শৌচ করার পর পশ্চাদ্দেশ থেকে কিছু বের হওয়া অনুভব করে

প্রশ্ন 89888

পায়খানা করার পর (আল্লাহ আপনাদেরকে সম্মানিত করুন) আমি অনুভব করি পশ্চাদ্দেশ দিয়ে কিছু বের হচ্ছে। কখনো কিছু থাকে, আবার কখনো কিছু পাই না। আমার প্রশ্ন হলো: আমার জন্য কি প্রত্যেক নামাযের জন্য অযু যাচাই করতে হবে? পূর্বের নামাযগুলোর ব্যাপারে কী করণীয়? আমাকে কি আবার সেগুলো পড়তে হবে? উল্লেখ্য, আমি সেগুলোর সংখ্যা কত তা জানি না।

উত্তর

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের প্রতি। পর সমাচার:

মানুষ তার হাজত সারা, শৌচ কার্য এবং অযু করার পর সে পবিত্র বলে গণ্য হবে, যতক্ষণ না সে অযু ভাঙার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়। কেবল সন্দেহের কারণে তার অযু ভেঙে যাবে না। এমনকি যদি সন্দেহ শক্তিশালী হয়ে প্রবল ধারণায় রূপ নেয় তবুও।

সুতরাং কেবল পশ্চাদ্দেশ দিয়ে কিছু বের হওয়ার বিষয়টা অনুভব করলেই সেটা অযু ভেঙে দিয়েছে বলে গণ্য হবে না। ওয়াসওয়াসা তথা কুমন্ত্রণা থেকে সতর্ক থাকতে হবে। আপনি যেহেতু শৌচকার্য করে লজ্জাস্থান পবিত্র করেছেন, সেহেতু নামাযের আগে যাচাই করা আপনার উপর আবশ্যক হবে না।

আপনি যে নামাযগুলো আদায় করেছেন, সেগুলো পুনরায় পড়ার আবশ্যকতা নেই। কারণ আপনি পবিত্র অবস্থায় ছিলেন, আর অযু ভাঙার বিষয়ে সুনিশ্চিত কিছু পাননি।

এই মূলনীতির পক্ষে প্রমাণ হলো বুখারী (১৩৭) ও মুসলিম (৩৬১)-এর বর্ণনা। তারা আব্দুল্লাহ ইবন যাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহ্‌র রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হল যে, তার মনে হয়েছিল যেন নামাযের মধ্যে কিছু হয়ে গিয়েছিল। তিনি বললেন: “সে যেন ফিরে না যায়, যতক্ষণ না শব্দ শোনে বা দুর্গন্ধ পায়।”

নববী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: “এই হাদীসটি ইসলামের অন্যতম মূলনীতি এবং ফিকহের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম। বস্তুসমূহকে সেগুলোর মূল অবস্থার উপর থাকার হুকুম প্রদান করা হবে, যতক্ষণ না এর বিপরীত কিছুর ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়। আপতিত সন্দেহ কোনো ক্ষতি করবে না।

এর মধ্যে রয়েছে এই মাসআলা, যেটার ব্যাপারে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। অর্থাৎ কেউ যদি পবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়, আর অপবিত্র হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ করে, তাহলে সে পবিত্র অবস্থার উপর আছে এমন হুকুম প্রদান করা হবে। এই সন্দেহ নামাযে হওয়া কিংবা নামাযের বাহিরে হওয়ার মাঝে পার্থক্য নেই। এটা আমাদের মাযহাব এবং সালাফ-খালাফ অধিকাংশ আলেমের মাযহাব। ... আমাদের মাযহাবের আলেমগণ বলেছেন: সন্দেহের ক্ষেত্রে অপবিত্র হওয়া বা না-হওয়ার দুই সম্ভাবনা সমান হওয়া কিংবা একটি প্রাধান্য পাওয়া অথবা একটির ব্যাপারে প্রবল ধারণা আসার মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। সকল অবস্থাতেই অযু আবশ্যক হবে না।” [শারহু মুসলিম থেকে সমাপ্ত]

শাইখ ইবনে উছাইমীন রাহিমাহুল্লাহুকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: আমি পেশাব ও অযু করার পর আমার পুরুষাঙ্গ থেকে কিছু বের হওয়ার বিষয়টা অনুভব করি। অনুসন্ধান চালানোর পর দেখতে পাই যে পেশাব বের হয়েছে। এক্ষেত্রে সমাধান কী?

