বুধবার 11 শাওয়াল 1441 - 3 জুন 2020
বাংলা

যে ব্যক্তি শেষ তাশাহ্‌হুদ না পড়ে সালাম ফিরিয়ে ফেলেছে

প্রশ্ন

যে ব্যক্তি শেষ তাশাহ্‌হুদের জন্য বসেছেন; কিন্তু তাশাহ্‌হুদ উচ্চারণ করতে ভুলে গেছেন—  তার হুকুম কী?

উত্তর

আলহামদু লিল্লাহ।

এক:

শেষ তাশাহ্‌হুদ পড়া ও এর জন্য  বসা নামাযের দু'টো রুকন; এ দুটো ব্যতীত নামায সহিহ হবে না।

"যাদুল মুসতাকনি" গ্রন্থে নামাযের রুকনসমূহ বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে: "শেষ তাশাহ্‌হুদ ও এর জন্য বসা"।

শাইখ উছাইমীন (রহঃ) এর ব্যাখ্যায় বলেন: "শেষ তাশাহ্‌হুদ হচ্ছে— নামাযের দশম রুকন। এর দলিল হচ্ছে— আব্দুল্লাহ্ বিন মাসউদ (রাঃ) এর হাদিস তিনি বলেন: আমাদের উপর তাশাহ্‌হুদ ফরয করার আগে আমরা বলতাম: السلام على الله من عباده، السلام على جبرائيل وميكائيل، السلام على فلان وفلان (বান্দাদের পক্ষ থেকে আল্লাহ্‌র প্রতি সালাম। জিব্রাইল ও মিকাইলের প্রতি সালাম এবং অমুক ও অমুকের প্রতি সালাম)।[দারাকুতনী সহিহ সনদে বর্ণনা করেছেন] এ হাদিসের দলিলযোগ্য অংশ হচ্ছে "আমাদের উপর তাশাহ্‌হুদ ফরয করার আগে"।

যদি কেউ বলে: আমাদের অভিমতকে প্রত্যাখ্যান করছে— প্রথম তাশাহ্‌হুদ। যেহেতু প্রথম তাশাহ্‌হুদও তাশাহ্‌হুদ; অথচ তা সত্ত্বেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথম তাশাহ্‌হুদ ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং সাহু সেজদার মাধ্যমে এ ভুলকে শোধরানোর চেষ্টা করেছেন। এটা তো ওয়াজিব আমলের হুকুম। তাই শেষ তাশাহ্‌হুদের বিধানও কি অনুরূপ হবে না?

জবাব হচ্ছে: না। মূল বিধান হচ্ছে দুটো তাশাহ্‌হুদই ফরয। এই বিধান থেকে প্রথম তাশাহ্‌হুদ সুন্নাহ্‌র দলিলের ভিত্তিতে বেরিয়ে গেল। যেহেতু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাশাহ্‌হুদ ছেড়ে দিয়েছিলেন তখন তিনি সাহু সেজদার মাধ্যমে সেটার ক্ষতিপূরণ করেছেন। অতএব, শেষ তাশাহ্‌হুদ এর মূল বিধান রুকন হিসেবে ফরয হওয়ার উপর অটুট থাকল।

"এর জন্য বসা" এটি নামাযের একাদশ রুকন। অর্থাৎ তাশাহ্‌হুদের জন্য শেষ বৈঠক রুকন। ধরে নিই কেউ একজন সেজদা থেকে সোজা দাঁড়িয়ে গেল এবং দাঁড়িয়ে তাশাহ্‌হুদ পড়ল—এভাবে জায়েব হবে না।। যেহেতু সে ব্যক্তি নামাযের একটি রুকন ছেড়ে দিয়েছে। সেটা হল বৈঠক। তাকে অবশ্যই বসতে হবে এবং তাশাহ্‌হুদটি অবশ্যই বসে পাঠ করতে হবে। যেহেতু তিনি বলেছেন: "এর জন্য বসা" এ কথার মাধ্যমে তিনি বৈঠককে তাশাহ্‌হুদের সাথে সম্বন্ধিত করেছেন এ কথা বুঝানোর জন্য যে, তাশাহ্‌তুদ অবশ্যই একই বৈঠকে হতে হবে।[আল-শারহুল মুমতি (৩/৩০৯) থেকে সমাপ্ত]

দুই:

যে ব্যক্তি নামাযের কোন একটি রুকন আদায় করতে ভুলে গেছে তার উপর অনিবার্য হল সেটি আদায় করা; নচেৎ তার নামায শুদ্ধ হবে না।

শাইখ উছাইমীন (রহঃ) বলেন: "আরকানগুলোও ওয়াজিব (আবশ্যকীয়) এবং ওয়াজিবগুলোর চেয়ে রুকনসমূহ অধিক তাগিদপূর্ণ। তবে রুকনগুলো ওয়াজিবগুলোর চেয়ে এদিক থেকে আলাদা যে, ভুলে গেলে রুকনগুলো মওকুফ হয় না; অথচ ওয়াজিবগুলো মওকুফ হয়ে যায় এবং সাহু সেজদা দেয়ার মাধ্যমে ওয়াজিব বাদ পড়ার ক্ষতি পূরণ করা যায়। কিন্তু রুকনগুলো এর বিপরীত। তাই ভুলবশতঃ কোন রুকন ছুটে গেলে সেটি আদায় করা ছাড়া নামায সহিহ হয় না।"

তিনি আরও বলেন: "সাহু সেজদার মাধ্যমে রুকনগুলোর ক্ষতিপূরণ না হওয়ার দলিল হল: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন যোহর বা আসরের নামাযের দুই রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে ফেললেন তখন তিনি নামাযের অবশিষ্টাংশ আদায় করে নামায সম্পূর্ণ করলেন এবং সাহু সেজদা দিলেন। এতে করে প্রমাণিত হল যে, ভুলে গেলেও রুকনগুলো মওকুফ হয় না। বরং সেগুলো সম্পন্ন করতে হয়।"[আল-শারহুল মুমতি (৩/৩১৫, ৩২৩)]

অতএব, যে ব্যক্তি শেষ তাশাহ্‌হুদ না পড়ে সালাম ফিরিয়ে ফেলেছেন যদি বেশি বিলম্ব না হয় তাহলে তিনি পুনরায় নামাযে ফিরে যাবেন এবং বসে তাশাহ্‌হুদ পড়ে তারপর সালাম ফিরাবেন। এরপর সাহু সেজদা দিবেন। এরপর পুনরায় সালাম ফিরাবেন। আর যদি বেশি দেরী হয়ে যায় তাহলে গোটা নামায পুনরায় পড়বেন।

আল্লাহ্‌ই সর্বজ্ঞ। 

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

মতামত প্রেরণ