হতে পারে? প্রিয় প্রশ্নকর্তা! আপনি কি এমন কোনো ধর্ম বা শরীয়ত (আইন) জানেন যা এ ধরনের কিছু নিয়ে এসেছে? বরং আল্লাহর কসম! এটিই এই শরীয়তের পূর্ণতা, উত্তমতা ও অনুসরণের আবশ্যকতা প্রমাণে যথেষ্ট।
আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য ও আপনার জন্য সকল কল্যাণের প্রতি তৌফিকের দোয়া করছি এবং সত্যের দিকে হেদায়াতপ্রাপ্তির জন্য প্রার্থনা করছি। আমাদের নবী মুহাম্মাদের উপর দুরূদ বর্ষিত হোক।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