তিনি উত্তর দেন: “নিঃসন্দেহে আল্লাহর প্রজ্ঞা এমন যে তিনি পেশাব-পায়খানা ধারণ করার জন্য পেশীগুলো এতটা শক্ত করেছেন যেন কিছু সেখান থেকে বের না হয়। কিন্তু কখনো কখনো সেই পেশীগুলো রোগে আক্রান্ত হয়ে শিথিল হয়ে পড়ে। তখন পেশাব বেরিয়ে যায়। সেটা লাগাতর হতে পারে, আবার মাঝে মাঝেও ঘটতে পারে। কখনো মানুষ নিজেই এর কারণ হয়। কারণ কোনো কোনো মানুষ আছে, যারা পেশাব শেষ করার পর পেছন থেকে শুরু করে পুরুষাঙ্গের ডগা পর্যন্ত মূত্রনালি থেকে পেশাব টেনে বের করে। কেউ কেউ শেষ ফোটা বের না হওয়া পর্যন্ত নিংড়াতে থাকে। এটা ভুল। কিছু কিছু ফকীহ যদিও টেনে বের করাকে সুন্নাহ বলেছেন, কিন্তু সেটা দুর্বল মত। বরং সেটা বিদাত; যেমনটা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন এবং সুন্নাহ থেকেও এটা স্পষ্ট। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো পেছন থেকে পুরুষাঙ্গের ডগা পর্যন্ত পেশাব টেনে বের করতেন এমনটা বর্ণিত হয়নি। তিনি কখনোই পুরুষাঙ্গ নিংড়াতেন না। কিছু মানুষ এমনটা করে এই মতাবলম্বী ফকীহদের অনুকরণে নতুবা তারা ধারণা করে যে এমনটা না করলে তাদের পুরুষাঙ্গে পেশাব বাকি থেকে যাবে। এটা ভুল। একজন মানুষ পেশাব করার পর সে শুধু পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগ ধুয়ে নিবে, এটাই যথেষ্ট। তার জন্য পুরুষাঙ্গ নিংড়ানো বা নাড়াচাড়া করার প্রয়োজন নেই। পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগে যে পেশাব লেগেছে, সেটা সে ধুয়ে নিবে, এতেই সব কিছু শেষ। মানুষ যদি এভাবে অভ্যস্ত হত, তাহলে এমন রোগে আক্রান্ত হত না, যেটার কারণ সে নিজে। সুতরাং এই ভাইয়ের প্রতি আমার উপদেশ: সে যেন এটা থেকে বিরত থাকে, এটার দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে, পুরুষাঙ্গ টানাটানি বা নিংড়ানোর কাজ না করে। যেভাবে আছে সেভাবে যেন সেটাকে ছেড়ে দেয়। সর্বশেষ ফোটা বের হওয়ার পর পুরুষাঙ্গের ডগা ধুয়ে ফেলে। হয়তো একজন মানুষ তার পুরুষাঙ্গে নড়াচড়া অনুভব করতে পারে, কিন্তু তার জন্য সেখানো তাকানো উচিত নয়। কেননা কিছু মানুষ আছে যারা পুরুষাঙ্গে নড়াচড়া পেলে পায়জামা ঢিলা করে উপর থেকে পুরুষাঙ্গ রগড়াতে থাকে। আর রগড়ালে তো কিছু বের হবেই। কিন্তু আপনি এটাকে এভাবে ছেড়ে দেন। এটার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করবেন না। কিছু আলেম রাহিমাহুমুল্লাহ বলেন: ব্যক্তি যখন এমন ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত হবে, তখন তার করণীয় হলো পায়জামার উপর দিয়ে পানি ছিটিয়ে দেওয়া। ফলে চিন্তা বা সন্দেহ আসলে সেটাকে ঐ পানির দিকে ন্যস্ত করবে। কিন্তু আমরা বলব: এর প্রয়োজন নেই। এটা অতিরিক্ত কৃত্রিমতা। এটা থেকেও বিরত থাকুন। এটা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন না। ইন শা আল্লাহ এটি আপনার থেকে দূর হয়ে যাবে। পুরুষাঙ্গের ডগায় শীতলতা অনুভব করলে কিংবা ভেতরে নড়াচড়া টের পেলেই তাকাতে যাবেন না। এটা পরিহার করুন।” [আল-লিকাউশ শাহরী থেকে সমাপ্ত]।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

সূত্র

ওজু

সূত্র: 

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

Previous
পরবর্তী
at email

নিউজলেটার

ওয়েবসাইটের ইমেইল ভিত্তিক নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন

phone

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব অ্যাপ্লিকেশন

কন্টেন্টে আরও দ্রুত পৌঁছতে ও ইন্টারনেট ছাড়া ব্রাউজ করতে

download iosdownload android